Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:২১ পূর্বাহ্ণ

মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেছেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী সমাজসেবা ও জনসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ লাভ করেছেন। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর স্বামী মনসুর হেলাল এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণ করেন। 
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি ও মাহেরীন চৌধুরীর আত্মত্যাগের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অসীম সাহসিকতা 
দুর্ঘটনা: ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (চেংডু এফ-৭) বিধ্বস্ত হয়।
উদ্ধার অভিযান: বিমানটি আছড়ে পড়ার সাথে সাথে ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সেই মুহূর্তে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও মাহেরীন চৌধুরী নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে এগিয়ে যান।
২০ শিশুর জীবন রক্ষা: তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে অন্তত ২০ জন শিশুকে জ্বলন্ত ভবন থেকে বের করে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিজের পোশাকে আগুন লাগার পরও তিনি বারবার ভবনের ভেতর ঢুকে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। 
মৃত্যু ও শেষ বিদায়
গুরুতর দগ্ধ: শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজে ১০০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল।
জীবনাবসান: চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই (২১ জুলাই ২০২৫) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
পারিবারিক পরিচয় ও সম্মাননা
পরিচয়: মাহেরীন চৌধুরী নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ার সন্তান। তিনি মাইলস্টোন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সমন্বয়ক ও শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই ছেলের জননী এবং তাঁর স্বামী মনসুর হেলাল।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ কাজকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের পাশাপাশি তাঁর নামে 'মাহেরীন চৌধুরী অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সট্রাঅর্ডিনারি সার্ভিসেস' নামক একটি জাতীয় পুরস্কার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রতি বছর সাহসী শিক্ষকদের প্রদান করা হবে। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ