Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রতিকূলতা মোঃ মুজিবুর রহমান


প্রতিকূলতা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

প্রতিকূলতা আসে হঠাৎ, ঝড়ের মতো রূঢ়,
মনকে করে ভারী করে, পথটা করে কঠিন, কূঢ়।
চারদিক যখন অন্ধকারে ঢেকে যায় নিঃশব্দে,
স্বপ্নগুলো থমকে থাকে, ভয় ঢুকে যায় হৃদে।

তবু থামা নয় জীবনের নিয়ম, নয় কোনো শেষ,
ঝড়ের মাঝেই খুঁজতে হবে নতুন দিনের রেশ।
বৈরী হাওয়া ঠেকায় শুধু দুর্বল মন আর ভয়,
দৃঢ় যে থাকে, সে- শেষে জয়ের গান কয়।

প্রতিকূলতা শেখায় মানুষধৈর্যের গভীর মানে,
হার না মানার সাহস রেখে এগিয়ে যেতে প্রাণে।
দুর্ভাগ্যও পথের সাথী, যদি দেখো অন্য চোখে,
সেই বাধাই সেতু হয়ে দাঁড়ায় সাফল্যের শিখরে।

যখন জীবন পথের বাঁকে দাঁড়ায় নীরব হাওয়া,
হঠাৎ এসে প্রতিকূলতা বলে—“ পথ সোজা না!
স্বপ্নগুলো কেঁপে উঠে, ভয় ঢুকে যায় মনে,
অচেনা এক অন্ধকারে পথ হারায় ক্ষণে।

***

চারপাশে সব প্রতিকূল, মানুষও হয় বিরূপ,
বন্ধু সেজে শত্রু আসে, বদলায় মুখের রূপ।
আবহাওয়াও দেয় না সাড়া, ঝড় ওঠে বারবার,
জীবন যেন থেমে থাকে, নেই কোনো আর পার।

বাইরের চেয়ে ভয়ংকর হয় অন্তরের দ্বন্দ্ব,
নিজের সাথেই লড়াই চলে, জাগে শত সংশয়-ছন্দ।
পারব তো?”—এই প্রশ্ন জাগে প্রতিটি নিশ্বাসে,
হতাশা এসে চেপে ধরে মনের গভীর পাশে।

ঠিক তখনই ধৈর্য এসে কানে কানে কয়
এই পথই তোমার গন্তব্য, ভয় পেও না আর ভয়।
অন্ধকারের বুক চিরেই সূর্য ওঠে শেষে,
সহ্য করো, দাঁড়িয়ে থাকো, শক্ত হও অবশেষে।

সাহস তখন বুকের মাঝে আগুন হয়ে জ্বলে,
প্রতিকূলতার দেয়াল ভাঙে দৃঢ় ইচ্ছার বলে।
ঝড়ের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা শেখায় মানুষকে,
হার মানা নয়লড়াই করে জিততে হবে তাকে।

প্রতিটি ধাপে কাঁটা বিছানো, প্রতিটি মোড়ে বাঁধা,
হতাশা এসে হাত বাড়িয়ে টানে পিছুপা সাধা।
তবু যারা থামে না আর, চোখ রাখে লক্ষ্যে,
তাদের পথেই জয় এসে দাঁড়ায় নীরব রক্ষে।

ইতিহাসের পাতায় দেখো, যারা বড় হয়েছে,
প্রতিকূলতার আগুনে তারা বারবার পুড়েছে।
-
এর স্বপ্ন যেমন আকাশ ছুঁয়েছিল শেষে,
বাধার ভেতর খুঁজে নিয়েছিল নতুন পথ অবশেষে।

প্রতিকূলতা শত্রু নয়, এক কঠিন শিক্ষক,
যে শেখায়কিভাবে হতে হয় আরও শক্ত দৃঢ়।
দুর্ভাগ্য যদি আসে পথে, ভয় পেয়ো না তাতে,
সেই দুঃখেই লুকিয়ে থাকে সফলতার প্রাতে।

নিজেকে যদি বিশ্বাস করো, পথ খুলে যায় ধীরে,
অসম্ভবও সম্ভব হয়ে দাঁড়ায় তোমার তীরে।
মনের শক্তি পাহাড় ভাঙে, সমুদ্র করে জয়,
প্রতিকূলতা তখন শুধু ক্ষুদ্র বাধা হয়।

লড়াই শেষে আসে যখন সাফল্যের প্রভাত,
সব কষ্টই মনে হয় যেন এক মধুর আঘাত।
ঝড়ের পরে শান্ত আকাশ, সূর্যের মৃদু হাসি,
প্রতিকূলতার গল্প তখন গর্ব হয়ে ভাসে।

জীবন শুধু সহজ পথে হাঁটার নাম নয়,
প্রতিকূলতা ছাড়া কেউ বড় হতে পারে না কয়।
যে কাঁদে, যে পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়,
সেই মানুষই সত্যিকারের বিজয়ের মালা পায়।

তাই প্রতিকূলতা এলে ভয় পেয়ো না বন্ধু,
এটাই তোমার শক্তি গড়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
ধৈর্য, সাহস, আত্মবিশ্বাসএই তিন শক্তি ধরে,
তুমি- একদিন দাঁড়াবে বিজয়ের শিখর ঘিরে।
এটাই নতুন শুরুর দ্বার। প্রতিকূলতা কোনো শেষ নয়
যে লড়তে জানে, সেই- একদিন ইতিহাস লেখার অধিকার পায়।

***

নিভে আসে আলো যখন, থেমে যায় সব গান,
অচেনা এক শূন্যতায় হারায় প্রাণের টান।
দিগন্ত জুড়ে মেঘের ভেলা, ঢাকে রঙিন দিন,
প্রতিকূলতা নামে ধীরেঅদৃশ্য এক ঋণ।

স্বপ্নগুলো কাঁপে তখন ভাঙা কাঁচের মতো,
চোখের কোণে জমে ওঠে অজানা ব্যথা যত।
পথের ধুলো প্রশ্ন তোলে—“কোথায় যাবে তুমি?”
হতাশা এসে বুনে দেয় এক বিষণ্ন ভূমি।

তবু অন্তর গভীর থেকে ক্ষীণ স্বরটি কয়
অন্ধকারের পরেই কিন্তু সূর্য উঠবে নিশ্চয়।

চারপাশে সব বদলে যায়, চেনা মুখও দূর,
বন্ধুত্বের আড়ালে লুকায় বিষাক্ত সুর।
ঝড়ের হাওয়া থামে না আর, আঘাত হানে প্রাণে,
অসহায় মন কাঁপতে থাকে অজানা এক টানে।

আকাশ তখন রূঢ় হয়ে দেয় না কোনো সাড়া,
চলার পথে কাঁটা বিছায় ভাগ্যের কঠিন ধারা।
প্রতিকূল এই পরিবেশে থেমে যায় সব গতি,
দিগন্ত জুড়ে জমে ওঠে নিঃসঙ্গতার স্মৃতি।

তবু যে জন মাথা তুলে দাঁড়াতে শেখে ঠিক,
বৈরী পৃথিবী হার মানে তার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির দিক।

বাইরের ঝড় যতই হোক, ভয়ংকর অন্তর,
নিজের সাথেই লড়াই চলেনীরব ঘাত-প্রতিঘাত ঘোর।
আমি পারব?”—এই প্রশ্ন জাগে শতবার মনে,
আত্মবিশ্বাস হারায় গিয়ে অন্ধকারের ক্ষণে।

সন্দেহ এসে জড়িয়ে ধরে বিষাক্ত সাপের মতো,
স্বপ্নগুলো ছিন্নভিন্ন হয় অবিশ্বাসের ক্ষত।
হৃদয়ের ভেতর দ্বন্দ্ব জাগে, দিশাহারা প্রাণ,
অচল হয়ে পড়ে যেন জীবনের সব টান।

তবু যে জন নিজেকে দেয় বিশ্বাসের হাত,
সে- জিতে নেয় অন্তরের এই নীরব মহাযুদ্ধ রাত।

ঝড়ের মাঝে জ্বলে ওঠে ক্ষীণ এক প্রদীপ,
ধৈর্য নামে, বলে ধীরে—“থামো না, হও নীরব দীপ্ত।
সময় বড় কঠিন শিক্ষক, নেয় কঠিন পরীক্ষা,
সহ্য শক্তি যার যত বেশি, সে পায় তত দীক্ষা।

অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা সহজ কাজ নয়,
তবু ধৈর্য যার সাথী হয়, সে হার মানে না কভু ভয়।
দুঃখগুলো ঢেউয়ের মতো আঘাত হানে বুকে,
তবু সে জন হাসতে শেখে অশ্রু লুকিয়ে মুখে।

ধৈর্যের এই নীরব শক্তি গড়ে অন্তর প্রাণ,
প্রতিকূলতার আগুন পুড়ে হয় সে মহামান।

একসময় সেই নীরবতা ভাঙে বজ্র ধ্বনি,
সাহস এসে জাগিয়ে তোলে ঘুমন্ত প্রাণখানি।
বুকের মাঝে আগুন জ্বলে দৃঢ় প্রত্যয়ের,
ভয়কে পিছে ফেলে এগোয় অজেয় মানুষের।

ঝড়ের বুকে দাঁড়িয়ে থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়,
প্রতিকূলতা! দেখো এবার, আমি হার মানি নে।
পথের কাঁটা ফুলে রূপ নেয় দৃঢ় পায়ের ছোঁয়ায়,
অন্ধকারও আলো হয়ে পাশে এসে দাঁড়ায়।

সাহস যার অন্তরে জাগে, সে হারায় না পথ,
তারই হাতে গড়ে ওঠে বিজয়ের মহারথ।

***

পথের বুকে কাঁটা যেন বাড়ে প্রতিক্ষণ,
প্রতিটি ধাপেই বাঁধা এসে থামায় অগ্রগমন।
নদীর স্রোত বিপরীতে টানে ক্লান্ত নৌকার পাল,
জীবন যেন জড়িয়ে পড়ে জটিল জালের জাল।

স্বপ্নগুলো দূরে সরে মেঘের আড়াল তলে,
পরিশ্রমও হারায় দিশা প্রতিকূলতার ছলে।
হতাশা এসে ফিসফিসিয়ে বলে কানে কানে
ফিরে যাও, পথ তোমার নয় কোনোখানে।

তবু যারা পিছু হটে না, দাঁড়ায় দৃঢ় পায়ে,
তাদের জন্য বাধা গড়ে নতুন পথের ছায়ে।

ইতিহাসের পাতায় খুঁজে দেখো মানুষের জয়,
যারা হেরেও থামেনি কখনো, ভয় পায়নি ভয়।
অগ্নিপথে হেঁটে যারা গড়েছে নিজেদের নাম,
তাদের কাহিনী আজও জাগায় সাহসের অবিরাম।

স্বপ্ন দেখেছিলেন আকাশ ছোঁয়ার একদিন,
দারিদ্র্যের সেই ছায়া ভেঙে ছুঁয়েছিলেন উচ্চ শিখর বিন্দুদিন।

বাধা যতই আসুক পথে, হার মানেনি মন,
চেষ্টা আর বিশ্বাস নিয়ে জয় করেছে জীবন।
তাদের গল্প শিখায় শুধু একটাই সত্য বাণী
প্রতিকূলতার মাঝেই লুকায় সাফল্যের খনি।

প্রতিকূলতা শত্রু নয়দেখো অন্য চোখে,
এই তো জীবন শেখায় তোমায় কঠিন শিক্ষা শোকে।
যে কাঁটা আজ বেদনা দেয়, কাল সে ফুল হয়ে,
তোমার পথেই সুগন্ধ ছড়ায় সাফল্যের আলোয়ে।

দুঃখ যদি আসে জীবনে, তাকে করো আপন,
শিক্ষা নিয়ে সামনে এগো, বদলাও দৃষ্টিপণ।
অভিযোগে নয় কোনো জয়, নয় কোনো উন্নতি,
ভাবনার রূপ বদলালে বদলায় জীবনের গতি।

যে বুঝে যায় এই সত্য, তার পথ হয় মসৃণ,
প্রতিকূলতাও হাসিমুখে দেয় তাকে পথচিহ্ন।

নিজের মাঝে খুঁজে নাও অমল এক শক্তি,
যে শক্তি ভাঙতে পারে সব দুর্বলতার যুক্তি।
আত্মবিশ্বাস দীপশিখা, জ্বলে অন্তর মাঝে,
অন্ধকারের বুক চিরে পথ দেখায় সে সাজে।

আমি পারি”—এই বিশ্বাসে এগিয়ে যাও দৃঢ়,
অসম্ভবও সম্ভব হয়, যদি মন থাকে দৃঢ়।
ঝড়ের ভয় আর থাকে না, কাঁপে না আর প্রাণ,
আত্মবিশ্বাস থাকলে জাগে অজেয় এক জ্ঞান।

নিজেকে যে জয় করতে পারে, সে- সত্য বীর,
তার সামনে নত হয় সব প্রতিকূলতার নীর।

অবশেষে দীর্ঘ পথে আসে এক শুভ দিন,
পরিশ্রমের ঘামে ভিজে ফুটে সোনার বিন।
ছোট্ট এক সাফল্য যেন সূর্যের প্রথম আলো,
অন্ধকারের বুক ভেদ করে আনে আশার ভালো।

হাসি ফোটে মুখের কোণে, মুছে যায় সব দুঃখ,
প্রতিকূলতার কঠিন রাত পায় শান্তির সুখ।
তবু এই জয় শেষ নয়, পথ এখনও বাকি,
আরো অনেক দূর যেতে হবে শক্তি নিয়ে আঁকি।

প্রথম জয় শুধু ইঙ্গিত দেয়—“তুমি পারবে আরও,”
সংগ্রামের এই পথেই লুকায় জীবনের ভারো।

***

ঝড় থামেনি, বরং যেন আরও বেড়ে যায়,
সহ্যের সীমা ছুঁয়ে গিয়ে হৃদয় কাঁপায় হায়।
প্রতিটি ক্ষণে পরীক্ষা আসে নতুন রূপ ধরে,
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে চায় দুঃখ ঢেউয়ের তরে।

দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর, ভেঙে পড়ে মন,
আর কত?”—এই প্রশ্ন জাগে নিঃশ্বাসের গহন।
তবু অন্তর নীরব স্বরে বলে ধীরে ধীরে
শেষ পরীক্ষা পেরোলেই আলো ফুটবে নীরে।

যে সহ্য করে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকে স্থির,
তারই জন্য বিজয় লেখানিশ্চিত, অদম্য, ধীর।

বাইরের শত্রু যতই হোক, ভেতরেই বড় যুদ্ধ,
নফসের টানে পথ হারানো সবচেয়ে কঠিন বুদ্ধ।
লোভ, ক্রোধ, হিংসা এসে টানে অন্য পথে,
সত্যের পথ ছেড়ে দিতে চায় মিথ্যার রথে।

নিজেকে দমন করা যেন আগুনে পুড়ার সমান,
প্রতিটি ইচ্ছা বাঁধতে লাগে দৃঢ় বিশ্বাস প্রাণ।
আত্মসংযম ঢাল হয়ে রক্ষা করে মন,
অশান্তিকে শান্ত করে জাগায় আলোকধ্বনন।

যে জিতে নেয় নিজের নফস, সে- সত্য জয়ী,
তার অন্তরেই গড়ে ওঠে আলোর রাজ্য স্থায়ী।

যখন সব পথ বন্ধ হয়ে দাঁড়ায় আঁধার ঘিরে,
মানুষ তখন খোঁজে ভরসা আকাশেরই নীড়ে।
তাওয়াক্কুল শেখায় তখন—“ছাড়ো সব ভয়-চিন্তা,
যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনিই দেবেন দিশা।

চেষ্টা করো সর্বশক্তি দিয়ে, বাকি ছেড়ে দাও,
আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সামনে এগিয়ে যাও।
ঝড়ের মাঝেও শান্তি নামে বিশ্বাসেরই ছায়ায়,
হৃদয় ভরে দৃঢ়তায়, ভয় দূরে সরে যায়।

যে ভরসা রাখে রবের উপর নির্ভীক প্রাণে,
প্রতিকূলতাও হার মানে তার দৃঢ় ঈমানে।

সমাজ কখনো দেয় না সাড়া, বোঝে না হৃদয়,
ভালো কাজে বাধা দেয়, করে অবহেলা ভয়।
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে বলে বারবার,
সত্যের পথে দাঁড়ানো হয় কঠিন অন্ধকার।

মানুষ মানুষকে ভুলে গিয়ে স্বার্থে ডুবে রয়,
সহমর্মিতা হারিয়ে গিয়ে হৃদয় শূন্য হয়।
তবু কিছু প্রাণ আলো হয়ে জ্বলে নির্ভীক পথে,
মানবতার দীপ জ্বালিয়ে দাঁড়ায় অন্যায়ের রথে।

প্রতিকূল এই সমাজেও যে রাখে ন্যায় অটুট,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে সত্যের সোনালী সুরভিত।

অবশেষে দীর্ঘ পথে বদলে যায় মন,
দুঃখ-সুখের আগুনে গড়ে নতুন জীবন।
যে মানুষ ছিল দুর্বল আগে, ভয় পেত প্রতিক্ষণ,
আজ সে দাঁড়ায় অটল হয়ে দৃঢ়তারই প্রতিমন।

প্রতিকূলতা আর ভয় নয়, হয়ে ওঠে সাথী,
প্রতিটি বাধা শেখায় তাকে জীবনেরই গাঁথি।
অন্তরের সেই পরিবর্তন আনে নতুন আলো,
অন্ধকারও পথ দেখায়, মুছে দেয় সব কালো।

রূপান্তর শেষ নয়শুরু নতুন পথ,
এক নতুন মানুষ গড়ে ওঠে, জয় করে সব রথ।

***

শেষ প্রান্তে এসে আবার জ্বলে কঠিন আগুন,
সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্বে জাগে জীবনেরই রাগিণী গুণ।
মিথ্যার পথে সহজ স্রোত, টানে বারবার প্রাণ,
সত্যের পথে কাঁটা বিছানোকঠিন তারই টান।

প্রলোভনের মায়াজালে ডাকে স্বার্থের গান,
ছাড়ো সত্য, নাও সহজ পথ”—বলে মিথ্যার টান।
তবু যে জন সত্য ধরে দাঁড়িয়ে থাকে দৃঢ়,
তার চোখে জ্বলে অমর আলো, অটল তারই শির।

এই লড়াইয়ে হার মানে না যে নত হয় না কভু,
তারই নামে ইতিহাসে লেখা হয় জয়ের কবু।

একলা পথে ক্লান্ত প্রাণে জাগে নতুন ডাক,
মানুষ মানুষে মেলাও হাত”—ভাঙো বিভেদের ফাঁক।
বিভাজনের দেয়াল যত, গুঁড়িয়ে দাও আজ,
মানবতার সুরে গাঁথো নতুন দিনের সাজ।

ধর্ম-বর্ণ ভেদ ভুলে দাঁড়াও পাশাপাশি,
ভালোবাসার বন্ধনে গড়ো পৃথিবী খাঁটি।
সহমর্মিতা আলো হয়ে জ্বলে হৃদয় মাঝে,
ঐক্যের শক্তি জয় এনে দেয় প্রতিকূলতার মাঝে।

যে সমাজে ভালোবাসা সত্য হয়ে রয়,
সেই সমাজে প্রতিকূলতাও মাথা নত করে কয়।

সময় বয়ে যায় ধীরে, ফুরায় জীবনের গান,
প্রতিটি কাজের হিসাব রেখে চলে অবিরাম।
যা করেছি গোপনে বা প্রকাশ্যে সকল,
তারই প্রতিধ্বনি বাজে সময়েরই তলে চল।

অহংকারের মুকুট পড়ে ভেঙে যায় একদিন,
সত্যের দাঁড়িপাল্লায় মাপে কর্মের রঙিন ঋণ।
সৎকর্ম যদি থাকে সাথে, আলো জ্বলে প্রাণে,
অসৎ কাজের ভারে নত হয় হৃদয় অজানায়।

জীবন শুধু চলার নাম নয়হিসাবেরই পথ,
যে বুঝে নেয় এই সত্য, সে- পায় মুক্তির রথ।

এই পৃথিবী ক্ষণিক মাত্র, চিরকালীন নয়,
এর পরেও আছে এক জগৎঅজানা গভীর স্রোত বয়।
সেখানে নেই মিথ্যা কিছু, নেই কোনো আড়াল,
প্রতিটি কাজ প্রকাশ পাবে সত্যেরই জ্যোতিজাল।

ভয় আর আশা মিলেমিশে দাঁড়ায় হৃদয় মাঝে,
নেক আমলের আলো তখন পথ দেখাবে সাজে।
যে জীবন কাটিয়েছে সত্য ন্যায়ের পথে,
তার জন্যই শান্তি লেখা আখিরাতের রথে।

এই বিশ্বাস শক্তি দেয় সব দুঃখ সহিতে,
প্রতিকূলতার মাঝেও হাসতে শেখায় বাঁচিতে।

শেষে আসে শান্তির ভোর, থামে সব ক্লান্তি,
সফলতার চূড়ায় মেলে অনন্ত সুখের কান্তি।
জান্নাত যেন স্বপ্ন নয়বাস্তব এক স্থান,
যেখানে নেই দুঃখ-কষ্ট, নেই কোনো অবসান।

নদী বয়ে যায় শান্ত সুরে, ফুলে ভরে পথ,
চিরসুখের আবেশে ভাসে আলোরই সে রথ।
পরিশ্রমের প্রতিদান মেলে অমলিন হাসিতে,
প্রতিকূলতার সব কষ্ট হারায় সেই স্রোতেতে।

যে লড়েছে ধৈর্য ধরে, রেখেছে বিশ্বাস প্রাণে,
তারই জন্য চিরসুখ লেখা জান্নাতেরই টানে।

প্রতিকূলতা কোনো অভিশাপ নয়
এটাই মানুষকে গড়ে তোলার মহান উপায়।

যে ধৈর্য রাখে,
যে সাহস করে,
যে সত্যে অটল থাকে

সে- একদিন পৌঁছে যায়
চূড়ান্ত শান্তি সফলতার দরজায়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ