Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ

চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের  বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ফিরে আসার রোমাঞ্চকর প্রক্রিয়া 
শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের আগে ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটিকে এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে : 
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ: মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ২৪,৬৬১ মাইল (৩৯,৬৬৮ কিমি) গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
তীব্র উত্তাপ: বায়ুমণ্ডলের সাথে ঘর্ষণে ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা ওরিয়নের ‘হিট শিল্ড’ বা তাপ নিরোধক বর্ম সফলভাবে মোকাবিলা করে।

প্যারাশুট অবতরণ: গতি কমিয়ে নিরাপদে সাগরে নামার জন্য প্রথমে দুটি ‘ড্রগ’ এবং পরে তিনটি বিশালাকার প্রধান প্যারাশুট ব্যবহার করা হয়। 
২. উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূল থেকে নৌবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি. মুরথা (USS John P. Murtha) এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় : 
অবতরণের পর বিশেষ ডাইভাররা গিয়ে ক্যাপসুলটিকে নিরাপদ করেন এবং চার নভোচারীকে উদ্ধার করে জাহাজে নিয়ে আসা হয়।
সেখানেই তাদের প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা (Medical Checkup) করা হয় এবং পরে হেলিকপ্টারে করে তীরে নিয়ে আসা হয়। 
৩. মিশনের ঐতিহাসিক অর্জনসমূহ
রেকর্ড দূরত্ব: ৬ এপ্রিল এই যানটি পৃথিবী থেকে ২,৫২,৭৫৬ মাইল (৪,০৬,৭৭১ কিমি) দূরে পৌঁছেছিল, যা মানুষের তৈরি মহাকাশযানের জন্য একটি নতুন রেকর্ড।
নারী ও বৈচিত্র্য: ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী হিসেবে এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন (কানাডিয়ান) নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার ইতিহাস গড়েছেন।
প্রস্তুতি: এই মিশনের মাধ্যমে নাসা প্রমাণ করল যে তাদের ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (SLS) রকেট এবং ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযান মানুষকে নিয়ে গভীর মহাকাশে যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। 
৪. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আর্টেমিস-২ মিশনের এই অভূতপূর্ব সাফল্য আগামী ২০২৮ সালে পরিকল্পিত আর্টেমিস-৩ (Artemis III) মিশনের পথ প্রশস্ত করল। সেই মিশনেই প্রথম নারী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ