Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০১ অপরাহ্ণ

হযরত মুহম্মদ (সা:) যেদিন নবী হলেন

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিচে এর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

১. প্রেক্ষাপট ও নির্জনতা প্রিয়তানবুয়ত প্রাপ্তির আগে থেকেই মুহাম্মদ (সা.) মক্কার সমাজ ও মানুষের নৈতিক অবক্ষয় দেখে ব্যথিত থাকতেন। সত্যের সন্ধানে তিনি নির্জনতা পছন্দ করতে শুরু করেন এবং মক্কা থেকে প্রায় ৩ মাইল দূরে হেরা গুহায় কাটাতে থাকেন। সেখানে তিনি কয়েক দিন বা কয়েক রাত একটানা আল্লাহ্‌র ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং খাবার শেষ হয়ে গেলে পুনরায় বাড়ি থেকে নিয়ে আসতেন।

২. প্রথম ওহি নাজিলের ঘটনা (৬১০ খ্রিস্টাব্দ)মুহাম্মদ (সা.)-এর বয়স যখন ৪০ বছর, তখন রমজান মাসের এক রাতে (২১শে রমজান, সোমবার) ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে আবির্ভূত হন।আহ্বান: ফেরেশতা এসে তাঁকে বললেন, "ইকরা" (পড়ুন)।জবাব: নবীজি উত্তর দিলেন, "মা আনা বি-কারিউন" (আমি তো পড়তে জানি না)।আলিঙ্গন: তখন জিবরাইল (আ.) তাঁকে সজোরে বুকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন এবং ছেড়ে দিয়ে আবারও পড়তে বললেন। এভাবে তিনবার করার পর জিবরাইল (আ.) সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত পাঠ করেন। এটিই ছিল কুরআনের প্রথম নাজিলকৃত বাণী।

৩. আতঙ্ক ও বিবি খাদিজা (রা.)-এর সান্ত্বনাএই অলৌকিক অভিজ্ঞতার পর নবীজি অত্যন্ত ভীত হয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরলেন এবং স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.)-কে বললেন, "আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও"। তিনি নিজের জীবন সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশ করলে খাদিজা (রা.) তাঁকে অভয় দিয়ে বলেন:"কখনো নয়! আল্লাহ্‌ আপনাকে কক্ষনো অপদস্থ করবেন না। কারণ আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়দের সাহায্য করেন এবং অতিথিদের সেবা করেন"।

৪. ওয়ারাকা বিন নওফেলের নিকট গমনবিবি খাদিজা (রা.) তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ও তৎকালীন জ্ঞানী পন্ডিত ওয়ারাকা বিন নওফেলের কাছে যান। সব শুনে ওয়ারাকা মন্তব্য করেন যে, এটি সেই ওহি (নামুস) যা মুসা (আ.)-এর কাছেও এসেছিল। তিনি আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, মুহাম্মদ (সা.) একসময় তাঁর স্বজাতি কর্তৃক দেশত্যাগে বাধ্য হবেন এবং তিনি জীবিত থাকলে মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বাত্মক সাহায্য করবেন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ