সহকারী অধ্যাপক
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০৩ অপরাহ্ণ
সময়ের কসম - মোঃ মুজিবুর রহমান
সময়ের কসম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিঃশব্দে বয়ে যায় জীবনের নদী,
মুহূর্তগুলো ঝরে পড়ে বালুর মতো,
ধরা যায় না, ফেরানো যায় না—
এই ক্ষণস্থায়ী পথেই হারায় কত স্বপ্ন, কত সত্তা।
নিশ্চয় মানুষ—
অচেতন ঘুমে ডুবে থাকা যাত্রী,
লাভের আশায় ক্ষতির খাতা ভরে,
হিসাব করে দুনিয়ার,
কিন্তু ভুলে যায় আসল দিনের হিসাব।
প্রতিদিন সূর্য ওঠে, আবার ডুবে যায়,
জীবন থেকে কেটে নেয় অদৃশ্য সময়,
হাসি-খুশির আড়ালে জমে ওঠে শূন্যতা,
অজান্তেই মানুষ হারায় নিজের পরিচয়।
তবে সবাই নয়—
কিছু হৃদয় জেগে থাকে আলোর খোঁজে,
যারা বিশ্বাসে বাঁধে জীবন,
ঈমানের দীপ জ্বালে বুকের গভীরে,
অন্ধকারে খুঁজে নেয় চিরসত্যের পথ।
তারা কাজ করে নীরবে, নিঃস্বার্থ মনে,
সৎকর্মে গড়ে তোলে জীবনের ভিত্তি,
প্রতিটি পদক্ষেপে থাকে আল্লাহর ভয়,
আর ভালোবাসা—মানুষের প্রতি।
তারা শুধু নিজের জন্য বাঁচে না,
হাত বাড়ায় অন্যের দিকে,
সত্যের কথা বলে,
ভুলের অন্ধকার ভেঙে দেয় আলো দিয়ে।
যখন পথ হয় কঠিন,
ঝড়ে ভেঙে পড়ে মন,
তারা দাঁড়ায় একে অপরের পাশে—
ধৈর্যের বাণী হয়ে, শক্তির বন্ধন।
“ধৈর্য ধরো”—
এই ডাকেই জাগে নতুন প্রভাত,
কষ্টের ভিতরেও তারা দেখে আশা,
কারণ জানে—পরীক্ষার পরেই আসে মুক্তির স্বাদ।
তাই হে মানুষ—
সময়ের কসম, ভাবো একবার,
তুমি কি ক্ষতির স্রোতে ভাসছো,
নাকি গড়ছো মুক্তির দ্বার?
ঈমানকে করো সঙ্গী,
সৎকর্মে ভরাও দিন-রাত,
সত্যের পথে ডাকো সবাইকে,
ধৈর্য ধরো—যতই আসুক আঘাত।
তবেই এই ক্ষণিক জীবনের মাঝে,
হারাবে না তোমার পরিচয়,
সময় হবে সাক্ষী—
তুমিই তো সেই, যে ক্ষতির মাঝে নয়।
***
সময়ের কসম—
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে ঝরে জীবনের ক্ষণ,
দেখতে দেখতে ফুরিয়ে যায় দিনের অর্জন;
ঘড়ির কাঁটা বলে—“ফিরে পাবি না আর”,
এই ক্ষণিক জীবন—পরীক্ষারই ধার।
নিশ্চয় মানুষ সব ক্ষতিরই পথে,
মায়ার মোহে ডুবে থাকে রাত-দিন রথে;
হিসাব করে দুনিয়া, ভুলে আখিরাত,
চোখের সামনে থেকেও হারায় সত্যের প্রভাত।
দৌড়ায় সবাই সুখের মরীচিকার পিছে,
কেউ বুঝে না সময় কেমন নিঃশব্দে মিছে;
হাসির আড়ালে লুকায় শূন্যতার হাহাকার,
ভিতরে ভিতরে জ্বলে অজানা অন্ধকার।
তবে আছে কিছু প্রাণ—আলোরই পথিক,
ঈমানে দৃঢ়, সত্যে যারা অটল অদম্য নীতিক;
তাদের হৃদয়ে জ্বলে আলোর প্রদীপ,
তাওহীদের ডাকে জাগে জীবনের নীপ।
তারা সৎকাজে গড়ে জীবনের ভিত্তি,
নীরবে বুনে চলে জান্নাতেরই সৃষ্টি;
প্রতিটি কাজে থাকে খোদাভীতি ও নূর,
তাদের পথচলা—শান্ত, নির্মল, সুর।
তারা শুধু নিজের মুক্তির তরে নয়,
অন্যকেও ডাকে—“এসো, সত্যেরই পথ রয়”;
ভুলের অন্ধকারে জ্বালে হিদায়াতের আলো,
ভ্রান্তির বাঁধন ছিঁড়ে করে হৃদয় ভালো।
তারা বলে—“সত্যে থাকো, হারিও না পথ”,
যদিও কাঁটা ভরা, তবু এ পথই রত্ন;
ধৈর্যের বাণী দেয় ক্লান্ত হৃদয়ের কাছে,
ঝড়ের মাঝেও দাঁড়াতে শেখায় বুক বাঁধে।
যখন নামে দুঃখ, আঁধারে ঢাকে মন,
তারা দেয় সাহস—“আল্লাহ আছেন, করো স্মরণ”;
ধৈর্যই তখন হয় শক্তির মিনার,
পরীক্ষার পরেই আসে রহমতের দ্বার।
তাই হে মানব, শোনো সময়েরই ডাক,
ক্ষতির স্রোত ছেড়ে ধরো সত্যের পথ পাক;
ঈমানকে সাথী করো, সৎকর্মে হও দৃঢ়,
সত্য আর ধৈর্যে গড়ো জীবনেরই নীড়।
তবেই এ জীবনের ক্ষণিক এই সফর,
হবে না বৃথা, হবে না কোনো ক্ষয়-অপর;
সময়ের কসম—সাক্ষী থাকবে ইতিহাস,
তুমিই সেই মানুষ, যে জিতেছে সর্বনাশ।
***
সময়ের কসম—
টুপটাপ ঝরে পড়ে জীবনেরই ক্ষণ,
অদৃশ্য স্রোতে ভাসে প্রতিটি দিন-গণ;
ঘড়ির কাঁটা বলে—“থামিস না আর ভাই”,
যা গেল একবার, ফিরে আসে না তাই।
নিশ্চয় মানুষ সব ক্ষতিরই পথে,
মায়ার খেলায় মগ্ন, ভুলে সত্য রথে;
হাসির আড়ালে থাকে শূন্যতার বাস,
অজান্তে হারায় সে নিজেরই আভাস।
সকাল গড়িয়ে যায়, সন্ধ্যা নামে চুপে,
সময় কেটে নেয় আয়ু ধীরে ধুপে ধুপে;
কেউ বোঝে না কত ক্ষতি জমে অন্তরে,
বাইরে রঙিন, ভেতরটা শূন্য ঘরে।
তবু আছে কিছু প্রাণ—জাগ্রত দীপশিখা,
ঈমান যাদের বুকে অটল মহাশিখা;
আল্লাহর ভয়ে যারা পথ চলে সদা,
সৎকর্মে গড়ে তারা জীবনেরই ছাঁদা।
নীরবে তারা করে কল্যাণের বীজ বপন,
মানবতার মাঠে আনে শান্তিরই স্বপন;
নিজে বাঁচে না শুধু, ডাকে সবাইকে সাথে,
“এসো, সত্যের পথে”—ভালোবাসার হাতে।
তারা বলে—“সত্যই জীবন, মিথ্যা শুধু ছায়া”,
ভুলের অন্ধকারে জ্বালো হিদায়াতের মায়া;
কাঁটা থাকলেও এই পথই মুক্তির দিশা,
এ পথেই লুকানো চিরসুখের আশা।
আর যখন নামে দুঃখেরই কালো মেঘ,
হৃদয়ে জমে উঠে ব্যথারই রেশ,
তারা বলে—“ধৈর্য ধরো, হারিও না মান”,
ধৈর্যেই লুকানো সফলতার গান।
ধৈর্য তাদের ঢাল, ঈমান তাদের বল,
ঝড়ের মাঝেও তারা থাকে অবিচল;
পরস্পরকে ধরে রাখে শক্ত করে হাত,
এই বন্ধনেই জাগে মুক্তির প্রভাত।
তাই হে মানুষ, সময়ের ডাক শোনো,
ক্ষতির ঘুম ভেঙে সত্যের পথে রওনা হও;
ঈমানকে আঁকড়ে ধরো, সৎকাজে হও ধীর,
সত্য আর ধৈর্যে গড়ো জীবনের নৌ-নীর।
তবেই এই ক্ষণিক দুনিয়ার পথচলা,
হবে না বৃথা, হবে না কোনো জ্বালা;
সময়ের কসম—এই সত্য অটল রয়,
যে এই পথে চলে, সে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত নয়।
৪
৪ মন্তব্য