সহকারী অধ্যাপক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
প্রতারণার অন্ধকার - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
প্রতারণার অন্ধকার
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ধোঁকার পথে যে চলে, সে তো আলো পায় না,
মিথ্যার আগুন জ্বেলে নিজেকেই হারায় না।
ভেজালের হাসি মুখে, অন্তরে বিষ ঢালে,
মানুষ ঠকিয়ে শেষে শূন্য হাতে চলে।
ওয়াদা করে ভাঙে যে, সে কেমন মানুষ?
কথার দামে বিকায় যার বিবেকের রূপস।
বিশ্বাস ভেঙে দেয়, বন্ধন করে ক্ষয়,
তার জীবনে শান্তি কখনো আসে না আর কোনো সময়।
রাসূলের বাণী বাজে— সততারই জয়,
ধোঁকাবাজ হৃদয়ে ঈমান থাকে ক্ষয়।
সত্যের পথে চললে আল্লাহ দেন নূর,
মিথ্যার পথে গেলে জীবন হয় ম্লান-অন্ধকার ভরপুর।
তাই হে মানব, শোনো অন্তরের ডাক—
প্রতারণা ছেড়ে দাও, সত্য হোক তোমার পথ।
বিশ্বাস রক্ষা করো, রাখো ন্যায়ের মান,
এ পথেই মুক্তি, এ পথেই জান্নাতের দান।
মানুষ জন্ম নেয় নির্মল হৃদয় নিয়ে,
সত্যের আলো থাকে তার অন্তর জুড়ে দিয়ে।
কিন্তু লোভের ছায়া যখন মনে ঢুকে যায়,
তখনই প্রতারণার বীজ ধীরে ধীরে গজায়।
মিথ্যার সূতা বুনে মানুষ জাল তৈরি করে,
নিজ স্বার্থের জন্য অন্যকে সে ঠকে রে।
ভেজালের মোড়কে ঢাকে সত্যের আলো,
অল্প লাভের আশায় হারায় জীবনের ভালো।
একটি ভাঙা ওয়াদা, একটি মিথ্যা কথা,
হৃদয়ের গভীরে রেখে যায় ব্যথা।
যে বিশ্বাস একদিন ছিল পাহাড়সম দৃঢ়,
প্রতারণার ছোঁয়ায় হয় ধূলিসাৎ ক্ষুদ্র।
মুখে এক কথা, অন্তরে আরেক রূপ,
এভাবেই গড়ে ওঠে মুনাফিকির কূপ।
মানুষ ভাবে সে বুদ্ধিমান, চালাক খুব,
কিন্তু আল্লাহর কাছে সবই তো প্রকাশ্য রূপ।
যখন প্রতারণা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে,
সমাজ তখন ভেঙে পড়ে ধীরে ধীরে ফাঁকে।
ভাইয়ের প্রতি ভাই হারায় বিশ্বাস,
বন্ধুত্ব হয়ে যায় সন্দেহের নিঃশ্বাস।
ধোঁকাবাজ মানুষ বাইরে হাসে, ভিতরে কাঁদে,
অশান্তির আগুন তাকে প্রতিদিনই বাঁধে।
নিদ্রাহীন রাত, অস্থিরতার ঢেউ,
শান্তি খুঁজে পায় না, কোথাও নেই সে ঠাঁই।
একদিন হৃদয়ে জাগে সত্যের ডাক,
“ফিরে এসো পথে, ছেড়ে দাও পাপ।”
আল্লাহর করুণা ডাকে বারবার,
“তাওবা করো, খুলে দাও হৃদয়ের দ্বার।”
যে ফিরে আসে সত্যের পথে একবার,
তার জন্য খোলা থাকে রহমতের দ্বার।
অশ্রু ঝরে পড়ে, হৃদয় হয় নরম,
অন্ধকার ভেঙে আসে আলোরই বর্ষণ।
যখন মানুষ নেয় সত্যের শপথ,
সমাজ ফিরে পায় হারানো সেই রথ।
বিশ্বাস ফিরে আসে, বন্ধন হয় দৃঢ়,
মানবতা জাগে আবার সুদৃঢ় ও স্থির।
দুনিয়ার শেষে আছে এক মহান দিন,
যেখানে হবে হিসাব, লুকাবে না কিছুই বিন্দুমাত্রও ক্ষীণ।
সত্যবাদীরা পাবে শান্তির নীড়,
প্রতারকরা হবে লাঞ্ছিত, অপমানের ভিড়।
ধোঁকা ও প্রতারণা ক্ষণিকের লাভ দিলেও
চিরস্থায়ী ক্ষতির পথ খুলে দেয়।
সত্য, সততা ও আমানতদারিই
মানুষকে সম্মান ও মুক্তির পথে নিয়ে যায়।
***
নির্মল হৃদয় লয়ে মানুষ এ ধরায়,
সত্যের দীপ জ্বলে অন্তরেরই ছায়ায়।
নেই কোনো কলুষ, নেই মিথ্যার রেখা,
স্বচ্ছ নীল আকাশে ভাসে সোনার দেখা।
প্রকৃতির বুকে সে সরলতার ধ্বনি,
নিষ্পাপ জীবনে নেই কোনো ভ্রান্তি।
কিন্তু সময় ধীরে বদলায় রঙ,
লোভেরই ছায়ায় ঢাকে সত্যের সংগ।
লোভেরই অঙ্কুর জন্মে মনে গোপনে,
স্বার্থের হিসাব চলে গভীর চোপনে।
অল্প লাভের আশায় মানুষ পথ হারায়,
অন্যকে ঠকিয়ে সুখ খুঁজে পেতে চায়।
বিবেকের কণ্ঠ তখন কাঁদে নিরব,
তবু সে শোনে না, থাকে স্বার্থে ডুব।
এইভাবেই শুরু প্রতারণার পথ,
অন্ধকার নামে হৃদয়েরই রথ।
মিথ্যার সূতা বুনে জালেরই বিস্তার,
সত্যের আলো ঢাকে ছলনার আড়াল।
একটি মিথ্যা ঢাকতে শত মিথ্যার ঢেউ,
নিজেই জড়িয়ে পড়ে মুক্তির নেই কেউ।
মুখে মধুর বাণী, অন্তরে বিষধর,
এমন দ্বৈত চিত্তে মানুষ হয় পর।
সত্যের দীপ নিভে যায় ধীরে ধীরে,
অন্ধকার ঘন হয় জীবনের তীরে।
অর্পিত বিশ্বাস যখন ভাঙে কেউ,
মানবতার বুকে উঠে বিষাদ ঢেউ।
ওয়াদার মালা ছিঁড়ে পড়ে পথে,
ভরসার বৃক্ষ শুকায় মনের রথে।
যে রাখে না কথা, সে কেমন প্রাণ?
তার মাঝে থাকে না সততার জ্ঞান।
আমানত ভঙ্গ বড় ভয়ানক দোষ,
এতে জাগে শুধু অবিশ্বাসের রোষ।
মুখে এক, অন্তরে আরেকটি কথা,
এই দ্বিচারিতা দেয় অন্ধকার ব্যথা।
মানুষ ভাবে সে বড় চালাক বটে,
কিন্তু সত্য ধরা পড়ে আলোরই রথে।
মুনাফিক হৃদয় দ্বিধারই বাস,
সত্যের সামনে সে হয় সর্বনাশ।
তার চেহারা হয় বিভক্ত আয়না,
একই সাথে সত্য-মিথ্যা মিলায় না।
যখন ছলনা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে,
বিশ্বাস হারায় মানুষ নিজেরই দিকেতে।
বন্ধুত্ব ভেঙে যায় সন্দেহের ছোঁয়ায়,
ভ্রাতৃত্ব ম্লান হয় প্রতারণার বেলায়।
বাজারে ভেজাল, কথায় প্রতারণা,
চারপাশে গড়ে ওঠে মিথ্যার কারখানা।
এমন সমাজে শান্তি থাকে না আর,
মানবতা হারায়, বাড়ে শুধু অন্ধকার।
ধোঁকাবাজ হাসে, বাইরে সুখের ছাপ,
অন্তরে তার জ্বলে অনুতাপের আগুন চাপ।
নিদ্রাহীন রাত, অস্থিরতার ঢেউ,
মনেরই গহীনে শান্তি পায় না কেউ।
নিজেকে ফাঁকি দিয়ে বাঁচে যে জন,
সে তো হারায় নিজেরই আপন মন।
বাহিরে জয়ের গান, ভিতরে পরাজয়,
এই দ্বন্দ্বে জীবন হয় ক্ষয় আর ক্ষয়।
হৃদয়ের গভীরে ওঠে নীরব ডাক,
“ফিরে এসো পথে, ছেড়ে দাও পাপ।”
বিবেকের আলো জ্বলে ক্ষীণ প্রদীপ,
তবু তার শিখা করে পথকে স্নিগ্ধ দীপ।
যে শোনে সে ডাকে, সে-ই তো বাঁচে,
সত্যেরই পথে সে ফিরে আসে কাছে।
এই আহ্বান আসে করুণার দ্বার,
মানুষকে টানে আলোরই পার।
চোখেরই জলে ধুয়ে যায় পাপ,
অন্তরের মলিনতা হয় আলোকময় চাপ।
তাওবার দ্বার খোলা সব সময়,
ফিরে এলে মানুষ পায় শান্তির জয়।
আল্লাহর রহমত সাগরের ঢেউ,
ক্ষমার পরশে ভাসে হৃদয়ের নৌ।
যে ফিরে আসে সত্যের পথে,
তার জীবনে আলো জ্বলে প্রতিটি রথে।
সত্যের পতাকা তুলে ধরে জন,
ন্যায়ের পথেই গড়ে নতুন জীবন।
অঙ্গীকার করে— মিথ্যা নয় আর,
সততার আলো হবে পথেরই তার।
বিশ্বাস ফিরে আসে ধীরে ধীরে,
মানবতা জাগে নতুন ভোরের নীড়ে।
এভাবেই শুরু পুনর্জাগরণ,
সত্যের শক্তিতে গড়ে উন্নয়ন।
***
নফস বলে— “চলো সুখ লও শর্ট পথে,”
বিবেক বলে— “থাকো সত্যেরই রথে।”
এই দ্বন্দ্বে জাগে অন্তরের যুদ্ধ,
একদিকে অন্ধকার, একদিকে শুদ্ধ।
লোভেরই প্রলোভন টানে বারবার,
সত্যের আহ্বান ডাকে অপার।
যে জেতে এ যুদ্ধে নিজ অন্তরে,
সে-ই তো বিজয়ী আলোরই ঘরে।
চোখকে সংযত রাখ, জিহ্বাকে থামাও,
মিথ্যার আগুন থেকে হৃদয়কে বাঁচাও।
অল্পতেই তুষ্টি, এটাই মহা জ্ঞান,
সংযমের মাঝেই লুকায় সম্মান।
যে নিজেকে জিতে, সে জেতে বিশ্ব,
তার জীবন হয় শান্তির নিঃশ্বাস।
আত্মার প্রশান্তি আসে নীরব সুরে,
সত্যের ফুল ফোটে অন্তরের নূরে।
যখন কিছু মানুষ দাঁড়ায় সত্য পথে,
প্রতারণার শক্তি কাঁপে নিজের রথে।
ন্যায়ের কণ্ঠ উঠে বজ্রেরই মতো,
মিথ্যার প্রাচীর ভাঙে ক্ষণিকের ক্ষতে।
সমাজ জাগে ধীরে সাহসের আলোয়,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় সবাই মিলে।
একটি সৎ কণ্ঠ, একটি সত্য বাণী,
পরিবর্তন আনে— গড়ে নতুন প্রাণী।
মাপ ঠিক রাখো, দাও না ভেজাল,
হালাল উপার্জনেই বরকতের জোয়ার।
অল্প লাভ হলেও থাকুক তা পবিত্র,
হারাম রুজিতে নেই শান্তির সূত্র।
ক্রেতার বিশ্বাস এক অমূল্য ধন,
তা ভাঙলে হারায় জীবনেরই মান।
সততার বাণিজ্য দেয় আলো ভরা দিন,
প্রতারণা আনে শুধু অন্ধকার ঋণ।
কথা হলো আমানত— ভেঙো না তা কভু,
ওয়াদা রাখার মাঝেই ঈমানের রূপ।
যে কথা রাখে, সে সম্মানের পাত্র,
তার জীবন জুড়ে থাকে আলোরই মাত্র।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এক নীরব ছুরি,
বিশ্বাসের বুকে করে গভীর ক্ষতি।
তাই কথা দাও ভেবে, রাখো তা ঠিক,
এই পথেই মানুষ হয় সত্যের দিক।
সম্পর্ক মানে বিশ্বাসের সেতু,
ধোঁকার ঢেউ এলে তা ভাঙে ক্ষত-বিক্ষত।
হৃদয়ের বন্ধন থাকে সত্যের তলে,
মিথ্যার ছোঁয়ায় তা ধুলোয় মিশে চলে।
পরকীয়া বা লুকানো প্রতারণা,
ভেঙে দেয় জীবনের মধুর গাঁথা।
পবিত্রতা রাখো, রাখো সীমার মান,
এতেই টিকে থাকে ভালোবাসার প্রাণ।
সত্য যেন সূর্য, দীপ্ত তার আলো,
মিথ্যা হলো ছায়া— টেকে না ভালো।
একদিন প্রকাশ পায় গোপন সবই,
মিথ্যার দুর্গ ভেঙে পড়ে রবে নাহি।
প্রতারণা যতই সাজাক মুখোশ,
সত্যেরই সামনে হয় তা সর্বনাশ।
এই সংঘর্ষ চিরকালীন রীতি,
শেষে জিতে সত্য— এটাই প্রকৃতি।
মানবজীবন এক পরীক্ষা ক্ষেত্র,
সত্য-মিথ্যার মাঝে চলে নিত্য যুদ্ধ।
নৈতিকতা হলো আত্মার আয়না,
যেখানে দেখা যায় সত্যেরই চেহারা।
যে নিজেকে দেখে সত্যের আলোয়,
সে কখনো পড়ে না মিথ্যার ছায়ায়।
দর্শনের মূল কথা— সত্যের সাধনা,
এতেই লুকানো জীবনের মানা।
নিজেকে জিজ্ঞেস কর— “আমি কে আজ?”
সত্যের পথে নাকি মিথ্যার সাজ?
অন্তরের বিচারই শ্রেষ্ঠ বিচার,
এখানেই লুকায় মুক্তিরই দ্বার।
যে নিজেকে দেখে ভুলের আয়নায়,
সে-ই তো ফিরে আসে সঠিকের ছায়ায়।
আত্মপর্যালোচনায় জাগে নতুন প্রাণ,
মানুষ হয়ে ওঠে সত্যেরই জ্ঞান।
অন্ধকার যতই হোক গভীর ও ঘন,
আলোর এক শিখাই করে তা ক্ষণ।
সত্যের যাত্রা এখন চূড়ান্ত পথে,
জয় আসছে ধীরে ন্যায়েরই রথে।
মানুষ জেগেছে, জেগেছে বিবেক,
মিথ্যার প্রাচীর এখন খুবই ক্ষীণ।
শেষ লড়াই বাকি— সত্যেরই জয়,
আলোরই মহিমা ছড়িয়ে পড়বে সর্বময়।
***
সময়ের প্রান্তে দাঁড়ায় দুই পথ,
একদিকে সত্য, একদিকে মিথ্যার রথ।
মানবতার বুকে জাগে শেষ লড়াই,
কে জিতবে শেষে— নির্ধারণ তাই।
সত্যের সৈনিক দাঁড়ায় দৃঢ় প্রাণ,
মিথ্যার সেনা করে ছলনার গান।
কিন্তু আলো যখন ছড়িয়ে দেয় দৃষ্টি,
অন্ধকার হারায় নিজেরই সৃষ্টি।
বজ্রের মতো ওঠে সত্যের ডাক,
ভেঙে যায় মিথ্যার গড়া সব ফাঁক।
ছলনার প্রাসাদ পড়ে ধূলির তলে,
ন্যায়ের সূর্য ওঠে নতুন সকলে।
মানুষ ফিরে পায় বিশ্বাসের আলো,
ভ্রাতৃত্ব গড়ে উঠে ভালোবাসা ভালো।
সত্যের পতাকা উড়ে আকাশ জুড়ে,
শান্তির সুবাস ভাসে বিশ্বপুরে।
ঘুমন্ত হৃদয় জেগে ওঠে আজ,
সত্যের আলোয় মুছে যায় লাজ।
মানুষ বুঝে তার জীবনের মানে,
সততার পথেই মুক্তি আনে।
বিবেকের কণ্ঠ হয় শক্তিশালী,
অন্যায়ের সামনে দাঁড়ায় নির্ভীক চলি।
এই জাগরণই মানবতার জয়,
অন্ধকার শেষে আলোর পরিচয়।
একদিন আসবে সেই মহাদিন,
যেখানে গোপন থাকবে না কিছুই ক্ষীণ।
কর্মের হিসাব হবে সূক্ষ্ম রূপে,
প্রত্যেক আমল ধরা পড়বে কূপে।
ধোঁকাবাজ ভাবত— “কেউ জানে না,”
কিন্তু সবই লেখা আছে অদৃশ্য খাতা।
সে দিন সত্য হবে চূড়ান্ত বিচার,
মিথ্যার মুখোশ হবে ছিন্ন-ছারখার।
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা দাঁড়াবে ঠিক,
কোনো অন্যায় হবে না অদৃশ্য লিপি।
এক বিন্দু সৎকর্ম পাবে তার দাম,
এক ফোঁটা মিথ্যাও আনবে অশ্রু ঘাম।
যার পাল্লা ভারী সততার আলোয়,
সে পাবে শান্তি অনন্তকাল ঢালোয়।
আর যার জীবন প্রতারণায় ভরা,
তার জন্য অপেক্ষা অন্ধকার ঘেরা।
যারা ঠকিয়েছে মানুষ সারাজীবন,
তাদের সামনে খুলবে সত্যের জীবন।
লজ্জায় নত হবে তাদেরই শির,
মিথ্যার পথ হবে তাদেরই শৃঙ্খল ঘির।
যে হাসত একদিন অন্যের ক্ষতি করে,
আজ সে কাঁদে নিজেরই অন্তরে।
প্রতারণার ফল বড়ই কঠিন,
এটাই ন্যায়ের শাশ্বত বিধান রঙিন।
যারা ছিল সত্যে অটল প্রাণ,
তাদের জন্য খোলা শান্তিরই দান।
হৃদয়ে প্রশান্তি, মুখে হাসির রঙ,
চিরন্তন সুখে ভরে তাদেরই সংগ।
বিশ্বাসের পথে যারা ছিল দৃঢ়,
তাদের জীবন হয় আলোয় সুদৃঢ়।
সত্যের প্রতিদান মহান ও বিশাল,
এতে ভরে ওঠে জান্নাতেরই কাল।
সবুজ বাগানে প্রবাহিত নদী,
শান্তির বাতাসে ভরে প্রতিদিনই গদী।
দুঃখের ছায়া নেই, নেই কোনো ভয়,
চির সুখের মাঝে তারা পায় আশ্রয়।
সততার ফল এ অপার সুখ,
যেখানে নেই কোনো অশান্তির দুঃখ।
এই পুরস্কার আল্লাহর দান,
সত্যবাদীদের জন্য অফুরান।
মানবজীবন ক্ষণিকেরই পথ,
সত্যের সাথেই রাখো জীবনের রথ।
ধোঁকা-প্রতারণা ক্ষণিকের লাভ,
শেষে তা আনে অনন্ত অভাব।
সততার আলো রাখো হৃদয়ে জাগ্রত,
এতেই লুকানো জীবনের সার্থক।
এই শিক্ষা যুগে যুগে সত্য,
এতেই মানবতার প্রকৃত মন্ত্র।
শেষ হলো কাব্য, শেষ নয় বাণী,
সত্যের পথেই জীবনের টানি।
প্রতারণার রাত যতই হোক দীর্ঘ,
ভোরের আলো আসে নিশ্চিত নির্ঘোষ।
তাই হে মানব, ধরো ন্যায়ের হাত,
সত্যের পথেই রাখো জীবনের মাত।
এ পথেই মুক্তি, এ পথেই জয়,
এই কাব্য বলে— “সত্যই সর্বময়।”
***
নির্মল প্রাণ লয়ে মানুষ আসে ধরা,
সত্যের আলো জ্বলে অন্তর ভরা।
নেই কোনো ছলনা, নেই মিথ্যার ছায়া,
স্বচ্ছ তার জীবন, শান্তিরই মায়া।
প্রকৃতির কোলে সে সরলতার গান,
নিষ্পাপ হৃদয়ে নেই কোনো অবসান।
তবু সময়ের স্রোতে বদলায় রূপ,
লোভেরই ছোঁয়ায় ঢাকে সত্যের রূপ।
লোভেরই বীজ পড়ে মনে অজান্তে,
স্বার্থের হিসাব চলে গোপন প্রান্তে।
অল্প লাভের আশায় পথ করে বাঁক,
সত্যকে ফেলে সে মিথ্যারই ফাঁক।
বিবেকের ডাক তখন শোনা যায় ক্ষীণ,
তবু সে ডাকে না দেয় কোনো দিন।
এইভাবে শুরু পতনের পথ,
অন্ধকার ঢাকে জীবনের রথ।
***
মিথ্যার সুতো বুনে জালের বিস্তার,
সত্যকে ঢাকে ছলনার আড়াল।
একটি মিথ্যা ঢাকতে শত মিথ্যার ঢেউ,
নিজেই জড়িয়ে পড়ে মুক্তি পায় না কেউ।
মুখে মধুর বাণী, অন্তরে বিষ,
এমন দ্বৈততায় নষ্ট হয় দিশ।
সত্যের দীপ নিভে যায় ধীরে,
অন্ধকার নামে জীবনের তীরে।
বিশ্বাসের ধন যখন ভাঙে কেউ,
মানবতার বুকে ওঠে বেদনার ঢেউ।
ওয়াদার মালা পড়ে ধূলির তলে,
সম্পর্কের বৃক্ষ শুকায় ফলে ফলে
Top of
FormBottom of Form
৪
৪ মন্তব্য