সহকারী অধ্যাপক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০২ অপরাহ্ণ
সবরের দীপশিখা মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সবরের দীপশিখা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া
ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জীবনের পথে ঝড় ওঠে, অন্ধকার নামে ঘন,
হৃদয়ে জমে দুঃখের ঢেউ, কাঁদে নীরব মন।
তবু সেই ক্ষণে থেমে গিয়ে, চোখ তুলে আকাশ পানে—
মুমিন বলে, “আল্লাহ আছেন, ভয় কিসের এ প্রাণে!”
সবর মানে শুধু নয় কাঁদা, নয় শুধু কষ্ট সই,
এটি এক নীরব শক্তি, অন্তরে জ্বলে যে স্রোত বই।
ঝড়ের মাঝে স্থির দাঁড়ানো, বিশ্বাসে অটল থাকা—
এই তো সবর, এই তো আলো, এই তো জীবনের দিশা।
যখন আসে দুঃখের ঢেউ, ভেঙে পড়ে আশা,
তখন মুমিন মনে রাখে—আল্লাহ আছেন পাশে।
তিনি দেন পরীক্ষা শুধু, ভালোবাসার টানে,
যেন বান্দা ফিরে আসে, তাঁরই ডাকে, প্রাণে।
“ধৈর্য ধরো”—বলে কুরআন, শতবারেরও বেশি,
এই তো পথ, এই তো আলো, এ পথেই মুক্তি রাশি।
যে ধৈর্যে থাকে অটল, তার জন্য সুসংবাদ—
জান্নাত হবে চূড়ান্ত ঘর, শেষ হবে সব আবাদ।
সবরের আছে তিনটি পথ, তিনটি সোনার ধারা—
ইবাদতে স্থির থাকা, পাপে নিজেকে হারা না।
আর যখন বিপদ আসে, ভেঙে পড়ে সব স্বপ্ন—
সেই ক্ষণে ধৈর্য ধরা—সেটাই বড়ো সম্পদ।
নামাজে ক্লান্তি এলেও, দাঁড়িয়ে থাকো ধীর,
রোজার ক্ষুধায় কষ্ট হলেও, রেখো অন্তর স্থির।
পাপের ডাকে মন কাঁপে, তবু ফিরো না সেই পথে—
এই তো সবর, এই তো জিহাদ, নিজেরই অন্তরে।
রোগে শোকে, অভাবের জ্বালা, যখন গ্রাসে মন,
প্রিয়জন হারিয়ে চোখে নামে অশ্রুর বেদন।
তখন যদি বলো তুমি—“এও আল্লাহর হুকুম”—
তবে সেই অশ্রু হবে নূর, খুলবে রহমতের দুয়ার গুণ।
মানুষের কথা, আচরণ, কষ্ট দেয় বারবার,
ধৈর্য ধরে সহ্য করো, রাখো হৃদয় উদার।
ক্ষমা করে এগিয়ে চলা—এও এক মহা গুণ,
সবরের মাঝে লুকিয়ে থাকে জান্নাতের সে ধুন।
রাসূল বলেছেন—“সবর হলো আলো”—উজ্জ্বল দীপ,
যে ধরে রাখে এই আলো, তার জীবন হয় স্নিগ্ধ স্নিগ্ধ।
এ দুনিয়া ক্ষণিকের মায়া, কষ্টও সাময়িক,
ধৈর্যের শেষে আসবে সুখ, হবে সবই দ্যুতিময় ঠিক।
আল্লাহ বলেন—“অপরিমিত পুরস্কার দেব আমি,”
যে বান্দা ধৈর্য ধরে, রাখে বিশ্বাসে নামি।
এই প্রতিদান শুধু নয় কিছু ক্ষণিক সুখের রূপ—
এটি জান্নাত, চিরস্থায়ী, অনন্ত শান্তির কূপ।
তাওয়াক্কুল মানে ছেড়ে দেওয়া, সব কিছু তাঁর হাতে,
নিজের চেষ্টা করে যাওয়া, ভরসা রাখা রাতে।
যে হৃদয়ে জিকির থাকে, আল্লাহর স্মরণ জাগে,
সে হৃদয় শান্ত থাকে, ভয় তাকে ছুঁতে না পারে।
সবর আসে আল্লাহর দান, চাও তাঁরই কাছে,
দোয়ার মাঝে খুঁজে নাও পথ, নীরব রাতের মাঝে।
আখিরাতের আশা রাখো, চোখ রাখো সেই পানে—
এই দুনিয়া ক্ষণিক পথ, শেষ গন্তব্য জান্নাতে।
একদিন সব কষ্ট যাবে, থামবে চোখের জল,
ধৈর্যের বীজ ফুটে উঠবে সুখের ফুলে টলমল।
যে ছিল ধৈর্যশীল, নীরব, সহ্য করেছে সব—
তার জন্য অপেক্ষা করে জান্নাতের অমল রব।
তখন বলা হবে তাকে—
“এসো, হে সবরকারী, তোমার প্রতিদান নাও,”
এই সেই সুখ, যা চেয়েছিলে, আজ তা পূর্ণ পাও।
দুনিয়ার সব দুঃখ মুছে, হাসবে চিরকাল—
সবরের পথেই লুকিয়ে ছিল, সেই জান্নাতের জাল।
সবর মানে হার মানা নয়, নয় দুর্বলতা কোনো,
এটি শক্তি, এটি আলো, এটি জীবনের রত্ন।
যে এই গুণে নিজেকে গড়ে, সে হয় আলোর মানুষ—
তার পথ হয় সোজা, তার হৃদয় হয় নিষ্কলুষ।
***
দুঃখ নামে হৃদয় জুড়ে, ভাঙে সুখের ঘোর।
চোখের জলে বুক ভিজে যায়, হারায় সবই রঙ,
তবু মনে জাগে বিশ্বাস—আল্লাহ আছেন সঙ্গ।
ঝড়ের মাঝে নত না হয়ে দাঁড়াও দৃঢ় চিত্ত,
এই তো সবর, এই তো শক্তি—মুমিনের মহাবৃত্ত।
কষ্ট এলে ধৈর্য ধরো, রাখো অন্তর স্থির,
আল্লাহরই ফয়সালাতে লুকায় কল্যাণ নীর।
সবর মানে কেবল নয় যে চোখের জলে ভাসা,
এটি হলো অন্তর জুড়ে আল্লাহরেই ভরসা।
বিপদ এলে ভেঙে না পড়ে, ধরা ধৈর্যের হাত,
প্রথম আঘাতেই যে স্থির—সে তো সত্যের জাত।
অস্থিরতা দূরে সরাও, রাখো চিত্ত ধীর,
আল্লাহরই সিদ্ধান্তেতে রয়েছে কল্যাণ নীর।
যে সন্তুষ্ট তাঁর হুকে, সে পায় শান্তির ঠাঁই,
এই তো সবর, এই তো পথ—মুক্তির সোনার নাই।
কুরআনে আছে বারবার ধৈর্যের আহ্বান,
“ধৈর্যে থাকো, অটল থেকো”—এই তো পবিত্র বাণ।
মুমিনদের ডাকা হয়েছে ধৈর্যের প্রতিযোগে,
যে এগিয়ে সেই পাবে জয়, আল্লাহরই যোগে।
যত কষ্ট, যত পরীক্ষা—সবই তাঁর দান,
ধৈর্য ধরে পার করলে তা, খুলবে সুখের গান।
এই যে পথ কষ্টমাখা, শেষে রয়েছে নূর,
সবরকারীর জন্য আছে জান্নাতের সুর।
সবর আছে তিনটি পথে, তিনটি সোনার দ্বার,
ইবাদতে স্থির থাকা—প্রথম তারই সার।
পাপ থেকে দূরে থাকা—দ্বিতীয় পথটি,
বিপদে ধৈর্য ধরা—তৃতীয় তার গতি।
নামাজে ক্লান্ত শরীর হলেও ছাড়ো না সে কাজ,
রোজার ক্ষুধা সহ্য করে রাখো অন্তর আজ।
পাপের ডাকে মন টললেও ফিরো না সে পথে,
এই সবরেই জয়ের সোপান, আলো থাকে সাথে।
আল্লাহ দেন পরীক্ষা তাঁর প্রিয় বান্দারে,
দুঃখ দিয়ে টেনে নেন তিনি নিজেরই দ্বারে।
যে ধৈর্যে থাকে অটল হয়ে, ভাঙে না তার মন,
সে-ই পায় শেষ বিজয়, পায় শান্তির জীবন।
যে বলে “আল্লাহ আছেন”—কষ্টেরই মাঝে,
তার হৃদয় নূরে ভরে, ভয় থাকে না সাজে।
পরীক্ষাতে সফল যারা ধৈর্যেরই বলে,
তাদের জন্য সুখ অপেক্ষা জান্নাতের কোলে।
রোগে শোকে ভেঙে পড়ে, ক্লান্ত দেহ প্রাণ,
অভাব এসে গ্রাস করে সুখের সবই গান।
প্রিয়জন হারিয়ে যখন চোখে নামে জল,
তখন বলো—“এও পরীক্ষা”—শান্ত হবে মন।
অশ্রু তখন নূরে রূপ নেয়, বাড়ে সওয়াব ধারা,
ধৈর্যের মাঝে রহমত নামে, মুছে দুঃখ জ্বালা।
যে সহ্য করে আল্লাহ ভেবে, পায় অফুরান দান,
সবরকারীর জীবন তাই আলোকিত প্রাণ।
মানুষ কষ্ট দেয় অনেক, কথায় বা ব্যবহারে,
ধৈর্য ধরে সহ্য করো, রাখো হৃদয় তারে।
ক্ষমা করে এগিয়ে চলা—এও বড়ো জিহাদ,
এই গুণেতে মানুষ পায় আল্লাহরই সান্নিধ্য সাধ।
রাগকে দমন করো যদি ধৈর্যেরই বলে,
তবে তুমি জিতলে নিজেকে, শান্তি আসবে কলে।
মানুষ নয়, নিজের সাথে লড়াই বড়ো কঠিন,
এই সবরেই জাগে শেষে বিজয়েরই দিন।
রাসূল বলেন—“সবর আলো”—উজ্জ্বল দীপশিখা,
যে তা ধরে রাখে মনে, পায় সুখের দিশা।
এই আলোতে পথ চলে যে, হারায় না সে কভু,
অন্ধকারেও খুঁজে পায় আল্লাহরই রূপ।
এই দুনিয়া ক্ষণিক মাত্র, কষ্টও সাময়িক,
ধৈর্যের পরে আসবে সুখ—নিশ্চিত, অবিচল ঠিক।
যে ধৈর্য ধরে জীবনভর, রাখে অন্তর জাগ্রত,
তার জন্যই জান্নাত হবে চিরসুখের ভ্রাত।
আল্লাহ বলেন—“অপরিমিত দেব আমি দান,”
যে ধৈর্যে থাকে অবিচল, রাখে ঈমান প্রাণ।
এই প্রতিদান দুনিয়ার নয়, নয় ক্ষণিক সুখ,
এটি জান্নাত, চিরশান্তি—নেই সেখানে দুঃখ।
সবরকারীর জন্য শুধু জান্নাতই স্থান,
এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দয়াময় রহমান।
তাই তো মুমিন ধৈর্য ধরে, রাখে আশা প্রাণে,
শেষে গিয়ে পাবে সুখ, জান্নাতেরই টানে।
তাওয়াক্কুল মানে ভরসা রাখা আল্লাহরই হাতে,
নিজের চেষ্টা করে যাওয়া দিন ও নীরব রাতে।
যে হৃদয়ে জিকির থাকে, শান্ত থাকে মন,
সবর তার সহজ হয়, কমে সবই ক্ষণ।
দোয়ার মাঝে খুঁজে নাও তুমি শক্তিরই আলো,
আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে চেয়ো না ভালো।
যে ভরসা রাখে তাঁর ওপর, পায় প্রশান্তি প্রাণ,
এই তাওয়াক্কুলে গড়ে ওঠে সবরেরই জ্ঞান।
***
নফসের সাথে যুদ্ধ
নফস ডাকে গোপন সুরে—“এসো সুখের পথে,”
পাপের রঙে সাজায় জীবন, টানে মিথ্যা রথে।
চোখের সামনে মোহের ছবি, মনকে করে বন্দী,
তবু মুমিন থামে না তাতে, থাকে সত্যে স্থির ধ্রুবী।
এই লড়াই বাহিরে নয়, অন্তরেরই মাঝে,
নিজেকে জয় করাই হলো শ্রেষ্ঠ জিহাদ কাজে।
রাগ, লোভ আর হিংসা দমে ধৈর্যেরই বলে,
এই সবরেই মুক্তি মেলে, শান্তি নামে কলে।
যে নিজেকে বশে রাখে আল্লাহরই ভয়,
সে-ই পায় প্রকৃত বিজয়, তারই সত্য জয়।
নফস যখন হার মানে ধীরে, জ্বলে নূরের দীপ,
সবর তখন পথ দেখায়—আলো হয় অদ্বীপ।
জীবন মাঝে আসে কখন কঠিন পরীক্ষা,
সব হারিয়ে শূন্য হলে কাঁপে অন্তর দিশা।
বন্ধু সরে, ভেঙে যায় ঘর, মুছে যায় সব রঙ,
তখন যদি ধৈর্য থাকে—আল্লাহ থাকেন সঙ্গ।
যে বলে না অভিযোগ, রাখে নীরব ধৈর্য,
তার হৃদয়ে নামে তখন রহমতেরই ঐর্য।
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যে, সে-ই সত্য বীর,
তার জন্যই খুলে যায় সুখের অমল নীর।
ঝড়ের শেষে রংধনু আসে, হাসে নীল আকাশ,
ধৈর্যের পর আসে সুখ—মুছে দুঃখের বাস।
এই নিয়মে গড়া জীবন, এই নিয়মে ধারা,
সবরকারীর জন্য আছে অফুরন্ত সারা।
একজনের ধৈর্য যখন জ্বলে আলোর মতো,
তার আলোয় বদলায় ধীরে অন্ধকারের শত।
ঘৃণার বদলে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে চারি,
সবরেরই স্পর্শে তখন বদলায় সংসার ভারি।
ক্ষমা, দয়া, সহনশীলতা—এই গুণগুলো ফুল,
যে সমাজে ফুটে ওঠে, সে সমাজ হয় কূল।
মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, ভাঙে বিভেদ দেয়াল,
সবরেরই শক্তিতে গড়ে শান্তিরই জগৎকাল।
একটি হৃদয় জ্বললে যদি নূরের আলো হয়ে,
সহস্র প্রাণ জেগে ওঠে সেই আলোতে লয়ে।
এইভাবেই বদলায় ধরা, গড়ে নতুন দিন,
সবরেরই শক্তি পেয়ে হাসে বিশ্বজীন।
যেদিন ভেঙে যাবে ধরা, থামবে দুনিয়ার গান,
মানুষ তখন দাঁড়াবে সব হিসাবেরই ত্রাণ।
সেই কঠিন দিনে যারা ছিল ধৈর্যশীল প্রাণ,
তাদের মুখে ফুটবে নূর, থাকবে না কোনো ভয়-ভ্রান্ত।
দুনিয়ার সব কষ্ট তখন হবে হালকা স্মৃতি,
সবরেরই বিনিময়ে পাবে চিরশান্তি।
ফেরেশতারা দেবে তখন শান্তিরই বার্তা,
“ধৈর্যের ফল পেলে আজ”—শুনে মুছবে ব্যথা।
হিসাব শেষে যারা পাবে আল্লাহরই রহমত,
তাদের জন্য খুলে যাবে সুখেরই সে জগত।
এই দৃশ্যই মুমিন দেখে রাখে মনে ধ্রুব,
তাই তো সে ধৈর্য ধরে, থাকে সত্যে সুব্রত।
অবশেষে খুলবে দ্বার—চিরসুখের সেই স্থান,
নদী বইবে শান্ত সুরে, ভরবে প্রাণে গান।
নেই কোনো দুঃখ সেখানে, নেই কোনোই ভয়,
সবরকারীর জন্য শুধু অনন্ত সুখময়।
বাগিচা ভরা নূরের আলো, ছায়া শীতল ঘর,
সেখানে নেই মৃত্যু কোনো, নেই কষ্টের পর।
আল্লাহ বলবেন—“এসো হে ধৈর্যধারী বান্দা,”
“তোমার জন্য এই জান্নাত”—শুনে হাসে প্রানটা।
দুনিয়ার সব দুঃখ কষ্ট মুছে যাবে তখন,
সবরেরই পথে ছিল সেই সুখেরই জীবন।
এই তো শেষ নয়, এ তো শুরু চিরশান্তির দিন,
সবরের দীপ জ্বালিয়ে তাই জিতে মুমিন বিন।
সবর হলো শক্তির নাম, নয় কোনো দুর্বলতা,
এতে লুকায় জীবনেরই সর্বোচ্চ সফলতা।
যে এই গুণে গড়ে জীবন, রাখে অন্তর শুদ্ধ,
তারই পথে আলো নামে—সে-ই হয় পরম সিদ্ধ।
***
সবরের দীপশিখা
হৃদয় মাঝে জমে থাকে অগণিতই দাগ,
লোভ, হিংসা, অহংকারে ঢাকে নূরের ভাগ।
সবর এসে ধীরে ধীরে মুছে অন্তর কাল,
পবিত্রতার আলো জ্বালে, করে জীবন ভাল।
যে ধৈর্যে রাখে অন্তর, দূরে সরায় মলিন,
তার হৃদয়ে জ্বলে ওঠে শান্তির অমল দিন।
এই পরিশুদ্ধ হৃদয়ই পায় আল্লাহর নৈকট্য,
সবর তার সোপান হয়ে গড়ে পবিত্র ভক্ত্য।
শয়তান এসে কানে কানে ফিসফিসিয়ে কয়,
“ছাড়ো ধৈর্য, ভোগ করো সুখ”—মিথ্যা তারই ভয়।
সে চায় মানুষ পথ হারাক, ভুলে যাক সত্য,
সবর দিয়ে রুখতে হবে তার সবই কৌশল শক্ত।
যে ধৈর্য ধরে প্রতিরোধ করে মন্দের ডাক,
সে-ই পারে রক্ষা পেতে, পায় আল্লাহর হাক।
এই লড়াই চলবে সদা, যতদিন প্রাণ রয়,
সবর যার ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, সে-ই পায় সত্য জয়।
সময় বয়ে যায় নীরবে, থামে না এক ক্ষণ,
জীবনের এই ক্ষণিক পথে গড়তে হবে মন।
কষ্ট এলে সময় দিয়ে ধৈর্যেরই চাষ,
একদিন সেই বীজ থেকে উঠবে সুখের হাস।
অস্থিরতা ক্ষয় করে সব, ধৈর্য গড়ে প্রাণ,
সময়মতো ফল দেয় তা—এই তো জীবনের জ্ঞান।
যে অপেক্ষা করতে জানে আল্লাহরই দ্বারে,
তার জীবনে বরকত নামে অজস্র উপহারে।
জ্ঞান ছাড়া সবর অন্ধ, দিশাহীন পথ,
জ্ঞান দিয়ে বুঝতে শেখো জীবনেরই রথ।
কেন আসে পরীক্ষা সব, কী তার অন্তর মানে,
এই বোধে ধৈর্য বাড়ে, শান্তি নামে প্রাণে।
যে জ্ঞানী সে ধৈর্যশীল, দেখে দূরের ফল,
আজকের দুঃখ আগামীর সুখ—এই তারই বল।
সবর ও জ্ঞান মিলেমিশে গড়ে আলোর দিশা,
এই পথেই মানুষ পায় জীবনের সঠিক দিশা।
যে দুঃখকে ভয় পাও তুমি, তাতেই লুকায় দান,
আল্লাহ দেন কষ্ট দিয়ে বাড়ান ঈমান জ্ঞান।
কষ্ট ছাড়া বোঝা যায় না সুখের আসল মান,
সবর ছাড়া পাওয়া যায় না রহমতেরই দান।
যে কাঁদে আল্লাহ ভেবে, সে-ই পায় নূরের ছোঁয়া,
তার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু সওয়াব হয়ে রোয়া।
এই দুঃখই সোপান হয়ে তোলে উচ্চ স্থানে,
সবর যার সাথী থাকে, জয় তারই প্রাণে।
এই দুনিয়া ক্ষণিক ঘর, মায়ারই এক জাল,
আখিরাতই চিরস্থায়ী—সত্য তারই কাল।
যে ধৈর্যে দুনিয়া ছাড়ে, পাপ থেকে ফেরে,
সে-ই পাবে চিরশান্তি জান্নাতেরই ঘেরে।
সুখের মোহে ভুলে যেয়ো না শেষেরই ঠিকানা,
সবর ধরে রাখো মনে আখিরাতের গানা।
যে দেখে দূরের লক্ষ্য, ধৈর্যে থাকে স্থির,
তার জন্যই আল্লাহ রাখেন জান্নাতের নীর।
সবর হলো ঈমানেরই দৃঢ়তার প্রমাণ,
যে ধৈর্যে থাকে অটল, তারই শক্তি প্রাণ।
ঝড়ের মাঝে যার বিশ্বাস টলে না কভু,
তারই অন্তর ভরে থাকে আল্লাহরই রূপ।
এই দৃঢ়তা গড়ে ওঠে ধৈর্যেরই পথে,
প্রতিটি কষ্ট শেখায় মানুষ শক্ত হতে।
ঈমান আর সবর মিলে গড়ে অটল দেয়াল,
যা ভাঙতে পারে না কোনো দুঃখেরই জাল।
যে ধৈর্যে থাকে আল্লাহরই সন্তুষ্টির তরে,
আল্লাহ থাকেন তার পাশে, রাখেন কাছে করে।
এই নৈকট্য সবার চেয়ে বড়ো প্রাপ্তি,
যা পেলে মুছে যায় সব দুঃখেরই ক্লান্তি।
সবর করে যে বান্দা ডাকে নীরব রাতে,
তার দোয়া কবুল হয় রহমতেরই হাতে।
এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে ধৈর্যেরই ফলে,
আল্লাহ তখন ভালোবাসেন তারে আপন বলে।
শেষে খুলে যাবে একদিন শান্তিরই দ্বার,
সবরকারীর জন্যই সে অনন্ত উপহার।
নেই সেখানে ভয় বা শোক, নেই কোনোই দুঃখ,
শুধুই আছে শান্তি, সুখ—অসীম অনির্বচনীয় সুখ।
এই দ্বার পেরিয়ে মানুষ পায় জীবনেরই জয়,
সবরেরই ফল তখন আনন্দে ভরায়।
যে সহ্য করেছে দুনিয়াতে কষ্টেরই ভার,
তারই জন্য এই পুরস্কার—অমর সুখধার।
সবরের পথ দীর্ঘ হলেও শেষটা অতি মধুর,
এই পথেই লুকিয়ে থাকে জীবনেরই নূর।
যে ধৈর্যে গড়ে নিজের জীবন, রাখে অন্তর পবিত্র,
তারই জন্য জান্নাত হবে চিরসুখের চিত্র।
তাই হে মানুষ, ধরো ধৈর্য, রাখো বিশ্বাস প্রাণে,
আল্লাহ আছেন, এই ভরসা রাখো প্রতিক্ষণে।
সবরের দীপ জ্বালিয়ে চলো জীবনেরই পথে,
এই আলোই পৌঁছে দেবে জান্নাতেরই রথে।
এ মহাকাব্য শুধু নয় শব্দেরই গাঁথা,
এটি জীবন গড়ার পথে আলোরই এক কথা।
সবর যার সাথী হয়, সে হারায় না কভু,
এই গুণেই মানুষ পায় আল্লাহরই রূহ।
৪
৪ মন্তব্য