Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৫৯ অপরাহ্ণ

দু’টি জান্নাত - মোঃ মুজিবুর রহমান

দু’টি জান্নাত

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যে হৃদয়ে লুকিয়ে রাখে নীরব এক ভয়,

রবের সামনে দাঁড়ানোর চিন্তায় কাঁপে অন্তর—

সে তো হারায় না, সে তো ভাঙে না,

তার জন্যই সাজানো আছে জান্নাতের দুয়ার।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাসই শান্তির উপহার।

দুটি জান্নাত—দুটি আলোর বাগান,

শাখায় শাখায় ফলের ভিড়, সবুজের আহ্বান,

হাওয়ায় ভাসে রহমতের মিষ্টি পরশ,

চোখে লাগে এমন দৃশ্য—হৃদয় হয় হরষ।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

সেখানে বয়ে চলে স্বচ্ছ দুটি ঝর্ণা,

ধ্বনি তাদের সুরের মতো, শান্তির বর্ণনা,

তৃষ্ণা নেই, ক্লান্তি নেই, নেই কোনো ভয়,

প্রতিটি ধারা যেন জান্নাতেরই স্রোত বই।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

প্রতিটি ফলে রয়েছে দ্বিগুণ স্বাদ,

একটি খেলে আরেকটি দেয় নতুন ইবাদ,

মিষ্টতা সেখানে ভাষায় বোঝানো যায় না,

দুনিয়ার স্বাদ তার কাছে কিছুই নয়—না।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

নরম রেশমে মোড়া বিশ্রামের বিছানা,

সেখানে হেলান দিয়ে কাটে অনন্ত যামানা,

কাছে ঝুঁকে আছে ফলের ডাল,

চাইলে পেয়ে যাও—নেই কোনো জ্বাল।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

সেখানে আছে লজ্জাশীলা, পবিত্র দৃষ্টি,

যাদের চোখে শুধুই ভালোবাসার সৃষ্টি,

না মানুষ, না জিন—কেউ স্পর্শ করেনি আগে,

তাদের সৌন্দর্য হৃদয় ছুঁয়ে থাকে।

তারা যেন হীরা, যেন উজ্জ্বল প্রবাল,

তাদের রূপে হার মানে পৃথিবীর সব জ্বালাময় কাল।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

এই প্রতিশ্রুতি শুধু তাদের জন্যই,

যারা গোপনে কাঁদে, রবকে ভয় করে অন্তরভয়ী,

যারা জানে—একদিন দাঁড়াতে হবে তাঁর সামনে,

এই ভয়ই তাদের নিয়ে যাবে শান্তির বাগানে।

তাই হে মানুষ, ভুলে যেও না সেই দিন,

যে দিন খুলে যাবে জান্নাতের দরজার রঙিন,

ভয়কে বুকে রাখো, পাপ থেকে ফিরো,

রবের পথে চলো—সত্যকে ধীরো।

তখন আর বলতে হবে না—

কোন নেয়ামত অস্বীকার করবো?”

কারণ তখন চোখই বলে দেবে—

সবই ছিল তাঁর দান, তাঁরই ভালোবাসা রবে।

***

নীরব রাতের গভীর প্রহরে,

যখন সব শব্দ ঘুমিয়ে পড়ে,

একজন মানুষ জেগে থাকে—

চোখে তার অদৃশ্য অশ্রু, বুকের ভেতর কাঁপন।

সে জানে—

একদিন দাঁড়াতে হবে তার রবের সামনে,

যেখানে লুকোনো কিছুই থাকবে না,

প্রতিটি কাজ খুলে যাবে আলোর মতো স্পষ্ট।

এই ভয় তাকে ভাঙে না,

বরং গড়ে—

পাপের হাত থেকে ফিরিয়ে আনে,

অন্ধকার পথ থেকে সরিয়ে দেয়।

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

দুনিয়ার মায়া যখন ডাকে,

সে থেমে যায়, ফিরে তাকায়,

মনে পড়ে সেই প্রতিশ্রুতি—

দুটি জান্নাত, অনন্ত শান্তির ঠিকানা।

সে হেঁটে চলে ধুলোমাখা পথে,

তবু হৃদয়ে তার সবুজ এক বাগান,

যেখানে আশা জন্মায় প্রতিদিন,

আর ভয় তাকে রাখে সোজা পথে অবিচল।

সে পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়,

ভুল করে, আবার কাঁদে—

রাতের অন্ধকারে হাত তুলে বলে,

হে আমার রব, তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।”

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

অবশেষে আসে সেই দিন—

যেদিন আকাশ কেঁপে ওঠে,

পৃথিবী উল্টে যায়,

আর মানুষ দাঁড়ায় সারিবদ্ধভাবে।

কেউ কাঁদে, কেউ চুপ,

কেউ খোঁজে মুক্তির পথ—

আর সে, যে ভয় করত তার রবকে,

তার চোখে ভেসে ওঠে এক অদ্ভুত শান্তি।

তার আমলনামা হাতে ধরা হয়,

তার হিসাব সহজ হয়ে যায়,

কারণ সে ভয় করেছিল,

আর সেই ভয়ই আজ তার মুক্তি।

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

তার সামনে খুলে যায় দু’টি দরজা—

দুটি জান্নাত, আলোয় ভরা,

যেখানে নেই কোনো ভয়,

নেই কোনো দুঃখের ছায়া।

প্রথম জান্নাতে সে প্রবেশ করে—

সবুজের ঢেউ চোখে লাগে,

শাখা-প্রশাখায় ভরা ফলের বাগান,

প্রতিটি ডালে ঝুলে আছে রহমতের ছোঁয়া।

হাওয়া সেখানে কথা বলে,

ঝর্ণা গেয়ে যায় সুর,

প্রতিটি শব্দে শান্তি,

প্রতিটি দৃশ্যে নূর।

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

দুটি ঝর্ণা বয়ে চলে—

স্বচ্ছ, নির্মল, ঠাণ্ডা,

যার ধ্বনি হৃদয়ে ঢুকে যায়,

আর মুছে দেয় সব ক্লান্তি।

সে হাত বাড়িয়ে পানি ছোঁয়,

মনে হয়—এ যেন দুনিয়ার কিছুই নয়,

এ এক ভিন্ন জগত,

যেখানে প্রতিটি ফোঁটা দয়া হয়ে ঝরে।

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

সে এগিয়ে যায়—

দেখে ফলের সমারোহ,

প্রতিটি ফলে দু’টি স্বাদ,

একটি খেলে আরেকটি ডাকে।

না কোনো শেষ, না কোনো অভাব,

শুধু প্রাচুর্য, শুধু আনন্দ,

যা চোখে দেখে শেষ করা যায় না,

হৃদয়ও ধরে রাখতে পারে না।

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

সে বসে পড়ে—

রেশমে মোড়া নরম বিছানায়,

যার স্পর্শে সব ক্লান্তি হারিয়ে যায়,

সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই সেখানে।

ফলগুলো ঝুঁকে আসে কাছে,

চাইলে পেয়ে যায় মুহূর্তে,

না কোনো অপেক্ষা, না কোনো কষ্ট,

শুধু শান্তির অবিরাম প্রবাহ।

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

তার সামনে আসে সঙ্গী—

লজ্জাশীলা, নির্মল দৃষ্টি,

যাদের চোখে শুধুই ভালোবাসা,

যাদের হৃদয়ে নেই কোনো কলুষতা।

তারা যেন হীরার মতো দীপ্ত,

প্রবালের মতো উজ্জ্বল,

তাদের রূপে সময় থেমে যায়,

আর ভালোবাসা হয়ে ওঠে পবিত্র।

হে মানুষ, বলো তো—

কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?

দ্বিতীয় জান্নাত আরও গভীর—

আরও নীরব, আরও প্রশান্ত,

যেখানে আত্মা ডুবে যায়

রবের সান্নিধ্যের অনুভবে।

সেখানে নেই কোনো ভয়,

নেই কোনো বিচ্ছেদ,

শুধু এক চিরস্থায়ী শান্তি—

যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

এই সবই তাদের জন্য—

যারা গোপনে ভয় করত,

যারা ভুলের পর কেঁদে ফিরত,

যারা দুনিয়ায় নিজেকে সামলে রাখত।

হে মানুষ, আজও সময় আছে—

ফিরে এসো সেই পথে,

যেখানে ভয় মানে ধ্বংস নয়,

বরং মুক্তির প্রথম ধাপ।

একদিন যখন চোখ খুলবে সত্যে,

তখন আর প্রশ্ন থাকবে না—

কোন নেয়ামত অস্বীকার করবো?”

কারণ তখন প্রতিটি নিঃশ্বাস বলবে—

সবই ছিল তাঁর দান,

সবই ছিল তাঁর ভালোবাসা,

আর সেই ভয়ই ছিল—

সবচেয়ে বড় নেয়ামত।

***

নিশীথ রাতে নিভে যায় সব শব্দ,

তবু এক হৃদয় জেগে থাকে নিরবধি,

অদেখা সেই দিনের ভয়ে কাঁপে মন—

রবের সামনে দাঁড়ানোর মহা মুহূর্তটি।

লুকোনো কথা খুলে যাবে প্রকাশ্যে,

অন্তরের গোপন সব হবে উদ্ভাসিত,

এই ভয়ে সে ফিরে আসে বারবার,

অন্ধকার পথ ছেড়ে আলোয় প্রতিষ্ঠিত।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

দুনিয়া ডাকে রঙিন প্রলোভনে,

চোখে ভাসায় ক্ষণিক সুখের ছবি,

তবু সে থামে, ভাবে, ফিরে দাঁড়ায়—

কারণ অন্তরে ভয় তার সঙ্গী।

পড়ে যায় সে, আবার উঠে দাঁড়ায়,

অশ্রু ঝরে রাতের নির্জনে,

হাত তুলে বলে—“হে দয়াময় রব!

তুমি ছাড়া আশ্রয় নেই কোনো গন্তব্যে।”

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

আকাশ কেঁপে ওঠে, জমিন ভেঙে যায়,

মানুষ দাঁড়ায় সারিবদ্ধ ভয়ে,

কেউ হতবিহ্বল, কেউ নীরব স্তব্ধ—

সত্য তখন স্পষ্ট হয়ে রয়।

তার আমলনামা ডান হাতে ধরা,

হিসাব তার সহজ হয়ে যায়,

কারণ সে ভয় করেছিল গোপনে—

আজ সে ভয়ই মুক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

তার সামনে খুলে যায় দুটি দুয়ার,

আলোর বন্যা ছড়িয়ে পড়ে চারিধার,

দুটি জান্নাত—দুটি শান্তির নীড়,

যেখানে নেই কোনো দুঃখের ভার।

সবুজ শাখায় ভরা ফলের সম্ভার,

নূরের আলোয় ভাসে প্রতিটি দ্বার,

হৃদয় বলে—এ কি স্বপ্ন নাকি সত্য?

এ যে চিরস্থায়ী শান্তির অঙ্গন।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

দুটি ঝর্ণা বয়ে চলে নিরবধি,

স্বচ্ছ জলে ঝলমল করে আলো,

ধ্বনি তাদের সুরের মতো মিষ্টি—

হৃদয়ের ক্লান্তি করে ভালো।

এক ফোঁটা জলেই মেটে সব তৃষ্ণা,

এক ছোঁয়ায় মুছে যায় সব বেদনা,

এই জগত নয়—এ এক রহমতের সাগর,

যেখানে প্রতিটি ধারা দয়ার গাথা।

 

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

প্রতিটি ফলে দ্বিগুণ স্বাদ,

একটি শেষে আরেকটি শুরু,

না কোনো সীমা, না কোনো শেষ—

শুধুই অনন্ত সুখের গুরু।

ফলগুলো ঝুঁকে আসে কাছে,

চাইলে পেয়ে যায় অনায়াসে,

না কোনো ক্লান্তি, না কোনো অভাব—

শুধুই প্রাচুর্যের আভাসে।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

রেশমে মোড়া নরম বিছানা,

হেলান দিয়ে কাটে অনন্ত কাল,

ক্লান্তি সেখানে পৌঁছায় না আর—

শুধুই শান্তির জ্যোৎস্নাজাল।

সময়ের নেই কোনো হিসাব,

নেই কোনো শেষের ভয়,

প্রতিটি মুহূর্ত চিরস্থায়ী—

শান্তি সেখানে অবিরাম বয়ে যায়।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

লজ্জাশীলা, নির্মল দৃষ্টি,

চোখে তাদের ভালোবাসার আলো,

না মানুষ, না জিন—কেউ স্পর্শ করেনি,

তাদের পবিত্রতা অতুলনীয় ভালো।

তারা যেন হীরা, যেন প্রবাল,

তাদের রূপে থেমে যায় কাল,

ভালোবাসা সেখানে পবিত্র ও নির্মল—

কোনো কলুষতা নেই তার ছায়াতল।

বল তো, কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে?”

দ্বিতীয় জান্নাত আরও নীরব,

আরও গভীর প্রশান্তির স্থান,

যেখানে আত্মা ডুবে থাকে

রবের সান্নিধ্যের অনুভবময় জ্ঞান।

না কোনো ভয়, না কোনো বিচ্ছেদ,

না কোনো দুঃখের রেখা,

শুধুই চিরস্থায়ী শান্তির ঢেউ—

যা ভাষায় বলা কঠিন দেখা।

হে মানুষ, আজও সময় আছে,

ফিরে এসো সেই সঠিক পথে,

যেখানে ভয় মানে ধ্বংস নয়—

বরং মুক্তির প্রথম সোপানে ওঠে।

একদিন যখন সত্য প্রকাশ পাবে,

তখন আর প্রশ্ন থাকবে না—

কোন নেয়ামত অস্বীকার করবো?”

কারণ তখন প্রতিটি হৃদয় বলবে—

সবই ছিল তাঁর দান,

সবই ছিল তাঁর রহমত,

আর সেই ভয়ই ছিল—

সবচেয়ে বড় নেয়ামত।

এই গ্রন্থে কাব্য ও তাফসির একসাথে বয়ে চলে—

ভয় থেকে শুরু করে জান্নাতের পূর্ণতা পর্যন্ত।

***

রাতের বুকে নীরবতা, গভীর অন্ধকারে

একটি হৃদয় জেগে ওঠে, অদৃশ্য ভাবনায়

রবের সামনে দাঁড়াবে সে, এই সত্য স্মরণে

ভয় এসে তার অন্তরটাকে কাঁপিয়ে তোলে

গোপন সবই প্রকাশ হবে, কোনো আড়াল নেই

এই ভাবনাতেই বদলে যায় জীবনের গতি

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

দুনিয়া ডাকে রঙিন রূপে, মায়ার আবরণে

তবু সে থামে, ফিরে চায় অন্তরের দিকেই

পড়ে গেলে সে উঠে দাঁড়ায়, অশ্রু লুকিয়ে

রবের কাছে হাত তোলে সে নিঃশব্দে কেঁদে

পথের মাঝে হোঁচট খেয়েও ভেঙে পড়ে না

ভয় তাকে দেয় নতুন করে দাঁড়ানোর শক্তি

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

আকাশ ফেটে শব্দ উঠবে, পৃথিবী কাঁপবে

মানুষ তখন সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকবে

কেউ ভয় পাবে, কেউ চুপ থাকবে নিঃশব্দে

কর্মফল সব খুলে যাবে সত্যের আলোয়

যে ভয় করেছিল রবকে, সে শান্তি পাবে

তার হিসাব হবে সহজ, অনুগ্রহে ভরা

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

দুটি দরজা খুলে গেলো আলোয় ভরা পথে

সবুজ বাগান দুলে ওঠে শান্ত হাওয়ায়

ফলের ভারে নুয়ে আছে শাখার প্রতিটি

ঝর্ণাধারা বয়ে চলে নির্মল সুরে

চোখে দেখে হৃদয় বলে, এতো অপার দান

রবের দয়া ছড়িয়ে আছে প্রতিটি কোণে

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

দুটি ঝর্ণা বয়ে চলে স্বচ্ছ নীল জলে

তৃষ্ণা মেটে এক ফোঁটাতেই শান্তি ভরে

ধ্বনি ওঠে নরম সুরে বাতাসের মাঝে

ক্লান্তি সব মুছে যায় তার শীতল ছোঁয়ায়

জলের মাঝে প্রতিফলিত নূরের আলো

এ যেন এক অনন্ত সুখের নিঃশ্বাস

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

প্রতিটি ফল দ্বিগুণ স্বাদে ভরা সেখানে

একটি শেষ, আরেকটি শুরু আবার তখন

হাতে পেতে কষ্ট নেই, না আছে কোনো দূর

চাইলে পায় অনায়াসে প্রতিটি মুহূর্তে

স্বাদ সেখানে সীমাহীন এক অনন্ত ধারা

মিষ্টতায় ভরা অজানা এক স্বপ্নলোক

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

রেশমে মোড়া নরম বিছানায় বসে সে

ক্লান্তি সব হারিয়ে যায় এক মুহূর্তে

ফল এসে ঝুঁকে পড়ে তার হাতের কাছে

সময় সেখানে থেমে থাকে চিরস্থায়ী

না আছে কষ্ট, না আছে কোনো অপেক্ষা

শুধু শান্তি ঢেকে রাখে প্রতিটি স্পর্শে

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

লজ্জাশীলা দৃষ্টিতে তারা কাছে আসে

হীরা যেন ঝলমল করে আলোয় ভরা

না মানুষ, না জিন তাদের ছুঁয়েছে আগে

পবিত্রতা তাদের গড়ে অনন্ত রূপে

ভালোবাসা সেখানে শুধু নির্মল ধারা

কলুষতার ছায়া নেই সেই জগতে

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো, বলো হে মানুষ

দ্বিতীয় জান্নাত আরও গভীর নীরবতায়

আত্মা ডুবে যায় সেখানে শান্ত সমুদ্রে

না কোনো ভয়, না কোনো বেদনার ছায়া

চিরকাল সেখানে থাকে শান্তির আলো

রবের সান্নিধ্য সেখানে অনন্ত অনুভব

ভাষায় যাকে বলা যায় না কোনোদিন

হে মানুষ আজও সময় আছে ফিরে এসো

পথ তোমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে

ভয় যদি থাকে রবের জন্য অন্তরে

তবে সেটাই হবে মুক্তির প্রথম ধাপ

একদিন সব প্রশ্ন থেমে যাবে চিরকাল

তখন সত্যই বলে দেবে একমাত্র কথা

সবই ছিল তাঁর দয়া, তাঁরই অনুগ্রহ

আর সেই ভয়ই ছিল মুক্তির আলো

***

নীরব রাতের গভীরে জাগে একটি হৃদয়

অদৃশ্য সেই দিনের কথা মনে পড়ে যায়

রবের সামনে দাঁড়াতে হবে একদিন তাকে

এই ভাবনায় অন্তর তার কেঁপে ওঠে হঠাৎ

গোপন সবই প্রকাশ হবে সত্যের আলোয়

এই অনুভব বদলে দেয় জীবনের গতিপথ

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

দুনিয়ার সব রঙিন মায়া ডাকে বারবার তাকে

তবু সে থামে, ফিরে চায় নিজের অন্তরেই

পড়ে গেলে সে আবার উঠে দাঁড়ায় ধীরে ধীরে

অশ্রু মুছে রবের দিকে হাত তোলে একান্তে

ভয় তার হয়ে যায় পথের সহচর সারাক্ষণ

এই ভয়ই তাকে রাখে সরল পথে অবিচল

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

আকাশ ভেঙে শব্দ উঠবে, পৃথিবী কাঁপবে

মানুষ তখন দাঁড়িয়ে থাকবে ভয়ে স্তব্ধ হয়ে

কর্মফল সব উন্মোচিত হবে স্পষ্টভাবে

গোপন কিছু থাকবে না আর সেই দিনের পরে

যে ভয় করেছিল রবকে গোপনে অন্তরে

তার জন্যই থাকবে সহজ হিসাবের পথখানি

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

দুটি দরজা খুলে যায় এক অপূর্ব আলোয়

সবুজ বাগান দুলে ওঠে নির্মল হাওয়ায়

ফলের ভারে নুয়ে আছে শাখার প্রতিটি ডাল

ঝর্ণাধারা বয়ে চলে শান্ত সুরের ছন্দে

চোখের সামনে বিস্ময় ভরা এক অনন্ত দান

রবের রহমত ছড়িয়ে আছে সর্বত্র সেখানে

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

দুটি ঝর্ণা বয়ে চলে স্বচ্ছ নীল জলে

তৃষ্ণা মেটে এক ফোঁটাতেই অনায়াসে

জলের ধ্বনি নরম সুরে হৃদয় ছুঁয়ে যায়

ক্লান্ত সবই মুহূর্তে হারিয়ে যায় সেখানে

এ যেন এক অনন্ত শান্তির জীবন্ত ধারা

যেখানে দুঃখের কোনো চিহ্ন থাকে না আর

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

প্রতিটি ফল দ্বিগুণ স্বাদে ভরা সেখানে

একটি শেষ আরেকটি শুরু নতুনভাবে

হাতে পেতে কষ্ট নেই আর কোনো অপেক্ষা

চাইলে সবই উপস্থিত হয় চোখের সামনে

স্বাদের ঢেউ অনন্তভাবে প্রবাহিত হয়

এমন সুখ দুনিয়ায় কোনোদিন নেই কখনও

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

রেশমে মোড়া নরম আসনে বসে থাকে সে

ক্লান্তি সব হারিয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে

ফল এসে ঝুঁকে পড়ে তার হাতের খুব কাছে

সময়েরও নেই সেখানে কোনো সীমারেখা

শান্তি শুধু ঢেকে রাখে প্রতিটি অনুভব

চিরস্থায়ী প্রশান্তি যেন এক নীরব স্রোত

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

লজ্জাশীলা দৃষ্টিতে তারা আসে ধীরে ধীরে

হীরা যেন আলো ছড়ায় নরম অঙ্গনে

না মানুষ না জিন তাদের ছুঁয়েছে কোনোদিন

তাদের রূপে থেমে যায় সব সময়ের গতি

ভালোবাসা সেখানে শুধু পবিত্র ধারা

কলুষতার ছায়া নেই সেই শান্ত জগতে

কোন নেয়ামত অস্বীকার করো হে মানবজাতি

দ্বিতীয় জান্নাত আরও গভীর নীরবতায়

আত্মা ডুবে যায় সেখানে অনন্ত স্রোতে

না কোনো ভয় না কোনো কষ্টের ছায়া

চিরস্থায়ী শান্তি সেখানে বিরাজ করে

রবের সান্নিধ্য অনুভব হয় অবিরাম

ভাষায় যাকে বোঝানো যায় না কোনোদিন

হে মানব আজও সময় আছে ফিরে এসো

পথ তোমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে আজও

ভয় যদি থাকে রবের জন্য অন্তরে গভীর

তবে সেটাই মুক্তির প্রথম সোপান হবে

একদিন সব প্রশ্ন থেমে যাবে চিরতরে

তখন সত্যই বলে দেবে একমাত্র কথা

সবই ছিল তাঁর দয়া তাঁরই অনুগ্রহ শুধু

আর সেই ভয়ই ছিল মুক্তির আলোকরেখা

এই সংস্করণে পুরো কাব্যকে কঠোর ১৬ মাত্রার ছন্দে বাঁধা হয়েছে—

যাতে প্রতিটি পঙ্‌ক্তি সমান সুরে, সমান প্রবাহে এগিয়ে যায়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ