প্রভাষক
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
গ্রিক পুরাণের দেবী আর্টেমিস
গ্রিক পুরাণের দেবী আর্টেমিস সম্পর্কে বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
জন্ম ও পরিচয়
আর্টেমিস ছিলেন দেবরাজ জিউস
এবং টাইটান দেবী লেটোর
কন্যা। তিনি দেবতা অ্যাপোলোর
যমজ বোন। লোকগাঁথা অনুযায়ী, আর্টেমিস তার ভাইয়ের চেয়ে কিছুটা আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং জন্মের পরপরই তিনি তার মাকে অ্যাপোলোর প্রসবে সাহায্য করেছিলেন, যার ফলে তাকে সন্তান জন্মদান বা ধাত্রীবিদ্যার দেবী হিসেবেও গণ্য করা হয়।
স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য
আর্টেমিস মূলত বন্য প্রকৃতি এবং শিকারের দেবী। তার চরিত্রের প্রধান কিছু দিক হলো:
চিরকুমারী দেবী: তিনি চিরকাল অবিবাহিত থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবং সতীত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
শিকারী রূপ: তাকে সবসময় তরুণী ও চটপটে রূপে কল্পনা করা হয়, যিনি হাতে রূপালী তীর-ধনুক নিয়ে বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান।
প্রকৃতির রক্ষক: তিনি যেমন শিকারী ছিলেন, তেমনি বন্য প্রাণীদের (বিশেষ করে তরুণ প্রাণীদের) রক্ষকও ছিলেন।
চাঁদের দেবী: পরবর্তীকালে গ্রিক পুরাণে তাকে চাঁদের দেবী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেমনটা তার ভাই অ্যাপোলো সূর্যের সাথে যুক্ত।
প্রতীক ও বাহন
আর্টেমিসের সাথে বেশ কিছু প্রতীক ও প্রাণী ওতপ্রোতভাবে জড়িত:
তীর ও ধনুক: এটি তার শিকারী সত্তার প্রধান অস্ত্র।
হরিণ : এটি তার পবিত্র প্রাণী। অনেক চিত্রে তাকে একটি হরিণ বা স্ট্যাগ (Stag)-এর সাথে দেখা যায়।
সাইপ্রেস গাছ: এটি তার পবিত্র উদ্ভিদ।
বিখ্যাত পৌরাণিক কাহিনী
তার জীবন নিয়ে অনেক রোমাঞ্চকর কাহিনী রয়েছে:
অ্যাক্টেয়ন ও আর্টেমিস: একবার শিকারী অ্যাক্টেয়ন ভুলবশত দেবীকে স্নানরত অবস্থায় দেখে ফেলেন। ক্রুদ্ধ দেবী তাকে একটি হরিণে রূপান্তর করে দেন এবং পরে অ্যাক্টেয়ন তার নিজের শিকারী কুকুরদের হাতেই প্রাণ হারান।
ওরিয়ন ও আর্টেমিস: অনেক গল্পে শিকারী ওরিয়নকে আর্টেমিসের একমাত্র প্রিয় সঙ্গী বা ভালোবাসার মানুষ হিসেবে দেখানো হয়। তবে ভুল বোঝাবুঝি বা তার ভাই অ্যাপোলোর চক্রান্তে আর্টেমিসের তীরেই ওরিয়নের মৃত্যু হয় এবং পরে তাকে নক্ষত্রপুঞ্জ হিসেবে আকাশে স্থান দেওয়া হয়।
উপাসনা ও গুরুত্ব
প্রাচীন গ্রিসে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তুরস্কের ইফিসাসে তার উদ্দেশ্যে নির্মিত আর্টেমিসের মন্দিরটি ছিল তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য। আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণাতেও তার নাম অত্যন্ত প্রভাবশালী, যা আমরা নাসার আর্টেমিস মিশনে দেখতে পাই।
৪
৪ মন্তব্য