সিনিয়র শিক্ষক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪২ অপরাহ্ণ
মহানবী (সা.) যেভাবে অন্যকে প্রধান্য দিতেন
সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) একজন মহিলা একটি চাদর নিয়ে মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বললো। (ইয়া রাসুলাল্লাহ) আমি এ চাদরটি আপনার জন্য নিজ হাতে বুনন করেছি। আপনি এটা পরিধান করবেন। মহানবী (সা.) সেটা গ্রহণ করলেন। আর তা ছাড়া মহানবী (সা.)-এর একটি চাদরেরও প্রয়োজন ছিল। তারপর মহানবী (সা.) সেটিকে লুঙ্গিরূপে পরিধান করে আমাদের সামনে এলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, এটা তো খুবই সুন্দর! আপনি আমাকে তা পরিধান করতে দিয়ে দিন।
মহানবী (সা.) বললেন, ঠিক আছে। এরপর মহানবী (সা.) মজলিসে কিছু সময় বসার পরে ঘরে গিয়ে সেটাকে ভাঁজ করে ওই ব্যক্তির কাছে পাঠালেন। তখন উপস্থিত সাহাবারা ঐ লোকটিকে বলল, তোমার এমন কাজ করা উচিত হয়নি।মহানবী (সা.)-এর প্রয়োজনে তিনি তা পরিধান করেছিলেন, আর তুমি সেটা চেয়ে বসলে! অথচ তুমি তো জানো, মহানবী (সা.) কারও চাওয়াকে ফিরিয়ে দেন না। তখন ওই লোকটি বলল, ওয়াল্লাহি, (আল্লাহর কসম) আমি তো এটা পরিধান করার উদ্দেশ্যে চাইনি, আমি চেয়েছি ওই চাদরটা আমার কাফনের কাপড় হবে। বর্ণনাকারী সাহাবি সাহল (রা.) বলেন, অবশেষে মহানবী (সা.)-এর সেই চাদরটিই তার কাফন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
শিক্ষা ও বিধান
১. মহানবী (সা.) নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সেই চাদরটি অন্যকে দিয়ে দিয়েছেন। তাই নিজের চেয়ে অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়া অনেক সওয়াবের কাজ।
২. সাহাবারা জানতেন, মহানবী (সা.) কাউকে নিরাশ করতেন না। এভাবে তিনি মানুষের প্রয়োজন ও আবেগকে সম্মান করতেন।
৩. সাহাবারা মহানবী (সা.)-এর ব্যবহৃত জিনিসকে বরকতময় মনে করতেন এবং তাঁকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করতেন।
৪. ঐ সাহাবি দুনিয়ার ব্যবহার নয়, বরং মৃত্যুর পরের জন্য (কাফন) তা চেয়েছিল। তাই একজন মুমিনের দৃষ্টি সবসময় আখিরাতমুখী হওয়া উচিত।
৫. মহানবী (সা.) সাধারণ চাদর ব্যবহার করতেন এবং সহজ জীবনযাপন করতেন। তাই বিলাসিতা নয়, সরলতাই উত্তম।
৩
৩ মন্তব্য