প্রভাষক
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০৩ অপরাহ্ণ
সম্পদের সঠিক ব্যবহার শেখায় কুরআনের ১০ আয়াত
পবিত্র কুরআনে সম্পদের সঠিক ব্যবহার, উপার্জনের পবিত্রতা এবং ব্যয়ের ভারসাম্য সম্পর্কে অসংখ্য দিকনির্দেশনা রয়েছে।
ভারসাম্যপূর্ণ ব্যয় (সুরা আল-ফুরকান: ৬৭): ইসলামে ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুমিনরা সম্পদ ব্যয়ের সময় অপচয় করে নিঃস্ব হয় না, আবার কৃপণতা করে সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখে না।
অপব্যয় ও শয়তানের সম্পর্ক (সুরা বনী ইসরাঈল: ২৬-২৭): যারা অনর্থক কাজে বা পাপের পথে সম্পদ ব্যয় করে, কুরআন তাদের শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কারণ সম্পদ আল্লাহর নেয়ামত এবং এর অপব্যবহার অকৃতজ্ঞতার শামিল।
সম্পদ পবিত্রকরণ ও জাকাত (সুরা আত-তাওবা: ১০৩): অর্জিত সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ জাকাত বা সদকা হিসেবে প্রদান করলে অবশিষ্ট সম্পদ কেবল পবিত্রই হয় না, বরং তা দাতার আত্মিক পরিশুদ্ধির কারণ হয়।
সম্পদ পুঞ্জীভূত করার কঠোর শাস্তি (সুরা আত-তাওবা: ৩৪): যারা জনকল্যাণে বা আল্লাহর পথে ব্যয় না করে সোনা-রুপা বা টাকা কুক্ষিগত করে রাখে, কিয়ামতের দিন তাদের সেই সম্পদ উত্তপ্ত করে তাদের কপালে ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে।
অন্যের হক আদায় (সুরা বনী ইসরাঈল: ২৬): নিজের সম্পদে কেবল নিজের অধিকার নেই। আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও মুসাফিরদের জন্য এতে হক বা পাওনা নির্দিষ্ট করা আছে, যা প্রদান করা বাধ্যতামূলক।
সম্পদ একটি বড় পরীক্ষা (সুরা আনফাল: ২৮): সম্পদ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বা আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাপকাঠি নয়, বরং এটি একটি পরীক্ষা। এই সম্পদ ব্যবহার করে মানুষ আল্লাহর আনুগত্য করে নাকি অবাধ্য হয়, তা-ই মূল বিষয়।
অন্যায় পথে সম্পদ উপার্জন নিষিদ্ধ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৮): ঘুষ প্রদান, জবরদখল বা দুর্নীতির মাধ্যমে অন্যের সম্পদ গ্রাস করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি বিচারকদের মাধ্যমে প্রভাবিত করে অন্যের হক নষ্ট করাও বড় গুনাহ।
দানের ফলে সম্পদের প্রবৃদ্ধি (সুরা আল-বাকারা: ২৬১): আল্লাহর পথে ব্যয়ের উপমা হলো একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ এবং প্রতিটি শীষে ১০০টি দানা হয়। অর্থাৎ দান করলে সম্পদ কমে না বরং কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুতি নয় (সুরা মুনাফিকুন: ৯): সম্পদ বা সন্তান যেন একজন মানুষকে এত বেশি মোহগ্রস্ত না করে ফেলে যে সে স্রষ্টাকে ভুলে যায়। পার্থিব সফলতার চেয়ে পরকালীন মুক্তিই প্রকৃত লক্ষ্য।
হালাল ও পবিত্র উপার্জন (সুরা আল-বাকারা: ১৬৮): কেবল সম্পদ থাকলেই হবে না, তা উপার্জনের উৎস হতে হবে হালাল। ইসলাম সুদ (Riba), জুয়া ও নিষিদ্ধ ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন পুরোপুরি হারাম ঘোষণা করেছে।
৪
৪ মন্তব্য