Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:২২ অপরাহ্ণ

‘‘আগে মানুষ হও, পরে পাঠ্য পড়”

আগামীর পৃথিবীর জন্য যেমন শিক্ষা আমাদের প্রয়োজন:

                                                                    আজকের ডিজিটাল যুগে আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর মহাকাশ গবেষণার শিখরে অবস্থান করছি, তখন একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসেআমাদের বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতি কি কেবল 'ডিজাইন' করা ভালো কর্মী তৈরির জন্য, নাকি ভালো 'মানুষ' তৈরির জন্য? পাঠ্যবইয়ের পাতা উল্টে জিপিএ-৫ পাওয়া যতটা সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, একজন বিনয়ী এবং নীতিবান মানুষ হওয়া যেন দিন দিন ততটাই কঠিন হয়ে পড়ছে। আমাদের সমাজ এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত

"আগে মানুষ হও, পরে বইয়ের জ্ঞান নাও।"

১. মনুষ্যত্বই হোক শিক্ষার প্রথম পাঠ:

বইয়ের পাতায় আমরা অনেক সূত্র মুখস্থ করি, কিন্তু জীবনের জটিল অংক মেলাতে প্রয়োজন হয় বিবেক। একজন সুশিক্ষিত মানুষ হওয়ার আগে একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। অন্যের বিপদে এগিয়ে আসা, সত্যের পথে থাকা এবং নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়াএই গুণগুলো কোনো কোচিং সেন্টারে শেখানো হয় না। আমাদের সন্তানদের শেখাতে হবে যে, ডিগ্রির চেয়ে হৃদয়ের বিশালতা অনেক বেশি মূল্যবান।

২. নিয়মানুবর্তিতা: সফলতার অদৃশ্য কারিগর:

বর্তমান প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেধা থাকলেও ধৈর্যের অভাব দেখা যায়। নিয়মানুবর্তিতা মানে কেবল সময়মতো স্কুলে যাওয়া নয়, বরং নিজের কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। যে ছেলে বা মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই নিয়ম মেনে নিজের জীবন পরিচালনা করতে শেখে, জীবনের বড় কোনো ধাক্কা তাকে সহজে টলাতে পারে না। সুশৃঙ্খল জীবনই একজন সাধারণ মানুষকে মহান হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে দেয়।

৩. প্রকৃতির কাছে শিক্ষা:

প্রকৃতি আমাদের বড় শিক্ষক। একটি গাছ যেমন ফল দেওয়ার সময় মাথা নিচু করে থাকে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও সেই বিনয় থাকা প্রয়োজন। আমরা যদি আমাদের সন্তানদের শৈশব থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই, তবে তারা মাটির মমতা আর আকাশের উদারতা শিখবে। যান্ত্রিক শহরের চার দেয়ালে বন্দি শিক্ষা কখনোই পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি করতে পারে না।

 

 

৪. বইয়ের জ্ঞান যখন অলংকার, মনুষ্যত্ব তখন আত্মা:

বইয়ের জ্ঞান অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেটা যেন কেবল তলোয়ার না হয়ে আলংকারিক হয়। জ্ঞান যখন অহংকার বাড়িয়ে দেয়, তখন সেই শিক্ষা অর্থহীন। কিন্তু সেই জ্ঞানই যখন মানুষের সেবায় কাজে লাগে, তখন তা সার্থকতা পায়। মনে রাখতে হবে, একজন বড় বিজ্ঞানী বা ডাক্তার হওয়ার চেয়ে একজন দয়ালু মানুষ হওয়া অনেক বেশি সম্মানের।

আজকের প্রজন্মের জন্য আমার  বার্তা

প্রিয় তরুণ সমাজ, তোমাদের সামনে অবারিত সুযোগের আকাশ। তোমরা তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হও, বিজ্ঞানে বিশ্বকে ছাড়িয়ে যাওতাতে আমাদের গর্বের শেষ থাকবে না। কিন্তু সবকিছুর আগে নিজের ভেতর মনুষ্যত্ব এবং নীতিবোধ জাগিয়ে তোলো।

  • বড়দের শ্রদ্ধা করো, ছোটদের স্নেহ করো।

  • বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্বিধা করো না।

  • অসৎ এর  পথে পাহাড়সম সম্পদ গড়ার চেয়ে সততার পথে মাটির ঘরে থাকা ও অনেক বেশি গৌরবের।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন কেবল পরীক্ষার খাতার নম্বর না হয়, বরং তা যেন হয় একটি সুন্দর সমাজ গড়ার হাতিয়ার। মনে রেখো, তুমি যখন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়বে, দেশ এমনিতেই বদলে যাবে।

আগে মানুষ হও, তবেই তুমি মহান হতে পারবে।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ