প্রধান শিক্ষক
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ণ
গরম পড়তেই শিশুদের জ্বর-পেটের সমস্যা, যে কারণে হয় অসুখ
মৌসুম বদলের সময়ে সর্দি-কাশি এবং ঘরে ঘরে জ্বর হয়। বিশেষ করে গরম পড়তেই ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি আর কাশির প্রকোপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। তবে এবার আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তীব্র গরমে শিশুর জ্বর ও পেটের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো— অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়া। বর্তমানে অ্যাডিনোভাইরাস, রোটাভাইরাস ও নোরোভাইরাসের প্রকোপ শিশুর মধ্যে জ্বর এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা তৈরি করছে।
যদি দেখা যায়, জ্বর তিন দিনের বেশি রয়েছে, তাহলে কিছু পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। আর শুরু থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া উচিত। শিশু থেকে মাঝবয়সি, বয়স্ক—সবাইকেই কাবু করছে এ জ্বর। তিন দিনেও তাপমাত্রা নামছে না অনেকের। বিশেষ করে শিশুর জ্বরের সঙ্গে পেটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে ও চিকিৎসকের চেম্বারেও।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে একাধিক ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। আগে কেবল অ্যাডিনোভাইরাসের হানায় জ্বর বা সর্দি-কাশির সমস্যা হতো। এখন এই অ্যাডিনোভাইরাসও চরিত্র বদলেছে। সঙ্গে রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাসের সংক্রমণে জ্বরের সঙ্গে ডায়েরিয়া বা পেটের সমস্যাও ভোগাচ্ছে। পাঁচ বছরের নিচে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
কারণ তাপমাত্রা কখনো বেশি, আবার কখনো কম। তার মধ্যে ঝড়বৃষ্টি হলে বাতাসে আর্দ্রতাও হঠৎ করে বেড়ে যাচ্ছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিই জীবাণুদের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল। এমনই জানালেন চিকিৎসক।
আগে শীতের সময় এলেই ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ভোগাত। কিন্তু এখন বসন্তের শেষ ও গরম পড়ার এই সন্ধিক্ষণে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। এখন আর একটি বা দুটি উপরূপ নেই, বেশ কিছু উপরূপ চলে এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) ।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণেও জ্বর ও কাশির সমস্যা ভোগাচ্ছে। সেই সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, যেমন— শ্বাসকষ্ট, গলায় ব্যথা থেকে ফ্যারেঞ্জাইটিসের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, গাঁটে গাঁটে ব্যথাও ভোগাচ্ছে। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে অনেকের। সেই সঙ্গেই বমি ভাব, ডায়েরিয়া, মুখের ভেতর শুকিয়ে যাচ্ছে, গাঢ় রঙের প্রস্রাব হচ্ছে। চোখ ফুলে যাচ্ছে, প্রচণ্ড ক্লান্তি ভাব দেখা দিচ্ছে। দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় বুক ধড়ফড় করা—এটা নিউমোনিয়ার উপসর্গ।
৪
৪ মন্তব্য