সহকারী অধ্যাপক
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:০৬ অপরাহ্ণ
কষ্টের সাথেই সুখ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
কষ্টের সাথেই সুখ
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আমি কি তোমার বুকে দিইনি প্রশস্ততার দান,
অন্ধকারের ভিড়ে জ্বালিনি আলোর সম্মান?
যে বোঝা তোমায় নত করত প্রতিক্ষণ ভারে,
সেটাকেই সরিয়ে দিয়েছি মমতারই দ্বারে।
তোমার পিঠে ছিল যে দুঃখ পাহাড়ের মতো,
আমি তা হালকা করেছি ভালোবাসার মতো।
আর তোমার নাম করেছি উঁচু আকাশ ছুঁয়ে,
মানুষের হৃদয়ে রেখেছি স্মরণ হয়ে।
তাই শোনো—কষ্ট এলে ভেঙে পড়ো না আর,
কষ্টের পাশেই থাকে সুখের অধিকার।
ঝড়ের পরে যেমন আসে নির্মল সকাল,
দুঃখের পরেই জাগে আনন্দেরই রূপকাল।
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে সুখ,
এটা তো রবের দেওয়া অবিচল সত্য মুখ।
তাই হতাশ হয়ো না, থেমে যেও না পথে,
আলো অপেক্ষায় আছে তোমারই সাথে।
যখনই পাবে তুমি অবসরের ক্ষণ,
ইবাদাতে ডুবে যাও, করো মন সমর্পণ।
ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলো, দাঁড়াও নব শক্তিতে,
রবের দিকে ফিরো তুমি ভালোবাসার ডাকে।
তোমার সব চাওয়া, সব কান্না, সব আশা,
রবই জানেন—তাঁরই কাছে রাখো ভরসা।
দুনিয়ার ক্লান্তি শেষে তাঁরই দিকে চাও,
তাঁর প্রেমেই খুঁজে নাও জীবনের ঠিক ঠাঁই।
***
কষ্ট থেকে কিরণ—এক অন্তহীন যাত্রা
যখন বুকটা ভারী হয়ে আসে অজানা দুঃখে,
চারপাশটা থমকে দাঁড়ায় নীরবতার মুখে,
মনে হয়—এই বুঝি সব পথ থেমে গেল হঠাৎ,
স্বপ্নগুলো ভেঙে পড়ে, নেই কোনো নতুন প্রভাত।
ঠিক তখনই অদৃশ্য এক স্নেহময় ডাক,
বলতে থাকে—“ভয় পেও না, আমি আছি পাশে ঠিক।”
তোমার বুকটা যিনি করেছেন প্রশস্ত একদিন,
তিনি তো জানেন তোমার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের দিন।
যে বোঝা তুমি বয়ে চলেছিলে ক্লান্ত কাঁধে,
যে ভারে পিঠ নুয়ে গিয়েছিল অবিরাম সাধে,
তিনি তা লাঘব করেন অদেখা রহমতে,
তুমি শুধু টের পাও—হালকা হলো অন্তরে।
এই যে তুমি এখনো দাঁড়িয়ে আছো ভাঙা মন নিয়ে,
এটাই প্রমাণ—তুমি একা নও পৃথিবীতে।
তোমার প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি লুকানো ব্যথা,
লিখা আছে তাঁরই কাছে—অমলিন এক কথা।
তাই দুঃখকে ভয় নয়, গ্রহণ করো সাহসে,
কারণ কষ্টের মাঝেই সুখ লুকায় ভালোবেসে।
যেমন অন্ধকার রাতে জ্বলে নক্ষত্র দীপ,
তেমনই দুঃখের ভেতরেই আশার আলো নীরব স্নিগ্ধ।
কষ্টের সাথে সুখ—এ শুধু কথা নয়,
এ এক চিরন্তন সত্য, ভাঙে না কোনো ক্ষয়।
তুমি যদি ধৈর্য ধরো, এগিয়ে যাও পথ ধরে,
দেখবে সুখ দাঁড়িয়ে আছে তোমারই অন্তরে।
তারপর শুরু হয় সংগ্রামের কঠিন অধ্যায়,
যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে পরীক্ষা ঘনায়।
হোঁচট খাও, পড়ে যাও, আবার উঠে দাঁড়াও,
নিজেকেই নিজে বলো—“হার মানা যাবে না, চলো!”
মানুষ হাসে, ঠাট্টা করে, সন্দেহের চোখে চায়,
কিন্তু তুমি জানো—তোমার রব সবই দেখেন হায়।
তাঁর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে চলো নির্ভীক,
কারণ তাঁর দয়া হলে অসম্ভবও হয় সহজ ঠিক।
যখন দুনিয়ার সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়,
আর কোনো পথ খুঁজে পেতে মন হারিয়ে যায়,
ঠিক তখনই খুলে যায় ইবাদাতের দরজা,
যেখানে শান্তি মেলে, মুছে যায় সব লজ্জা।
অবসরের প্রতিটি ক্ষণ করো সেজদায় নত,
চোখের পানিতে ভিজাও হৃদয়ের প্রতিটি ক্ষত।
নামাজে খুঁজে নাও শান্তির গভীর সুর,
দোয়ার মাঝে লুকিয়ে আছে মুক্তির নূর।
রাতের নিস্তব্ধতায় যখন সবাই ঘুমে ঢলে,
তুমি তখন দাঁড়িয়ে থাকো তাঁরই দরবারে চলে,
কান্নায় ভেজা কণ্ঠে বলো—“হে প্রভু, তুমি জানো,
আমার সব দুর্বলতা, সব গোপন বেদনা মানো।”
এই কান্না কখনো বৃথা যায় না তাঁর কাছে,
প্রতিটি ফোঁটা জমা থাকে রহমতেরই মাঝে।
একদিন সেই কান্না হয়ে যায় হাসির কারণ,
একদিন সেই দুঃখ দেয় সাফল্যেরই ঘোষণা।
তারপর আসে আলো—ধীরে ধীরে স্পষ্ট,
যেন ভোরের সূর্য ওঠে কাটিয়ে রাতের কষ্ট।
তোমার নাম উঠে যায় সম্মানের উচ্চতায়,
মানুষ তখন খুঁজে তোমায়, ভালোবাসার ছোঁয়ায়।
যে কষ্ট ছিল একদিন অভিশাপের মতো,
আজ সেটাই হয়ে যায় আশীর্বাদের মতো।
তুমি বুঝতে পারো—সবই ছিল পরিকল্পনা,
তোমাকে গড়ার জন্য ছিল প্রতিটি যন্ত্রণা।
তখন তুমি মাথা নত করে বলো নীরব কণ্ঠে,
“হে রব, তুমি ছাড়া কেউ ছিল না এ পথে।”
তোমার প্রতি আকর্ষণ বাড়ে প্রতিটি শ্বাসে,
তুমি হারিয়ে যাও তাঁরই ভালোবাসার আশে।
এইভাবেই চলতে থাকে এক মুমিনের জীবন,
কষ্টে শুরু, সংগ্রামে গড়া, ইবাদাতে অর্জন।
আর শেষে যে সফলতা, তা দুনিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়,
চিরস্থায়ী শান্তির ঠিকানা—যেখানে কোনো ভয় নেই আর কই।
***
নিভে আসে আলো যখন অন্তর ভাঙে চাপে,
দুঃখ এসে বসে থাকে নিঃশব্দ রাতের কাপে।
শ্বাসগুলো ভারী হয়ে দীর্ঘশ্বাসে মেশে,
স্বপ্নগুলো ভেঙে পড়ে অশ্রুর নোনা দেশে।
মনে হয়—এই পথ বুঝি থেমে গেল হঠাৎ,
চারদিকে আঁধার ঘিরে নেই কোনো প্রভাত।
কিন্তু তখন অন্তরে শোনা যায় মৃদু বাণী—
“আমি আছি, ভয় কোরো না, আমি তো তোমারই।”
যিনি বুকে প্রশস্ততা দিয়েছেন নিঃশব্দে,
তিনি কি ফেলে রাখেন বান্দাকে অন্ধকারে?
যে বোঝা ভেঙে দেয় পিঠ, নুয়ে দেয় প্রাণ,
তিনিই তা লাঘব করেন রহমতেরই দান।
তোমার নাম তুলেছেন তিনি মর্যাদার শিখরে,
মানুষের হৃদয় জুড়ে রেখেছেন নীরবে।
তাই তো কষ্ট এলেও ভেঙে পড়ো না আর,
কষ্টের পাশেই থাকে সুখের অধিকার।
আদম কেঁদেছেন ভুলে, তবু পেয়েছেন ক্ষমা,
নূহ ডেকেছেন দীর্ঘদিন, তবু ছাড়েননি দয়া।
ইব্রাহিম আগুনে গিয়েও হয়েছেন নিরাপদ,
মূসা সাগর পেরিয়েছেন, ভেঙেছে ভয়াবহ শৃঙ্খল।
ইউনুস ছিলেন আঁধারে, মাছের অন্তরালে,
তবু ডেকে পেয়েছেন মুক্তি রবেরই ডাকে।
আইয়ুবের ধৈর্য ছিল পাহাড়ের মতো দৃঢ়,
কষ্ট তাকে ভাঙতে পারেনি, করেছে আরও সমৃদ্ধ।
তাই তোমার কষ্ট নতুন কিছু নয় দুনিয়ায়,
এই পথেই হেঁটেছেন নবীরা আল্লাহর ছায়ায়।
সংগ্রাম মানে আগুনে পুড়ে খাঁটি হওয়া,
বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানো।
মানুষের তিরস্কার, ব্যর্থতার ঢেউ,
সব কিছুকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলা ঢেউ।
হতাশা যখন বলে—“থেমে যাও এবার,”
ঈমান তখন জাগায়—“চলো আরও পার।”
কারণ যে হৃদয়ে থাকে রবের উপর ভরসা,
তার জন্য বন্ধ দরজাও খুলে দেয় আশা।
যখন সব পথ বন্ধ, সব দিশা অন্ধকার,
ইবাদাতের দরজা তখন খোলে অপার।
সেজদার মাটিতে লুটাও ক্লান্ত প্রাণ,
চোখের জলে ধুয়ে ফেলো দুঃখের সব জ্বালান।
রাতের নিস্তব্ধতায় দাঁড়াও তাঁরই তরে,
কান্না হয়ে দোয়া ওঠে আসমানের দ্বারে।
এই কান্না বৃথা যায় না, জমা থাকে ঠিক,
একদিন তা বদলে দেয় জীবনের প্রতিচ্ছবি।
ধীরে ধীরে ভোর নামে অন্ধকার ভেদে,
আলো এসে ছুঁয়ে যায় হৃদয়েরই খেদে।
যে কষ্ট ছিল একদিন বিষের মতো তীব্র,
আজ সেটাই আশীর্বাদ, করে জীবন শুদ্ধ।
মানুষ তখন ডাকে তোমায় সম্মানের সাথে,
যে তুমি কেঁদেছিলে একা গভীর রাতে।
তুমি বুঝে যাও—সবই ছিল তাঁরই পরিকল্পনা,
তোমাকে গড়ার জন্য ছিল প্রতিটি যন্ত্রণা।
শেষে সব পথ মিলে যায় এক স্রোতের দিকে,
রবের দিকে ফিরে যাও হৃদয়ের গভীরে।
তোমার সব ক্লান্তি, সব চাওয়া, সব ব্যথা,
তাঁরই কাছে রাখো তুমি নিঃশব্দ প্রার্থনা।
দুনিয়ার সফলতা ক্ষণিক, ক্ষয়ে যায় ধীরে,
আসল শান্তি লুকিয়ে থাকে তাঁরই নূরের নীড়ে।
তাই বলি—তাঁরই পথে থাকো অবিচল,
সেখানেই রয়েছে চিরসুখ, চিরআলো, চিরবল।
কষ্টের ভেতরেই সুখ, এ এক সত্য বাণী,
যে তা বিশ্বাস করে, সে-ই পায় পরিত্রাণই।
সংগ্রাম, ইবাদাত, ধৈর্য—এই তিনে গড়া পথ,
এই পথেই মেলে শেষে জান্নাতেরই রথ।
***
বুকে যখন নামে নীরব অন্ধকারের ঢেউ,
স্বপ্নগুলো ভেঙে পড়ে, থেমে যায় সব নৌ,
শ্বাসগুলো ভারী হয়ে কাঁদে নিঃশব্দ প্রাণ,
মনে হয় শেষ হয়ে গেছে জীবনেরই গান।
ঠিক তখনই অন্তরে শোনা যায় এক বাণী—
“ভয় পেও না, আমি আছি, তুমি নও তো একাকী,”
যিনি বুকে প্রশস্ততা দিয়েছেন অগোচরে,
তিনি কি ফেলে রাখেন বান্দাকে অন্ধকারে?
যে বোঝা ভেঙে দেয় পিঠ, ক্লান্ত করে মন,
তিনি তা সরিয়ে দেন রহমতেরই কারণ,
দুঃখগুলো আসে শুধু পরীক্ষা হয়ে,
তার ভেতরেই লুকায় সুখ নীরব আলো হয়ে।
কষ্টের সাথে সুখ আছে—এ সত্য অটল,
ঝড়ের পরে রোদ ওঠে, বদলে যায় সব ফল,
ধৈর্যের হাতে ধরলে আলোরই দুয়ার,
হতাশা ভেঙে গড়ে আশারই সংসার।
আদম কেঁদে শিখেছিলেন ফিরে আসার পথ,
নূহ ডেকে গেছেন দীর্ঘ, তবু থামেনি রথ,
ইব্রাহিম আগুনেও পেয়েছেন নিরাপদ স্থান,
মূসার লাঠিতে ভেঙেছে সাগরেরই প্রাণ।
ইউনুস ডেকেছেন আঁধারে গভীর সাগরের তলে,
আইয়ুব থেকেছেন ধৈর্যে কঠিন পরীক্ষার ছলে,
তাদের পথই বলে—কষ্ট ভয় পাওয়ার নয়,
এই পথেই লুকিয়ে থাকে সফলতার জয়।
সংগ্রাম মানে থেমে যাওয়া নয় কোনো দিন,
পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানো—এটাই মুমিনের ঋণ,
মানুষ হাসুক, তবু থামবে না এই পথ,
কারণ রবের কাছে আছে প্রতিটি প্রার্থনাথ।
যখন সব দরজা বন্ধ, দিশেহারা প্রাণ,
ইবাদাতের দরজা তখন খুলে অজান,
সেজদার মাটিতে লুটাও হৃদয়ের ভার,
সেখানে মেলে শান্তি, মুছে যায় অশ্রুধার।
রাতের নিস্তব্ধতায় কান্না হয়ে দোয়া,
আসমানে পৌঁছে যায় নীরব ভালোবাসা,
এই কান্না বৃথা নয়, জমা থাকে ঠিক,
একদিন তা বদলে দেয় জীবনের প্রতিচ্ছবি।
ধীরে ধীরে ভোর নামে অন্ধকার শেষে,
আলো এসে ছুঁয়ে যায় ক্লান্ত হৃদয় হেসে,
যে কষ্ট ছিল একদিন দুঃখেরই নাম,
আজ তা আশীর্বাদ হয়ে বদলায় পরিণাম।
মানুষ তখন ডাকে তোমায় সম্মানের সাথে,
যে তুমি কেঁদেছিলে একা গভীর রাতে,
তুমি বুঝে যাও—সবই ছিল তাঁরই দান,
তোমাকে গড়ার জন্য ছিল এই পরীক্ষা মহান।
শেষে সব পথ মিলে যায় এক দিশার তরে,
রবের দিকে ফিরে যাও অন্তরেরই ঘরে,
তাঁর প্রেমেই লুকিয়ে চিরশান্তির নীড়,
সেখানেই শেষ হয় সব ক্লান্তির ভীড়।
কষ্ট দিয়ে শুরু, সুখ দিয়ে শেষ,
এই পথেই মুমিন পায় জান্নাতের আবেশ,
সংগ্রাম, ইবাদাত, ধৈর্যের বন্ধন,
এই তিনেই গড়ে উঠে চিরসফল জীবন।
***
নেমে আসে বুকে ভারী অন্ধকারের ছায়া,
ভেঙে পড়ে স্বপ্নগুলো, থেমে যায় মায়া,
নিঃশ্বাসে জমে ওঠে অজানা সব ক্ষত,
মনে হয় এই জীবন বুঝি শেষেরই রথ।
হঠাৎ মনে ভেসে ওঠে নীরব এক বাণী—
“তুমি একা নও কখনো, আমি আছি জানি,”
যিনি বুকে দিয়েছেন প্রশস্ততার দান,
তিনি কি ভুলে যাবেন তোমার আর্তি প্রাণ?
যে বোঝা ভেঙে দেয় পিঠ, ক্লান্ত করে মন,
তিনি তা সরিয়ে দেন করুণারই কারণ,
কষ্ট আসে, কিন্তু সাথে আনে সুখের বার্তা,
অন্ধকারেই জন্ম নেয় আলোরই প্রার্থনা।
আদম কেঁদে শিখলেন ফিরে আসার পথ,
নূহের ধৈর্যে গড়লো অবিচল রথ,
ইব্রাহিম আগুনে পেয়েছেন শান্তির স্পর্শ,
মূসার ডাকে সাগর খুলে দিলো পথ।
ইউনুসের কান্না ভাসে অন্ধকারের তলে,
আইয়ুব ধৈর্যে থেকেছেন কষ্টেরই ছলে—
এই পথই বলে দেয় এক চিরন্তন বাণী,
কষ্ট ছাড়া সফলতার দুয়ার খোলে না জানি।
সংগ্রাম মানে থেমে যাওয়া নয় কোনোদিন,
বারবার পড়ে গিয়ে ওঠা মুমিনের ঋণ,
মানুষ হাসুক, তবু এগিয়ে যাও নির্ভীক,
কারণ রবের কাছে সবই আছে লিখিত ঠিক।
ধৈর্য হলো শক্তি, নীরব এক জিহাদ,
যা ভেঙে দেয় হতাশা, করে মন উজাড়,
যে ধৈর্য ধরে সে পায় আলোর সন্ধান,
তার জন্যই খোলে রহমতেরই দান।
যখন সব পথ বন্ধ, ইবাদাতের দ্বার খোলে,
সেজদায় লুটিয়ে পড়ো অশ্রুভেজা তলে,
সেখানে শান্তি মেলে, মুছে যায় সব ভয়,
রবের কাছে কান্নাই সবচেয়ে বড় জয়।
রাতের অন্ধকারে ওঠে নীরব দোয়া,
আসমানে পৌঁছে যায় হৃদয়েরই ছোঁয়া,
এই কান্না বৃথা নয়, জমা থাকে ঠিক,
একদিন তা বদলে দেয় জীবনের প্রতিচ্ছবি।
ধীরে ধীরে ভোর নামে দুঃখেরই পরে,
আলো এসে ছুঁয়ে যায় অন্তরেরই ঘরে,
যে কষ্ট ছিল একদিন অশ্রুরই নাম,
আজ তা আশীর্বাদ হয়ে বদলায় পরিণাম।
মানুষ তখন ডাকে সম্মানেরই সুরে,
যে তুমি কেঁদেছিলে নিরব গভীর নূরে,
সব কষ্টই ছিল তোমার গড়ারই আয়োজন,
আজ তা হয়ে গেছে সফলতারই পণ।
শেষে সব পথ গিয়ে মেলে এক দিশায়,
রবের দিকে ফিরে যাও হৃদয়েরই আশায়,
তাঁর প্রেমেই লুকিয়ে চিরশান্তির নীড়,
সেখানেই শেষ হয় সব ক্লান্তির ভীড়।
কষ্ট দিয়ে শুরু, সুখ দিয়ে শেষ,
এই পথেই মুমিন পায় জান্নাতের আবেশ,
সংগ্রাম, ইবাদাত, ধৈর্যের বন্ধন,
এই তিনেই গড়ে উঠে চিরসফল জীবন।
এই গ্রন্থ কোনো গল্প নয়—এ এক বাস্তব পথ,
যে পথ ধরে চলেছে নবী ও সৎজনের রথ।
যে এই পথে চলে, সে হারায় না কভু,
কারণ তার সাথেই থাকেন দয়াময় রব।
***
নেমে আসে একসময় জীবনের গাঢ় অন্ধকার,
বুকের ভেতর জমে ওঠে অব্যক্ত হাহাকার,
চারপাশের সব রঙ যেন মুছে যায় ধীরে,
নিঃশব্দ কষ্ট এসে বসে অন্তরের নীড়ে।
স্বপ্নগুলো ভাঙা কাঁচের মতো বিছিয়ে থাকে পথে,
প্রতিটি পা ফেললেই লাগে ব্যথা হৃদয়ের গহীনে,
মনে হয়—এই বুঝি শেষ, আর নেই কোনো দিশা,
জীবনের মানে বুঝি হারিয়ে গেছে নিঃশেষে নিঃশ্বাসে।
কিন্তু ঠিক সেই গভীরতম অন্ধকারের মাঝে,
অদৃশ্য এক স্নেহময় আলো নেমে আসে সাজে,
কানে ভেসে আসে এক নীরব আশ্বাসের ধ্বনি—
“ভয় পেও না, তুমি একা নও, আমি আছি ধরণী।”
যিনি তোমার বুকে দিয়েছিলেন প্রশস্ততার আলো,
যিনি জানেন প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি ব্যথার কালো,
তিনি কি ছেড়ে দেন তাঁর প্রিয় বান্দাকে একা?
না, তাঁর রহমত ঘিরে রাখে সব দুঃখের রেখা।
যে বোঝা তোমার পিঠে ছিল পাহাড়সম ভার,
যে ব্যথা নিঃশব্দে করত তোমাকে অবসাদগ্রস্ত বারবার,
তিনি তা হালকা করেন অদৃশ্য করুণার ছোঁয়ায়,
তুমি শুধু টের পাও—শান্তি নেমে আসে অন্তরের ছায়ায়।
তখন বুঝতে শুরু করো—কষ্ট শত্রু নয়,
এ এক গোপন শিক্ষক, যে তোমাকে গড়ে তোলে সয়,
যে দুঃখ তোমাকে কাঁদায়, সেটাই তোমাকে শেখায়,
কীভাবে অন্ধকার ভেদ করে আলো খুঁজে পেতে হয়।
কারণ কষ্টের সাথেই জড়িয়ে থাকে সুখের বীজ,
যেমন শুকনো মাটির বুকে লুকিয়ে থাকে সবুজ বীজ,
ঝড় না এলে বোঝা যায় না আশ্রয়ের দাম,
অন্ধকার না এলে জ্বলে না আলোরই নাম।
এই সত্য ধীরে ধীরে গেঁথে যায় অন্তরে,
তুমি আর ভেঙে পড়ো না দুঃখের ঘোর অন্ধকারে,
বরং কষ্টকে সঙ্গী করে এগিয়ে যাও দৃঢ় পায়ে,
কারণ তুমি জানো—সুখ অপেক্ষা করছে পথের ছায়ায়।
তখন শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়—সংগ্রামের,
যেখানে প্রতিটি দিন পরীক্ষা, প্রতিটি রাত অশ্রুর ঘর,
পড়ে যাও, আবার ওঠো, আবার লড়ো নিরন্তর,
নিজেকেই বলো—“থামা নয়, এগোতে হবে আরও দূর।”
মানুষ দেখে, কেউ হাসে, কেউ করে উপহাস,
কেউ বোঝে না তোমার অন্তরের সেই নিঃশব্দ ইতিহাস,
কিন্তু তুমি জানো—তোমার প্রতিটি কান্না, প্রতিটি ক্ষত,
রবের কাছে লেখা আছে, অমূল্য এক সত্য।
তুমি ক্লান্ত হও, তবু থামো না,
কারণ হৃদয়ের গভীরে জ্বলে এক অদম্য প্রেরণা,
যে প্রেরণা বলে—“তুমি হারবে না কখনো,
যদি তুমি ধরে রাখো তোমার রবের উপর ভরসা।”
যখন দুনিয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে আসে,
আর কোনো আশ্রয় খুঁজে পাওয়া যায় না আশেপাশে,
ঠিক তখনই খুলে যায় এক অনন্ত দরজা—
ইবাদাতের, যেখানে নেই কোনো ভান বা সাজা।
তুমি সেজদায় নত হও, ভেঙে পড়ো তাঁর সামনে,
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে নিঃশব্দ অশ্রুধারায় থেমে,
কণ্ঠে জড়ানো কষ্ট খুলে যায় ধীরে ধীরে,
দোয়ার ভাষায় তা পৌঁছে যায় আসমানের নীড়ে।
রাতের নিস্তব্ধতা তখন হয়ে ওঠে তোমার সঙ্গী,
সবাই যখন ঘুমে, তুমি তখন জেগে একাকী,
তাঁর সাথে কথা বলো হৃদয়ের গভীর ভাষায়,
যেখানে কোনো শব্দ নেই, তবু সবকিছু পৌঁছে যায়।
এই কান্না, এই দোয়া—কখনো হারায় না,
প্রতিটি ফোঁটা জমা থাকে রহমতের খাজানায় রাখা,
একদিন সেই জমা দোয়া ফিরে আসে আলো হয়ে,
তোমার অন্ধকার জীবন ভরে যায় নতুন রঙে।
ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে সব দৃশ্যপট,
যেখানে ছিল অন্ধকার, সেখানে জ্বলে আলোর রথ,
যেখানে ছিল কান্না, সেখানে ফোটে হাসির ফুল,
জীবন হয়ে ওঠে এক নতুন সম্ভাবনার কূল।
যে কষ্ট একদিন তোমাকে ভেঙে দিয়েছিল,
আজ সেটাই তোমাকে শক্ত করে গড়ে তুলেছে,
যে রাত একদিন ছিল নিঃশেষ অন্ধকার,
আজ সেই রাতের স্মৃতি হয়ে ওঠে গর্বের অধিকার।
মানুষ তখন দেখে তোমার বদলে যাওয়া রূপ,
তারা জানে না—এই হাসির পেছনে কত অশ্রুর রূপ,
তারা দেখে সাফল্য, কিন্তু দেখে না সেই সংগ্রাম,
যা তোমাকে পৌঁছে দিয়েছে এই উচ্চ সম্মান।
তুমি তখন নীরবে মাথা নত করো কৃতজ্ঞতায়,
কারণ তুমি জানো—এ সবই তোমার রবের দয়ায়,
তাঁর পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত, সময় ছিল সঠিক,
তোমার প্রতিটি কষ্ট ছিল সফলতারই পথচিহ্ন লিখ।
এখন তোমার হৃদয় আর দুনিয়ায় আটকে থাকে না,
তুমি খুঁজে পাও এক গভীর শান্তির ঠিকানা,
তোমার আকর্ষণ বাড়ে শুধু তাঁরই দিকে,
তুমি হারিয়ে যাও তাঁর ভালোবাসার নীড়ে।
তুমি বুঝে যাও—এই যাত্রার শেষ দুনিয়ায় নয়,
এর গন্তব্য আরও গভীর, আরও স্থায়ী এক পরিচয়,
যেখানে নেই কোনো কষ্ট, নেই কোনো ভয়,
শুধু আছে শান্তি, আছে অনন্ত আনন্দময়।
এইভাবেই চলতে থাকে এক মুমিনের পথচলা,
কষ্ট দিয়ে শুরু, সংগ্রামে গড়া তার চলা,
ইবাদাতে পায় সে শক্তি, দোয়ায় পায় দিশা,
আর শেষে পায় সে চিরসফলতার ঠিকানা।
এই পথ কঠিন, তবু এ পথই সত্য,
এই পথেই মেলে জীবনের আসল মুক্ত,
যে এই পথে চলে, সে কখনো হারায় না,
কারণ তার সাথেই থাকেন সেই দয়াময় সত্তা।
তাই যখনই কষ্ট আসে, ভেঙে পড়ো না তুমি,
মনে রেখো—এই কষ্টই তোমার নতুন ভূমি,
এই মাটিতেই গড়ে উঠবে তোমার সাফল্যের বৃক্ষ,
যার ছায়ায় একদিন মিলবে শান্তিরই দীক্ষা।
আর যখন অবসর পাবে, থেমে থেকো না,
ইবাদাতে নিজেকে ডুবাও, দূরে সরে যেও না,
তোমার রবের দিকে ফিরে যাও বারবার,
সেখানেই লুকিয়ে আছে তোমার জীবনের আসল অধিকার।
শেষে যখন তুমি দাঁড়াবে জীবনের শেষ প্রান্তে,
পেছনে ফিরে দেখবে এই দীর্ঘ পথের কান্তে,
তুমি হাসবে—কারণ বুঝবে তখন নিশ্চয়,
প্রতিটি কষ্টই ছিল তোমার জন্য এক মহান উপহারময়।
***
নেমে আসে একসময় জীবনের গাঢ় অন্ধকার,
বুকের ভেতর জমে ওঠে নিঃশব্দ হাহাকার,
চারপাশের রঙ ফিকে হয়, থেমে যায় সব গান,
মনে হয় হারিয়ে গেছে জীবনেরই প্রাণ।
নিঃশ্বাসগুলো ভারী হয়ে কাঁপে নিরব সুরে,
স্বপ্নগুলো ছিন্নভিন্ন পড়ে থাকে দূরে,
পথ যেন বন্ধ হয়ে দাঁড়ায় চোখের সামনে,
কোন দিকে যাবে মন—হারিয়ে যায় ঘোর আঁধারে।
এই নিস্তব্ধ ভারে ডুবে যায় অন্তর গভীর,
সময়ও যেন থেমে থাকে, থমকে যায় ধীর,
হতাশার কণ্ঠ বলে—“শেষ, আর কিছু নেই,”
আশার প্রদীপ নিভে আসে অন্ধকারের ঢেই।
কিন্তু ঠিক তখনই—অদৃশ্য এক আলো,
নেমে আসে হৃদয়ে, মুছে দেয় সব কালো,
নীরব এক আহ্বান ভেসে আসে প্রাণে—
“আমি আছি, তুমি ভেঙো না, দাঁড়াও অবিচল টানে।”
যিনি প্রথম আলো জ্বালেন তোমার বুকে,
যিনি জানেন তোমার সব কষ্ট গোপনে সুখে,
তিনি কি ছেড়ে দেন তোমাকে দুঃখের ভিড়ে?
না—তাঁর রহমত ঘিরে রাখে তোমায় অন্তর নীড়ে।
যে বোঝা পিঠে চাপিয়ে ক্লান্ত করেছিল মন,
যে দুঃখে ভেঙে পড়েছিল তোমার জীবন,
তিনি তা সরিয়ে দেন নীরব মমতায়,
তুমি শুধু টের পাও—শান্তি নামে ছায়ায়।
তখন তুমি শিখে যাও নতুন এক পাঠ,
কষ্ট মানে শেষ নয়—এ এক গোপন প্রভাত,
যে দুঃখ তোমাকে কাঁদায়, সেটাই শেখায় পথ,
অন্ধকার ভেদ করে কীভাবে জ্বালাতে হয় রথ।
কষ্টের বুকেই লুকিয়ে থাকে সুখেরই বীজ,
যেমন শুষ্ক মাটিতে জন্ম নেয় সবুজ বীজ,
ঝড় না এলে বোঝা যায় না আশ্রয়ের দাম,
রাত না এলে বুঝা যায় না সকালেরই নাম।
এই উপলব্ধি ধীরে ধীরে শক্ত করে মন,
তুমি আর ভেঙে পড়ো না, দাঁড়াও অটল তখন,
কষ্টকে সাথী করে এগিয়ে যাও পথ ধরে,
কারণ তুমি জানো—আলো অপেক্ষা করে।
তারপর শুরু হয় সংগ্রামের বিস্তৃত অধ্যায়,
যেখানে প্রতিটি দিন নতুন পরীক্ষা গায়,
পড়ে যাও বারবার, তবু থামো না আর,
কারণ হার মানা মানে স্বপ্নেরই হার।
মানুষের ভিড়ে তুমি হয়ে যাও একা,
কেউ বুঝে না তোমার হৃদয়ের লেখা,
হাসির আড়ালে লুকাও অশ্রুর ইতিহাস,
নিঃশব্দে গড়ে ওঠে তোমার অন্তরবিশ্বাস।
কেউ বলে—“থেমে যাও, এত কষ্ট কেন?”
কেউ বলে—“এই পথ ভুল, ফিরে যাও যেন,”
কিন্তু অন্তরের গভীরে জ্বলে এক আলো,
যা বলে—“এগিয়ে যাও, সামনে আছে ভালো।”
এই আলোই তোমার ঈমানের শক্তি,
যা অন্ধকার ভেদ করে দেয় মুক্তি,
তুমি তখন ক্লান্ত হলেও থামো না আর,
কারণ তোমার লক্ষ্য হয়ে ওঠে স্পষ্ট আর।
যখন দুনিয়ার সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়,
আর কোনো পথ চোখে পড়ে না হায়,
ঠিক তখনই খুলে যায় এক অনন্ত পথ—
ইবাদাতের, যেখানে মুছে যায় সব ক্ষত।
তুমি সেজদায় নত হও মাটির বুকে,
চোখের জলে ভাসাও সব কষ্ট সুখে,
কণ্ঠে জমে থাকা ব্যথা গলে যায় ধীরে,
দোয়ার ভাষা পৌঁছে যায় আসমানের নীড়ে।
রাতের নিস্তব্ধতায় তুমি জেগে থাকো,
সবাই ঘুমালেও তুমি কান্না লুকাও,
তাঁর সাথে বলো তুমি মনের সব কথা,
যেখানে নেই ভান, নেই কোনো ব্যথা লুকানো ব্যথা।
এই কান্না জমা হয় রহমতের ভাণ্ডারে,
হারিয়ে যায় না তা সময়ের ধারায়,
একদিন তা ফিরে আসে আলো হয়ে,
তোমার জীবন ভরে যায় নতুন রঙে।
ধীরে ধীরে বদলে যায় জীবনের পথ,
অন্ধকার পেরিয়ে জ্বলে আলোর রথ,
যেখানে ছিল কষ্ট, সেখানে সুখের হাসি,
জীবন হয়ে ওঠে নতুন রঙে ভাসি।
যে কষ্ট একদিন করেছিল ভেঙে চুরমার,
আজ সেটাই তোমাকে করেছে শক্তির আধার,
যে রাত ছিল অশ্রুভেজা নিঃশেষ যন্ত্রণায়,
আজ সেই রাত স্মৃতি হয়ে গর্বে জ্বলায়।
মানুষ দেখে তোমার সাফল্যের আলো,
কেউ জানে না পেছনের অশ্রুর কালো,
তারা দেখে ফল, কিন্তু দেখে না পথ,
যেখানে ছিল কাঁটা, ছিল রক্তাক্ত রথ।
তুমি তখন নীরবে হাসো কৃতজ্ঞতায়,
কারণ জানো—সবই ছিল রবের দয়ায়,
তাঁর পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত ও মহান,
তোমার প্রতিটি কষ্ট ছিল সফলতার দান।
এখন তোমার হৃদয় বদলে গেছে ধীরে,
দুনিয়ার মোহ আর টানে না আগের মতো নীড়ে,
তুমি খুঁজে পাও এক গভীর প্রশান্তি,
যেখানে নেই ভয়, নেই কোনো ক্লান্তি।
তোমার আকর্ষণ এখন শুধু তাঁরই পানে,
তাঁর প্রেমে ডুবে যাও প্রতিটি প্রাণে,
তুমি বুঝে যাও—এই যাত্রার শেষ নয় এখানে,
এর গন্তব্য আরও উঁচু, আরও গভীর গহীনে।
এই পথ ধরে চলতে চলতে একদিন,
তুমি পৌঁছে যাও এক শান্তির বিলীন,
যেখানে নেই দুঃখ, নেই কোনো ভয়,
শুধু আছে অনন্ত সুখের পরিচয়।
এইভাবেই গড়ে ওঠে এক মুমিনের জীবন,
কষ্ট দিয়ে শুরু, সংগ্রামে গড়া তার গঠন,
ইবাদাতে পায় শক্তি, দোয়ায় পায় দিশা,
আর শেষে পায় সে চিরসফলতার আশা।
তাই যখন কষ্ট আসে, ভেঙে পড়ো না আর,
মনে রেখো—এর মাঝেই আছে সুখের অধিকার,
এই কষ্টই তোমার গড়ার প্রথম ধাপ,
এই পথেই একদিন খুলবে জান্নাতেরই চাপ।
অবসরে থেমে থেকো না, এগিয়ে যাও আবার,
ইবাদাতে ডুবে যাও, করো অন্তর উজাড়,
তোমার রবের দিকেই রাখো সব টান,
সেখানেই লুকিয়ে আছে জীবনের পরিণাম।
শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন ফিরে দেখবে পথ,
তুমি বুঝে যাবে প্রতিটি কষ্টেরই রথ,
তুমি হাসবে—কারণ তখন জানবে নিশ্চয়,
এই দুঃখগুলোই ছিল তোমার সবচেয়ে বড় জয়।
-সূরাঃআল-ইনশিরাহ
৪
৪ মন্তব্য