সহকারী অধ্যাপক
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ
হিদায়াত ও ‘ইলম - মোঃ মুজিবুর রহমান
হিদায়াত ও ‘ইলম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আকাশ ভেঙে নামে বৃষ্টি, রহমতেরই ঢেউ,
শুষ্ক মাটির বুকে যেন জাগে জীবনের নৌ।
কোথাও মাটি নরম, সিক্ত করে প্রাণ,
ঘাসে ভরে ওঠে ধরা, সবুজে ভরে স্থান।
কোথাও মাটি শক্ত হয়ে রাখে পানি ধরে,
মানুষ তাতে পায় উপকার, জীবন চলে ঘরে।
পান করে সে, চাষ করে, প্রাণে আনে সুখ,
রহমতেরই ফোঁটা যেন মুছে দেয় সব দুঃখ।
আবার কিছু ভূমি আছে, শূন্য নির্জন,
না ধরে জল, না ফলায় কিছু—নেই কোনো জীবন।
বৃষ্টি পড়ে তবু তারে জাগাতে পারে না,
রহমতের সে ধারা তাতে কাজ করে না।
তেমন মানুষও আছে, পায় যে জ্ঞানের দান,
নিজে শেখে, শেখায় অন্যে—আলোকিত প্রাণ।
আবার কেউ থাকে এমন, ফিরিয়ে নেয় মুখ,
হিদায়াতের আলো দেখে না, থাকে অন্ধ সুখ।
***
নিঃশব্দ আকাশ হঠাৎ করে ডাকে গম্ভীর সুরে,
মেঘের কোলে জমে ওঠে রহমত ভরা নূরে।
ঝরে পড়ে বৃষ্টিধারা আল্লাহরই দান,
মৃত মাটির বুকে এনে জাগায় নতুন প্রাণ।
প্রতিটি ফোঁটা যেন একেকটি হিদায়াত,
আলো হয়ে নামে ধরা, মুছে দেয় অন্ধকার রাত।
কেউ তা গ্রহণ করে হাসে, কেউ থাকে অবহেলায়,
একই পানি—তবু ফল ভিন্ন, মানুষেরই খেলায়।
কোথাও আছে নরম মাটি, হৃদয় তার খোলা,
বৃষ্টিধারা পেয়ে যেন হাসে দোলা দোলা।
শুষে নেয় সে প্রতিটি ফোঁটা, রাখে বুকের মাঝে,
সবুজ হয়ে ওঠে জীবন, আশার আলো সাজে।
ঘাস জন্মে, ফুল ফোটে, দোলে তরুলতা,
সেই হৃদয়ে জাগে ইমান, জ্ঞানেরই বারতা।
নিজে শেখে, বুঝে নেয় সে সত্যের পথধারা,
অন্যকে দেয় আলো, করে দিশাহারা সারা।
কোথাও আছে কঠিন মাটি, পানি রাখে ধরে,
নিজে হয়তো ফলায় না কিছু, তবু দেয় অন্য ঘরে।
মানুষ আসে, তৃষ্ণা মেটে, চাষে লাগে প্রাণ,
অন্যের কল্যাণে সে হয় উপকারের স্থান।
তেমন মানুষও আছে, রাখে জ্ঞানের ধন,
নিজে হয়তো কম বুঝে, তবু করে বণ্টন।
তার মাঝে আছে কল্যাণ, আছে উপকার,
তার দ্বারেই বহু প্রাণ পায় জীবনের অধিকার।
আবার কিছু ভূমি আছে, শক্ত ও নির্জীব,
না ধরে জল, না দেয় ফল—শূন্য তার নসীব।
বৃষ্টি পড়ে, তবু তারে ছুঁতে পারে না প্রাণ,
রহমতের সে ধারা হয় সেখানে অজান।
তেমন মানুষও থাকে, ফিরিয়ে নেয় দৃষ্টি,
হিদায়াতের আলো দেখে না—মনে তার দৃষ্টি নষ্ট।
না শেখে, না শেখায়, অন্ধকারে ঘেরা,
নিজের ক্ষতি করে সে, ডুবে থাকে ঘোরে।
হে মানব! তুই কোন মাটি—নিজে ভেবে দেখ,
রহমতের এই বৃষ্টি তোর হৃদয়ে কি ঢুকেছে এক?
তুই কি সেই উর্বর ভূমি—জাগে তোর প্রাণ,
না কি কঠিন জমিন হয়ে রাখিস শুধু জ্ঞান?
না কি তুই সেই শূন্য ভূমি, কিছুই না রাখিস,
হিদায়াতের আলো পেয়ে তাও ফিরিয়ে দিস?
নিজেকে জিজ্ঞেস কর, খুঁজে নে উত্তর,
জীবনের এই পথে তোর কিসেরই বা অন্তর?
এসো আমরা হই সেই উর্বর মাটির মত,
যেখানে ইমান ফোটে, জ্ঞানেরই রত্ন।
নিজে শিখি, অন্যকে দেই আলোর উপহার,
তবেই তো সফল হবে জীবনের এই যাত্রা।
রহমতের বৃষ্টি নামে প্রতিটি প্রাণে,
কেউ তা নেয়, কেউ হারায় অজানার টানে।
হে আল্লাহ! করো আমাদের হৃদয় উর্বর,
যাতে হিদায়াতের আলো থাকে চির অমর।
***
নিভৃত গগনে মেঘ জমে নীরব গম্ভীর তানে,
রহমতের ডাক আসে অদৃশ্য কোনখানে।
আল্লাহর দান নামে ধরা জুড়ে স্নিগ্ধ সুরে,
মৃত প্রাণে জাগে আলো—অজানা এক নূরে।
ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে করুণারই রূপ,
মাটি জাগে, প্রাণ জাগে, মুছে যায় সব দুঃখ।
একই পানি নামে তবু ভিন্ন তার ফল,
হৃদয়ের অবস্থায় বদলায় তার কল।
নরম মাটির বুকে পড়ে বৃষ্টিরই ছোঁয়া,
সবুজ ঘাসে ঢেকে যায় শুষ্কতারই ক্ষয়।
ফুল ফোটে, ফল ফলে, প্রাণে হাসির ঢেউ,
এই মাটি নেয় হিদায়াত—জীবন করে নৌ।
যে হৃদয়ে জ্ঞানের আলো জায়গা পায় ঠিক,
সেই প্রাণে ফুটে ওঠে সত্যেরই দিক।
নিজে শেখে, বুঝে নেয় রবের দেওয়া পথ,
অন্যকে ডাকে সে—আলোয় ভরুক রথ।
একজন শেখে, তারপর শেখায় শত জনে,
আলোর শিখা ছড়িয়ে পড়ে অজস্র প্রাণে।
একটি হৃদয় জাগলে জাগে হাজার প্রাণ,
এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে জ্ঞানেরই দান।
কঠিন মাটি পানি ধরে বুকেরই ভাঁজে,
নিজে ফলায় না কিছু—তবু কাজে লাগে।
মানুষ আসে, তৃষ্ণা মেটে, বাঁচে তার প্রাণ,
এই জমিনও করে তো অনেক উপকার।
যে নিজে কম বুঝে, তবু জ্ঞান রাখে ধরে,
তার কাছ থেকেও মানুষ আলো পায় ঘরে।
সে হয় সেতু—জ্ঞানের পথে দেয় চলার দিশা,
অন্যের কল্যাণে থাকে তারই নিঃশ্বাসা।
আবার কিছু জমিন থাকে নির্জীব, শুষ্ক,
বৃষ্টি পড়ে, তবু থাকে আগের মতো নিষ্প্রভ।
না ধরে জল, না দেয় ফল, শূন্য তার প্রাণ,
হিদায়াতের ধারা তাতে হয় অবজ্ঞাত জ্ঞান।
চোখ আছে, তবু দেখে না সত্যেরই আলো,
হৃদয় আছে, তবু বোঝে না—ভুলে যায় ভালো।
আহ্বান আসে বারবার, তবু সে বধির,
অন্ধকারে ডুবে থাকে, জীবন হয় স্থির।
একই বৃষ্টি—তিন রূপে ফল দেয় শেষে,
কেউ নেয়, কেউ রাখে, কেউ হারায় হেলায় ভেসে।
মানুষও তেমন—ভিন্ন তার মন,
হিদায়াতে বদলায় তার জীবনের ধ্বনন।
এই দুনিয়া এক পরীক্ষা—ক্ষণিকেরই স্থান,
এখানে যে বপন করবে, ফল পাবে অবিরাম।
জ্ঞানের বীজ বুনে যে, পাবে জান্নাত ফুল,
অবহেলায় কাটালে—জীবন হবে ভুল।
হে মানব! নিজেকে জিজ্ঞেস কর অন্তরে,
তুই কোন জমিন—ভাবিস কি এ বিষয়ে?
তোর মাঝে কি জাগে সত্যের আকুলতা?
না কি তুই হারিয়ে যাস দুনিয়ারই ব্যস্ততা?
সময় এখন জাগার—ঘুম ভাঙার সময়,
হিদায়াতের আলো ডাকে, ফিরিস না আর ভয়।
রবের পথে ফিরলে খুলবে রহমতের দ্বার,
অন্ধকারের শেষে তুই পাবি নতুন পার।
পাপ যতই হোক, তাওবা খোলা রয়,
রবের দয়া অসীম—শেষ হয় না কয়।
যে ফিরে আসে সত্যে, সে পায় মুক্তির পথ,
রহমতের সাগরে ডুবে যায় তার ক্ষত।
যে হৃদয়ে ইমান ফোটে, সে প্রাণ হয় ধন্য,
সত্যের পথে হাঁটে সে—ভয় পায় না অন্য।
দুনিয়ার লোভ তারে টানে না আর পিছে,
রবের ভালোবাসা থাকে তার হৃদমাঝে।
‘ইল্ম এক আলো—যা মুছে অন্ধকার,
যে তা পায়, সে পায় জীবনেরই সার।
অজ্ঞতার রাত ভেঙে আসে নতুন দিন,
জ্ঞানের আলোয় বদলে যায় সব চিন।
যে জানে সত্য, তার দায়িত্ব বলে,
অন্যকে ডাকা সে আলোয়ের দলে।
একটি কথা, একটি দৃষ্টি, একটি দান,
হতে পারে কারো জীবনেরই নতুন প্রাণ।
যে ফিরিয়ে নেয় মুখ, সে হারায় আলো,
নিজেরই ক্ষতি করে—ভুলে যায় ভালো।
সময় চলে যায়, ফিরে আসে না আর,
শেষে সে পায় শুধু অন্ধকারের ভার।
একদিন আসবে সময়—সব শেষ হবে,
দুনিয়ার এই মেলা হঠাৎ থেমে যাবে।
তখন কি থাকবে সাথে ধন বা সম্মান?
থাকবে শুধু আমল—আর ইমানের জ্ঞান।
সেখানে ফল মিলবে প্রতিটি কাজের,
যে যা করেছে, পাবে তারই সাজের।
জ্ঞানের আলো যারা রেখেছে প্রাণে,
তারা থাকবে সুখে জান্নাতের টানে।
সেখানে নেই কষ্ট, নেই কোনো ভয়,
শান্তির সাগরে ডুবে থাকে হৃদয়।
রবের দয়া ঘিরে রাখে প্রতিটি প্রাণ,
এটাই তো সফল জীবনেরই দান।
যারা ফিরিয়ে দেয় হিদায়াতের ডাক,
তাদের জন্য আছে কঠিন পরিণাম।
অন্ধকারে কাটে যাদের জীবনকাল,
শেষে তারা পায় শুধু অনুতাপের জাল।
এসো আমরা ধরি সেই উজ্জ্বল পথ,
যেখানে আছে শান্তি—নেই কোনো ক্ষত।
জ্ঞানের আলোয় ভরাই অন্তরখানি,
তবেই তো সফল হবে জীবনের বাণী।
হে রব! করো আমাদের হৃদয় উর্বর,
যাতে হিদায়াত থাকে সদা অমর।
আমরা যেন শিখি, বুঝি, অন্যকে দেই,
তোমারই পথে চলি—ভুল পথে না যাই।
রহমতের বৃষ্টি ঝরে প্রতিটি প্রাণে,
কেউ তা নেয়, কেউ হারায় অজানার টানে।
হে আল্লাহ! দাও আমাদের সেই সৌভাগ্য,
যাতে হিদায়াতে ভরে ওঠে জীবনের ভাগ্য।-সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৩/ আল-ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) (كتاب العلم) - 3/ Knowledge ৭৬ টি হাদিস | ৫৯-১৩
৪
৪ মন্তব্য