সহকারী শিক্ষক
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষকদের বাস্তব জীবন: হতাশায় নিমজ্জিত এক ডুবন্ত জাহাজ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাস্তবতা খুব কঠিন। বেতনের বাইরে তেমন কোনো ভাতা নেই, এমনকি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও হাই স্কুলের সমপরিমাণ সুযোগ সুবিধাও পান না। যেখানে হাই স্কুলে পরীক্ষার কক্ষ পর্যবেক্ষণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য হাই স্কুলের শিক্ষকদের সম্মানী দেওয়া হয়, সেখানে প্রাথমিকের শিক্ষকরা এই সম্মানী থেকেও বঞ্চিত।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিম্নআয়ে পরিবারকে নিরাপদ ও সচ্ছল জীবনের ব্যবস্থা করা অনেক দূরের কথা, তিনবেলা খাবার জোগাড় করাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসম্ভব। তাই অন্য পেশাজীবীরা যখন পত্রিকার পাতা উল্টিয়ে বউয়ের হাতে চা খেয়ে আরাম করে দিনের শুরু করেন, তখন অনেক শিক্ষক এক টিউশন শেষ করে আরেক টিউশনের পথে ছোটেন। বেশিরভাগ শিক্ষকদের দিন শুরু হয় ক্লান্তি দিয়ে, আর সেই ক্লান্তি নিয়েই স্কুল শেষে আবার অতিরিক্ত আয়ের জন্য কারো বাসার কড়া নাড়তে হয়।
যেকোনো মানুষ কাজ করেন নিজকে ও পরিবারকে ভালো রাখার জন্য। কিন্তু ব্যক্তির আয় যখন ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে পারে না, তখন অতিরিক্ত পরিশ্রমই ব্যক্তির একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। একসময় শিক্ষকতা ছিল সম্মান ও নেশার পেশা, তখন আর্থিক চাপ কম থাকায় সৃজনশীল শিক্ষকের অভাব ছিল না কিন্তু এখন বাস্তবতা ভিন্ন।
একজন শিক্ষক সারাক্ষণ যদি পরিবারের ভরণপোষণের চিন্তায় ব্যস্ত থাকেন, তাহলে তার কাছে সৃজনশীলতা আশা করা অলীক স্বপ্নের পিছনে ছুটার মত। শিক্ষার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, মনিটরিং ও অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি শিক্ষকদের আর্থিক ও মানসিক চাপ কমানো।
সভা-সেমিনারে বিজ্ঞ ব্যক্তিরা মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে নানান কথা বলেন, প্রস্তাব দেন। মানসম্মত শিক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার চাপমুক্ত সৃজনশীল শিক্ষক। কারণ, চাপমুক্ত শিক্ষকই পারে একটি প্রজন্মকে আলোকিত করতে। আর শিক্ষকদের চাপমুক্ত করতে রাষ্ট্রকেই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
#প্রাথমিক_শিক্ষক #শিক্ষকের_জীবন #শিক্ষক_সম্মান_সংগ্রাম
৪
৪ মন্তব্য