হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) ছিলেন ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী, ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর কন্যা এবং উম্মুল মুমিনিন (বিশ্বাসীদের মাতা)। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিদুষী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী, হাদিস বর্ণনাকারী, ফকিহ (আইনজ্ঞ) এবং দানশীল ব্যক্তিত্ব [১, ২, ৮]। জ্ঞান, পাণ্ডিত্য, সাহস ও ঈমানি দৃঢ়তায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।
আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর চরিত্রের প্রধান দিকগুলো হলো:
- বিস্ময়কর পাণ্ডিত্য ও জ্ঞান: তিনি ছিলেন হাদিস, ফিকহ (ইসলামী আইন), তাফসির, চিকিৎসা, আরব্য কাব্য ও ইতিহাসে প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী [২, ৪, ৮]। সাহাবায়ে কেরাম জটিল মাসআলার সমাধানের জন্য তাঁর কাছে আসতেন [২]।
- সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারী: তিনি ২,২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ [২, ১৩]।
- সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ: তাঁর উপাধি ছিল 'সিদ্দিকা' (সত্যবাদী)। ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) কঠিন পরীক্ষায় আল্লাহ সরাসরি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেন [৮, ১০]।
- দানশীলতা ও নির্লোভ জীবন: তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন এবং প্রচুর দান-সদকাহ করতেন। রাসূল (সা.)-এর সাথে অভাবের দিনেও তিনি ধৈর্য ধরেছেন [৬, ১০]।
- সাহসী ও তেজস্বী: তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে সাহাবীদের পানি পান করাতেন এবং উহুদের মতো যুদ্ধেও সক্রিয় ছিলেন [১০, ১১]।
- রাসূল (সা.)-এর প্রতি অগাধ ভালোবাসা: তিনি ছিলেন রাসূল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয়, যাকে তিনি 'হুমায়রা' (সাদা-লাল মিশ্রিত গাত্রবর্ণের কারণে) বলে ডাকতেন [৪]।
তিনি ৫৭ হিজরির ১৭ রমজান মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয় [৮]।
২
২ মন্তব্য