সহকারী অধ্যাপক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ণ
টাকার হাসি, -টাকার কান্না মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
টাকার হাসি, টাকার কান্না
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
শুরুর দিনে মুখে হাসি,
কথা মিষ্টি, ভরা ভরসা—
“ভাই, একটু দাও না টাকা,
দুই দিনেই করব ভরসা।”
সময় গেলে বদলায় রং,
ফোন দিলে ব্যস্ত খুব—
“আজকে পারব না ভাই,
কালকে আসো”—নতুন রূপ।
মুখের ভাষা হয় যে কঠিন,
চোখে পড়ে বিরক্তি ঢেউ,
যে ছিল আগে আপন মানুষ,
আজকে যেন চেনা নয় কেউ।
বছর যায়, কথা ঘোরে,
অজুহাতে কাটে দিন—
শেষে বলে—“মনে ছিল না!”
এ কেমন মানুষ, এ কেমন ঋণ?
এ যে শুধু টাকার দেনা নয়,
বিশ্বাস ভাঙার ভার—
হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে
মানুষ হওয়ার হার।
***
মুয়ামালাতের আয়না
শুরুটা সুন্দর
মানুষ আসে হাসিমুখে, মিষ্টি কথার মালা,
ভরসার সেতু গড়ে তোলে, দেয় বিশ্বাসের ডালা।
“ভাই তুমি তো আপনজন, একটু দাও সহায়”—
এই বলে সে নেয় যে টাকা, হৃদয় ভরে যায়।
তখন তার চোখে স্বপ্ন, কথায় আন্তরিকতা,
মনে হয়—এই মানুষটা, সত্যি ভালো ব্যাক্তিতা।
বন্ধুত্বের নামে গড়ে, বিশ্বাসের এক ঘর,
কে জানে সেই ঘরের ভিতর লুকিয়ে কত ডর।
সময়ের সাথে পরিবর্তন**
দিন যায়, মাস যায়, বদলায় ধীরে রূপ,
আগের সেই মিষ্টি ভাষা—আজকে কেমন চুপ।
ফোন দিলে ব্যস্ত সে ভাই, সময় তার নাই,
“মিটিং আছে, কাজ আছে”—এই অজুহাত পাই।
যে মানুষটা হাসতো আগে, এখন কেমন দূর,
চোখে তার বিরক্তি দেখি, কথায় কেমন সুর।
একটা টাকা চাইতে গেলে, মুখ হয় যেন কালো,
সত্য লুকিয়ে মিথ্যা বলে—এ কেমন আচরণ ভালো?
টালবাহানার জাল**
“আজকে দিচ্ছি, কালকে দিচ্ছি”—চলে দিনের পর দিন,
অজুহাতে ভরে ওঠে, প্রতিটা তার ঋণ।
মনে মনে ভাবে হয়তো—“এ তো কিছুই না”—
কিন্তু সে যে ভাঙছে তখন, বিশ্বাসেরই ঘাঁ।
ঋণটা শুধু টাকার নয়, এটা আমানত,
এই আমানত নষ্ট করলে, হয় বড়ই খেয়ানত।
নিজের সুবিধা দেখে সে, ভুলে যায় যে হক,
অন্যের কষ্ট বোঝে না—এই তার বড় দোষ।
একদিন আসে সেই ক্ষণ, মুখোমুখি হয়,
যে টাকা ছিল অল্প আগে—আজ তা অনেক ক্ষয়।
বছর পেরিয়ে হঠাৎ বলে—“এই নাও তোমার দেনা,”
কিন্তু ততদিনে হারিয়েছে—বিশ্বাসের সে চেনা।
টাকা ফেরত পেলেও ভাই, শান্তি কি আর থাকে?
যে হৃদয়টা ভেঙে গেছে, তা কি সহজে জোড়ে?
মানুষ চেনার শিক্ষা দেয়, এই কঠিন অধ্যায়,
মুয়ামালাতের এই গল্প—জীবনেরই আয়না হয়।
সামর্থ্য থাকতেও যে দেয় না, সে করে বড় জুলুম,
অজুহাতে ঢাকে সত্য, বাড়ায় শুধু ভুল।
ওয়াদা ভেঙে, মুখ ফিরিয়ে, করে বিশ্বাসঘাত,
এই পথ ধরে হাঁটলে শেষে—হারায় নিজেরই জাত।
হে মানুষ, শিখো এবার, সৎ পথে চলতে,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও, দেরি না করে বলতে।
মুয়ামালাত শুধু টাকা নয়—এটা ঈমানের পরীক্ষা,
যে পাশ করে সততায়—তার জীবনই মহিমা।
এই কবিতা শুধু একটি আচরণের সমালোচনা নয়—
এটি মানুষ হওয়ার শিক্ষা,
বিশ্বাস রক্ষার আহ্বান,
এবং নৈতিকতার আয়না।
***
হাসিমুখে আসে মানুষ, মিষ্টি কথার ঢেউ,
ভরসার কথা বলে সে—“আপন মানুষ নেউ।”
দুই দিনের কথা বলে, নেয় যে কিছু ঋণ,
মনে হয়—এই সম্পর্ক হবে সোনার দিন।
বন্ধুত্বের নামে তখন গড়ে ওঠে সেতু,
মনের ভেতর জন্ম নেয় নির্ভরতার রীতি।
“ফিরিয়ে দেব”—এই কথাটা শোনায় যেন গান,
কে জানে সেই কথার ভিতর লুকিয়ে অবমান!
দিন যায় ধীরে ধীরে, মাস গড়িয়ে যায়,
টাকার কথা তুললেই সে—চুপটি করে রয়।
আগের সেই সহজ মানুষ, আজকে কেমন দূর,
মনে প্রশ্ন—কেন তবে বদলালো সে সুর?
“আজকে ব্যস্ত, কালকে দিচ্ছি”—চলতে থাকে ছল,
অজুহাতে ঢাকা পড়ে সত্য কথার দল।
একটা সময় সত্যটা হয় ধোঁয়াটে অন্ধকার,
বিশ্বাস তখন কাঁপতে থাকে, ভেঙে পড়ে ভার।
হাসিমুখে যে এসেছিল, এখন কেমন রূঢ়,
টাকা চাইলে বিরক্তি তার—কথা হয় যে কুৎসিত।
চোখে চোখে আর তাকায় না, এড়িয়ে চলে পথ,
এ কি তবে সেই মানুষ, ছিল যে আগে সৎ?
দিনের পরে দিন যায়, বছর পেরিয়ে যায়,
“দিচ্ছি দিচ্ছি”—এই কথাতে সময় শুধু চায়।
ঋণটা যেন ফাঁদ হয়ে যায়, সত্য হয় গুম,
সামর্থ্য থাকতেও না দেওয়া—এ যে বড় জুলুম।
মনের ভেতর জমে ওঠে লোভ আর অজুহাত,
সত্য থেকে দূরে গিয়ে বাড়ে শুধু প্রভাত।
অন্যের হক ভুলে গিয়ে ভাবে শুধু নিজ,
এই পথ ধরে হাঁটলে মানুষ হয় যে নিঃস্ব।
বন্ধুত্বের সেই সেতুতে ধরে ফাটল চিহ্ন,
বিশ্বাস ভেঙে টুকরো টুকরো—করে অন্তর ক্ষীণ।
টাকা ফেরত পেলেও কি ফিরে আসে মন?
যে ক্ষত হয় বিশ্বাসে—সারে না সে ক্ষণ।
যে মানুষটা টাকা দিল, চুপ করে সে রয়,
মনের ভেতর কষ্ট তার—কেউ কি তা বুঝে কয়?
চায় না ঝগড়া, চায় না লড়াই, শুধু চায় তার হক,
এই নীরবতার ভিতরেই জমে থাকে শোক।
এ শুধু এক জনের গল্প নয়, চারপাশে একই রূপ,
হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসততার ধূপ।
মুয়ামালাতের এই চিত্র, সমাজজুড়ে ছড়ায়,
সততার আলো হারিয়ে গিয়ে অন্ধকার বাড়ায়।
একদিন হঠাৎ বিবেক জাগে—ডাকে অন্তর প্রাণ,
“ফিরিয়ে দাও অন্যের হক, করো না অবমান।”
সত্য তখন দরজায় এসে কড়া নাড়ে জোর,
শোনে না যে সেই ডাক—সে হারায় নিজ ঘর।
যে বুঝে যায় ভুলটা তার, ফিরে আসে ঠিক,
ক্ষমা চেয়ে দেয় যে টাকা—হৃদয় করে নিক।
সততার এই পথে যে ফিরে আসে ভাই,
তার জীবনে শান্তির আলো ফুটে উঠেই যায়।
বছর পরে টাকা দিলে কমে না সে ক্ষতি,
সময়ের যে ক্ষত হয়েছে—রয়েই যায় স্মৃতি।
বিশ্বাস ভাঙার ব্যথা বড়, টাকার চেয়েও ঢের,
এই সত্যটা বুঝে নেয় যে—সে-ই মানুষ ফের।
মুয়ামালাত শুধু টাকা নয়—এটা ঈমানের দান,
অন্যের হক রক্ষা করা—সত্য পথের প্রাণ।
যে সৎ থাকে লেনদেনে, সে-ই প্রকৃত ধনী,
তার জীবনেই বরকত নামে—সুখ থাকে গণি।
অন্যায় করে যে মানুষ, ভাবে “কিছুই না”,
কিন্তু তারই অন্তরে জ্বলে অপরাধের আগুনখানা।
শান্তি তার থাকে না আর, ভোগে সে অশান্তি,
জুলুম করে সুখ পাওয়া—এ যে শুধু ভ্রান্তি।
যদি সবাই ঠিক পথে চলে, বদলাবে এ দেশ,
সততার আলো জ্বাললে দূর হবে সব ক্লেশ।
প্রত্যেকে যদি রাখে হক, দেয় সময়মতো দেনা,
তবে সমাজে ফুটবে আবার বিশ্বাসেরই বেনা।
শিশু থেকে বড় সবাই শিখুক এই জ্ঞান,
অন্যের হক রক্ষা করা মানুষেরই মান।
শিক্ষার সাথে নৈতিকতা থাকুক পাশাপাশি,
তবেই গড়বে সুন্দর সমাজ—আলোয় ভরা রাশি।
বিশ্বাস যেখানে অটুট থাকে, সেখানেই ঐক্য জন্মে,
সততার এই বন্ধনে মানুষ কাছে জমে।
মুয়ামালাত ঠিক থাকলে শক্ত হয় সমাজ,
ভালোবাসা বাড়ে তখন—মিটে যায় সব লাজ।
জীবনের এই ছোট ভুল বড় শিক্ষা দেয়,
সত্য পথে না চললে মানুষ হারিয়েই যায়।
শেষে যখন হিসাব হবে—কি দিবে তখন উত্তর?
অন্যের হক রেখে গেলে হবে না যে মুক্তির পথ।
হে মানুষ, শিখো এবার, সৎ পথে চলতে,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও দেরি না করে বলতে।
মুয়ামালাতের এই আয়না দেখায় সত্য পথ—
যে বুঝে নেয় এই শিক্ষা, তার জীবনেই রত্নরথ।
এই মহাকাব্য শুধু গল্প নয়—
এটি জীবনের বাস্তব শিক্ষা,
নৈতিকতার জাগরণ,
এবং বিশ্বাস রক্ষার আহ্বান।
***
হাসিমুখে আসে সে একদিন, ভরসার কথা কয়,
চোখে তার বিনয়ের ছাপ—মনে সন্দেহ নয়।
মিষ্টি ভাষায় ডাকে সে, “ভাই তুমি আপন,”
কথার মাঝে জড়িয়ে থাকে বন্ধুত্বের বাঁধন।
বলে সে—“অল্প দরকার, দাও না একটু হাত,”
দুই দিনের মধ্যেই দেব—এটাই তার কথাত।
মনটা তখন নরম হয়ে বিশ্বাস করে যায়,
মানুষ চিনে নিতে যে কত কঠিন—কে বা জানায়!
ভালোবাসা, সহানুভূতি—মিলে একসাথে,
টাকার চেয়েও বড় লাগে মানুষেরই সাথে।
দেয় যে টাকা, ভাবে মনে—করলাম ভালো কাজ,
অন্যকে সহায়তা করা—মানুষেরই লাজ।
শুরুতে সে কৃতজ্ঞতা দেখায় কত বার,
“তোমার উপকার ভুলব না”—কথা দেয় যে আর।
চোখে তার তখন পানি, মুখে মিষ্টি হাসি,
মনে হয়—এই মানুষটা সত্যিই ভালোবাসি।
দুই দিনের প্রতিশ্রুতি যেন মনের মাঝে গান,
সময় গেলে ফিরবে সে—এই তো বিশ্বাস প্রাণ।
প্রথম দিকে যোগাযোগ রাখে ঠিকঠাক,
ফোন দিলে হাসিমুখে কথা বলে ফাঁকফোকর ছাড়াক।
বন্ধুত্বের গল্প চলে, হাসির ঢেউ ওঠে,
টাকার কথা মনে পড়ে না, আনন্দ মনের পথে।
মনে হয়—এই সম্পর্ক টাকার চেয়েও বড়,
বিশ্বাসের এই বন্ধন হবে অটুট ঘর।
দুই দিন, তিন দিন—সময় গড়িয়ে যায়,
তবু মনে কোনো দুশ্চিন্তা তখনো জন্মায় নাই।
“মানুষ ভালো”—এই ধারণা গেঁথে যায় মনে,
কোনো সন্দেহ জায়গা পায় না হৃদয়ের কোণে।
সহজ সরল বিশ্বাসে গড়ে ওঠে পথ,
কে জানে সেই পথেই লুকিয়ে আছে ক্ষত!
টাকার হিসাব তখন গৌণ হয়ে যায়,
মানুষের সম্পর্কটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।
এমন করেই শুরু হয় গল্প একদিন,
ভালোবাসা, বিশ্বাস আর সামান্য এক ঋণ।
কেউ তখন ভাবে না এর পরিণতি কি,
শুরুটা এত সুন্দর—শেষটা বুঝি না কি।
হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের ছায়া,
যা একদিন প্রকাশ পাবে—সময় হলে মায়া।
মানুষ চেনা সহজ নয়—এই সত্য অজানা,
শুরুর ভালো দেখে আমরা করি বিশ্বাস গড়া।
দেনা-পাওনার সম্পর্কেও থাকে হৃদয়ের টান,
শুধু টাকা নয়—এখানে জড়িয়ে থাকে প্রাণ।
একটু সাহায্য, একটু দয়া—মানবতার চিহ্ন,
এই চিহ্নই একদিন হয় দুঃখেরও দীক্ষা।
তবু শুরুটা সুন্দর—এই সত্য অটুট,
মানুষ তখন ভালোই লাগে—মনে থাকে যুক্ত।
কিন্তু সময়ই বলে দেয়, কে কতটা সত্য,
মুয়ামালাতের এই পথে প্রকাশ পায় নিত্য।
এইভাবেই শুরু হলো গল্প একদিন,
হাসিমুখে লুকিয়ে ছিল অদেখা কঠিন
***
বিশ্বাস একদিনে নয়, ধীরে ধীরে গড়ে,
কথার মাঝে বোনা হয়—অন্তরেরই ঘরে।
যে মানুষটি টাকা নিল, রাখে মিষ্টি রং,
কথার ভেতর জড়িয়ে রাখে বন্ধুত্বের ঢং।
“ভাই তুমি তো আপনজন”—এই বুলি তার মুখে,
শোনার পরে মনটা নরম হয়ে যায় সুখে।
ছোট্ট একটা সহায়তা বড় হয়ে দাঁড়ায়,
মানবতার এই পথে হৃদয় নত হয়ে যায়।
বিশ্বাস তখন বীজ হয়ে জমে অন্তর মাঝে,
অজান্তেই তা অঙ্কুরিত হয় নীরব সাজে।
মনের ভেতর জন্ম নেয় নির্ভরতার ঢেউ,
ভাবি—এই মানুষটি খারাপ হতে নেউ।
প্রতিশ্রুতির প্রতিটি শব্দ যেন পবিত্র গান,
ভরসার সুরে বাঁধা পড়ে হৃদয়েরই প্রাণ।
কিছুদিন সে খোঁজখবর নেয়, রাখে সম্পর্ক,
তখনো মনে সন্দেহ নেই, সবই লাগে স্বচ্ছ।
বন্ধুত্বের আলোতে ঢাকা পড়ে হিসাব,
টাকার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মানবিক জবাব।
“দুই দিন পরই দেব”—এই কথা মনে থাকে,
সময় পেরোলেও তাতে সন্দেহ না জাগে।
বিশ্বাস এমন এক জিনিস—চোখে দেখা যায় না,
তবু তার ওজন থাকে পাহাড়েরও চেয়ে না।
সহজ সরল হৃদয় তখন বিশ্বাস করে যায়,
মানুষ চেনার জ্ঞান তখনো জাগে নাই।
সত্য-মিথ্যা মিলেমিশে তৈরি হয় ছবি,
যা দেখে মনে হয়—এই মানুষটাই রবি।
বিশ্বাসের এই আলোতে ভুল ঢেকে যায়,
ভবিষ্যতের ছায়া তখন চোখে পড়ে নাই।
অন্তরে যে সততা আছে—ভাবি সে-ই তার,
কেউ তো বুঝতে পারে না অন্তরেরই ভার।
একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে অদৃশ্য সুতোয়,
যা ভাঙলে পরে লাগে দুঃখেরই মতোয়।
মানুষের প্রতি ভালো ধারণা জন্ম নেয়,
এই ভালোবাসাই একদিন কষ্ট হয়ে রয়।
বিশ্বাস যখন গভীর হয়, যুক্তি তখন হারায়,
হৃদয়ের এই আবেগেই মানুষ ভুলে যায়।
টাকার হিসাব তখন দূরে সরে যায়,
সম্পর্কটাই বড় হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়।
এইভাবে গড়ে ওঠে এক অদৃশ্য দেয়াল,
যার ভিতরে থাকে শুধু ভরসারই জাল।
কেউ তখন ভাবে না—এই পথ কোথায় যায়,
শুধু বিশ্বাসের আলোতে সামনে এগিয়ে চায়।
যে বীজ আজ বোনা হলো অন্তরেরই তলে,
একদিন সেই বীজই ফল দেবে ভালো-খারাপে।
বিশ্বাস যদি সত্য হয়—ফুল ফুটবে তাতে,
মিথ্যা হলে কাঁটা হয়ে বিঁধবে অন্তর রাতে।
তাই এই বীজ বড় শক্তিশালী, বোঝা ভার,
এটা যেমন সুখ দেয়, তেমনি দেয় অশ্রুধার।
এইভাবে জন্ম নিল এক বিশ্বাসের বীজ,
যার ফলাফল লুকিয়ে আছে সময়েরই মাঝে।
***
সময় বয়ে চলে নদীর মতো, থামে না কোনোদিন,
এই স্রোতের মাঝেই বদলায় মানুষের রঙিন।
প্রথমের সেই প্রতিশ্রুতি ধীরে ম্লান হয়,
দিন যায়, তবু সে টাকা ফেরত দিতে না কয়।
ফোন দিলে আগের মতো সাড়া আর না মেলে,
কথার ভেতর ফাঁক পড়ে, দূরত্ব এসে মেলে।
আগের সেই আন্তরিকতা কোথায় যেন হারায়,
কথার সুরে কেমন যেন অচেনা রং ছড়ায়।
সময় যেন পরীক্ষা নেয় মানুষেরই মন,
কে রাখে কথা ঠিকমতো—কে করে অবহেলা তখন।
দুই দিনের কথা এখন সপ্তাহ পেরোয়,
তারপর মাস গড়িয়ে যায়—তবু কিছু না হয়।
মনে তখন ছোট্ট করে প্রশ্ন জাগতে চায়,
“কেন এখনো দেয় না টাকা?”—উত্তর কেউ না পায়।
বিশ্বাস তখন দোল খায় সন্দেহেরই মাঝে,
সত্য-মিথ্যার লড়াই চলে অন্তরেরই সাজে।
যে মানুষটা কাছে ছিল, দূরে সরে যায়,
সময় যেন সম্পর্কটাকে আলাদা করে দেয়।
প্রতিটি দিন অপেক্ষায় কাটে নীরব হয়ে,
হৃদয়ের ভেতর জমে কষ্ট, না বলা কথায় ভয়ে।
টাকার জন্য নয় শুধু—কষ্টটা অন্যখানে,
বিশ্বাস ভাঙার ব্যথা লাগে গভীর অজানায়।
সময় যত বাড়তে থাকে, বাড়ে অস্থিরতা,
কেন সে কথা রাখে না—এই প্রশ্নে ব্যাকুলতা।
অজুহাতের আভাস তখন ধীরে ধীরে আসে,
“ব্যস্ত আছি, পরে দেব”—এই কথাটা ভাসে।
আগের সেই সহজতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না,
সম্পর্কে এক অদ্ভুত চাপা অন্ধকার ছায়া।
মনে হয়—এই কি সেই মানুষ, ছিল যে আগে সৎ?
সময় কেন বদলে দিল তার চরিত্রের পথ?
বিশ্বাসের নদী শুকিয়ে যায় ধীরে ধীরে,
সন্দেহের মরুভূমি গড়ে ওঠে তার তীরে।
যে আশা ছিল ফুলের মতো, তা শুকিয়ে যায়,
সময় তার রং কেড়ে নেয়—নতুন রূপে চায়।
অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে ভার,
মনে জমে নীরব দুঃখ—কেউ না জানে তার।
সময় সত্য প্রকাশ করে—এটাই তার ধর্ম,
যে যেমন, সে তেমনই হয়—খোলে তার পর্দা।
মিথ্যার রং বেশিদিন থাকে না কোনোদিন,
একদিন তা ফিকে হয়ে দেখায় আসল চিন।
এই সময়ই শেখায় মানুষ চেনার জ্ঞান,
শুধু কথায় নয়—কাজেই বুঝি আসল প্রাণ।
বিশ্বাস যদি টিকে থাকে, সময় তাকে বাড়ায়,
না হলে তা ভেঙে গিয়ে দুঃখ হয়ে রয়।
এই স্রোতে ভেসে গিয়ে কেউ থাকে অটুট,
কেউ আবার হারিয়ে ফেলে নিজেরই যুক্ত।
মুয়ামালাতের পথে এই সময় বড় বিচারক,
সে-ই বলে দেয়—কে সত্য, কে শুধুই ছলনাকারক।
এইভাবে সময়ের স্রোতে বদলালো সবকিছু,
বিশ্বাসের আকাশ ঢেকে গেল মেঘেরই পিছু
৪
৪ মন্তব্য