সহকারী অধ্যাপক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১৮ অপরাহ্ণ
আল্লহর রাজ্যে মানবের যাত্রা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আল্লহর রাজ্যে মানবের যাত্রা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পরম করুণাময়—নামটি যেন নূরের ঢেউ,
অসীম দয়ার সাগর, যার নেই কোনো শেষ কোথাও।
তিনি শিখিয়েছেন কুরআন—হেদায়াতের আলো,
অন্ধকারে পথহারা প্রাণে জ্বালান সত্যের ভালো।
তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ—মাটি থেকে প্রাণ,
নশ্বর দেহে বসিয়েছেন অনন্তেরই জ্ঞান।
শিখিয়েছেন ভাষা—বাক্যের মধুর দান,
শব্দে শব্দে ফুটে ওঠে হৃদয়েরই জ্ঞান।
সূর্য চলে নির্ধারিত পথে, দেয় আলো আর তাপ,
চাঁদও ঘুরে হিসাব মেনে—নেই কোনো তার ছাপ।
দিন-রাতের এই পরিবর্তন—কত সুশৃঙ্খল রীতি,
প্রতিটি ক্ষণেই বোঝা যায় তাঁর অসীম মহিমা নীতি।
তারকারা ঝলমল করে, আকাশ জুড়ে দীপ,
গাছপালা মাথা নত করে—সিজদায় থাকে নীরব নীপ।
নদী বয়, পাখি গায়—সবই তাঁর ইশারা,
প্রতিটি সৃষ্টির মাঝে লুকিয়ে আছে তাঁরই সাড়া।
তিনি আকাশ তুলেছেন—উচ্চতায় অদৃশ্য সীমা,
স্থাপন করেছেন দাঁড়িপাল্লা—ন্যায়ের মহামহিমা।
বলেছেন—অন্যায় করো না, ভারসাম্য রাখো ঠিক,
মানবজীবন হোক ন্যায়ের পথে—এই তাঁর সুমহান দিক।
হে মানুষ! তুমি কি দেখো না চারপাশের এই দান?
প্রতিটি নিঃশ্বাসে লেখা আছে তাঁর করুণার গান।
তোমার চোখে যে আলো, হৃদয়ে যে স্পন্দন,
সবই তাঁর দান—অমূল্য, অপরিমেয় অনুক্ষণ।
তবু কেন তুমি ভুলো, করো অন্যায় অহরহ?
ভেঙে দাও ভারসাম্য, বাড়াও দুঃখের বহর?
তিনি তো শিখিয়েছেন ন্যায়, দিয়েছেন সঠিক পথ,
তবু কেন মানুষ হারায় নিজের সত্তার রথ?
চলো ফিরে যাই আমরা—সেই করুণার ডাকে,
যেখানে ভালোবাসা ফোটে প্রতিটি মানব হৃদমাঝে।
যেখানে ন্যায় হবে ভিত্তি, সত্য হবে আলো,
মানবতা হবে সেতু—বন্ধন হবে ভালো।
যেদিন মানুষ বুঝবে—সবই তাঁর দান,
সেদিন বদলে যাবে এই পৃথিবীরই গান।
হিংসা, লোভ, অন্যায় সব হবে অবসান,
ভালোবাসায় গড়বে নতুন এক সোনালি জাহান।
পরম করুণাময়—তাঁর দয়া অফুরন্ত,
তাঁর পথে চলাই হোক জীবনের আসল সম্পদ।
কুরআনের আলোয় গড়ে উঠুক প্রতিটি প্রাণ,
***
পরম করুণাময়—দয়ার অফুরন্ত ঢেউ,
নীরবতায় তাঁর ডাক শোনা যায় নীরব নীল আকাশ ঢেউ।
তিনি শিখিয়েছেন কুরআন—সত্যের দীপ্ত আলো,
অন্ধকার ভেদ করে জ্বালান হেদায়াতের ভালো।
তিনি সৃষ্টি করলেন মানুষ—মাটি দিয়ে গড়া প্রাণ,
নশ্বর দেহে ঢেলে দিলেন অনন্ত জীবনের গান।
শিখালেন ভাষা—মনের কথা বলার পথ,
শব্দে শব্দে গড়ে ওঠে জ্ঞানের স্বর্ণরথ।
সূর্য ওঠে নিয়ম মেনে—আলো ছড়ায় ভোরে,
চাঁদ হাসে নীরব রাতে—শান্তির সুরে ঘোরে।
হিসাব করে চলে তারা—নেই কোনো ভুল,
এ শৃঙ্খলার মাঝে লুকায় স্রষ্টার অসীম কূল।
তারকারা জ্বলে আকাশ জুড়ে—অসংখ্য দীপের মেলা,
গাছপালা নত হয়ে সিজদা করে—নীরব ভালোবেলা।
প্রকৃতির প্রতিটি সুরে তাঁরই স্নিগ্ধ ডাক,
নদীর কলতানে বাজে—“ফিরে এসো তাঁরই কাছে হাক”।
তিনি আকাশ তুলেছেন—অদৃশ্য উচ্চতায়,
দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করে দিয়েছেন ন্যায়ের মহিমায়।
বলেছেন—“অন্যায় করো না, রাখো ভারসাম্য ঠিক”,
মানবজীবন হোক সত্যের পথে—এটাই তাঁর দিক।
হে মানুষ! দেখো চারপাশ—কত রহমতের ছোঁয়া,
প্রতিটি দানেই লুকিয়ে আছে ভালোবাসার বয়ে যাওয়া ধোঁয়া।
তোমার চোখে যে দৃষ্টি, হৃদয়ে যে গান,
সবই তো তাঁর দান—অপরিমেয় সম্মান।
তবু কেন ভুলো তুমি—এই মহা সত্য কথা?
কেন ভেঙে দাও ন্যায়ের পাল্লা, বাড়াও অন্যায় ব্যথা?
তিনি তো শিখিয়েছেন—সত্য, দয়া আর প্রেম,
তবু কেন মানুষ হারায় নিজের সোনালি হেম?
চলো ফিরে যাই আমরা—সেই করুণার পথে,
যেখানে ভালোবাসা ফোটে প্রতিটি প্রাণের রথে।
যেখানে মানুষ মানুষকে জড়িয়ে ধরে আপন করে,
অন্যায়ের আঁধার ভেঙে আলো জ্বালে ঘরে ঘরে।
যেদিন মানুষ বুঝবে—সবই তাঁর অশেষ দান,
সেদিন বদলে যাবে পৃথিবী—হবে নতুন গান।
হিংসা মুছে যাবে, মিটবে সব বিভেদ,
ভালোবাসার বন্ধনে গড়বে শান্তির ভুবন-নিবেদ।
সূর্য-চাঁদের ছন্দে চলুক মানব জীবন,
ন্যায়ের পাল্লা ধরে থাকুক প্রতিটি ক্ষণ।
কুরআনের আলোয় জাগুক হৃদয়ের প্রদীপ,
সত্যের পথে হাঁটুক মানুষ—অটল, অদম্য, দীপ।
পরম করুণাময়—তাঁর দয়া অফুরন্ত,
তাঁর পথে চলাই হোক জীবনের মহা সম্পদ।
এই মহাকাব্যের শেষে রইলো এক আহ্বান—
ফিরে এসো তাঁর পথে, তবেই সফল হবে প্রাণ।
***
পরম করুণাময়—অসীম দয়ার উৎসধারা,
নিঃশব্দ রাতের গভীরে তাঁরই স্নিগ্ধ ইশারা।
তিনি শিখিয়েছেন কুরআন—হেদায়াতের দীপশিখা,
অজ্ঞতার আঁধার ভেঙে জ্বালান সত্যের দিশা।
তিনি সৃষ্টি করলেন মানুষ—মাটির নরম ছোঁয়ায়,
তুচ্ছ দেহে দিলেন প্রাণ—অমূল্য মহিমায়।
শিখালেন ভাষা—অক্ষরে অক্ষরে জ্ঞানের আলো,
মনের গভীর কথাগুলো হলো প্রকাশ ভালো।
শব্দে গড়ে সভ্যতা, ভাষায় বোনা স্বপ্ন,
মানবজীবন রঙিন হলো ভাবনার অগ্নিতাপ সম্পন্ন।
একটি শব্দে হাসি ফোটে, একটি শব্দে কান্না,
ভাষাই মানুষকে দেয় হৃদয়ের ঠিকানা।
সূর্য উঠে প্রতিদিন—নিয়মের নিখুঁত টানে,
আলো ঢেলে জাগায় প্রাণ—সবুজ মাঠের গানে।
চাঁদ আসে নীরব রাতে—শান্তির শীতল ছায়া,
তার আলোয় জেগে থাকে ভালোবাসার মায়া।
তারা ঝিকিমিকি করে—আকাশ জুড়ে দীপালী,
গাছপালা সিজদায় নত—নীরব ভক্তিমালী।
প্রতিটি পাতা, প্রতিটি ফুল—তাঁরই মহিমা গায়,
নদীর ঢেউয়ে, বাতাসের সুরে—তাঁরই ডাক ভেসে যায়।
তিনি তুলেছেন আকাশ—অদৃশ্য উচ্চ শিখরে,
মানুষ তাকিয়ে ভাবে—কী রহস্য লুকায় ভিতরে!
দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করে দিয়েছেন ন্যায়ের মাপকাঠি,
বলেছেন—“সাম্য রক্ষা করো, অন্যায় করো না কোনোভাবে।”
হে মানুষ! তুমি কি দেখো এই বিস্ময়ের খেলা?
প্রতিটি সৃষ্টিতে জ্বলে তাঁর করুণার মেলা।
তোমার দৃষ্টি, তোমার বোধ—সবই তাঁরই দান,
তবু কেন ভুলো তুমি—এই মহা সত্য জ্ঞান?
লোভের মোহে হারিয়ে ফেলো সত্যের সঠিক পথ,
ভেঙে দাও ভারসাম্য—ডেকে আনো দুঃখের রথ।
তিনি তো শিখিয়েছেন দয়া, ন্যায় আর ভালোবাসা,
তবু কেন মানুষ গড়ে ঘৃণারই ভাষা?
চলো ফিরে যাই আমরা—সেই করুণার ডাকে,
যেখানে হৃদয় জাগে ভালোবাসার মাখামাখিতে।
যেখানে সত্য হবে আলো, ন্যায় হবে প্রাণ,
মানুষ মানুষকে ভালোবেসে গড়বে নতুন জাহান।
যেদিন ভাঙবে অহংকার—মুছে যাবে বিভেদ,
সেদিন পৃথিবী হবে শান্তির এক নিখুঁত নিবেদ।
হিংসা-বিদ্বেষ হারিয়ে যাবে ভালোবাসার জোয়ারে,
মানবতা ফুল হয়ে ফুটবে প্রতিটি হৃদয়-দ্বারে।
সূর্য-চাঁদের নিয়মে চলুক জীবনের গান,
ন্যায়ের পাল্লা হাতে থাকুক প্রতিটি প্রাণ।
কুরআনের আলোয় গড়ে উঠুক সুন্দর সমাজ,
মানবতার বন্ধনে হোক বিশ্ব এক সাজ।
প্রতিটি সকাল হোক সত্যের নব আহ্বান,
প্রতিটি রাত হোক ক্ষমার মধুর সম্মান।
প্রতিটি হৃদয়ে জাগুক করুণার দীপ,
প্রতিটি প্রাণ হোক আলোয় ভরা স্নিগ্ধ নীড়।
পরম করুণাময়—তাঁর দয়া সীমাহীন,
তাঁর পথে চললেই জীবন হয় রঙিন।
এই মহা-মহা মহাকাব্যের শেষ আহ্বান—
“তাঁরই পথে ফিরো, তবেই সফল হবে প্রাণ।
সূরাঃ আর-রাহমান আয়াতঃ ১-৭মাদানী
৪
৪ মন্তব্য