সহকারী শিক্ষক
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষকতা পেশা মহান পেশা, এ কি অবস্থা এই পেশা
বর্তমান শ্রেণী কক্ষ ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই সকল শিক্ষক মিলিয়ে নিবেন ।
তিনি লিখেছেনঃ
১) আমরা সবাই হাসিমুখে ক্লাস নিতে ভালোবাসি… কিন্তু এখন আর পারছি না
আমার ছাত্র জীবন ও শিক্ষকতা জীবনে আমি দেখছি ও সবসময় বিশ্বাস করেছি—ভালোবাসা দিয়েই শেখানো যায়।
গল্প ছলে , খেলাধুলার মাঝে, হাসতে হাসতে, ছোট ছোট আনন্দের ভেতর দিয়ে বাচ্চাদের নতুন কিছু শেখানো যায় এটাই শুনে এসেছি ও প্রয়োগ করেছি।
কিন্তু আজকাল ক্লাসে দাঁড়িয়ে আর এগুলো সঠিকভাবে পারি না…
***একটা অদ্ভুত পরিবর্তন চোখের সামনে ঘটছে
একটা ক্লাস শেষ করে আরেকটা ক্লাসে যেতে মাত্র ৫–৭ মিনিট সময় লাগে।
এই সামান্য সময়ের মধ্যেই পুরো বারান্দা ভরে যায় অস্থিরতা, চিৎকার, দৌড়াদৌড়িতে।
ধাক্কাধাক্কি, মারামারি—কেউ কাউকে চেনে না। কে বাংলা শিক্ষক, কে ইংরেজি শিক্ষক, কে বিজ্ঞান শিক্ষক, কে বড় ভাই, কে অভিভাবক।
যে বাচ্চারা আগে চুপচাপ বসে থাকত, ক্লাস ক্যাপ্টেন সবাইকে সামলে রাখত—
আজ তারা চোখের দিকে তাকায় না, ডাকে সাড়া দেয় না।
৩) সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা কোথায় জানেন?
ওদের মধ্যে যেন “সংযোগ” নেই।
না চোখের ভাষা বোঝে, না আদর বোঝে, না ধমক কাজ করে।
মোবাইলের গেম, স্ক্রিনের জগৎ—ওদের মনটাকে এমনভাবে নিয়ে গেছে,
বাস্তব মানুষ, বাস্তব সম্পর্ক—সব যেন দূরের কিছু।
৪) শাসন করবো? সেটাও আজ আর সহজ না
আমরা ছোটবেলায় শুনতাম—
“শিক্ষক যা ঠিক মনে করেন, সেটাই করবেন।”
আর এখন?
সামান্য কিছু বললেই অভিভাবকরা প্রশ্ন তোলেন, বিচার করেন, চাপ তৈরি করেন। ছাত্ররা শিক্ষকে অপমান করে এমনকি শরীরে হাত তোলে।
শিক্ষক যেন পড়ানোর আগে হাজারবার ভাবেন—“এটা বলা ঠিক হবে তো?”
৫) তাই এখন ক্লাসে কী করি জানেন?
হাসিমুখে ঢুকি ঠিকই কিন্তু ইজ্জত নিয়ে বের হতে পারবো কিনা জানিনা।
আর কিছুক্ষণ পর নিজেকে দেখি কপাল কুঁচকে, দাঁতে দাঁত চেপে কথা বলছি…
এটাই কি আমি শিক্ষকতা ।
৬) একটা কথা বলতে চাই—অভিভাবকদের কাছে
আপনার সন্তান শুধু বইয়ের পড়া শিখলেই মানুষ হবে না।
শিখতে হবে—
• শ্রদ্ধা
• শোনার অভ্যাস
• নিয়ম মেনে চলা
• অন্যকে বুঝতে পারা
এই জিনিসগুলো বাড়ি থেকে শুরু হয়। স্কুল শুধু সেটাকে গড়ে তোলে।
৭) ছাত্র /ছাত্রীকে শাসন করলে ছাত্র ছাত্রী রাস্তায় হামলা করে।
৮) স্কুলের রাস্তার সামনে নেশা করে কত অভিভাবক দেখে কত সচেতন মানুষ দেখে আর কিছু বলে না।
৯) স্কুলের রাস্তা সামনে মেয়েদের বাজে টিউন দেয় দেখার কেউ নেই।
১০) আর আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য
তোমরা খারাপ না…
কিন্তু তোমাদের মনটা খুব অস্থির হয়ে গেছে।
একটু থামতে শিখো,
একটু শুনতে শিখো,
একটু চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখো।
১১) প্রিয় সচেতন মানুষ আপনারা আমাদের সাহায্য করুন না হলে কেউ আর এই পেশায় আসবে না।
৯) শেষ কথা
শিক্ষকতা শুধু পেশা না—এটা একটা অনুভূতি।
কিন্তু সেই অনুভূতিটা যদি প্রতিদিন ভেঙে যায়,
তাহলে একসময় দাঁড়িয়ে ভাবতেই হয়—
“আমি কি সত্যিই পারছি?”
হয়তো এখন সময় এসেছে আমরা সবাই একটু থামি—
শিক্ষক, অভিভাবক, আর ছাত্রছাত্রী—
এবং নতুন করে ভাবি—
আমরা আসলে কোথায় যাচ্ছি…
২
২ মন্তব্য