Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ণ

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট বা রণকৌশল ভিত্তিক খেলা লাঠি খেলা

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট বা রণকৌশল ভিত্তিক খেলা লাঠি খেলা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ইতিহাস ও উৎপত্তি 
প্রাচীন কাল: আদিম যুগে মানুষ বন্যপ্রাণী থেকে রক্ষা পেতে বা শিকার করতে লাঠি ব্যবহার করত.
মধ্যযুগ: বাংলার ইতিহাসে এই খেলার বিকাশ ঘটে মূলত মধ্যযুগে। সে সময় স্থানীয় জমিদাররা নিজেদের সীমানা রক্ষা, খাজনা আদায় এবং নিরাপত্তার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী নিয়োগ করতেন.
ব্রিটিশ আমল: ব্রিটিশ শাসন চলাকালে সাধারণ মানুষের কাছে এটি আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৩২ সালে গুরুসদয় দত্ত তাঁর 'ব্রতীচারী আন্দোলনের' মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে পুনরায় উজ্জীবিত করেন. 
২. খেলার পদ্ধতি ও ধরন
লাঠি খেলা সাধারণত কয়েকটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়:
লাঠি নাচ: খেলার শুরুতে ঢাক-ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালরা এক ধরনের ছন্দময় নাচ প্রদর্শন করেন। এর মাধ্যমে তারা দর্শকদের অভিবাদন জানান এবং নিজেদের শারীরিক নমনীয়তা প্রদর্শন করেন।
কৌশল প্রদর্শন: লাঠিয়ালরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লাঠি ঘুরিয়ে আক্রমণ ও প্রতিরোধের বিভিন্ন কৌশল দেখান। একেকজন দক্ষ লাঠিয়াল ৫০০-র বেশি ভিন্ন ভিন্ন চাল বা 'প্যাঁচ' জানেন।
লড়াই বা মোকাবিলা: চূড়ান্ত পর্যায়ে দুজন বা তার বেশি লাঠিয়াল একে অন্যের সাথে কৃত্রিম যুদ্ধে লিপ্ত হন। লাঠি দিয়ে আঘাত করা এবং তা ঠেকানোর অসাধারণ ক্ষিপ্রতা এই পর্বের মূল আকর্ষণ। 
৩. সরঞ্জাম ও উপকরণ
লাঠি: সাধারণত সাড়ে চার থেকে ছয় ফুট লম্বা শক্ত অথচ হালকা বাঁশের লাঠি ব্যবহৃত হয়। খেলা শুরুর আগে লাঠিকে অনেক সময় তেল দিয়ে পিচ্ছিল ও চকচকে করা হয়।
বাদ্যযন্ত্র: ঢাক, ঢোল এবং অনেক ক্ষেত্রে বাঁশি বা ঝুমঝুমি এই খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পোশাক: লাঠিয়ালরা সাধারণত রঙিন লুঙ্গি, মাথায় পাগড়ি এবং পায়ে ঘুঙুর পরে থাকেন। 
৪. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
বর্তমানে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে এর গুরুত্ব কমলেও চৈত্র সংক্রান্তি, মহরম, পূজা এবং বৈশাখী মেলায় নিয়মিত এই খেলার আয়োজন দেখা যায়.
নড়াইল জেলা এখন লাঠি খেলার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে এমনকি নারী লাঠিয়ালরাও এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন।
বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী ১৯৩৩ সাল থেকে কুষ্টিয়া ভিত্তিক এই শিল্প সংরক্ষণে কাজ করছে। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ