Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ

জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক: চৈত্র সংক্রান্তির শাশ্বত রূপ

বাঙালি লোকসংস্কৃতির এক মিলনমোহনা হলো চৈত্র সংক্রান্তি। এটি কেবল বাংলা বছরের শেষ দিনটিই নয়, বরং ঋতুচক্রের আবর্তে জীর্ণতা ঝরিয়ে নতুনকে আবাহন করার এক গভীর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সন্ধিক্ষণ। গ্রামবাংলার ধুলোমাখা পথে পথে এই দিনটি বয়ে আনে হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যের সুবাস। যখন চৈত্রের তপ্ত দুপুরে ক্লান্ত প্রকৃতি বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনে, ঠিক তখনই সংক্রান্তির আগমনী বার্তা মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে এক পবিত্রময় উৎসবের আমেজ। এই দিনটি মূলত ত্যাগের মাধ্যমে প্রাপ্তির এক অনুপম শিক্ষা দিয়ে থাকে।

সংক্রান্তির চিরায়ত রীতির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো প্রকৃতি ও স্বাস্থ্যের মেলবন্ধন। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টাতে শরীরকে প্রস্তুত করার জন্য তিতো খাবার এবং বাহারি শাকসবজি খাওয়ার যে নিয়ম চালু করেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ঘরবাড়ি লেপন করা, অকেজো সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা এবং পুরনো বছরের সব দেনা-পাওনা চুকিয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি অর্জিত হয়। এটি আসলে নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার এক মহোৎসব। মেলা ও লোকজ গানের সুরে সুরে মানুষের মনে যে সম্প্রীতির আবহ তৈরি হয়, তা আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিতকে আরও মজবুত করে।

চৈত্র সংক্রান্তির এই ক্ষণটি আমাদের জীবনের নশ্বরতাকে যেমন মনে করিয়ে দেয়, তেমনি নতুন শুরুর সাহস যোগায়। চড়ক কিংবা গাজনের মেলায় যখন ঢাকের আওয়াজ বেজে ওঠে, তখন যেন আদিম এক প্রাণের স্পন্দন আমরা অনুভব করি। বৈচিত্র্যময় এই উৎসবের প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অসাম্প্রদায়িকতার বীজ। পুরনো বছরের সব জরা, গ্লানি আর ব্যর্থতাকে এই সংক্রান্তির অগ্নিকুণ্ডে বিসর্জন দিয়ে আমরা যখন নতুন ভোরের দিকে পা বাড়াই, তখন আমাদের হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয় এক অবারিত সম্ভাবনা। চৈত্র সংক্রান্তি এভাবেই যুগে যুগে বাঙালির শেকড় ও সংস্কৃতির ধারক হয়ে বেঁচে আছে আমাদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ