Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:২৭ পূর্বাহ্ণ

সুবিধাবাদী নৈতিকতা ও বাস্তবতা

সুবিধাবাদী নৈতিকতা 

বলতে এমন এক ধরণের আচরণকে বোঝায়, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের সুবিধা অনুযায়ী নৈতিকতা বা ধর্মের নিয়মগুলোকে ব্যাখ্যা করেন। সহজ কথায়, যে নিয়ম মানলে নিজের কোনো ক্ষতি হয় না বা লাভ হয়, সেটি তিনি কঠোরভাবে পালন করেন; কিন্তু যে নিয়ম মানলে নিজের স্বার্থে আঘাত লাগে, সেটি তিনি এড়িয়ে যান বা নানা অজুহাতে বৈধ করার চেষ্টা করেন।


​সুবিধাবাদী নৈতিকতায় মানুষ ধর্মের একটি অংশকে খুব গুরুত্ব দেয়, অন্য অংশকে সুবিধামতো ভুলে যায়। যেমন: কেউ হয়তো 'ছবি তোলা পাপ' বলে ধর্মীয় কঠোরতা দেখাচ্ছেন, কারণ এতে তার বৈষয়িক কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু যখন 'জি.পি ফান্ডের সুদ' বা 'কাজে ফাঁকি না দেওয়ার' মতো বিষয় আসে, যেখানে ত্যাগের বা কষ্টের প্রশ্ন থাকে, তখন তিনি আর ধর্মীয় কঠোরতা দেখান না। এটিই হলো সুবিধাবাদী নৈতিকতা।

​যখন কোনো ব্যক্তি নিজের অকর্মণ্যতা ঢাকতে বড় কোনো অজুহাত ব্যবহার করেন, সেটিও এই নৈতিকতার অংশ। যেমন: "প্রতিষ্ঠান প্রধান খারাপ, তাই আমি সহযোগিতা করব না"—এই যুক্তিটি সুবিধাবাদী। এখানে ব্যক্তি নিজের বেতন হালাল করার নৈতিক দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে অন্যের দোষকে নিজের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।


​সুবিধাবাদীরা সবসময় নিজেদের তুলনা করেন তাদের সাথে যারা আরও বেশি খারাপ বা ফাঁকিবাজ। তারা কখনোই আদর্শ কর্মীর সাথে নিজের তুলনা করেন না। কারণ, খারাপের সাথে তুলনা করলে নিজেকে 'ভালো' প্রমাণ করা সহজ হয়। এটি নৈতিকতার পতন ঠেকানোর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল।

​সুবিধাবাদী নৈতিকতার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো অন্যের জন্য এক নিয়ম এবং নিজের জন্য অন্য নিয়ম। অন্যের সামান্য ত্রুটি তার চোখে 'মহাপাপ' হিসেবে ধরা পড়ে, কিন্তু নিজের বড় ধরণের নৈতিক স্খলনকে  তিনি পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে স্বাভাবিক করে দেখেন।

​সংক্ষেপে: সুবিধাবাদী নৈতিকতা হলো এমন এক ধরণের ঢাল, যা মানুষ নিজের দোষ ঢাকতে এবং সমাজ বা নিজের বিবেকের কাছে নিজেকে সাধু প্রমাণ করতে ব্যবহার করে। এটি সততা নয়, বরং এক ধরণের চাতুর্য।

মন্তব্য করুন

ব্লগ