Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ

মুনাফিকের মুখোশ - মোঃ মুজিবুর রহমান


মুনাফিকের মুখোশ

 

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।


মানব হৃদয় রহস্যময়, আলো-অন্ধকারের খেলা,
কেউ সত্যে দীপ্ত হয়ে ওঠে, কেউ ঢাকে মিথ্যার মেলা।
মুখে ঈমানের মিষ্টি বাণী, অন্তরে বিষের ছায়া
সে- মুনাফিক, ছলনার পথে যার জীবন কাটায়।

মুখে বলে আমি মুমিন”, অন্তরে অন্ধকার,
চোখে জল, ঠোঁটে দোয়াতবু অন্তর পাপভার।
মানুষ দেখে ভদ্র রূপ, ভাবে সে নেকবান,
কিন্তু অন্তরে লুকিয়ে থাকে বিশ্বাসঘাতক প্রাণ।

কথা বলে মিষ্টি করে, ভিতরে মিথ্যার ঢেউ,
সত্য যেন তার কাছে একেবারেই নাহি ঢেউ।
প্রতিটি বাক্যে প্রতারণা, প্রতিটি হাসি ছল,
তার জিহ্বা যেন বিষধর, অন্ধকারের দল।

যখন রাখো বিশ্বাস করে, দাও তাকে কোনো ধন,
সে তা নেয় নিজের করেভুলে যায় সেই ঋণ।
অমানতের মর্যাদা তার কাছে শূন্য প্রায়,
বিশ্বাস ভাঙার কষ্ট সে কোনোদিন বোঝে না হায়।

ওয়াদা করে দৃঢ় কণ্ঠে, দেয় অগণিত শপথ,
সময় এলে সরে যায় সেভেঙে দেয় সব রথ।
তার প্রতিশ্রুতি মরীচিকা, বালুর উপর ঘর,
বিশ্বাস যার ভিত্তি ছিলহয়ে যায় ছারখার।

ঝগড়ার সময় চেহারা বদলায় ভয়ংকর রূপে,
শালীনতা ফেলে দেয় সে, অশ্লীলতার ধূপে।
কথার আঘাত ছুরির চেয়ে ধারালো হয় বেশি,
মানুষকে করে আহতভিতরটা করে রাশি।

মসজিদে যায়, কিন্তু মন থাকে না আল্লাহর ধ্যানে,
লোক দেখানো ইবাদতে তার আত্মা পড়ে টানে।
সিজদা যেন শুধু শরীর, হৃদয় থাকে দূরে,
স্মরণ করে খুব কমইপড়ে থাকে সুরে।

মুনাফিকের উপস্থিতি সমাজে বিষের মতো,
বিশ্বাসের বাগান জুড়ে ছড়িয়ে দেয় ক্ষত।
বন্ধুর ছদ্মবেশে এসে শত্রুতার বীজ বোনে,
নিরীহ হৃদয় ভেঙে দেয়হাসে গোপন কোণে।

তার হৃদয়ে দ্বিধার বাসনা পুরো ঈমান,
না পুরো অবিশ্বাসএক অদ্ভুত সন্ধান।
এই দ্বৈততার আগুনে সে নিজেই পুড়ে যায়,
শান্তি খোঁজে চারদিকেকোথাও তা না পায়।

হে মুমিন! চোখ খোলো, দেখো সত্যের আলো,
মুখের কথায় নয়কর্মে বিচার করো ভালো।
যে সত্যবাদী, সে- নিকট, সে- তোমার সাথী,
মুনাফিকের পথ থেকে দূরে থাকাই গাথি।

যখন আসবে সেই দিনহিসাবের ময়দান,
মুখোশ খুলে যাবে সব, হবে সত্যের দান।
মুনাফিক তখন দাঁড়াবে লজ্জায় নত হয়ে,
নিজের কাজের বোঝা নিয়ে কাঁদবে অশ্রু বয়ে।

সর্বনিম্ন স্তরে হবে তার চির আবাস,
যেখানে আগুন জ্বলেনেই কোনো বিরাম নিশ্বাস।
চাইবে মৃত্যু হাজারবার, পাবে না সে মুক্তি,
তার প্রতারণার ফলএই চিরস্থায়ী দুঃখভুক্তি।

দুনিয়া আখিরাতে অভিশপ্ত সে প্রাণ,
তার জন্য রহমত নয়বরং কঠিন শাস্তির টান।
আল্লাহর দৃষ্টিতে সে সবচেয়ে নিকৃষ্ট,
কারণ সত্য জেনেও সে হয়েছে বিভ্রান্ত।

এই কাহিনি শুধু ভয় নয় শিক্ষা মহান,
সত্যে থাকো, সৎ পথে চলোএই হোক তোমার জ্ঞান।
মিথ্যা ত্যাগ করো, রক্ষা করো প্রতিটি আমানত,
তবেই হবে হৃদয় তোমার ঈমানের জান্নাত।

শেষে থাকে সত্যের জয়, মিথ্যার পরাজয়,
আলো এসে অন্ধকারে সত্যের প্রদীপ জ্বয়।
যে হৃদয়ে খাঁটি ঈমানসে- হবে সফল,
মুনাফিকের ছায়া পেরিয়ে পাবে জান্নাতের পথচল।

এই কাব্য শুধু শব্দ নয়এক সতর্কতার ডাক,
মুখোশ ছেড়ে সত্যে ফিরোএটাই জীবনের পথচাক।
হৃদয় যদি হয় নির্মল, কর্ম যদি হয় ঠিক,
তবে তুমি নও মুনাফিকতুমি আলোর পথিক।

***

মানব হৃদয় দ্বৈত নদী, আলো-অন্ধকার ঢেউ,
কেউ চলে নূরের পথে, কেউ আঁধারে হারায় নাও।
মুখে তার ঈমানের বাণী, অন্তরে বিষের ঘর,
দেখতে সে সৎ মানুষের মতোভিতরে ভয়ংকর।

সে বলে আমি মুমিন”, চোখে জল ভেজা,
কিন্তু অন্তর জুড়ে তার শয়তানেরই খেলা।
সত্যকে ঢাকে ছলনায়, মিথ্যার রঙে ঢেকে,
মানুষ ভাবে নেক সে খুবঅন্তর থাকে ফাঁকে।

নামাজে দাঁড়ায় ধীরে, কিন্তু মন থাকে দূর,
লোক দেখানো সিজদাতে নেই কোনো নূরের সুর।
হৃদয় তার দুই ধারায় বিভক্ত সদা রয়,
না পুরো ঈমান তারনা কুফরের জয়।

তার কথাতে মধুর সুর, ভেতরে বিষের ঢেউ,
সত্য তার কাছে হারিয়ে যায়মিথ্যায় খোঁজে নৌ।
প্রতিটি বাক্যে ছলনা লুকায়, প্রতিটি হাসি ফাঁদ,
বিশ্বাস নিয়ে খেলে সেকরে হৃদয় নষ্টবাদ।

বন্ধুর বেশে কাছে এসে গোপনে আঘাত হানে,
সুযোগ বুঝে পিঠে ছুরি বসায় নিঃশব্দ টানে।
তার জিহ্বা এক অগ্নিশিখাজ্বালায় মানুষের প্রাণ,
সত্যকে সে ঘৃণা করে, মিথ্যায় তার জ্ঞান।

যখন তুমি বিশ্বাস করে দাও তাকে কোনো ধন,
সে তা নেয় নিজের করেভুলে যায় সেই ঋণ।
অমানতের মর্যাদা তার কাছে কিছু নয়,
বিশ্বাস ভাঙার ব্যথা সে বুঝে না কখনোই।

হৃদয়হীন সেই মানুষ, লোভে ডুবে থাকে,
মানুষের আস্থা ভেঙে নিজের পথ আঁকে।
আমানতের এই খেয়ানত এক বড় অন্ধকার,
এতে নষ্ট হয় সমাজ, ভেঙে যায় বিশ্বাসের দ্বার।

ওয়াদা করে দৃঢ় কণ্ঠে, দেয় অগণিত শপথ,
সময় এলে সরে যায় সেভেঙে দেয় সব রথ।
তার প্রতিশ্রুতি মরীচিকা, বালুর উপর ঘর,
বিশ্বাস যার ভিত্তি ছিলহয়ে যায় ছারখার।

বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, চুক্তিসবই তার কাছে খেলা,
স্বার্থ শেষে সব ভুলে যায়ভেঙে দেয় মেলার মেলা।
মানুষ কাঁদে, ভেঙে পড়েসে হাসে নির্লজ্জ,
এই ভণ্ডতার পরিণাম হবে একদিন ভয়ংকর।

যখন ঝগড়া লাগে, বদলায় তার রূপ,
ভদ্রতার মুখোশ খুলে হয় ভয়ংকর ধূপ।
অশ্লীল ভাষা, গালিগালাজতার মুখে আগুন ঝরে,
মানুষকে অপমান করেঅহংকারে ভরে।

কথার আঘাত তলোয়ারের চেয়েও ধারালো,
একটি বাক্যেই ভেঙে যায় হৃদয়ের ভালো।
বিবাদে তার সীমা নাইলজ্জা করে না মান,
এভাবেই সে হারায় নিজের মানবতার জ্ঞান।

মসজিদে যায় ধীরে ধীরে, কিন্তু হৃদয় শূন্য,
লোক দেখানো ইবাদতে নেই কোনো গুণ্য।
সিজদা করে শরীর, মন পড়ে দুনিয়ায়,
আল্লাহর স্মরণ খুব কমনফস তাকে ঘিরে যায়।

নামাজ যেন এক অভিনয়, দর্শকের সামনে,
একাকী হলে হারিয়ে যায়ফিরে পাপে ঘামে।
এই রিয়ার আগুনে পুড়ে তার আমল হয় ছাই,
বাহিরে ইবাদত, ভিতরে কিছুই নাই।

চমৎকারতাহলে আমরা আর দেরি না করে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাই।
ছন্দ, গভীরতা তাফসির ঠিক রেখে পরবর্তী অংশ শুরু করছি

নীরব মুখে হাসি রেখে বিষ ঢালে সে ধীরে,
বন্ধুর বেশে আসে কাছে, আঘাত হানে নীরে।
সমাজ জুড়ে ছড়িয়ে দেয় সন্দেহেরই ছায়া,
একতা ভেঙে বিভেদ গড়েএটাই তার মায়া।

বিশ্বাস যেখানে ফুলের মতো ফুটে ছিল প্রাণে,
সেখানে সে আগুন জ্বালেঅশান্তিরই টানে।
ভালোবাসার সেতু ভেঙে দেয় গোপন ছলে,
মানুষ মানুষ থেকে দূরেঘৃণার স্রোত চলে।

দুই দিকেতে টানে মননা পথে, না ,
ঈমান-অবিশ্বাস মাঝে হারায় জীবনের নৌ।
কখনো বলে সত্য চাই”, কখনো পাপে ঢলে,
এই দ্বিধার আগুনে সে নিজেই পুড়ে চলে।

শান্তি খোঁজে চারদিকেকোথাও তা না পায়,
কারণ অন্তর বিভক্ত হলে প্রশান্তি দূরে যায়।
একদিকে আলো ডাকে, অন্যদিকে রাত,
এই টানাপোড়েনে তার জীবন হয় ক্ষত।

হে মুমিন! চোখ খোলো, দেখো সত্যের আলো,
মুখের কথায় ভুলো নাকর্মে বিচার ভালো।
যে সত্যবাদী, সে- বন্ধুতার সাথেই চলো,
মিথ্যার পথে যারা থাকেতাদের থেকে ভলো।

বিশ্বাস দাও যাচাই করে, হৃদয় রেখো জাগ্রত,
অন্ধ ভরসা নয়হোক জ্ঞান-সচেতন পথ।
কারণ মুনাফিকের ছলনা গভীর অন্ধকার,
সাবধান না থাকলে সে ভাঙবে তোমার দ্বার।

দেখতে মনে হয় যেন সে সফল খুব আজ,
ধন-সম্পদ, সম্মান পেয়ে করছে বড় সাজ।
মানুষ ভাবে—“সে তো ভালো, কত কিছু তার!
কিন্তু ভিতরে শূন্যতাএক ভয়ংকর ভার।

এই দুনিয়ার জয় ক্ষণস্থায়ীমায়ার খেলা,
আসল হিসাব হবে পরেখুলবে সত্য মেলা।
যা লুকানো আছে অন্তরেসব হবে প্রকাশ,
মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে পড়বেহবে সর্বনাশ।



যখন বাজবে শিঙ্গার ধ্বনি, থমকে যাবে প্রাণ,
দুনিয়ার সব রঙ মুছেশুরু হবে জ্ঞান।
মুখোশ খুলে যাবে সবে, প্রকাশ হবে অন্তর,
মুনাফিক দাঁড়াবে তখন লজ্জায় কাঁপা কাঁপা কর।

যা লুকিয়ে রেখেছিল সে দুনিয়ার আড়ালে,
সবই তখন ফুটে উঠবে সত্যেরই আলোয় জ্বলে।
কোনো ছলনা কাজ করবে নাবন্ধ সব পথ,
নিজের কর্মই হবে তার চূড়ান্ত সাক্ষ্যদ্বার রথ।

মুমিনদের নূর ছুটে যাবে সামনে আলোর রেখা,
মুনাফিক দাঁড়িয়ে থাকবেঅন্ধকারে দেখা।
তারা বলবে—“আমাদেরও দাও একটু আলো”,
কিন্তু উত্তর আসবে—“ফিরে যাও, খোঁজো ভালো!

দেয়াল তুলে আলাদা হবে দুই পথের সারি,
এক পাশে রহমত, অন্য পাশে আগুন ভারী।
মুনাফিক তখন বুঝবে তার ভুলের পরিণাম,
কিন্তু তখন আর ফেরার নেই কোনো অবকাশ।

অতল গভীর জাহান্নামে তার হবে ঠিকানা,
যেখানে আগুন নিভে না, নেই কোনো মানা।
সর্বনিম্ন স্তরে তার চিরস্থায়ী বাস,
শাস্তির মাঝে কাটবে জীবননেই কোনো নিশ্বাস।

চাইবে মৃত্যু হাজারবারপাবে না সে তা,
নিজের কর্মের ফলেই আজ এই কঠিন ব্যথা।
মিথ্যার পথে চলার এই ভয়ংকর প্রতিদান,
আল্লাহর ন্যায়বিচারে নেই কোনো অবমান।

দুনিয়াতেও ছিল সে অভিশপ্ত পথের পথিক,
আখিরাতেও তার জন্য কঠিন শাস্তি প্রতিক্ষিত।
রহমতের দরজা বন্ধ, নেই কোনো সুপারিশ,
তার জীবনের প্রতিটি ছলনা আজ বড় বিষ।

আল্লাহর লানত তার উপর চিরকাল বর্ষে,
তার অন্তর অন্ধকারে ডুবে থাকে সর্বশেষে।
যে সত্য জেনেও ফিরেছিলতার নেই ক্ষমা,
এই শিক্ষা মানবতারএটাই চূড়ান্ত মহিমা।

একদিকে সত্যের আলো, অন্যদিকে ছল,
একদিকে নূরের পথ, অন্যদিকে বিভ্রান্তির দল।
মুমিন থাকে দৃঢ় চিত্তেসত্য তার প্রাণ,
মুনাফিক বদলায় রঙস্বার্থ তার জ্ঞান।

মুমিনের অন্তর নির্মলকর্মে তার প্রমাণ,
মুনাফিকের বাহির ভালোভিতরে শয়তান।
এই দুই পথ আলাদাকখনো মিলে না,
একটি জান্নাতের দিকে, অন্যটি ধ্বংসের ছাঁ।

হে মানুষ! ফিরে এসোএখনো সময় আছে,
সত্যের পথে চললে মুক্তি মিলবে কাছে।
মিথ্যার অন্ধকার ছেড়ে ধরো আলোর হাত,
আল্লাহর পথে চলাই জীবনের আসল প্রভাত।

***

শেষে থাকে সত্যের জয়, মিথ্যার পরাজয়,
আলো এসে অন্ধকারে সত্যের প্রদীপ জ্বয়।
যে হৃদয়ে খাঁটি ঈমানসে- হবে সফল,
মুনাফিকের ছায়া পেরিয়ে পাবে জান্নাতের পথচল।



মুনাফিকের মুখোশ

অন্তর যখন ক্লান্ত হয়ে ফিরে চায় পথ,
পাপের বোঝা ভারী হয়ে কাঁদে নীরব রথ।
চোখের জলে ধুয়ে যায় ভুলের কালো দাগ,
তওবার দরজা খোলা থাকেনেই কোনো বিরাগ।

সে বলে—“হে রব! আমি ভুলে গেছি পথ,”
করুণা দিয়ে ঢেকে দাও আমার সবই ক্ষত।
এই আর্তনাদে কেঁপে ওঠে আকাশেরই দ্বার,
রহমতের সাগর তখন ডাকে বারবার।

গতকালের সেই মানুষ আজ বদলাতে চায়,
মিথ্যার পথ ছেড়ে সত্যে নিজেকে গড়ায়।
ভিতরের যুদ্ধ শুরু হয়নফসের সাথে লড়াই,
একদিকে পাপের ডাক, অন্যদিকে আল্লাহর ঠাঁই।

প্রতিটি ভুলের স্মৃতি তাকে কাঁদায় গভীর রাতে,
কিন্তু সে উঠে দাঁড়ায় নতুন শপথ হাতে।
এই সংগ্রামই প্রকৃত জিহাদঅন্তরের যুদ্ধ,
এখানেই গড়ে ওঠে সত্যিকারের বুদ্ধ।

যে জিহ্বা বলত মিথ্যা, আজ বলে সত্য বাণী,
যে হৃদয় ছিল কঠিন, আজ তা হয়েছে পানি।
আমানত রাখে যতনে, প্রতিশ্রুতি রাখে ঠিক,
বিবাদে সে নরম হয়শান্তির পথের দিক।

লোক দেখানো আমল ছেড়ে করে শুধু রবের তরে,
নামাজে সে ডুবে যায় অশ্রু ভেজা অন্তরে।
এই পরিবর্তনই প্রমাণসত্যিকার তওবা,
মানুষ তখন ফিরে পায় ঈমানের সৌরভা।

এখন সে আর একা নয়ডাকে অন্য প্রাণ,
এসো সবাই সত্য পথে”—এই তার আহ্বান।
ন্যায়ের কথা বলে সে, অন্যায় করে রুখ,
অন্ধকারে জ্বালায় আলোভাঙে মিথ্যার মুখ।

সমাজ গড়ে সত্য দিয়ে, বিশ্বাসের ভিত্তিতে,
মানুষ মানুষকে ভালোবাসে আল্লাহর রাস্তাতে।
একজনের এই পরিবর্তন ছড়িয়ে পড়ে দূর,
একটি হৃদয়ের আলো জ্বালে হাজারো নূর।

যে ছিল পথভ্রষ্ট একদিন, আজ সে নূরের পথিক,
তওবার অশ্রুতে ধুয়ে গেছে তার পাপের ইতিহাস লিখিত।
নফসের সাথে যুদ্ধে জিতে সত্যের পথে দাঁড়ায়,
এই শিক্ষা মানবতারফিরে আসাই আসল জ্যোতিষ্ক ছায়া।

 মুনাফিকের মুখোশ

আলো আর আঁধারের মাঝে শুরু হলো লড়াই,
সত্য দাঁড়ায় দৃপ্ত বুকেমিথ্যা পিছু হটাই।
যে ছিল আগে গোপনে, আজ প্রকাশ্য রূপ,
মুনাফিকের মুখোশ খুলে দেখায় ভয়ংকর ধূপ।

মুমিন দাঁড়ায় সাহস নিয়ে সত্যের পতাকা হাতে,
ন্যায়ের পথে অবিচলঝড় এলেও সাথে।
এই লড়াই শুধু বাহিরে নয়অন্তরেরও ক্ষণ,
প্রতিটি প্রাণে জাগে তখন সত্য-মিথ্যার রণ।

***

যারা ছিল লুকিয়ে আগে ছলনারই আড়ালে,
আজ তারা ধরা পড়ে নিজেদেরই জালে।
কথা কাজের ফারাক হয় সবার সামনে স্পষ্ট,
মানুষ বুঝেকে সত্য, কে শুধু মিথ্যার রথ।

ভণ্ডামির সেই প্রাসাদ ভেঙে পড়ে ধূলায়,
মিথ্যার সাজানো মুখ হারিয়ে যায় ভুলায়।
যে সত্য লুকানো ছিলআজ তা জ্বলে উঠে,
মুনাফিকের আসল চেহারা প্রকাশ পায় রূপে।

একটি কণ্ঠ উঠে আসেডাকে ন্যায়ের গান,
অন্যায় রুখো, সত্য বলো”—এই তার আহ্বান।
মুমিনেরা একত্র হয়, গড়ে শক্তি দৃঢ়,
সত্যের পথে ঐক্যবদ্ধঅটুট তাদের গড়।

ভয় নয়, সত্যই শক্তিএই তাদের বিশ্বাস,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই জীবনের সুবাস।
তারা জানেএই পথ কঠিন, তবু সঠিক,
কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টিই তাদের আসল দিক।

ঝড়ের মতো ভেঙে পড়ে মিথ্যার সেই ঘর,
যে দাঁড়িয়েছিল ছলনায়আজ তা হলো পর।
মানুষ দেখে বাস্তবতাখুলে যায় সব বাঁধ,
মিথ্যার রাজ্য ভেঙে পড়েশেষ হয় তার সাধ।

অহংকারের মিনার পড়ে ধূলির সাথে মিশে,
মুনাফিক তখন হারিয়ে যায় লজ্জারই নিশে।
যে নিজেকে বড় ভাবতআজ সে ক্ষুদ্র প্রাণ,
সত্যের শক্তির কাছে তার নেই কোনো স্থান।

অবশেষে স্থির হয় ন্যায়েরই ভিত্তি,
সত্যের আলো ছড়িয়ে দেয় শান্তিরই সৃষ্টি।
মানুষ ফিরে পায় আবার বিশ্বাসের ঠিকানা,
ভালোবাসা গড়ে ওঠেভেঙে যায় সব মানা।

যে ছিল অন্ধকারে, সে পায় আলোর দিশা,
ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিতশান্তির পরিবেশা।
এই বিজয় শুধু বাহিরে নয়অন্তরের জয়,
সত্যের পথে যে থাকেতারই শেষমেশ জয়।

সংঘর্ষ শেষে জ্বলে উঠে সত্যের দীপ্তি মহান,
মিথ্যার সব মুখোশ ভেঙে হয় তার অবসান।
যে ছিল দৃঢ় ঈমানেসে- হলো সফল,
ন্যায়ের পথে অবিচল থাকাই জীবনের মূল ফল।

এক পথে আলো ঝলমলনূরের দীপ্তি ভরা,
অন্য পথে আগুন জ্বলেঅন্ধকারের ধরা।
মানবজাতি দাঁড়িয়ে আজ দুই দিকের মাঝে,
কর্মের ফলেই ঠিক হবেকোথায় কার সাজে।

মুমিনেরা শান্ত চিত্তে এগিয়ে যায় আলোয়,
মুনাফিক ভয় নিয়ে দাঁড়ায় নিজেদেরই ছায়ায়।
এই বিভাজন চূড়ান্তনেই আর কোনো ছল,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট, নেই কোনো টলমল।

সেখানে নেই কোনো ভয়, নেই দুঃখের ছায়া,
চিরশান্তির নীড়ে শুধু আনন্দেরই মায়া।
নদী বয়ে যায় স্নিগ্ধ সুরে, হৃদয় জুড়ে নূর,
মুমিনেরা হাসিমুখে থাকে চিরকাল ভরপুর।

তাদের মুখে প্রশান্তির দীপ্তিআলোয় ভরা প্রাণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিতে পূর্ণ তাদের স্থান।
যে দুনিয়ায় ছিল সত্যেসে পেল এই ফল,
জান্নাত তার চূড়ান্ত ঠিকানাঅমল অবিচল।

অন্যদিকে আগুন জ্বলেনিভে না কোনোদিন,
শাস্তির মাঝে কাটে সময়নেই কোনো সুধীন।
চিৎকার করে মুনাফিকচায় একটু পরিত্রাণ,
কিন্তু সে পথ বন্ধ এখনশেষ সব অবকাশ।

তৃষ্ণা পায়, পায় না পানিশান্তি তার নাই,
নিজের কর্মের ফলেই আজ এই কঠিন দায়।
মিথ্যার পথে যে চলেছিলসে পেল এই দান,
ন্যায়বিচারের সামনে আজ নত তার প্রাণ।

এই নয় কোনো ক্ষণিক দৃশ্য চিরস্থায়ী ভাগ্য,
যেখানে নেই ফেরার সুযোগনেই নতুন কোনো রাগ্য।
জীবনের প্রতিটি কাজ লিখা ছিল যত,
আজ তা- নির্ধারণ করে শেষের এই রথ।

একটি ক্ষুদ্র কাজও যায়নি কোথাও হারিয়ে,
সবই আজ সামনে এসে দাঁড়ায় সত্য হয়ে।
এই শিক্ষা গভীরহে মানুষ! ভেবে চলো পথ,
কারণ প্রতিটি কর্মেই লুকিয়ে আছে রথ।

শেষে থাকে সত্যের জয়এটাই চির সত্য,
মিথ্যার সব আবরণ ভেঙে যায় অবশেষে নিত্য।
যে ছিল খাঁটি ঈমানেসে পেল শান্তির ঘর,
যে ছিল ভণ্ড ছলনায়সে হলো পথহারা পর।

এই কাব্য শুধু গল্প নয় জীবন পথের দিশা,
মুখোশ ছেড়ে সত্যে ফিরোএটাই আসল আশা।
হৃদয় করো নির্মল, রাখো কর্ম ঠিক,
তবেই তুমি আলোর পথে হবে চিরদিন দীক্ষিত।
যে বেছে নেয় আলোর পথসে- সফল সাজে।
মুনাফিকের মুখোশ ভেঙে সত্যে ফিরে আসো,
এই শিক্ষা হৃদয়ে নিয়ে আলোর পথে ভাসো।

মানব হৃদয় দ্বৈত স্রোতআলো আঁধার খেলা,
কেউ চলে নূরের পথে, কেউ অন্ধকার মেলা।
মুখে তার ঈমান কথা, অন্তরে বিষ ঢেউ,
চোখে জল, অন্তরে ছলমিথ্যারই সে নৌ।

সে বলে—“আমি মুমিন”, মানুষ তাকে মানে,
কিন্তু তার অন্তর ভরা শয়তানেরই টানে।
সত্য তার কাছে ভারী, মিথ্যায় খোঁজে সুখ,
ভণ্ডামির আবরণে ঢাকে নিজের দুখ।

নামাজে দাঁড়ায় ধীরেলোক দেখানো রীতি,
হৃদয় থাকে দূরে তার, নেই কোনো প্রীতি।
সিজদা শুধু শরীর করে, অন্তর থাকে শূন্য,
এই ইবাদত নয় তো কিছু এক অভিনয় ধূণ্য।

বন্ধুর বেশে কাছে এসে আঘাত হানে চুপে,
হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে বিষেরই রূপে।
মানুষ ভাবেভালো সে, অন্তরে সে কালো,
মুনাফিকির এই শুরুঅন্ধকারের আলো।


 

মন্তব্য করুন

ব্লগ