সহকারী অধ্যাপক
০১ মে, ২০২৬ ০৫:০১ পূর্বাহ্ণ
মুত্তাকীদের পুরস্কার - মোঃ মুজিবুর রহমান
মুত্তাকীদের পুরস্কার
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
স্বপ্নের মতো এক বাগান আছে,
মুত্তাকীদের জন্য সাজানো—
নির্মল জলের নদী বয়ে যায়,
মনে শান্তির ঢেউ আনানো।
দুধের ধারা, স্বাদ যার চির নতুন,
বদলায় না কখনো কালে,
মধুর স্রোত, স্বচ্ছ আর পবিত্র,
ঝরে অমৃতের ঢালে।
সুরার নদী—না পাপের ছোঁয়া,
শুধু আনন্দের রঙ,
যারা পান করে তৃপ্ত মনে,
তাদের নেই কোনো জ্বালার ঢং।
ফলভরা বাগান চারপাশে,
যা চাও তাই মেলে হাতে,
সবচেয়ে বড় নেয়ামত তবে—
রবের ক্ষমা সাথে।
তারা কি তবে সমান হবে
জাহান্নামের বাসিন্দার সাথে?
যাদের পানীয় ফুটন্ত আগুন,
যা ছিন্ন করে অন্তর-প্রাণকে।
না, কখনো নয়—এই তো বিচার,
এই তো সত্যের কথা—
একদল পায় শান্তির জান্নাত,
অন্যদল জ্বলে ব্যথা।
***
এই দুনিয়ার ক্ষণিক পথে,
মানুষ চলে স্বপ্ন বুকে,
কেউ বা সত্য খোঁজে নীরবে,
কেউ বা হারায় মিথ্যার সুখে।
আল্লাহ দেন এক মহা প্রতিশ্রুতি,
মুত্তাকীদের জন্য রয়ে—
এক জান্নাত, শান্তির নিবাস,
চির সুখের আলো বইয়ে।
সেখানে আছে নদী অপার,
নির্মল জলের ধারা,
যার স্বচ্ছতায় মুছে যায় সব,
দুঃখ-ক্লান্তির জ্বালা।
না আছে মলিনতা, না কোনো ঘোলা,
শুধু প্রশান্তির ঢেউ,
যে একবার তাতে চোখ রাখে,
ভুলে যায় দুনিয়ার ঢেউ।
দুধের নদী বয়ে চলে,
স্বাদ তার চির নতুন,
সময়ের ছোঁয়া লাগে না তাতে,
নেই কোনো বদল বা গুণ।
যেন রহমতের শুভ্র ধারা,
নেমে আসে আকাশ হতে,
মুত্তাকীরা পান করে তাতে,
তৃপ্তি পায় অন্তর জুড়ে।
মধুর স্রোত ঝরে ধীরে,
স্বচ্ছ সোনালি রঙে,
যেন প্রতিটি ফোঁটা ভরে আছে
রবের করুণার ঢঙে।
না কোনো ময়লা, না কোনো বিষ,
শুধুই নির্মল স্বাদ,
যে পান করে, তার হৃদয়ে
জাগে চির আনন্দের সাধ।
সেখানে সুরার নদী বয়ে,
কিন্তু নেই কোনো পাপ,
না আছে মাথা ঘোরা, না কোনো ক্ষতি,
শুধু আনন্দের ছাপ।
এ পানীয় শান্তির প্রতীক,
যা দেয় প্রশান্তি মনে,
দুনিয়ার সুরার মতো নয় তা,
যা মানুষকে ফেলে গ্লানে।
চারদিকে ফলের সমারোহ,
যা চাও তাই পাবে,
না কোনো কষ্ট, না কোনো অভাব,
হাসি শুধু হৃদয় ভরাবে।
অপরূপ রঙ, অপরূপ স্বাদ,
যা কল্পনারও বাইরে,
যেন জান্নাতের প্রতিটি ফল
রবের দানের ছায়ায় ঘিরে।
সবচেয়ে বড় নেয়ামত সেখানে—
রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা,
যা পেলে মুছে যায় সব গুনাহ,
মেলে চির শান্তির জমা।
এই ক্ষমা যে কত মহার্ঘ,
তা ভাষায় বোঝানো দায়,
এ যেন আলোর এক সাগর,
যেখানে সব অন্ধকার হারায়।
অন্যদিকে আছে আরেক পথ,
অন্ধকারে ঢাকা,
যেখানে মানুষ জ্বলতে থাকে,
পাপের ভারে ফাঁকা।
সেখানে পানীয় ফুটন্ত আগুন,
যা গলিয়ে দেয় অন্তর,
নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন করে দেয়,
বাড়ে শুধু যন্ত্রণার ঘোর।
বল তবে—এই দুই পথ কি
কখনো হতে পারে এক?
একদিকে শান্তির জান্নাত,
অন্যদিকে দুঃখের রেক।
একদল পায় চির সুখ,
অন্যদল জ্বলে দাহে,
এটাই ন্যায়ের চূড়ান্ত রূপ,
যা প্রকাশ পায় আল্লাহর চাহে।
হে মানুষ, চিনে নাও পথ,
কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা,
এক পথ নেয় জান্নাতের দিকে,
অন্যটা শুধু অন্ধকারে দিশাহারা।
তাকওয়া রাখো হৃদয়ের মাঝে,
চলো সৎ পথে সদা,
তাহলেই পাবে সেই জান্নাত,
যেখানে নেই কোনো কাদা।
এই কাব্যের প্রতিটি পংক্তি বলে—
জীবন শুধু ক্ষণিক পথ,
সঠিক পথে চললে মানুষ পায়
চির শান্তির রত্ন রত্ন।
জান্নাত আর জাহান্নাম—
দুই বাস্তব সত্যের দিশা,
যে বুঝে নেয়, সে বাঁচে চিরকাল,
আর পায় মুক্তির নিশা।
এই ক্ষণিকের দুনিয়া পথে, মানুষ চলে নীরব তরে,
কেউ বা খোঁজে সত্যের আলো, কেউ বা ডোবে অন্ধকারে।
মিথ্যা সুখের মায়াজালে, বাঁধে মনকে শত ফাঁদে,
ভুলে যায় সে চির ঠিকানা, ক্ষণিক সুখের মিছে সাধে।
ডাকে তখন রবের বাণী—“ফিরে আয় রে আমার দিকে”,
সত্য পথে যে হাঁটবে, সে পাবে শান্তি চির নীড়ে।
মুত্তাকীদের জন্য আছে, প্রতিশ্রুতির জান্নাত ভূমি,
যেখানে নেই ভয় বা শোক, নেই কোনো দুঃখের ভূমি।
চল মানুষ, জাগো এবার, ভাঙো ঘুমের মিথ্যা বাঁধ,
সত্যের পথে পা বাড়ালে, খুলবে জান্নাতেরই সাধ।
নদী বয়ে নির্মল জলে, স্বচ্ছতার সে অপার ঢেউ,
না আছে তাতে মলিনতা, না কোনো দুঃখের বেউ।
চোখ রাখিলে জুড়িয়ে যায়, অন্তর ভরে প্রশান্তিতে,
যেন রহমত নেমে আসে, আলোর স্রোত হয়ে ধীরে।
এই নহরে ক্লান্ত প্রাণে, মেলে শান্তির নীল ছায়া,
দুনিয়ার সব তৃষ্ণা মেটে, মুছে যায় সব ব্যথার মায়া।
নেই কোনো ভয়, নেই কোনো ক্ষয়, নেই কোনো কষ্টের ছাপ,
এ যে জান্নাতের প্রথম রূপ, রহমতেরই মধুর চাপ।
যে পান করে এই জলধারা, সে পায় চির তৃপ্তির ঢেউ,
এ সুখ যে দুনিয়ায় নেই, এ যে আখিরাতের ঢেউ।
দুধের নদী বয়ে চলে, শুভ্রতায় ভরা সে ধারা,
স্বাদ তার চির অপরিবর্তন, নেই কোনো ক্ষয় বা হারা।
সময় যতই গড়িয়ে যাক, স্বাদ তাতে বদলায় না,
চির নতুন সে অমৃত সুধা, ক্লান্ত প্রাণে ক্লান্তি আনে না।
যেন রহমতের শুভ্র রেখা, আঁকা আছে স্বর্গ পথে,
মুত্তাকীরা পান করে তাতে, সুখ ভরে অন্তর জুড়ে।
না আছে তাতে বিষের ছোঁয়া, না কোনো দুঃখের রেশ,
শুধুই শান্তি, শুধুই স্নিগ্ধ, হৃদয় ভরে প্রশান্ত দেশ।
যে একবার পান করে তাতে, সে আর ফেরে না পিছে,
এ সুখ পেয়ে ভুলে যায় সব, দুনিয়ার মিছে মিছে।
সোনালি রঙে ঝরে মধু, নির্মলতার গভীর ছায়া,
প্রতিটি ফোঁটা বলে যেন—“এ সুখ চির অক্ষয় মায়া।”
না কোনো ময়লা, না কোনো দোষ, না কোনো তিক্ততার রেশ,
শুধু মাধুর্যে ভরা সে ধারা, জান্নাতেরই সুখের দেশ।
মুত্তাকীরা পান করে তা, হাসে তাদের অন্তর ভরে,
রবের দানের এই নিদর্শন, শান্তি আনে প্রাণের ঘরে।
এ যে শুধু পানীয় নয়, এ এক অনন্ত সুখের ধারা,
যার মাঝে ডুবে গেলে মানুষ, পায় চির শান্তির সাড়া।
এ মধুর স্রোত সাক্ষী হয়ে, বলে রবের দয়ার কথা,
যে বুঝে নেয়, সে-ই পায় তো, মুক্তির চির আলোর ব্যথা।
সুরার নদী বয়ে চলে, কিন্তু নেই কোনো পাপের ছায়া,
না আছে তাতে মত্ততার দুঃখ, নেই কোনো গ্লানির মায়া।
যে পান করে, সে হাসে শুধু, হৃদয় ভরে আনন্দে,
না কোনো ব্যথা, না কোনো ক্ষতি, শুধু শান্তি জীবনের বন্দে।
দুনিয়ার সুরা মানুষ ভোলায়, পথ হারায় অন্ধকারে,
এই সুরা তো আলো জ্বালে, নেয় মানুষকে আলোর দ্বারে।
পবিত্রতার এই নিদর্শন, জান্নাতের এক অপার রূপ,
যেখানে সুখের শেষ নেই আর, নেই কোনো কষ্টের ধূপ।
যে বুঝে নেয় এ পার্থক্য, সে বেছে নেয় সঠিক পথ,
তার জন্যই জান্নাত রাখা—চির সুখের অনন্ত রথ।
চমৎকার—তাহলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে
একই কঠোর ১৪/১৬ মাত্রাবৃত্ত, আবৃত্তিযোগ্য ছন্দে
চারিদিকে ফলের বাগান, রঙে রসে ভরা সারি,
যা চাও তাই হাতে মেলে, নেই কোনো অভাব ভারী।
পাকা ফলে ঝরে সুধা, সুবাস ভাসে বাতাস ভরে,
চোখে দেখে তৃপ্তি আসে, প্রাণটা ডুবে সুখের ঘরে।
না কোনো মৌসুমের বাধা, নেই কোনো ঝড় বা ক্ষয়,
চির বসন্ত থাকে সেখানে, সুখের ধারা থামে না ক’য়।
হাত বাড়ালেই নেমে আসে, ডালে ভরা ফলের দল,
না কোনো কষ্ট, না কোনো ক্লেশ, নেই পরিশ্রমের ফল।
মুত্তাকীদের এই পুরস্কার, রবের দানের অফুরান,
যে দুনিয়ায় বীজ বুনেছে, পায় সে জান্নাতের দান।
সব নিয়ামত ছাপিয়ে আছে, এক মহা দানের আলো,
রবের ক্ষমা—যার স্পর্শে মুছে যায় সব পাপের কালো।
যত ভুল আর যত গুনাহ, জমে ছিল হৃদয়ের কোণে,
এক নিমেষে মুছে যায় সব, রহমতেরই স্পর্শে মনে।
এই ক্ষমা যে কত বড়, ভাষা তারে ধরতে পারে না,
এ যেন আলো অন্ধকারে, হার মানে সব গ্লানির ছায়া।
যে পেয়েছে এই ক্ষমার দান, সে পেয়েছে সবই যেন,
তার জন্য আর ভয় নেই কোনো, শান্তি নামে অন্তর ভরেন।
মুত্তাকীরা কাঁদে যেথায়, দুনিয়াতে তওবা করে,
সেই কান্না ফুল হয়ে ফোটে, জান্নাতেরই সোনার দ্বারে।
চির যৌবন, চির হাসি, নেই কোনো বার্ধক্যের ছাপ,
প্রতিটি ক্ষণ আনন্দে ভরা, নেই কোনো ক্লান্তির চাপ।
মিলবে সেথায় আপনজন, থাকবে ভালোবাসার ছায়া,
নেই কোনো হিংসা, নেই বিভেদ, শুধু শান্তির মধুর মায়া।
ঘরগুলো রত্নে গড়া, আলো ঝরে চারিধার,
প্রতিটি দৃশ্য বলে যেন—“এ সুখ চির অপরিসীম আর।”
আল্লাহর সন্তুষ্টি মিলে, যা সবার চেয়ে বড় দান,
এই নিয়ামতে পূর্ণ হয়, জান্নাতবাসীর সবই প্রাণ।
অন্যপথে অন্ধকারে, জাহান্নামের আগুন জ্বলে,
যেখানে পাপী দগ্ধ হয়, যন্ত্রণারই জালে পড়ে।
পানীয় সেখানে ফুটন্ত আগুন, দগ্ধ করে অন্তর প্রাণ,
পান করিলে ছিন্ন হয় সব, নাড়িভুঁড়ি হয় অবসান।
চিৎকার ভেসে আসে শুধু, মুক্তি চেয়ে ব্যথার সুরে,
কিন্তু সেথায় নেই কোনো দয়া, শাস্তি থাকে কঠোর রূপে।
না কোনো ছায়া, না বিশ্রাম, শুধু আগুনেরই ছোঁয়া,
যা দুনিয়াতে ছিল গোপন, আজ তা সামনে খোলা।
এই দৃশ্য যে দেখে একবার, কাঁপে তার অন্তর প্রাণ,
বোঝে তখন পাপের ফল—কত ভয়ংকর তারই দান।
বল তবে—এই দুই দল কি কখনো হয় সমান?
একদল পায় চির শান্তি, অন্যদল পায় দহন।
একদিকে ফল, নদী, মধু, রবের ক্ষমার ছায়া,
অন্যদিকে আগুন জ্বালা, অন্তহীন দুঃখের মায়া।
একদল হাসে আনন্দে, চির সুখের স্রোতে ভেসে,
অন্যদল কাঁদে আগুনে, পাপের বোঝা বুকে বেঁধে।
এ বিচার তো স্পষ্ট বড়, নেই কোনো সন্দেহের ছাপ,
যে যেমন বপন করেছে, সে তেমনই পাবে ফল।
তাই হে মানুষ, বেছে নাও পথ—সত্য নাকি মিথ্যার ডোর,
এক পথ যায় জান্নাতের পানে, অন্য পথ শুধু অন্ধকার ঘোর।
তাকওয়া শুধু ভয়ের নাম নয়, প্রেমে ভরা এক অনুরাগ,
রবের প্রতি গভীর টান, অন্তরে জাগে সত্যের রাগ।
চোখের আড়াল, তবু জানে—রব তো দেখে প্রতিক্ষণ,
এই অনুভব জাগে যার, সে রাখে নিজেকে সংযমে মন।
গোপন পাপে থেমে যায় সে, মনে করে রবের দৃষ্টি,
এই ভাবনায় পবিত্র থাকে, জীবনের প্রতিটি সৃষ্টি।
তাকওয়া যেন ঢাল এক, বাঁচায় মানুষ পাপের ঘায়,
যে তা ধরে রাখে প্রাণে, সে-ই সফল শেষের দায়।
এ পথ কঠিন, তবু মধুর, জান্নাত যার চূড়ান্ত ফল,
তাকওয়ারই আলো ধরে, মানুষ পায় মুক্তির বল।
এই দুনিয়া পরীক্ষার মাঠ, সুখ-দুঃখ মিলে পথ,
কখনো হাসি, কখনো কান্না—এটাই জীবনের রথ।
ধন-সম্পদ, দারিদ্র্য, কষ্ট—সবই একেক পরীক্ষা,
যে ধৈর্যে থাকে অটল, সে-ই পায় সাফল্যের দিশা।
বিপদ এলে ভেঙে পড়ে না, তাকওয়ার মানুষ শক্ত,
সে জানে এই ক্ষণিক জীবন, আখিরাতেই চূড়ান্ত রক্ত।
সুখ পেলে সে ভুলে না রব, দুঃখে পড়ে ডাকে তাকে,
এই ভারসাম্য যার মাঝে, সে-ই জয়ী জীবনের পথে।
দুনিয়ার এই রঙিন মেলা, আসলে ক্ষণিকের খেলা,
যে বুঝে নেয় সত্যটা, সে-ই পায় মুক্তির বেলা।
শয়তান আসে নিঃশব্দ পায়ে, মনে ঢালে মিথ্যা বাণী,
পাপকে সাজায় সুখের রঙে, ফাঁদে ফেলে মানব প্রাণী।
বলে—“আজ কর, কাল তো আছেই”, এভাবে দেয় ধোঁকা,
মানুষ ভাবে ক্ষতি নেই তাতে, পড়ে শেষে দুঃখের শোকে।
সে চায় মানুষ পথ হারাক, ভুলে যাক তার রবের ডাক,
মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে শেষে, ঠেলে দেয় অন্ধকারে ফাঁক।
কিন্তু যে সচেতন থাকে, চিনে নেয় তার ছলনা,
তাকওয়ার আলো জ্বালিয়ে সে, ভাঙে শয়তানের সব গড়না।
এই লড়াই চলে প্রতিক্ষণ, অন্তরেরই গভীর মাঝে,
যে জেতে এই যুদ্ধে শেষে, জান্নাত তার জন্য সাজে।
ধৈর্য হলো শক্তির মূল, ঝড়েও যে থাকে অটল,
যে সহ্য করে কষ্ট হাসি দিয়ে, সে-ই পায় সফল ফল।
বিপদ এলে বলে—“আল্লাহ আছেন”, এ বিশ্বাসে থাকে দৃঢ়,
এই ভরসায় পার হয় মানুষ, দুঃখের পাহাড় বড়।
আর তওবা হলো ফেরার পথ, গুনাহ থেকে ফিরে আসা,
যে কাঁদে মনে অনুতাপে, তার জন্য খুলে ক্ষমার আশা।
রব তো ভালোবাসেন তাকে, যে ভুল বুঝে ফিরে যায়,
এক ফোঁটা অশ্রুতে মুছে দেন, গুনাহ যত জমে রয়।
ধৈর্য আর তওবা মিলেই, গড়ে তোলে নতুন প্রাণ,
যে তা ধরে রাখে বুকে, সে পায় জান্নাতের দান।
সত্যপথ সহজ নয়, কাঁটার মতো বিছানো,
চারিদিকে বাধা আসে, মন হয় কখনো দিশেহারা।
বন্ধুরাও টানে ভুল পথে, সমাজ দেয় ভিন্ন ডাক,
তবু যে থাকে অটল মনে, সে-ই পায় সত্যের স্বাদ।
ঝড়ের মাঝে দীপের মতো, জ্বলে থাকে তার বিশ্বাস,
এই আলোয় পথ খুঁজে পায়, কাটে জীবনের সব নিঃশ্বাস।
সে জানে—শেষে আছে পুরস্কার, জান্নাত যার চূড়ান্ত স্থান,
এই আশাতেই লড়ে যায় সে, সহ্য করে সবই প্রাণ।
যে অবিচল থাকে শেষে, হার মানে না কোনো দিন,
তার জন্যই খুলে যায় তো, জান্নাতের অমল দ্বার চিন।
সূরাঃ মুহাম্মাদ আয়াতঃ ১৫ মাদানী
৪
৪ মন্তব্য