Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ

আক্কেল দাঁত ওঠার কারণ

ধরনের কাঁচা ও শক্ত খাবার চিবিয়ে হজম করার উপযোগী করার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হতো। আর এই কাজ করার জন্যই আদিম মানুষের চোয়াল ছিল বর্তমান মানুষের চেয়ে অনেক বেশি লম্বা ও চওড়া। সেই বড় চোয়ালে অতিরিক্ত দাঁতগুলোর জন্য যথেষ্ট জায়গা ছিল। মুখের একেবারে পেছনের দিকে থাকা এই আক্কেলদাঁতগুলো শক্ত খাবার পিষে ফেলার জন্য দারুণ আশীর্বাদ ছিল।

কিন্তু মজার বিষয় হলো, এই অতিরিক্ত মাড়ির দাঁতগুলো মানুষের একদম ছোটবেলায় উঠত না। বরং এগুলো ওঠার জন্য একজন মানুষকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। কারণ, চোয়াল পুরোপুরি বড় ও শক্ত হওয়ার পরই কেবল এই বিশাল দাঁতগুলোর জন্য সেখানে জায়গা তৈরি হতো।

মানুষ যখন আগুনের ব্যবহার শিখল, তখন মানবেতিহাসে এক বিশাল পরিবর্তন এল। মানুষ কাঁচা মাংসের বদলে খাবার পুড়িয়ে বা রান্না করে খেতে শুরু করল। পাশাপাশি পাথরের তৈরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাংস বা অন্যান্য খাবার ছোট ছোট টুকরো করে কাটার কৌশলও তারা শিখে ফেলল।

রান্না করা নরম খাবার চিবানোর জন্য মানুষের আর আগের মতো অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হলো না। লাখ লাখ বছর ধরে এই নরম খাবার খাওয়ার ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষের চোয়ালের আকার ধীরে ধীরে ছোট হতে শুরু করল। অন্যদিকে উন্নত খাবার ও জীবনযাপনের কারণে মানুষের মস্তিষ্কের আকার আগের চেয়ে অনেক বড় হয়ে গেল। বড় মস্তিষ্ককে জায়গা করে দিতে গিয়ে মানুষের মাথার খুলির গঠনে পরিবর্তন এল। ফলে চোয়াল গেল আরও ছোট হয়ে।

সমস্যাটা হলো এখানেই! আমাদের চোয়াল ছোট হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের জেনেটিক কোডে সেই ৩২টি দাঁতের হিসাব এখনো রয়ে গেছে। ২৮টি দাঁত ওঠার পর যখন ওই শেষ চারটি আক্কেলদাঁত প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে উঠতে যায়, তখন ছোট চোয়ালে আর আগের সেই জায়গা অবশিষ্ট থাকে না।

জায়গা না পেয়ে এই আক্কেলদাঁতগুলো তখন বাঁকা হয়ে ওঠে, পাশের দাঁতকে ধাক্কা দেয় অথবা মাড়ির ভেতরেই আটকে থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ইমপ্যাক্টেড টুথ। এ কারণেই আক্কেলদাঁত ওঠার সময় আমরা এত মারাত্মক ব্যথা অনুভব করি। অনেক সময় সেখানে ইনফেকশনও তৈরি হয়।

জায়গা না পেয়ে এই আক্কেলদাঁতগুলো তখন বাঁকা হয়ে ওঠে, পাশের দাঁতকে ধাক্কা দেয় অথবা মাড়ির ভেতরেই আটকে থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ইমপ্যাক্টেড টুথ। এ কারণেই আক্কেলদাঁত ওঠার সময় আমরা এত মারাত্মক ব্যথা অনুভব করি। অনেক সময় সেখানে ইনফেকশনও তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, আক্কেলদাঁত আমাদের শরীরের একটি লুপ্তপ্রায় অঙ্গ। আমাদের অ্যাপেন্ডিক্স হাড়ের মতো এই দাঁতগুলোও পুরোনো স্মৃতিমাত্র, যা বর্তমানে আমাদের কোনো কাজেই আসে না।

আশার কথা হলো, মানবদেহ এখনো পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ কোনো আক্কেলদাঁত ছাড়াই বেঁচে আছে! অর্থাৎ, ধীরে ধীরে এই অপ্রয়োজনীয় দাঁতগুলোকে হয়তো আমাদের শরীর থেকে চিরতরে বিদায় নেবে। কিন্তু তুমি–আমি হয়তো এই পরিবর্তন দেখে যেতে পারব না। এতে হাজার হাজার বা লাখ লাখ বছর সময় লেগে যেতে পারে।

তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই! তোমাকে লাখ লাখ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান মাত্র কয়েক মিনিটেই এই সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছে! আক্কেলদাঁত ব্যথা দিলে দন্তচিকিৎসকেরা ছোট্ট একটি সার্জারির মাধ্যমে সেটি তুলে ফেলেন। আর দাঁতটি ফেলে দিলে আমাদের খাবার চিবোতে বা হজম করতে কোনো অসুবিধাই হয় না।

তবে আক্কেলদাঁত যদি ব্যথা না দেয় বা কোনো ঝামেলা না করে, তাহলে দাঁত না ওঠালেও কোনো সমস্যা নেই। শুধু আক্কেলদাঁত যদি তোমাকে কোনো প্যারা দেয়, তাহলেই দন্তচিকিৎসকের সাহায্যে তা তুলে ফেলতে পারো। তবে মনে রেখো, ওই দাঁতটি কিন্তু আমাদের লাখ লাখ বছরের পুরোনো আদিম ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী!

মন্তব্য করুন

ব্লগ