সিনিয়র শিক্ষক
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার নতুন মানচিত্র
শিক্ষার নতুন মানচিত্র – ২০৩২ সালের এক গ্রামীণ স্কুলের প্রেক্ষাপটে লেখা মোহাম্মদ শাহজামান শুভর গল্প। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কীভাবে শিক্ষার্থীদের ভয় জয় করতে এবং শিক্ষকদের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, তার এক অনুপ্রেরণামূলক চিত্র ফুটে উঠেছে।
বছরটা ২০৩২। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এক উপজেলা—তিতাসের ধানখেত, কাঁচা রাস্তা আর নদীর পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটি বিদ্যালয়, ‘শাহাবৃদ্ধি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়’। বিদ্যালয়টি অনেক পুরোনো। দেয়ালে এখনও ঝুলে আছে বিবর্ণ মানচিত্র, পুরোনো কাঠের বেঞ্চ, আর এক কোণে রাখা ধুলোমাখা গ্লোব। কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও।
তবু বিদ্যালয়ের বাস্তবতা খুব সুখকর ছিল না। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছিল। কেউ গণিতে দুর্বল, কেউ ইংরেজি বুঝতে পারে না, কেউ আবার বই খুললেই ভয় পায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল—একই শ্রেণিকক্ষে চল্লিশজন শিক্ষার্থী, অথচ প্রত্যেকের শেখার ধরন আলাদা। শিক্ষকরা আন্তরিক ছিলেন, কিন্তু সবার জন্য আলাদা সময় দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আব্দুল কাদের স্যার। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতা নয়; শিক্ষা হলো একজন শিশুর ভেতরের আলোকে জাগিয়ে তোলা। কিন্তু তিনি প্রায়ই হতাশ হয়ে যেতেন। কারণ তিনি দেখতেন, কিছু শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে—তাদের চোখে আর আগের মতো কৌতূহল নেই।
৪
৪ মন্তব্য