সহকারী অধ্যাপক
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রকৃত মুসলিম - মোঃ মুজিবুর রহমান
প্রকৃত মুসলিম
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
প্রকৃত মুসলিম সে-ই মানুষ,
মুখে যার নেই কোনো বিষ,
জিহ্বা তার শান্তির ভাষা,
কথায় ঝরে মমতার রস।
তার হাত কখনো আঘাত দেয় না,
কাউকে করে না কষ্ট,
নরম স্পর্শে ভালোবাসা,
এটাই তার জীবনের রসদ।
চোখে তার থাকে লজ্জার আলো,
হৃদয়ে আল্লাহর ভয়,
গোপনে হলেও অন্যায় দেখে,
নিজেকে সে শুধরে নেয়।
প্রকৃত মুসলিম সে-ই ভাই,
যার পাশে থাকে নিরাপদ সবাই,
তার কারণে কেউ কাঁদে না,
বরং দুঃখে খুঁজে তার ঠাঁই।
আর যে মানুষ গুনাহ ছেড়ে
ফিরে আসে আলোর পথে,
সেই তো সত্যিকারের মুহাজির,
রবের সন্তুষ্টির রথে।
সে ত্যাগ করে নিষিদ্ধ সব,
হারাম থেকে নেয় বিদায়,
নিজেকে গড়ে পবিত্র করে,
ইমানে খুঁজে মুক্তির ঠিকানায়।
হে মানুষ, তুমি কেমন মুসলিম?
একবার নিজেকে জিজ্ঞাসা করো,
তোমার কথা, তোমার আচরণ—
কারো মনে কি আঘাত ধরো?
চল বদলাই নিজের ভিতর,
শুদ্ধ করি মন আর প্রাণ,
নবীর দেখানো সেই পথে,
গড়ি সুন্দর জীবনখান।
প্রকৃত মুসলিম হতে হলে,
শুধু নামেই নয় পরিচয়,
মানবতার আলো জ্বালিয়ে,
প্রমাণ দাও—তুমিই সেই হয়।
***
প্রকৃত মুসলিম
প্রকৃত মুসলিম নামটি শুধু উচ্চারণে নয়,
এটা এক দায়িত্ব, এক আমানত, এক গভীর পরিচয়।
মুখে কালিমা, বুকে ঈমান—এটাই তো শুরু,
কিন্তু আচরণে না এলে সত্য—সবই থাকে মিথ্যা রূপে ভরু।
জিহ্বা যদি আঘাত করে, কটু বাক্য ছুঁড়ে দেয়,
তবে সে কেমন মুসলিম—যে মানুষকেই কাঁদায়?
হাত যদি অন্যায় ছোঁয়, জুলুমে হয় অভ্যস্ত,
তবে তার ইবাদত শুধু বাহিরে—ভিতরে শূন্য অস্তিত্ব।
প্রকৃত মুসলিম সে-ই জন,
যার থেকে নিরাপদ প্রতিজন,
তার পাশে বসে শান্তি পায়,
ভয় নয়—ভরসা জাগে মন।
কথা ছোট, কিন্তু তার আঘাত হতে পারে গভীর,
একটি বাক্য ভেঙে দিতে পারে হৃদয়ের নীরব স্থির।
তাই যে মুসলিম, সে আগে শেখে—কীভাবে চুপ থাকা যায়,
অপ্রয়োজনীয় কথার চেয়ে নীরবতাই উত্তম হয় অনেক সময়।
তার জিহ্বা ঝরে মিষ্টি বাণী,
সত্য বলে, করে না হানি,
মানুষ পায় শান্তির ছোঁয়া,
তার কথায় নেই কোনো টানি।
গীবত তার কাছে বিষের মতো,
মিথ্যা তার কাছে লজ্জা,
সে জানে—প্রতিটি শব্দ লিখে রাখেন রব,
তাই ভয় তার অন্তরে বাজা।
✦ তাফসির
👉 রাসূল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন—
“যে ভালো কথা বলতে পারে না, সে যেন চুপ থাকে।”
এখানে বোঝানো হয়েছে—
কথা বলাও ইবাদত হতে পারে
আবার গুনাহর কারণও হতে পারে
তাই জিহ্বার হিফাজত = ঈমানের হিফাজত।
✦ কাব্য (তৃতীয় পর্ব: হাতের পবিত্রতা)
হাত দিয়ে শুধু কাজ নয়,
হাত দিয়েই হয় বিচার,
এই হাতই গড়ে আবার ভাঙে,
এই হাতেই লুকায় আচরণচার।
প্রকৃত মুসলিমের হাত কখনো
অন্যায় পথে যায় না,
কারো হক মেরে নেয় না সে,
অন্যকে কষ্ট দেয় না।
সে হাত বাড়ায় সাহায্যে,
দুঃখীর চোখ মুছে,
নিজের স্বার্থ ভুলে গিয়ে
মানবতার পথে পা রাখে।
✦ তাফসির
হাত” দ্বারা বোঝানো হয়েছে—
শারীরিক আঘাত
অন্যের সম্পদ দখল
ক্ষমতার অপব্যবহার
প্রকৃত মুসলিম:
কারো ক্ষতি করে না
বরং উপকার করে
✦ কাব্য (চতুর্থ পর্ব: প্রকৃত মুহাজির)
মুহাজির শুধু দেশ ছেড়ে যাওয়া নয়,
এটা আত্মার এক যাত্রা, এক অন্তরের ক্ষয়।
যে মানুষ গুনাহ ছেড়ে আলোর পথে হাঁটে,
সে-ই প্রকৃত মুহাজির—রবের রহমত পেত
হারাম থেকে দূরে সরে,
নফসকে করে দমন,
চোখ, কান, মন—সবকিছুতে
আনে পবিত্রতার শাসন।
সে জানে—ত্যাগেই মুক্তি,
সংযমেই রয়েছে জয়,
এই দুনিয়া ক্ষণিকের পথ,
আখিরাতই আসল পরিচয়।
✦ তাফসির
হাদীসে বলা “মুহাজির” এখানে প্রতীকী—
অর্থ:
গুনাহ থেকে হিজরত
খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে সরা
আল্লাহর নিষেধ মানা
এটাই প্রকৃত পরিবর্তন।
✦ কাব্য (সমাপনী আহ্বান)
হে মানুষ, আয়নার সামনে দাঁড়াও একবার,
নিজের ভেতর দেখো—আছে কি সত্যের আলো আর?
তোমার জিহ্বা কাকে কাঁদায়, তোমার হাত কাকে আঘাত দেয়—
একটু ভেবে দেখো, হৃদয় কি তোমাকে কিছু বলে না সে?
চল ফিরে যাই সেই পথে,
যেখানে নবীর শিক্ষা জাগে,
মানবতা, দয়া, সত্যের আলো—
জীবনটাকে আলোকিত করে।
প্রকৃত মুসলিম হওয়া কঠিন,
কিন্তু অসম্ভব নয়,
নিজেকে বদলালে ধীরে ধীরে
রবের রহমত নেমে রয়।
***
প্রকৃত মুসলিম
নাম নয় শুধু মুসলিম হওয়া, কাজেই তার পরিচয়,
জিহ্বা যার শান্তির বাণী, হৃদয় জুড়ে আল্লাহ ভয়।
হাত যার কারো ক্ষতি করে না, বরং দেয় আশ্রয়,
তার ছায়াতে মানুষ খুঁজে পায় নিরাপদের পরিচয়।
কথা বলে সে মেপে মেপে, সত্য যার মূল ধন,
মিথ্যার ছায়া ছুঁতে পারে না তার পবিত্র জীবন।
গীবতের আগুন নিভিয়ে রাখে নীরবতার জলে,
মানুষ গড়ার স্বপ্ন দেখে প্রতিটি ভালো বলে।
এই পথে প্রথম মানুষ আদম, ভুলে করেছিলেন ক্ষণ,
তবু তাওবার অশ্রু ঝরিয়ে পেলেন ক্ষমার জীবন।
শিখালেন তিনি—ভুল হলে ফিরতে হবে আবার,
রবের দরজা খোলা থাকে, দয়া তাঁর অপার।
নূহ নবী ডাকলেন সবাইকে, শত বছর পার,
কটু কথা আর অবহেলায় ভাঙেনি তাঁর ভার।
জিহ্বা ছিল সত্যের পথে, ধৈর্য ছিল ঢাল,
অবিশ্বাসের ঝড়ে থেকেও ছিলেন অবিচল।
ইবরাহিম আগুনে থেকেও হারাননি বিশ্বাস,
হাত তোলেননি অন্যায়ে, করেননি সর্বনাশ।
শান্তির পথে ডাক দিয়েছেন, ত্যাগ করেছেন সব,
প্রকৃত মুসলিম কাকে বলে—শিখিয়েছেন রব।
মূসা দাঁড়ালেন জালিমের সামনে সত্যের বল নিয়ে,
হাত ছিল ন্যায়ের পক্ষে, জিহ্বা ছিল আলো দিয়ে।
ক্ষমতার ভয় করেননি, সত্য বলেন নির্ভীক,
এই শিক্ষা আজও জাগায় সাহস, করে হৃদয় ঠিক।
ঈসা নবী ভালোবাসায় ভরিয়ে দিলেন প্রাণ,
কষ্ট পেয়ে দোয়া করেছেন—এটাই তাঁর জ্ঞান।
জিহ্বা ছিল দয়ার ভাষা, হাত ছিল মমতায় ভরা,
মানবতার শিক্ষা দিলেন, ভাঙলেন অন্ধকার ধরা।
শেষ নবী এলো দুনিয়াতে রহমতেরই ছায়া,
তাঁর চরিত্র কুরআনের মতো, সত্যের মহিমা গায়।
তিনি বললেন—সেই মুসলিম, নিরাপদ যার থেকে সবাই,
জিহ্বা ও হাতের আঘাতহীন—এটাই শ্রেষ্ঠ পরিচয় তাই।
তিনি গড়লেন এমন সমাজ, যেখানে ছিল না ভয়,
ধনী-গরিব এক কাতারে, ন্যায়ের ছিল জয়।
ক্ষমা দিয়ে জিতেছেন মন, প্রতিশোধ নয় পথ,
এই আদর্শে গড়তে হবে আমাদের প্রতিদিনের রথ।
মুহাজির সে-ই, যে ছাড়ে গুনাহ, ছেড়ে দেয় অন্ধকার,
নফসের সাথে যুদ্ধ করে জিতে নেয় বারবার।
চোখকে রাখে সংযমে, কানকে করে পবিত্র,
অন্তর ভরে আল্লাহভয়ে—জীবন হয় সুস্পষ্ট।
আজও যদি মানুষ চায় প্রকৃত মুসলিম হতে,
তবে বদল আনতে হবে নিজের অন্তরেতে।
কথায় আনতে হবে সত্য, কাজে আনতে ন্যায়,
অন্যের কষ্ট বুঝতে শিখে ভালোবাসা ছড়ায়।
সমাজ ভাঙে কটু কথায়, হাতের অন্যায়ে,
শান্তি আসে মমতায় আর সত্যের মায়ায়।
তাই এসো আমরা বদলাই, শুরু করি আজ,
নিজের ভেতর গড়ি আগে সুন্দর এক সমাজ।
রাতের আঁধার ভেঙে যাবে, যদি জ্বলে আলো,
একটি ভালো মানুষই পারে বদলাতে কালো।
প্রকৃত মুসলিম হওয়া তাই এক জীবনের সাধ,
এই পথেই রয়েছে লুকিয়ে চিরশান্তির বাদ।
শেষে যখন দাঁড়াবো সবাই হিসাবেরই দিনে,
জিহ্বা আর হাতই বলবে—কি করেছি জীবনে।
সেই দিনের জন্য আজই প্রস্তুতি নাও মন,
প্রকৃত মুসলিম হয়ে ওঠাই হোক জীবনের পণ।
***
আদম থেকে শুরু হলো মানবজাতির পথ,
ভুল আর তাওবার মাঝে জেগে উঠল রত্নরথ।
শিখালেন তিনি—পাপ হলেও ফিরতে হবে ঠিক,
রবের দয়া সীমাহীন, ক্ষমাই তাঁর দীক্ষা দিক।
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে হারালো জান্নাতবাস,
তবু তাওবার অশ্রুতে মিলল রহমতের আশ্বাস।
এ শিক্ষা রইল চিরদিন—ভুল মানেই শেষ নয়,
ফিরে আসাই সফলতা, এ পথেই মুক্তি রয়।
নূহের কাহিনি ধৈর্যের এক অটল মহাগান,
শত শত বছর ডেকেও পেলেন না সম্মান।
হাসি-তামাশা, কটু বাক্য—সবই সয়ে নিলেন,
জিহ্বা ছিল সত্যের পথে, তবু দয়া বিলালেন।
নৌকা গড়ার নির্দেশ এলো অদৃশ্যের ইশারায়,
মানুষ হাসে—“পাগল নূহ!”—অজ্ঞতার অন্ধকারায়।
তবু তিনি থামেননি, কাজ করে গেলেন চুপ,
বিশ্বাসীরা উঠল নৌকায়, ডুবে গেল মিথ্যার রূপ।
ইবরাহিমের জীবন ছিল ত্যাগের আলোকছটা,
মূর্তি ভেঙে বললেন তিনি—সত্য একটাই কথা।
আগুন জ্বলে চারপাশে, তবু অন্তরে ভয় নেই,
রবের উপর ভরসা যার—তার জন্য ক্ষতি নেই।
পুত্রকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হৃদয়,
এই তো প্রকৃত আনুগত্য, এই তো ঈমানের জয়।
নিজের ইচ্ছা ত্যাগ করে রবের হুকুম মানা,
এই শিক্ষাই যুগে যুগে মুসলিমের প্রেরণা।
লূত নবী দাঁড়ালেন এক অশ্লীলতার মাঝে,
সমাজ যখন ডুবে গেছে লজ্জাহীনতার সাজে।
সত্য বলে গেলেন তিনি, ভয়কে করলেন জয়,
শুদ্ধতার ডাক দিয়েই গেলেন নির্ভীক হৃদয়।
মূসা এলেন ফিরআউনের অহংকার ভাঙতে,
লাঠি হলো নিদর্শন, সত্যের আলো জ্বালতে।
সমুদ্র ভাগ হলো পথে, মুক্তির নতুন দিশা,
অত্যাচারের শেষ হয়—এটাই চির সত্য ভাষা।
বনী ইসরাঈল পেল পথ, তবু ভুলে যায় বারবার,
মানুষের এই দুর্বলতা যুগে যুগে অপরিসীম ভার।
তবু আল্লাহ দয়া করেন, সুযোগ দেন ফিরে আসার,
প্রকৃত মুসলিম সে-ই—যে শেখে ভুল থেকে আবার।
দাউদ পেলেন জ্ঞান আর শক্তি, ন্যায়বিচারের মান,
সুলাইমানের রাজত্ব ছিল আল্লাহরই দান।
ক্ষমতা পেয়ে যারা নত, তারাই সত্যিকার বড়,
অহংকারে ডুবে গেলে মানুষ হয় ক্ষুদ্রতর।
ইউসুফের জীবনে দেখি ধৈর্যের অপার রূপ,
কূপে নিক্ষেপ, কারাবাস—তবু ছিল না কোনো ক্ষোভ।
ক্ষমা দিয়ে জিতলেন শেষে হৃদয়ের রাজ্য,
প্রকৃত মুসলিম এমনই—ক্ষমাতেই তার সাজ্য।
ইউনুস নবী শিখালেন ভুল বুঝে ফেরার গান,
অন্ধকারের গভীরেও জাগে তাওবার প্রাণ।
একটি দোয়া খুলে দিল মুক্তির সব দ্বার,
রবের স্মরণেই লুকিয়ে জীবনের আসল পার।
ঈসা নবী এলেন দয়ার বারতা নিয়ে,
অসুস্থ হৃদয় জুড়ালেন ভালোবাসা দিয়ে।
কষ্টের বদলে দোয়া, ঘৃণার বদলে মায়া,
এই পথেই জাগে সত্য, মুছে যায় সব ছায়া।
অবশেষে এলো দুনিয়ায় শেষ নবীর আলো,
অন্ধকারের বুক চিরে উঠল সত্য ভালো।
তিনি গড়লেন এমন উম্মাহ—ন্যায় যেখানে মূল,
জিহ্বা-হাত নিরাপদ করে গড়লেন মানবকূল।
শত্রুকেও ক্ষমা করে জিতলেন হৃদয়,
দয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করলেন সত্যময়।
বললেন—“সেই মুসলিম, যার থেকে নিরাপদ সবাই,”
এই বাণী আজও জাগায়, সত্যের পথ দেখায় তাই।
মুহাজির সে-ই, যে ছাড়ে গুনাহ অন্ধকার,
নিজের নফসকে জিতেই পায় আলোর অধিকার।
এ জিহাদ অন্তরের, এ লড়াই নীরব,
এই পথেই গড়ে ওঠে ঈমান দৃঢ় সব।
এখন সময় এগিয়ে চলে শেষ অধ্যায়ের পানে,
যেখানে সব হিসাব হবে প্রতিটি প্রাণের টানে।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন শেষ হবে একদিন,
কিয়ামতের ডাকে কাঁপবে আকাশ-জমিন।
***
প্রকৃত মুসলিম
একদিন হঠাৎ থেমে যাবে দুনিয়ার সব গান,
নিঃশব্দ হবে কোলাহল, স্তব্ধ হবে প্রাণ।
আকাশ কাঁপে, ভূমি ফেটে, পাহাড় উড়ে যায়,
সৃষ্টি জুড়ে ভয়াল দৃশ্য—কেউ রক্ষা না পায়।
সূর্য যেন কাছে নেমে জ্বালায় তপ্ত আগুন,
মানুষ দিশেহারা তখন, নেই কোনো আশ্রয় গুণ।
মা ভুলে যায় সন্তানকে, ভাই ভুলে ভাই,
নিজের চিন্তায় ডুবে সবাই—কোথায় যাবে ঠাঁই?
সিংগা ফুঁকা হলো যখন, কাঁপল জগৎজুড়ে,
মৃত সব প্রাণ উঠল জেগে অজানা এক সুরে।
কবর ছেড়ে দলে দলে দাঁড়াল হিসাব তরে,
দুনিয়ার সব লুকানো কাজ প্রকাশ হবে পরে।
হাশরের সেই ময়দানে নেই কোনো পরিচয়,
রাজা-গরিব এক কাতারে—সবাই সমান হয়।
কেউ কাঁদে ভয় আর লজ্জায়, কেউ আশায় থাকে,
কারো মুখে আলো জ্বলে, কারো অন্ধকার ঢাকে।
আমলনামা হাতে এল—ডান না বাম পাশে,
কারো মুখে হাসির রেখা, কারো হৃদয় কাঁপে।
যে ডানে পায়, সে বলে উঠে—“এসো দেখো সবাই!”
যে বামে পায়, সে আফসোসে—“কেন এলাম ভাই!”
মিজানের পাল্লা দুলে—কর্মের ভার মাপে,
একটি ভালো কাজও তখন মুক্তির দ্বার খোলে।
ক্ষুদ্র সৎকর্ম বৃথা নয়, সবই ধরা পড়ে,
রবের কাছে লুকায় না কিছু—সবই আসে ঘরে।
তারপর আসে সূক্ষ্ম সেতু—সিরাত নাম তার,
চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম যেন, তলোয়ারের ধার।
কেউ পার হয় বিদ্যুত গতিতে, কেউ পড়ে যায় নিচে,
কেউ হামাগুড়ি দিয়ে যায় ভয়ে বুকটি মুচড়ে।
যারা ছিল দয়ার পথে, সত্য যার সাথী,
তাদের জন্য সহজ হয় সে কঠিন পারাপারই।
আর যারা জুলুম করেছে, কষ্ট দিয়েছে প্রাণে,
তাদের পা কেঁপে ওঠে সেই ভয়াল সন্ধানে।
তারপর খুলে জান্নাত দ্বার—শান্তির অফুরান,
সেখানে নেই কোনো ভয়, নেই দুঃখের গান।
নদী বয়ে যায় সুধার মতো, বাগান ভরা ফুল,
চিরসুখের সেই আবাসে নেই কোনো ভুল।
মুখে হাসি, হৃদয় ভরা শান্তির আলোয়,
চিরদিনের আনন্দ সেখানে ছড়িয়ে রয়।
প্রিয়জনেরা মিলবে আবার ভালোবাসার ছায়ায়,
রবের সন্তুষ্টি সবার উপর রহমত হয়ে যায়।
আর অন্যপাশে জাহান্নাম—ভয়াবহ এক স্থান,
অন্যায়ের ফল সেখানে, কষ্টের অবসান।
যারা কটু বাক্য বলেছে, অন্যায় করেছে হাত,
তাদের জন্য কঠিন শাস্তি—ভয়াবহ প্রতিঘাত।
অনুতাপে কাঁদবে তারা, ফিরে যাওয়ার তরে,
কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেছে—ফিরবার পথ না পড়ে।
দুনিয়ার সেই ছোট ভুল আজ বিশাল হয়ে দাঁড়ায়,
অবহেলার প্রতিটি ক্ষণ আজ হিসাব হয়ে যায়।
তখন বুঝবে মানুষ সত্য—কি ছিল আসল পথ,
প্রকৃত মুসলিম হওয়াই ছিল জীবনের রথ।
জিহ্বা-হাত সামলে রাখা ছিল মুক্তির চাবি,
আজ তা না মানার ফলেই চোখে অশ্রু ঝরে নাভি।
হে মানুষ, আজও সময় আছে, ফিরে এসো পথে,
নিজেকে গড়ো সত্য দিয়ে, আলোরই রথে।
কথায় আনো মমতা, কাজে আনো ন্যায়,
প্রকৃত মুসলিম হয়ে ওঠ—এটাই জীবনের চায়।
শেষে যখন রবের সামনে দাঁড়াবে নির্ভয়,
তখনই বুঝবে—এই পথেই ছিল সত্যময় জয়।
এই মহাকাব্য এক আহ্বান—জীবন গড়ার গান,
প্রকৃত মুসলিম হোক সবাই—এই হোক শেষ বাণী প্রাণ।
***
মানুষ তুমি নামেই মানুষ, কাজে কতটুকু বলো?
ভিতরটা কি আলোর পথে, নাকি আঁধারে ঢলো?
মুখে আছে ঈমানের কথা, অন্তরে কত সত্য?
এই প্রশ্নেই শুরু হোক আজ আত্মশুদ্ধির পথ।
এই ভূমিকা মানুষকে আত্মসমালোচনার দিকে আহ্বান করে—
ইসলামে বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে অন্তরের সংশোধনই মূল।
প্রকৃত মুসলিম সে-ই জন, যার জিহ্বা শান্তির বাণী,
হাত যার কারো ক্ষতি করে না, নেই কোনো গ্লানি।
তার পাশে মানুষ নিরাপদ, পায় ভালোবাসার ঠাঁই,
এই পরিচয়েই মুসলিম হওয়া—এটাই সত্য ভাই।
একটি কথা ভাঙতে পারে হাজারো সম্পর্ক,
একটি বাক্য গড়তে পারে ভালোবাসার স্বর্গ।
তাই যে মুমিন, সে শেখে আগে—কথা কেমন হয়,
নীরব থাকাও অনেক সময় শ্রেষ্ঠ ইবাদত হয়।
হাত দিয়ে হয় জুলুম, আবার হয় দয়া,
এই হাতেই গড়ে ওঠে মানবতার মায়া।
প্রকৃত মুসলিম সেই, যার হাত নিরাপদ,
অন্যের হক রক্ষা করাই তার জীবনের সাধ।
ভুল করেও থেমে থাকেনি প্রথম মানব প্রাণ,
তাওবার অশ্রুতে জেগে উঠল ক্ষমার দান।
শিখালো সে ইতিহাস—ভুল মানেই শেষ নয়,
ফিরে আসার পথেই থাকে আসল সফল জয়।
শত বছর ডাক দিয়েও পেলেন না সাড়া,
তবু থামেননি তিনি—ধৈর্য ছিল তাঁর ধারা।
অপমান সহ্য করেও সত্যের পথে স্থির,
এই শিক্ষা দেয়—ধৈর্যেই মেলে আলোর দিশা ধীর।
আগুনের মাঝেও যিনি হারাননি বিশ্বাস,
ত্যাগের মাধ্যমে লিখেছেন ঈমানের ইতিহাস।
নিজের চাওয়া বিসর্জন দিয়ে রবের হুকুম মানা,
এই পথেই সত্যিকারের মুসলিমের গড়া জানা।
জালিমের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন সত্য কথা,
ক্ষমতার ভয় করেননি—এটাই তাঁর ব্যথা।
ন্যায়ের পথে লড়াই করাই তাঁর জীবনের গান,
এই শিক্ষায় জাগে সাহস, জাগে দৃঢ় প্রাণ।
ঘৃণার বদলে ভালোবাসা, কষ্টের বদলে দোয়া,
এই ছিল তাঁর শিক্ষা—মানবতার ছোঁয়া।
হৃদয় জয়ের এই পথই সবচেয়ে বড় শক্তি,
এই ভালোবাসায় লুকিয়ে আছে সত্যের ভক্তি।
তিনি এলেন অন্ধকারে আলো হয়ে জ্বলে,
মানবতার পূর্ণ আদর্শ তুলে ধরলেন ফলে।
বললেন—“সেই মুসলিম, নিরাপদ যার থেকে সবাই,”
এই বাণীতেই লুকিয়ে আছে জীবনের আসল দিশাই।
গুনাহ ছেড়ে যে ফিরে আসে আলোর পথে,
সে-ই প্রকৃত যাত্রী—সফলতার রথে।
নফসের সাথে যুদ্ধ করাই সবচেয়ে বড় জয়,
এই লড়াইয়েই লুকিয়ে থাকে চিরসুখের পরিচয়।
একদিন সব শেষ হবে, থামবে জীবনের গান,
কিয়ামতের ডাকে জেগে উঠবে প্রতিটি প্রাণ।
লুকানো সব কাজ তখন প্রকাশ হবে স্পষ্ট,
সত্যের সামনে মিথ্যা হবে সম্পূর্ণ নষ্ট।
আমলনামা খুলে যাবে, ডান বা বাম হাতে,
মিজানের পাল্লা দুলবে প্রতিটি কাজের সাথে।
ক্ষুদ্র ভালো কাজও তখন দেবে মুক্তির পথ,
অবহেলার ক্ষুদ্র ভুলও আনবে কঠিন রথ।
সূক্ষ্ম এক পথ, ভয়াল সেই পারাপার,
সৎকর্ম যার সাথী, তার জন্য সহজ দ্বার।
অন্যায় যার সঙ্গী ছিল, কাঁপবে তার পা,
এই পথেই প্রকাশ পাবে জীবনের ফলটা।
শান্তির বাগান, ভালোবাসার ঘর,
যেখানে নেই কোনো দুঃখ, নেই কোনো ভয় আর।
চিরসুখের সেই আবাস রবের সন্তুষ্টি ভরা,
এটাই মুমিনের চূড়ান্ত পুরস্কার ধরা।
অন্যায়ের পথ যারা বেছে নিয়েছিল ভুলে,
তাদের জন্য শাস্তি আছে কঠোর প্রতিফলে।
অনুতাপ তখন কাজে আসবে না আর,
সময় ফুরিয়ে গেলে বন্ধ সব দ্বার।
হে মানুষ, এখনও সময় আছে—ফিরে এসো পথে,
নিজেকে গড়ো সত্য দিয়ে আলোরই রথে।
প্রকৃত মুসলিম হওয়াই জীবনের মূল সাধ,
এই পথেই রয়েছে শান্তি—এই পথেই মুক্তির বাদ।
-(প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে)
৪
৪ মন্তব্য