প্রধান শিক্ষক
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুরোনো বছরের বিদায় ও নতুনের আবাহন পাহাড়ে উৎসবের ধুম
পুরোনো বছরের বিদায় ও নতুন বছরের আগমনী ঘিরে পাহাড়ে এখন উৎসবের ধুম। বইছে আনন্দধারা। এখানকার জাতিগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ ঘিরে মুখর হয়ে উঠেছে গোটা জনপদ। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পালিত হচ্ছে বর্ণিল নানা কর্মসূচি। রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। উৎসবকে ঘিরে পৌর প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। এ সময় ঐতিহ্যবাহী গীতিনৃত্য পরিবেশন করেন পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা। বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-চাংক্রান-চাংলান-পাতা-বিহু ২০২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ-সদস্য ঊষাতন তালুকদার। স্বাগত বক্তৃতা করেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার। উদ্বোধন শেষে পৌর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর রাজবাড়ী শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়া এদিন বিকালে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে ভাষা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আজ (শুক্রবার) রয়েছে দিনব্যাপী আদিবাসী জুম্ম খেলাধুলা ও পুরস্কার বিতরণী, কাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বলীখেলা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ১২ এপ্রিল (রোববার) ভোরে রাজবন বিহার ঘাটে নদীতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। এদিকে খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়। এ উপলক্ষ্যে সম্প্রদায়টি আয়োজন করে বৈসু শোভাযাত্রার। দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষা শেষে এই শোভাযাত্রায় যোগ দেয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সি মানুষ। এ সময় তারা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঢোল, বাঁশি বাজিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রাটি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। বৈসু উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক শুভ্রদেব ত্রিপুরা জানান, তাদের বর্ষবরণের মূল আয়োজন শুরু হবে ১২ এপ্রিল। চলবে তিন দিন। পুরোনো বছরের শেষ দুই দিন উদযাপন করা হবে হারি বৈসু ও বৈসুমা, আর নতুন বছরের প্রথম দিন উদযাপন করা হবে বিচি কাতাল।
উৎসবটিকে চাকমা সম্প্রদায় ‘বিজু’, মারমারা ‘সাংগ্রাই’ তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা চাংক্রান, অহমিয়া জনগোষ্ঠী ‘বিহু’ নামে উদযাপন করে। এছাড়া পাহাড়ের অন্যান্য সম্প্রদায় নিজেদের ভাষায় ভিন্ন ভিন্ন নামে উৎসবটি উদযাপন করে করে থাকে। চাকমারীতি অনুযায়ী প্রতিবছর বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষ্যে উৎসবটির প্রথম দিন (১২ এপ্রিল, ২৯ চৈত্র) ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন (১৩ এপ্রিল, ৩০ চৈত্র) মূলবিজু এবং শেষ বা তৃতীয় দিন (১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ) গোজ্যাপোজ্যা হিসাবে পালন করা হয়।
৪
৪ মন্তব্য