সহকারী অধ্যাপক
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:৪৮ অপরাহ্ণ
শিশুর অধিকার - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
শিশুর অধিকার
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যেদিন একটি শিশু আসে পৃথিবীর কোলে,
আলো নামে নীরবে, আশার রঙ দোলে।
সে শুধু দেহ নয়—একটি ভবিষ্যৎ,
তার চোখে লেখা থাকে আগামী দিনের সূর্যোদয়।
মায়ের কোল তার প্রথম নিরাপদ ঘর,
বাবার হাত তার প্রথম ভরসার পরশ।
এই পৃথিবী তারও—সমান অধিকারে,
সে বাঁচবে মাথা তুলে, মর্যাদার দ্বারে।
অধিকার মানে শুধু শব্দ নয় কাগজে,
এটি জীবন, শ্বাস, মুক্তি—মানবতার সাজে।
খাবার তার অধিকার, শিক্ষা তার পথ,
স্বাস্থ্য তার শক্তি, ভালোবাসা তার রথ।
বই হাতে শিশুটি স্বপ্ন দেখে আকাশ,
কলমের আঁচড়ে গড়ে নতুন ইতিহাস।
যেখানে ভয় নেই, নেই কোনো বাধা,
সেই সমাজেই গড়ে শিশুর আসল সাধা।
ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ—সব ভেদাভেদ মুছে,
শিশু যেন দাঁড়ায় সমতার সূর্যে।
কেউ হবে না ছোট, কেউ হবে না পর,
সবাই সমান—এই হোক পৃথিবীর ডর।
যে শিশুটি রাস্তায় বিক্রি করে সময়,
তার চোখে লুকানো অগণিত ক্ষয়।
তারও তো অধিকার—খেলবে, শিখবে, হাসবে,
কেন সে বঞ্চিত, কেন সে কাঁদবে?
নির্যাতন মানে শুধু আঘাত নয় দেহে,
শব্দেও ব্যথা লাগে, নীরব কান্না বয়ে।
মানসিক ক্ষত গোপন আগুনের মতো,
ধীরে ধীরে পুড়িয়ে দেয় শিশুমন শত।
শিশু তো ফুল—নরম, কোমল প্রাণ,
তাকে ভাঙা মানে ভাঙা মানবতার গান।
যেখানে শিশুর চোখে জল ঝরে নীরবে,
সেখানে সভ্যতা হারায় নিজেকে।
রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার—সবাই একসাথে,
শিশুর সুরক্ষায় দাঁড়াও দৃঢ় হাতে।
আইন শুধু লিখে রাখলে হবে না,
বাস্তবতায় প্রয়োগ—সেটাই আসল চাওয়া।
ঝড় এলে আগে শিশুকে দাও আশ্রয়,
ক্ষুধা এলে আগে তারই হোক আহার নিশ্চয়।
কারণ সে আগামী—তার হাতেই পথ,
তার হাসিতে গড়ে উঠবে মানবতার রথ।
শিশু শুধু সুরক্ষার নয়, তারও আছে স্বর,
সে বলবে, ভাববে—তার নিজস্ব ঘর।
স্বাধীন চিন্তা তার জন্মগত অধিকার,
তার কণ্ঠ রুদ্ধ করা অন্যায়ের ভার।
খেলতে খেলতে শেখা—তার সহজ রীতি,
ভয়মুক্ত শৈশবই সবচেয়ে বড় প্রীতি।
যেখানে প্রশ্ন করে, পায় জবাব,
সেখানেই গড়ে ওঠে জ্ঞানী এক নবাব।
আজকের শিশু কালকের নেতা,
তার হাতে গড়বে পৃথিবীর ব্যাখ্যা।
যদি তাকে দাও শিক্ষা, ভালোবাসা,
সে ফিরিয়ে দেবে হাজার গুণ আশা।
কিন্তু যদি দাও শুধু অবহেলা,
তবে সমাজ পাবে অন্ধকারের মেলা।
তাই আজই গড়ো শিশুর অধিকার,
তবেই ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বল অপার।
এসো সবাই মিলে করি এক শপথ,
শিশুর অধিকার রক্ষা হবে প্রতিদিনের রথ।
কোনো শিশু কাঁদবে না অবহেলায়,
কোনো স্বপ্ন ভাঙবে না নির্যাতনের ছায়ায়।
মানবতা তখনই সত্য, যখন শিশু হাসে,
তাদের চোখে ফুটে ওঠে শান্তির আকাশে।
এই পৃথিবী হোক তাদের আপন ঘর,
ভালোবাসা, ন্যায়—হোক তাদের অধিকার।
শিশুর অধিকার শুধু আইন নয়,
এটি হৃদয়ের ডাক, মানবতার জয়।
যেখানে শিশুরা পায় সম্মান ও সুরক্ষা,
সেখানেই গড়ে ওঠে সত্যিকারের সভ্যতা।
“শিশু বাঁচলে—মানবতা বাঁচে,
শিশু হাসলে—পৃথিবী হাসে।”
***
শিশু আসে আলো বুকে, নতুন ভোরের গান,
তার চোখে ভবিষ্যতের রঙিন অভিমান।
নরম কণ্ঠে বলে সে—আমারও অধিকার,
এই পৃথিবী সবার মতো হোক আমার ঘর।
আঠারো বছরের নিচে শিশুর পরিচয়,
আইনের চোখে সে-ই সুরক্ষার আশ্রয়।
কাগজে লেখা নিয়ম শুধু নয় তো যথেষ্ট,
বাস্তবে তার প্রয়োগেই ন্যায় হয় প্রতিষ্ঠিত।
বাঁচার অধিকার তার জন্মগত সত্য,
ক্ষুধা-তৃষ্ণা মিটবে তার, এটাই মানব কর্তব্য।
খাবার, পানি, আশ্রয়—মৌলিক সব চাওয়া,
এসব বঞ্চিত হলে সমাজ থাকে কাঁপা।
বইয়ের পাতায় স্বপ্ন বোনে ছোট্ট দুটি হাত,
শিক্ষার আলোয় মুছে যায় অজ্ঞতার রাত।
প্রতিটি শিশু স্কুলমুখী—এই হোক অঙ্গীকার,
জ্ঞানই তাকে গড়বে শক্ত, দেবে সত্যিকার।
রোগের ছায়া যেন না ঢাকে শিশুর প্রাণ,
চিকিৎসা হোক সহজলভ্য—এই হোক বিধান।
হাসিখুশি সুস্থ দেহেই স্বপ্ন বাঁচে বেশি,
অসুস্থতায় হারিয়ে যায় জীবনের রেশই।
নাম, পরিচয়, পরিবার—তার নিজস্ব স্থান,
এগুলো ছাড়া মানুষ হয় না পূর্ণ জ্ঞান।
শিকড়হীন গাছ যেমন দাঁড়াতে পারে না,
পরিচয়হীন শিশু তেমনি বাঁচতে পারে না।
ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ভেদ—সব দূরে সরাও,
সমতার আলোয় শিশুদের পাশে দাঁড়াও।
কেউ যেন না বঞ্চিত হয় জন্মের কারণে,
মানবতা হারায় তখন বিভেদের অরণ্যে।
শিশুর কান্না নিঃশব্দে ভেঙে দেয় আকাশ,
নির্যাতনের ছায়ায় নিভে যায় তার হাস।
হাত তুলো না তার উপর—সে তো ফুলের মতো,
একবার ভাঙলে আর জোড়া লাগে না ততো।
শুধু দেহ নয়, মনও চায় যত্নের ছোঁয়া,
ভয়ের ছায়া থাকলে স্বপ্ন যায় ক্ষয়ে।
ভালোবাসার ভাষাই হোক প্রতিটি ঘরে,
তবেই শিশু বড় হবে আত্মবিশ্বাস ভরে।
রাস্তায় কাজ করে যে শিশুটি ক্লান্ত,
তারও তো খেলার মাঠ, স্বপ্নের প্রান্ত।
শিশুশ্রমের শৃঙ্খল ভেঙে দাও আজ,
তবেই মানবতার হবে সত্যি সাজ।
আইন আছে, তবু কেন কাঁদে শিশুর দল?
কার্যকর না হলে আইন হয় বিফল।
ন্যায়ের পাল্লা হোক শক্ত, সবার তরে সমান,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাগুক প্রতিটি প্রাণ।
শিশুরও কণ্ঠ আছে, শোনো তার কথা,
তার ভাবনায় লুকানো সত্যের ব্যাখ্যা।
চুপ করিয়ে দিলে হারাবে সম্ভাবনা,
তার চিন্তাতেই গড়ে উঠবে নতুন যন্ত্রণা।
খেলাই তার শিক্ষা, হাসিই তার প্রাণ,
মাঠের সবুজ ঘাসে ফুটে জীবনের গান।
শৈশব কেড়ে নিলে বাঁচে না মানুষ,
শিশুর হাসিতেই পৃথিবী হয় নিখুঁত।
যুদ্ধের আগুনে পুড়ে যায় ছোট্ট প্রাণ,
ঘরহীন হয়ে হারায় জীবনের জ্ঞান।
সংকটে আগে শিশু—এই হোক নিয়ম,
তাদের বাঁচাতেই মানবতার সম্মান।
মায়ের কোলে শান্তি, বাবার হাতে ছায়া,
এই বন্ধনেই শিশুর জীবন গাঁথা মায়া।
ভালোবাসাহীন ঘর শুধু ইটের দেয়াল,
সেখানে শিশুর মন থাকে নির্জন কাল।
রাষ্ট্র শুধু শক্তি নয়—দায়িত্বের নাম,
শিশুর সুরক্ষায় থাকুক তার অবিরাম।
নীতিতে, কাজে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে,
শিশুর কল্যাণ থাকুক অগ্রগণ্যতে।
সমাজ যদি চুপ থাকে অন্যায় দেখে,
তবে সে সমাজও দোষী থাকে থেকে।
প্রতিটি মানুষ হোক শিশুর রক্ষক,
তবেই গড়ে উঠবে মানবতার পথক।
প্রতিটি শিশুর আছে নিজস্ব আলো,
সুযোগ পেলে সে করবে বিশ্ব ভালো।
দমিয়ে রাখলে নিভে যাবে সে দীপ,
সুযোগ দিলে জ্বলবে হয়ে অম্লান দীপ।
আজকের শিশু আগামী দিনের নেতা,
তার হাতেই লেখা সময়ের ব্যাখ্যা।
তাকে গড়ো ন্যায় দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে,
তবেই পৃথিবী হাসবে শান্তির ছায়ে।
এসো সবাই মিলে শপথ করি আজ,
শিশুর অধিকার রক্ষা হবে সমাজ।
কোনো শিশু থাকবে না অন্ধকারে,
আলো ছড়াবে তার জীবনধারায়।
শিশু মানেই আশা, শিশু মানেই আলো,
তাদের হাসিতেই পৃথিবী হয় ভালো।
যেখানে শিশু পায় অধিকার পূর্ণ,
সেই সমাজই হয় সত্যিকারের সম্পূর্ণ।
“শিশুকে দাও অধিকার—
মানবতা পাবে তার প্রকৃত আকার।”
৪
৪ মন্তব্য