সহকারী অধ্যাপক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
মুয়ামালাত - মোঃ মুজিবুর রহমান
মুয়ামালাত
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ মানুষের পাশে থাকে—
এটাই তো জীবনের রীতি,
সত্য কথায় গড়া হোক পথ,
মুছে যাক সব ভ্রান্তি।
হাতের মুঠোয় আমানত যদি,
ফিরিয়ে দাও ঠিকঠাক,
প্রতারণার কালো ছায়া
দূরে থাকুক চিরকাল।
হিসাব-নিকাশ স্বচ্ছ হলে
মনও থাকে নির্মল,
বিশ্বাস নামে যে ফুল ফোটে
তাই তো সমাজের সম্বল।
চুক্তির বাঁধন ভাঙো না তুমি,
রাখো কথা দৃঢ়,
ন্যায়ের পথে চলতে শিখো—
এটাই জীবনের মূল সুর।
মুয়ামালাত শুধু নিয়ম নয়,
এ এক আলোর দিশা,
মানবতায় গড়া সমাজে
এটাই শান্তির ভাষা।
***
শুরু হলো পথচলা, মানুষের পৃথিবী,
সম্পর্কের জালে বাঁধা জীবনের নীতি।
কে কাকে দেবে, কে নেবে আবার—
এই প্রশ্নেই গড়ে ওঠে সংসার।
আল্লাহর বিধান, সুন্নাহর আলো,
পথ দেখায় মানুষকে ভালো থেকে ভালো,
মুয়ামালাত নামের সে সুশৃঙ্খল ধারা—
ন্যায়ের ভিত গড়ে, করে জীবন সারা।
সত্য যেখানে দাঁড়ায় দৃঢ় হয়ে,
মিথ্যার ছায়া পালায় দূরে সয়ে।
বাণিজ্যের পথে, কথার মাঝে,
সততা থাকুক প্রতিটি কাজে।
একটি মিথ্যা হাজার ক্ষতি,
একটি সত্য আনে শান্তি,
বিশ্বাস গড়ে ধীরে ধীরে—
সত্যই তার মূলভিত্তি।
তোমার হাতে যদি থাকে কারো ধন,
তা রক্ষা করা তোমারই দায়িত্ব তখন।
অমানত ভাঙা শুধু নয় পাপ,
ভেঙে দেয় বিশ্বাস, করে সম্পর্ক নষ্ট।
ফিরিয়ে দাও যা তোমার নয়,
এই শিক্ষা চিরন্তন হয়,
বিশ্বাসের বন্ধন গড়ে ওঠে—
এই নিয়মের ভিতর রয়।
হিসাব যেন থাকে খোলা দিনের আলোয়,
কোনো গোপন অন্ধকার না থাকে তার ছায়ায়।
প্রতিটি চুক্তি, প্রতিটি কথা—
হোক পরিষ্কার, হোক সত্যের ব্যাখ্যা।
ধোঁকা নয়, নয় কোনো ফাঁকি,
স্বচ্ছতায় জীবন রাখি,
তবেই সমাজ দাঁড়াবে দৃঢ়—
ন্যায়ের পথে হবে অটল থাকি।
ন্যায় যেখানে শাসন করে,
অন্যায় পালায় ভয় পেয়ে ঘরে।
মানুষ মানুষকে দেয় তার হক,
এটাই তো ইসলামের সঠিক লোক।
দেনা-পাওনা, মাপ আর ওজন—
সবখানে চাই সঠিক বিচারধন,
ন্যায়ের আলো ছড়াক চারদিকে—
এটাই হোক জীবনের সাধন।
মুয়ামালাত শুধু ব্যক্তিগত নয়,
এতে সমাজের কল্যাণ রয়।
অর্থনীতি, সম্পর্ক, নৈতিকতা—
সবই গড়ে এই এক নীতিতে গাঁথা।
সততা যেখানে নিয়ম হয়ে যায়,
সেখানে উন্নয়ন থেমে না থাকায়,
মানুষে মানুষে গড়ে ওঠে সেতু—
শান্তির পথে এগোয় জীবন রথ।
শেষে এসে দেখা যায় পথের মানে,
মুয়ামালাত শুধু নিয়ম নয়, জীবনের টানে।
এ এক আলোর প্রদীপ হাতে,
যা জ্বলে থাকে প্রতিটি রাতে।
মানবতার সুরে গাঁথা এ গান,
ন্যায় ও সত্যে ভরা এর প্রাণ,
যে চলে এ পথে, সে পায় মুক্তি—
এটাই জীবনের সত্য ভক্তি।
***
মানুষ এল ধরণীতে, শপথ বুকে নিয়ে,
ন্যায়ের পথে চলবে সে সত্য আলো দিয়ে।
একই মাটি, একই রক্ত, ভিন্ন শুধু রূপ,
সম্পর্কের জালে বাঁধা জীবন সুখ-দুঃখরূপ।
দেনা-পাওনার সূক্ষ্ম সেতু গড়ে দিনে দিনে,
কথার মাঝে বিশ্বাস থাকে নীরব সংগীনে।
একটি হাসি, একটি কথা, চুক্তিরই ধ্বনি,
এইসব দিয়েই গড়ে ওঠে মানব জীবনী।
লোভের ছায়া ডাক দেয় বারবার অন্তরে,
সত্য তখন দাঁড়ায় নীরব শক্তির মন্ত্রে।
যে নিজেকে রাখে শুদ্ধ লেনদেনের মাঝে,
সে-ই তো পায় শান্তি শেষে জীবনের সাজে।
মুয়ামালাত—শুধু নিয়ম নয়, জীবনের গান,
মানুষ মানুষে গড়ে তোলে আস্থার বন্ধন।
প্রতিটি হক, প্রতিটি দায়, হিসাব রাখে ঠিক,
এই নিয়মেই টিকে থাকে সমাজের ঐক্য।
অন্যের প্রাপ্য গ্রাস করলে ভাঙে হৃদয়-সেতু,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকাই সত্য জীবনের রথ।
চুক্তি মানা ঈমানেরই দৃঢ় এক নিদর্শন,
ভঙ্গ করলে হারায় মানুষ সম্মানের আসন।
পৃথিবী যেন পরীক্ষা এক, প্রতিটি ক্ষণে,
কে রাখে কথা, কে ভাঙে তা—লিখা থাকে মনে।
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সে-ই শ্রেষ্ঠ মানব,
যার লেনদেনে নেই প্রতারণা, নেই কোনো অভাব।
সত্য এক দীপ, জ্বলে অন্তরে অবিরাম,
মিথ্যার ঝড় এলেও নিভে না তার নাম।
বাণিজ্যের পথে, সম্পর্কের বাঁকে,
সততা থাকুক প্রতিটি কাজে।
একটি মিথ্যা ক্ষত তৈরি করে গভীর,
বিশ্বাস ভেঙে দেয়, করে হৃদয় ধ্বংস-নীর।
অথচ একটি সত্য, নির্মল সুধার মতো,
শান্তি এনে দেয় জীবনের প্রতিটা রথে।
যে ব্যবসায়ী রাখে কথা, দেয় ঠিক দাম,
তার দোকানে বরকত নামে অবিরাম।
প্রতারণা করে যে, লুকায় নিজের লাজ,
শেষে তারই ভেঙে পড়ে জীবনের সাজ।
ওজন মাপে কম দিলে, হক যদি হারায়,
সে পাপে জীবন একদিন দুঃখে ভেসে যায়।
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা থাকে আল্লাহর হাতে,
এক কণা অন্যায়ও ধরা পড়ে তাতে।
সততার পথে কষ্ট আছে, তবু আছে জয়,
মিথ্যার পথে সাময়িক সুখ, শেষে শুধু ক্ষয়।
এই শিক্ষা মানবতার চিরন্তন বাণী,
সত্য ছাড়া টেকে না কোনো জীবনের টানি।
হৃদয়ের আয়নায় দেখো নিজের রূপ,
সত্য থাকলে তবেই হবে জীবন সুসম্পূর্ণ রূপ।
মুয়ামালাত শেখায় এই সহজ উপদেশ—
সততাই মানুষকে করে সর্বশ্রেষ্ঠ।
তোমার হাতে যদি থাকে অন্য কারো ধন,
তা রক্ষা করা তোমারই প্রথম দায়িত্ব তখন।
এ আমানত শুধু বস্তু নয়—বিশ্বাসের প্রতীক,
এ ভাঙলে ভেঙে যায় সম্পর্ক অতি সূক্ষ্ম ঠিক।
বন্ধু যদি রাখে কিছু তোমারই কাছে,
ফিরিয়ে দাও তা হাসিমুখে, কোনো ভয় না রাখে।
কারণ আমানত ভঙ্গ করা গভীর এক ক্ষত,
যা মানুষকে করে তোলে লজ্জিত, অবনত।
একটি প্রতিশ্রুতি, একটি অঙ্গীকার,
মানুষের জীবন গড়ে তার উপর ভিত্তিকার।
যে রাখে তা, সে সম্মানের শিখরে উঠে যায়,
যে ভাঙে তা, তার জীবন আঁধারে ঢেকে যায়।
অভিভাবক, শাসক, ব্যবসায়ী সকলেই,
আমানতের ভার বহন করে নিজ নিজ স্থলেই।
যার যত দায়িত্ব, তত বড় পরীক্ষা,
ন্যায়ের পথে থাকা সেখানেই আসল দীক্ষা।
অন্যের সম্পদ নিজের মনে করে নিলে,
হৃদয়ের আলো নিভে যায় অজান্তে ধীরে।
বরং ফিরিয়ে দাও যা তোমার নয়,
এই পথেই মানুষ পায় প্রকৃত পরিচয়।
বিশ্বাস একবার ভাঙলে গড়ে না সহজে,
তাই তাকে রক্ষা করো সততার খোঁজে।
মুয়ামালাত শেখায়—এই জীবনের মন্ত্র,
আমানত রক্ষা করাই শ্রেষ্ঠ চরিত্র।
***
হিসাব রাখো পরিষ্কার, দিনের খোলা আলোয়,
অন্ধকারে গোপন কিছু সত্যকে ঢাকে ছায়ায়।
যা বলো তা লিখে রাখো, চুক্তির দৃঢ় বাণী,
স্বচ্ছতার পথেই গড়ে আস্থার অমর পানি।
দেনা-পাওনার প্রতিটি অঙ্ক হোক স্পষ্ট,
গোপন ফাঁদে ফেলো না কারো জীবনের কষ্ট।
যে রাখে খাতা নির্ভুল, মাপে ঠিক ঠিক,
তার জীবন হয় প্রশান্ত, থাকে না কোনো দিকভ্রান্ত দিক।
চোখে চোখে কথা বলো, সত্য রাখো মুখে,
মিথ্যার ছায়া ঢুকতে দিও না হৃদয়ের সুখে।
লেনদেন মানে নয় শুধু সংখ্যার হিসাব,
এতে জড়িয়ে থাকে মানবতার জবাব।
গোপন চুক্তি, অস্পষ্ট শর্ত—সবই অশুভ ছায়া,
স্বচ্ছতায় যে চলে, সে-ই শান্তি পায় মায়া।
যেখানে খোলামেলা কথা, সৎ ইচ্ছার দান,
সেখানেই বরকত নামে, পূর্ণ হয় প্রাণ।
অন্যায় লাভ ক্ষণিক সুখ, পরে আনে ক্ষয়,
স্বচ্ছতার পথই শেষমেশ সত্য জয়।
মুয়ামালাত শেখায়—হোক খোলা সব দ্বার,
সত্যের আলোয় গড়ো তুমি লেনদেনের সংসার।
কথা যখন দাও তুমি, রাখো তা অটুট,
প্রতিশ্রুতির বাঁধন ভাঙা হৃদয়েরই ভ্রষ্টপথ।
চুক্তি শুধু কাগজ নয়, আত্মারই দান,
এতে থাকে বিশ্বাস, থাকে সম্মানের প্রাণ।
দুই জন মানুষ যখন করে অঙ্গীকার,
সাক্ষী থাকে আকাশ-বাতাস, জমিনেরও ভার।
একটি স্বাক্ষর মানে শুধু লেখা নয় কিছু,
এতে জড়িয়ে থাকে জীবনের বহু পিছু।
ভাড়ার চুক্তি, ব্যবসার লেনদেন,
সবখানে চাই সত্য, চাই ন্যায়ের বন্ধন।
যে ভঙ্গ করে শর্ত, নিজের স্বার্থে গিয়ে,
সে হারায় মর্যাদা, পড়ে লজ্জায় নত হয়ে।
চুক্তি মানা ঈমানেরই অংশ এক গভীর,
এতে গড়ে ওঠে সমাজ, হয় সম্পর্ক স্থির।
অন্যের হক নষ্ট করে যদি বাড়াও ধন,
সে ধন একদিন হয়ে যায় দুঃখের কারণ।
লিখিত হোক প্রতিটি শর্ত, স্পষ্ট হোক বাণী,
ভুল বোঝাবুঝি দূরে থাক, হোক না কোনো টানাপোড়েন টানি।
মুয়ামালাত বলে—রাখো কথা দৃঢ়,
এই পথেই মানুষ হয় সত্যিকারের বড়।
ন্যায় এক দাঁড়িপাল্লা, সমান যার দোল,
এক পাশে হক, এক পাশে দায়িত্বের কল।
যেখানে ন্যায়ের শাসন, সেখানে শান্তি রয়,
অন্যায় যত শক্তিশালী হোক—শেষে হয় ক্ষয়।
মাপে কম দিও না, দিও না ভেজাল,
অন্যের প্রাপ্য কেটে নিলে বাড়ে পাপের জাল।
বিচারের আসনে বসে যদি হও তুমি,
নিজের স্বার্থ ভুলে দাও সত্যেরই ভূমি।
ধনী-গরিব সবার জন্য একই বিধান,
ন্যায়ের চোখে সবাই সমান—এটাই তার জ্ঞান।
যে পক্ষ নেয় সত্যের, হারালেও ভয় নাই,
শেষে তারই জয় হয়, ইতিহাস তাই কয়।
অন্যায় দেখেও চুপ থাকা এক প্রকার পাপ,
সাহস করে বলো সত্য—এটাই শ্রেষ্ঠ তাপ।
ন্যায়ের পথে চলা কঠিন, তবু আছে জ্যোতি,
এই আলোয় আলোকিত হয় মানবতার গতি।
মুয়ামালাতের শিক্ষা—ন্যায় রাখো অটুট,
এই পথে চললেই জীবন হবে সুদৃঢ়, সুস্ফুট।
যেখানে ন্যায়ের জয়, সেখানেই শান্তি স্থায়ী,
এই সত্য চিরন্তন—নেই তার কোনো ক্ষয়।
***
মানুষ মানুষে গড়ে তোলে সম্পর্কের সেতু,
বিশ্বাসে বাঁধা প্রাণে জাগে ভালোবাসার রথ।
স্বার্থহীন হাত বাড়ালে দূর হয় সব ভেদ,
মুয়ামালাত শেখায়—ভালোবাসাই মূল বেদ।
পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়, বন্ধু সকলেই,
আচরণে মাধুর্য চাই প্রতিটি চলার ঢলেই।
কঠোর বাক্য ভেঙে দেয় হৃদয়েরই বাঁধ,
নরম কথা গড়ে তোলে শান্তিরই সাধ।
অন্যের সুখে খুশি হও, দুঃখে দাও সাথ,
এই পথেই গড়ে ওঠে মানবতার প্রভাত।
বিদ্বেষ ভুলে মিলে মিশে থাকো একসাথে,
সমাজ তখন ফুলের মতো ফোটে নিত্য রাতে।
হিংসা, লোভ, অহংকার—সবই অন্ধকার,
সহমর্মিতার আলোতেই ভাঙে সেই প্রাচীরভার।
যে ভালোবাসা বিলায়, সে-ই পায় প্রতিদান,
এই নিয়মেই চলে বিশ্ব, এই তো সৃষ্টির গান।
অর্থ হলো জীবনের চলার এক মাধ্যম,
ন্যায়ের পথে থাকলে তাতেই সুখের ধাম।
হালাল রুজি হৃদয়ে আনে প্রশান্তির ঢেউ,
হারাম পথে অর্জন শেষে আনে শুধু বেদনা ঢেউ।
ব্যবসার প্রতিটি ধাপে চাই সততার ছাপ,
লোভের পথে হাঁটলে বাড়ে অশান্তির চাপ।
সুদ, প্রতারণা, অন্যায় লভ্যাংশ—সবই বিষ,
ন্যায়ের অর্থনীতিই আনে জীবনের রস।
শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই দাও তার মজুরি,
এই ন্যায়ের বাণী চিরকাল থাকে ভরি।
অন্যের প্রাপ্য দেরি করলে বাড়ে অন্যায়,
ন্যায়ের পথে থাকলে তবেই শান্তি পায়।
অর্থ যদি হয় ন্যায়ের পথে অর্জিত,
তবে তা হয় কল্যাণময়, হয় বরকতসিক্ত।
মুয়ামালাত শেখায়—অর্থ নয় লক্ষ্য,
ন্যায়ের পথে ব্যবহারই জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যে।
মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ মানবতার আলো,
যেখানে দয়া, করুণা—সেখানে জীবন ভালো।
ধর্ম, বর্ণ, ভাষা—সব ভেদ ভুলে গিয়ে,
মানুষকে ভালোবাসো মানবতার দৃষ্টিতে।
ক্ষুধার্তকে আহার দাও, তৃষ্ণার্তকে জল,
এই দানেই জাগে হৃদয়ে শান্তিরই ফল।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াও নির্ভীক,
এই পথেই মানুষ হয় সত্যিকার মহৎ ঠিক।
একটি হাসি দিতে পারো যদি কারো মুখে,
তবে সে হাসিই ফিরে আসে তোমার সুখে।
মানবতা এক অমূল্য ধন, হারিও না তা,
এই গুণেই আলোকিত হয় জীবনের ব্যথা।
মুয়ামালাত শুধু নিয়ম নয়—একটি হৃদয়,
যেখানে অন্যের জন্য জাগে মমতার জয়।
এই শিক্ষাই মানুষকে করে মহান,
মানবতার পথেই লুকায় জীবনের সম্মান।
অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখো নিজের হৃদয় দিয়ে,
সহমর্মিতা জন্মায় তখন ভালোবাসা নিয়ে।
কেউ যদি পড়ে বিপদে, দাও তারে হাত,
এই সাহায্যেই গড়ে ওঠে জীবনের প্রভাত।
ধনী যদি গরিবের দুঃখ না বোঝে কখনো,
তবে তার সম্পদ থাকে শূন্যতারই বরণ।
বিত্ত নয়, হৃদয়ের দানই আসল সম্পদ,
এই দানেই মানুষ পায় চিরন্তন স্বাদ।
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা মানবতার ধর্ম,
একাকী নয়, সবাই মিলে গড়ি সুখের কর্ম।
সহযোগিতার শক্তিতে দূর হয় সব ভয়,
এই ঐক্যের পথেই সমাজ খুঁজে পায় জয়।
অন্যের ব্যথা নিজের মনে অনুভব করো,
এই শিক্ষায় জীবন হবে আলোকিত আরও।
মুয়ামালাতের মূল সুর—সহমর্মিতা, প্রেম,
এই গুণেই মানুষ পায় জীবনের শ্রেষ্ঠ নেম।
***
ঝড় এলেও নত হয় না দৃঢ় যে মন,
ধৈর্যের আলোয় জ্বলে তার জীবন।
বিপদের অন্ধকার ঘিরে ধরে যত,
ধৈর্যশীল হৃদয় থাকে অটল অবনত।
ক্ষণিক কষ্টে ভেঙে পড়া দুর্বলতার চিহ্ন,
ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়া শক্তিরই দীক্ষণ।
অপেক্ষার প্রতিটি ক্ষণ শিক্ষা দিয়ে যায়,
যে সহ্য করে, সে-ই শেষে বিজয় পায়।
লেনদেনের পথেও আসে পরীক্ষা কঠিন,
লোকসানে ভেঙে পড়ো না, রাখো মন স্থিরদিন।
অন্যায় দেখে রাগ জাগে অন্তরের মাঝে,
ধৈর্য তখন শীতল করে ক্রোধেরই সাজে।
মুয়ামালাত শেখায়—ধৈর্য ধরো প্রাণে,
এই গুণেই মানুষ জিতে জীবনের টানে।
যে সহ্য করে অন্যায় নয়, সত্যে থাকে দৃঢ়,
সে-ই তো পায় শান্তি শেষে, হয় মহৎ, সুদৃঢ়।
জীবন এক পরীক্ষা, প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে,
সুখ-দুঃখ মিলেই আসে মানুষের জীবনে।
ধন বা দারিদ্র্য—দুটোই পরীক্ষা,
কে থাকে ন্যায়ে, সেটাই আসল দীক্ষা।
সহজ পথ ছেড়ে কঠিন পথে চলা,
সেখানে লুকায় জীবনের আসল বলা।
প্রলোভনের ডাকে যে হারায় নিজেকে,
সে হারায় সম্মান নিজেরই চোখে।
অন্যায় লাভের সুযোগ এলে সামনে,
সত্যের পথে থাকাই আসল মানে।
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সে-ই মহান,
যে ত্যাগ করে লোভ, রাখে সত্যের মান।
মুয়ামালাতের পথে প্রতিটি দিন পরীক্ষা,
কে রাখে ন্যায়ের আলো—সেই পায় শিক্ষা।
এই আগুন পেরিয়েই শুদ্ধ হয় প্রাণ,
পরীক্ষার পথেই গড়ে মানুষের জ্ঞান।
ইচ্ছার স্রোত বয়ে যায় অন্তরের মাঝে,
সংযমই তাকে রাখে সঠিক জীবনের সাজে।
লোভের ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকো দৃঢ়,
এই শক্তিতেই মানুষ হয় সত্যে সুদৃঢ়।
চাইলে সব পাওয়া যায় না জীবনের পথে,
সংযম শেখায় সন্তুষ্টি হৃদয়ের রথে।
অন্যের সম্পদ দেখে যদি জাগে লোভ,
সংযম দিয়ে দমন করো, রাখো নিজেকে ক্ষোভহীন স্বভাব।
বাক্যে সংযম, কাজে সংযম, চিন্তায়ও তাই,
এই গুণেই মানুষ সত্যের পথে যায়।
অতিরিক্ত চাওয়া আনে দুঃখের ঢেউ,
সংযমের জীবনেই শান্তির নৌকা বেয়ে যায় ঢেউ।
মুয়ামালাত শেখায়—নিজেকে রাখো নিয়ন্ত্রণে,
এই পথেই জীবন সাজে সত্যের সুরে।
যে নিজেকে জিতে নেয়, সে-ই শ্রেষ্ঠজন,
সংযমেই লুকায় মানুষের আসল পরিচয় তখন।
চেষ্টা করো পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিক্ষণ,
ফল ছেড়ে দাও স্রষ্টার হাতে তখন।
এই বিশ্বাসেই জাগে তাওয়াক্কুলের আলো,
যা মানুষকে রাখে দৃঢ়, করে জীবন ভালো।
পরিশ্রম ছাড়া আশা করা বৃথা এক স্বপ্ন,
কাজের মাঝেই লুকায় জীবনের সম্পদ।
তবু সব কিছু মানুষের হাতে নয়,
শেষ সিদ্ধান্ত থাকে মহান প্রভুরই স্রোতস্বয়।
বিপদ এলে ভেঙে পড়ো না হতাশায়,
তাওয়াক্কুল রাখো দৃঢ় অন্তরের আশায়।
যা ঘটেছে, তাতেই আছে কল্যাণের দিশা,
এই বিশ্বাসেই মানুষ পায় শান্তির ভাষা।
মুয়ামালাত শেখায়—চেষ্টা আর ভরসা,
এই দুইয়ে গড়ে ওঠে জীবনের আশা।
যে বিশ্বাস রাখে, সে পায় শক্তি নতুন,
তাওয়াক্কুলেই আলোকিত হয় জীবনের গন্তব্য তখন।
বাহিরের জয় সহজ, অন্তরের জয় কঠিন,
নিজেকে জিততে পারাই জীবনের মূল চিন।
প্রলোভনের ঢেউ আসে বারবার মনে,
নৈতিকতা তখন দাঁড়ায় দৃঢ় জীবনের সনে।
লোভ, ক্রোধ, হিংসা—এই তিন শত্রু,
জয় করতে পারলেই মানুষ হয় সত্য বন্ধু।
অন্যায় দেখে নীরব না থেকে দাঁড়াও,
সত্যের পতাকা হাতে তুলে নাও।
নৈতিকতা হলো জীবনের মূল ভিত্তি,
এ ছাড়া সব অর্জন হয় শূন্য নিত্যই।
মানুষের মর্যাদা থাকে চরিত্রের মাঝে,
এই সত্যই প্রতিধ্বনি তোলে জীবনের সাজে।
মুয়ামালাতের শিক্ষা—অন্তর করো পবিত্র,
এই পথেই মানুষ হয় সত্যিকার চরিত্র।
যে জিতে নেয় নিজের মন, নিজেরই ভয়,
সে-ই তো পায় জীবনের চূড়ান্ত জয়।
Top of Form
Bottom of Form
৪
৪ মন্তব্য