সহকারী শিক্ষক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
দাজ্জালের চেয়েও ভয়ংকর
আমরা যখনই 'ফিতনা' শব্দটা শুনি, আমাদের মাথায় প্রথমেই আসে দাজ্জালের কথা। যার ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আমরা প্রতি জুমুয়াহতে সূরা কাহাফ পড়ি, প্রতিটি নামাজে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। কিন্তু আপনি কি জানেন? দাজ্জালের চেয়েও ভয়ংকর একদল মানুষের ব্যাপারে নবীজি (সা.) আমাদের সতর্ক করে গেছেন।
কারা এই লোক? যারা কোনো ভিনদেশি শত্রু নয়, বরং আমাদের মাঝেই মিশে থাকবে!
সেই ভয়ংকর মুহূর্ত এবং নবীজির (সা.) সতর্কবার্তা:
একদিন সাহাবায়ে কেরাম (রা.) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাদের চোখে-মুখে ছিল দাজ্জালের ভয়াবহতার আতঙ্ক। ঠিক সেই মুহূর্তে দয়ার নবী মুহাম্মদ (সা.) সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে যা বললেন, তা শুনে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
হাদিসের রেফারেন্স:
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না, যা আমার কাছে তোমাদের জন্য 'মাসিহ দাজ্জালের' চেয়েও বেশি ভয়ংকর?"
সাহাবীগণ বললেন, "অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!"
তিনি বললেন: "তা হলো 'শিরকে খাফি' বা লোক দেখানো ইবাদত (রিয়া)।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪২০৪; মুসনাদে আহমাদ)
কেন দাজ্জালের চেয়েও এটি বেশি বিপজ্জনক?
দাজ্জাল যখন আসবে, তার কপালে 'কাফির' লেখা থাকবে। মুমিনরা তাকে দেখে চিনতে পারবে। কিন্তু 'রিয়া' বা লোক দেখানো ইবাদত এমন এক বিষ, যা মানুষের অজান্তেই তার আমলনামা ধ্বংস করে দেয়।
১. এটি একটি গোপন শত্রু:
দাজ্জাল বাইরে থেকে আক্রমণ করবে, কিন্তু রিয়া আপনার হৃদয়ের ভেতর থেকে আক্রমণ করে। এটি আপনার নামাজ, রোজা এবং সদকাকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দেয়।
২. নেক আমলের ছদ্মবেশে ধ্বংসলীলা:
নবীজি (সা.) উদাহরণ দিয়ে বলেছেন—একজন মানুষ নামাজে দাঁড়ালো, সে তার নামাজকে অনেক লম্বা এবং সুন্দর করলো কারণ সে দেখল যে মানুষ তাকে দেখছে। ব্যস! এই একটি নিয়তের কারণেই তার পুরো ইবাদতটি আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার পরিবর্তে গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়ালো।
বর্তমান সময়ে এর প্রতিফলন:
আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এই ফিতনা আরও প্রকট।
* তসবিহ হাতে সেলফি।
* দান করার সময় ভিডিও করা।
* নামাজ বা হজের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা।
আমাদের অবচেতন মনে অনেক সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে মানুষের 'লাইক' বা 'কমেন্ট' পাওয়ার ইচ্ছা বড় হয়ে দাঁড়ায়। এটাই সেই 'শিরকে খাফি' যা নিয়ে নবীজি (সা.) সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলেন।
বাঁচার উপায় কী?
১. নিয়ত যাচাই করা: যেকোনো ভালো কাজ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন— "আমি কি এটি মানুষকে দেখানোর জন্য করছি, নাকি একমাত্র আল্লাহর জন্য?"
২. গোপন ইবাদত বাড়ানো: এমন কিছু ইবাদত করুন যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানবে না।
৩. দোয়া করা: নবীজি (সা.) এই শিরক থেকে বাঁচতে একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন:
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু, ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আ’লামু।"
(অর্থ: হে আল্লাহ! জেনে-বুঝে শিরক করা থেকে আমি আপনার কাছে পানাহ চাই এবং না বুঝে করে ফেলা শিরকের জন্য ক্ষমা চাই।)
দাজ্জাল আসবে দুনিয়া ধ্বংস করতে, কিন্তু রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত) ধ্বংস করে দেয় আমাদের আখেরাত। দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার প্রস্তুতির পাশাপাশি আসুন আমরা নিজেদের অন্তরকে 'রিয়া' মুক্ত করি। আল্লাহ আমাদের ইখলাসের সাথে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
৪
৪ মন্তব্য