ঐতিহাসিক তথ্যমতে, মুঘল সম্রাট
আকবর
১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা নববর্ষ বা বাংলা সনের প্রচলন করেন। মূলত হিজরি চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী কৃষকদের খাজনা আদায়ে অসুবিধার সমাধান করতে এবং কৃষি ফলনের সাথে কর সংগ্রহের সমন্বয় করতে তিনি এই নতুন বর্ষপঞ্জি চালু করেন।
এই পঞ্জিকা সংস্কারের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- কার্যকর হওয়ার সময়: যদিও এটি ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত হয়, তবে সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছর অর্থাৎ ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ (৯৬৩ হিজরি) থেকে এটি কার্যকর করা হয়েছিল।
- সহযোগিতা: সম্রাটের নির্দেশে বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পণ্ডিত ফতেহউল্লাহ সিরাজি হিজরি চান্দ্র বর্ষ এবং হিন্দু সৌর বর্ষের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ‘ফসলি সন’ বা বঙ্গাব্দ তৈরি করেন।
- প্রয়োজনীয়তা: হিজরি ক্যালেন্ডার চান্দ্র হওয়ার কারণে তা ঋতুর সাথে ঠিক মিলত না, ফলে ফসল ওঠার আগে বা অনেক পরে খাজনা আদায়ের জটিলতা তৈরি হতো। এই সমস্যা মেটাতেই বাংলা সনের জন্ম।
- ঐতিহ্য: এই খাজনা আদায়ের দিনটিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখে হালখাতা এবং বৈশাখী মেলার মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদ্ভব ঘটে।
উল্লেখ্য যে, অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন গৌড় রাজ শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে বঙ্গাব্দের সূচনা করেছিলেন, তবে প্রশাসনিকভাবে এর আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন সম্রাট আকবরই।
৪
৪ মন্তব্য