সহকারী অধ্যাপক
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ
শান্তির নীড় হোক প্রতিটি ঘর, - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
শান্তির নীড় হোক প্রতিটি ঘর,
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মহান প্রভু সৃষ্টির মূল,
তাঁর ইশারায় চলে সব কূল।
আসমান-জমিন, নদী-পর্বত,
সবই তাঁর সৃষ্টি, অপার রহমত।
মানুষ তাঁর সেরা দান,
বুঝার শক্তি, বিবেক জ্ঞান।
ভাল-মন্দের পথের মাঝে,
চলার অধিকার দিয়েছে সাজে।
তবু সে পথ যেন না ভ্রষ্ট হয়,
তাই নবী এলেন যুগে যুগে বই।
বাণী নিয়ে সত্যের আলো,
অন্ধকারে দিলেন ভালো।
গ্রন্থ এল একের পর এক,
হেদায়েতের অনন্ত রেক।
শেষে এলো কুরআন মহীয়ান,
সব গ্রন্থের সার, চির অম্লান।
যে মানে তার আদেশ-বাণী,
সফল হয় দুনিয়া-পরাণী।
ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র গড়ে,
শান্তির ফুল ফুটে ঘরে ঘরে।
আদি হতে অন্ত পর্যন্ত এক সত্যের ধারা,
মহান আল্লাহ স্রষ্টা সকল সৃষ্টির সারা।
শূন্য হতে বিশ্বজগত করলেন উদ্ভাস,
তাঁর হুকুমে ঘুরে ফেরে নক্ষত্রের আকাশ।
পর্বত দাঁড়ায় নীরব হয়ে, সাগর গর্জে তবু,
প্রতিটি কণায় লেখা আছে—“একই প্রভু, এক প্রভু।”
অসীম শক্তির প্রকাশ তিনি, রহমতের আধার,
তাঁর দয়া ছাড়া কারো নাই বাঁচার অধিকার।
এই জগতে মানুষের স্থান এক অনন্য দান,
বিবেক-বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি—সৃষ্টি করল মহান।
ভাল-মন্দের মাঝে রেখে দিলেন মুক্ত পথ,
নির্বাচনের স্বাধীনতায় গড়ুক নিজের রথ।
কিন্তু মানুষ ভুলে যায়, অন্ধকারে পড়ে,
অহংকারে ডুবে গিয়ে সত্যপথ ছেড়ে।
তাই তো প্রভু দয়া করে পাঠান পথপ্রদর্শক,
নবী-রাসূল আলোর মশাল, সত্যের অনুরাগক।
আদম হতে নূহ, ইব্রাহিমের ডাক,
মূসা দিলেন বিধান, ঈসার প্রেমের ফাঁক।
প্রত্যেকে আনলেন এক সুরে এক গান—
“এক আল্লাহর ইবাদত, এটাই জীবনজ্ঞান।”
আসমানী গ্রন্থ এল যুগে যুগে সাথে,
তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল—হেদায়েতের পথে।
শেষে এলো কুরআন, পূর্ণতার বারতা,
সব শিক্ষার সারসংক্ষেপ, চিরন্তন প্রভুতা।
এই কিতাব নয় শুধু অক্ষরের ধারা,
এ এক জীবনের পথ, মুক্তির দিশারা।
আদেশ-নিষেধ মানলে খুলে যায় দ্বার,
ইহকাল-পরকালে সফলতার অধিকার।
যে ব্যক্তি মানে এ সত্য, গড়ে নিজ প্রাণ,
তার অন্তরে জ্বলে উঠে ঈমানের প্রদীপখান।
সমাজে ছড়ায় ন্যায়-নীতি, ভালোবাসার গান,
রাষ্ট্রে নামে সুবিচার, শান্তির সম্মান।
লোভ-হিংসা দূরে সরে, মমতা বাড়ে তব,
মানুষ মানুষকে ভালোবাসে—এটাই সত্য রব।
বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠে শান্তির এক নীড়,
মানবতা হাসে তখন, মুছে যায় সব ভীড়।
তাই ফিরে চলো, হে মানব, সত্যের আহ্বানে,
প্রভুর দেওয়া বিধান রাখো হৃদয়ের টানে।
এই পথেই মুক্তি লুকায়, এই পথেই জয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টিতে জীবনের সফলতা রয়।
***
হেদায়েতের আলো”
আদি হতে অন্তহীন, এক মহান নাম,
সৃষ্টির মাঝে জ্বলছে তাঁর অনন্ত ইলহাম।
শূন্য হতে জাগালেন তিনি বিশ্ব-বিশাল,
তাঁর ইশারায় ঘুরে ফেরে নক্ষত্রের জাল।
আসমানের নীলিমাতে রহস্যের রেখা,
জমিন জুড়ে বিস্তৃত তাঁর কুদরতের দেখা।
পর্বত যেন সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চুপ,
সাগর গর্জে বলে উঠে—“তিনিই এক রূপ।”
এই সকলের মাঝখানে মানুষ এক দান,
বিবেক-আলো, জ্ঞান-শক্তি—মহান অবদান।
ভাল-মন্দের দুয়ার খুলে দিলেন তিনি,
পথ বেছে নেবার শক্তি রাখলেন অন্তরিনী।
কিন্তু মানুষ ভুলে গিয়ে ডুবে যায় মোহে,
অহংকারে ঢেকে ফেলে সত্য নিজের দোহে।
তাই তো প্রভু দয়া করে বারবার পাঠান,
নবী-রাসূল পথ দেখাতে, সত্যের গান গাঁথান।
আদম হতে শুরু হয়ে নূহের ডাক শোনা,
ইব্রাহিমের ত্যাগে জ্বলে বিশ্বাসের বোনা।
মূসার হাতে বিধান এলো, ন্যায় প্রতিষ্ঠার তরে,
ঈসার বাণী প্রেমের সুরে হৃদয় ভাসায় ঘরে।
একই সুরে ডাক দিয়েছে সকল নবীগণ—
“এক আল্লাহর ইবাদত, এই জীবনের পণ।”
ভিন্ন কালে, ভিন্ন ভাষায় একই সেই বাণী,
সত্যের পথে ডাকছে মানুষ, করছে প্রাণে টানি।
তাওরাত এলো, যবুর এলো, ইঞ্জিলের আলো,
হেদায়েতের দিশা নিয়ে দূর করিল কালো।
শেষে এলো কুরআন নামে চূড়ান্ত সে নূর,
সব শিক্ষার সার যে এতে, সত্য অটুট সুর।
এই কিতাব শুধু নয় অক্ষরেরই সারি,
এ যে জীবনের দিশারী, মুক্তিরই বারি।
আদেশ মানলে ফুটে উঠে শান্তিরই ফুল,
নিষেধ মানলে দূরে সরে বিপদেরই কূল।
যে ব্যক্তি এ বাণী মেনে গড়ে নিজের প্রাণ,
তার অন্তরে জ্বলে উঠে ঈমানের প্রদীপখান।
সত্য-ন্যায়ে ভরে উঠে তার জীবন পথ,
অন্ধকারে জ্বলে উঠে আলোরই রথ।
সমাজ যখন এ পথে চলে, বদলায় চিত্র,
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে গিয়ে হয় প্রেমেরিত্র।
একজন আরেকজনকে ভালোবাসে প্রাণে,
সহমর্মিতা গড়ে উঠে মানবতার টানে।
রাষ্ট্র যখন ন্যায়কে ধরে, কুরআনেরই আলো,
অন্যায়ের সব প্রাচীর ভেঙে যায় কালো।
আইনের মাঝে জাগে তখন সুবিচারের ধ্বনি,
দুর্বল জনে পায় আশ্রয়, মেটে প্রাণের ক্ষণি।
পৃথিবী তখন রূপ নেয় শান্তিরই নীড়,
যেখানে মানুষ মানুষকে করে ভালোবেসে ধীর।
অশান্তির ঝড় থেমে যায়, থামে সব হাহাকার,
আল্লাহর বিধানেই মেলে জীবনের অধিকার।
তাই হে মানব, ফিরে এসো সত্যেরই তরে,
প্রভুর দেওয়া পথে চলো হৃদয়েরই ঘরে।
এই পথেই মুক্তি লুকায়, এই পথেই জয়,
এই পথেই চিরশান্তি, অনন্ত আশ্রয়।
যে হৃদয়ে জাগে ঈমান, সে হৃদয় আলোকিত,
দুনিয়া ও আখিরাতে সে হয় সফলিত।
প্রভুর সন্তুষ্টিই যেখানে জীবনেরই মূল,
সেই পথেই ফুটে উঠে শান্তিরই ফুল।
চল একসাথে গড়ি তবে সে সুন্দর ভুবন,
যেখানে সত্য, ন্যায়, প্রেম—হবে চির আপন।
আল্লাহর দেওয়া বিধান হবে জীবনের গান,
এই আলোতেই জাগুক ধরা, জাগুক প্রতিমান।
***
নূরের পথযাত্রা
আদি অন্ধকার ভেদ করে জাগে এক নাম,
মহান প্রভুর ইশারাতে সৃষ্টি সব ধাম।
শূন্য হতে বিশ্বজগত পেল আপন রূপ,
নক্ষত্রমালা ঘুরে বলে—“তিনিই এক কূপ।”
আসমান জুড়ে রহস্য লেখা আলোর রেখায়,
জমিন জুড়ে কুদরতের ছোঁয়া নীরব বেলায়।
পর্বত দাঁড়িয়ে সাক্ষী দেয় অটল বিশ্বাস,
সাগর গর্জে উচ্চারণে তাঁরই পরশ।
প্রতিটি কণা, প্রতিটি প্রাণ, প্রতিটি ধূলিকণ,
ডাকে এক স্রষ্টার দিকে অবিরাম গুণগান।
এই বিশালতায় মানুষ তখন ক্ষুদ্র এক দান,
তবু তার মাঝেই লুকায় রহস্য মহান।
মানুষ পেল বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তার আলো,
ভাল-মন্দের মাঝে বেছে নেবার চালো।
ইচ্ছাশক্তি দিলেন প্রভু, স্বাধীন পথ,
নিজের হাতে গড়ুক সে নিজের রথ।
কিন্তু এই স্বাধীনতা কখনো হয় ভার,
ভুল পথে গেলে ডেকে আনে অন্ধকার।
অহংকারে ঢেকে যায় সত্যেরই দীপ,
মানুষ তখন হারিয়ে ফেলে নিজের নীড়।
তবু তার মাঝে জাগে এক আলো ক্ষীণ,
যা তাকে ফিরিয়ে আনে সত্যের দিন।
সে আলোই প্রভুর দান, অন্তরের ডাক,
যা ভেঙে দেয় মিথ্যার যত অন্ধ ফাঁক।
যখন মানুষ পথ হারায় অন্ধকার রাতে,
প্রভু পাঠান দূতগণ হেদায়েতের সাথে।
নবী-রাসূল আলোর মশাল হাতে নিয়ে,
ডাকেন সবাই—“ফিরে এসো সত্যের নীড়ে।”
আদম থেকে শুরু হয়ে নূহের আহ্বান,
ইব্রাহিমের ত্যাগে জ্বলে বিশ্বাসের গান।
মূসা আনেন বিধান, ন্যায় প্রতিষ্ঠার তরে,
ঈসা আনেন ভালোবাসা কোমল সুরে ভরে।
সবাই ডাকে এক সুরে, এক সত্যের বাণী,
“এক আল্লাহর ইবাদতই জীবনের টানি।”
ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন কালে একই সে ডাক,
মানবতার পথে রাখে সত্যেরই পাক।
আসমানী কিতাব
যুগে যুগে নেমে আসে কিতাবের আলো,
তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল দূর করে কালো।
হেদায়েতের দিশা মেলে প্রতিটি পাতায়,
মানুষকে ডাকে তারা সত্যেরই ছায়ায়।
শেষে এলো কুরআন—পূর্ণতার বারতা,
সব কিতাবের সার নিয়ে চিরন্তন কথা।
এ শুধু নয় অক্ষরের কোনো সংকলন,
এ যে জীবনের পথ, মুক্তিরই অনুক্ষণ।
আদেশ-নিষেধে গাঁথা জীবনের গান,
যে মানে সে পায় সফলতারই জ্ঞান।
প্রভুর বাণী হৃদয়ে যার জাগে আলো,
তার জীবনে নেমে আসে শান্তিরই ভালো।
যে ব্যক্তি সত্য মেনে গড়ে নিজের প্রাণ,
তার অন্তরে জ্বলে উঠে ঈমানের প্রদীপখান।
অন্যায়ের পথে আর সে চলে না কখনো,
ন্যায়ের আলোয় খুঁজে পায় জীবনের মান।
তার চোখে জ্বলে সততা, হৃদয়ে দয়া,
প্রভুর ভয়ে সে রাখে নিজের পরিচয়।
কঠিন সময়েও থাকে সে দৃঢ় অবিচল,
সত্যের পথে হেঁটে যায় অটল অবিচল।
যখন অনেক হৃদয়ে জাগে এই আলো,
সমাজ তখন বদলে যায়, মুছে যায় কালো।
হিংসা-বিদ্বেষ গলে গিয়ে হয় ভালোবাসা,
মানুষ খুঁজে পায় মানুষে সত্যের ভাষা।
একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়ায় তখন,
দুঃখে-সুখে গড়ে উঠে সহমর্মিতার মন।
দুর্বল পায় শক্তির হাত, নিঃস্ব পায় ঠাঁই,
মানবতার আলো ছড়িয়ে পড়ে সর্বদাই।
রাষ্ট্র যখন নেয় সে আলো নিজের মাঝে,
ন্যায়ের পতাকা উড়ে উঠে দৃঢ় সাজে।
আইনের শাসন দাঁড়ায় সত্যেরই পথে,
অন্যায় সব হারিয়ে যায় ন্যায়ের রথে।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শান্তির বাণী,
মানুষ তখন বুঝে যায় আসল জীবনের টানি।
ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে গড়ে এক ধারা,
ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধে সব ধরা।
তাই হে মানব, ফিরে এসো সেই পথে,
যেখানে শান্তি লুকায় প্রভুরই সাথে।
এই পথেই মুক্তি, এই পথেই জয়,
এই পথেই চিরদিনের আশ্রয় রয়।
দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জগতের সুখ,
লুকিয়ে আছে প্রভুর পথে চলার মুখ।
যে হৃদয়ে জাগে ঈমান, সে হৃদয় দীপ,
অন্ধকার ভেদ করে জ্বলে অনন্ত সীমানাহীন নীপ।
চল গড়ি তবে এক নতুন ভুবন,
যেখানে সত্য-ন্যায় হবে চির আপন।
আল্লাহর বিধান হবে জীবনের গান,
এই আলোতেই জাগুক সমগ্র প্রাণ।
শান্তির সে নীড় হোক প্রতিটি ঘর,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক ধরা পরপর।
নূরের এই পথে হোক সবার যাত্রা,
এই মহাগ্রন্থে থাকুক চিরকাল যাত্রা ।
৪
৪ মন্তব্য