বিজু উৎসব পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর (প্রধানত চাকমা) বর্ষবরণ ও বৃহত্তম সামাজিক উৎসব, যা চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ৩ দিন ধরে পালিত হয় [২, ১০]। ফুল বিজু, মূল বিজু ও গজ্জেপজ্জে—এই তিন পর্বে পুরোনো বছরের দুঃখ মুছে নতুন বছরকে ফুল ভাসিয়ে, ঐতিহ্যবাহী খাবার 'পাচন' খেয়ে ও আনন্দে বরণ করে নেওয়া হয় [২, ১০, ১৪]।
বিজু উৎসবের বিস্তারিত:
- সময়কাল: সাধারণত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে (চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখের শুরুতে) উদযাপিত হয় [১২]।
- তিন দিনের আয়োজন:
- ফুল বিজু (প্রথম দিন): ভোরে ফুল দিয়ে ঘর সাজানো এবং নদীতে বা পানিতে ফুল ভাসিয়ে পুরোনো বছরের অমঙ্গল দূর করার প্রার্থনা করা হয় [২, ১৪]।
- মূল বিজু (দ্বিতীয় দিন): উৎসবের প্রধান দিন। ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী খাবার, বিশেষ করে 'পাচন' (সবজি) রান্না ও অতিথি আপ্যায়ন করা হয় [২, ১০]।
- গজ্জেপজ্জে বিজু (তৃতীয় দিন): এই দিনে প্রবীণদের শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং আনন্দ-ভোজের আয়োজন করা হয় [১৪]।
- সাংস্কৃতিক ভিন্নতা: চাকমারা 'বিজু', ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যারা 'বৈসুক'/'বিষু' এবং মারমারা 'সাংগ্রাই' উৎসব পালন করে। এই সম্মিলিত উৎসবগুলোই বৈসাবি নামে পরিচিত [২, ৮]।
- ঐতিহ্য: এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, গান, নৃত্য এবং পোশাকের প্রদর্শনী হয় [১৪]।
এটি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার একটি প্রধান মাধ্যম [১৪]। বি
৪
৪ মন্তব্য