Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতা


💥💥পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ভয়াবহতা💥💥


পুরো বিশ্ব যেনো টালমাটাল, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো একে অপরের বিপক্ষে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে সম্প্রতি। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই ইসরায়েলের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে মুসলিম দেশ ইরান। কাগজে কলমে ইরান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ না হলেও ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকার প্রমাণ মিলেছে বিভিন্নভাবে। ইরানের পারমাণবিক তৎপরতা বন্ধ করতেই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ইসরায়েল হামলা চালায় দেশটির পারমাণবিক গবেষণাগার ও স্থাপনায়। এরপর ই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ইরানের মুহুর্মুহু ব্যালিষ্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এখন বিধ্বস্ত কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশ ইসরায়েল। ইতিমধ্যে গুঞ্জন রয়েছে ইসরায়েলে হামলা চালাতে ইরান ব্যবহার করতে পারে তাদের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সব পারমাণবিক বোমা।


একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, জানলে রীতিমতো চমকে উঠবেন আপনি। একটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যেতে পারে গোটা একটি শহর। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হতে পারে কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত। আর যারা বেঁচে যাবেন, তাদেরকেও বাকি জীবন অতিবাহিত করতে হবে পুড়ে যাওয়া শরীর আর বিকলাঙ্গ নিয়ে।


বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাত্র ১ মেগাটনের একটি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হলে চারিদিকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর তেজস্ক্রিয়তা থেকে মানুষ, গাছপালা, দালানকোঠা রক্ষা পায়না কোনকিছুই। বিস্ফোরণের জায়গা থেকে ৮-১২ কিমি দূরে মানুষের ত্বকে থার্ড ডিগ্রি বার্ন হয়। আর ১৫-২০ কিমি পর্যন্ত অবস্থান করা মানুষের কানের পর্দা ফেটে যায়, গ্লাস ভেঙে পড়ে, খসে পড়ে নিমিষেই। ৫০-৮০ কিমি দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয়তা।


একটি পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক প্রাণহানি ঘটতে পারে ৩-৭ লাখ মানুষের, গুরুতর আহত হতে পারে ৫-১০ লাখ মানুষ। আর ৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ভবনগুলোর ৯০ শতাংশই রূপ নেবে ধ্বংসস্তুপে। বিষ্ফোরণের জায়গা থেকে চারিদিকে ৫০-৮০ কিলোমিটারের মত জায়গায় ২০-৩০ বছর মাটি ও পানি দূষিত অবস্থায় পাওয়া যাবে। এর ফলে বেঁচে যাওয়া মানুষেরা ক্যান্সার ও রেডিয়েশনজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হতে পারে। পুরুষরা হারাবে তাদের পুরুষত্ব, পরবর্তী প্রজন্ম জন্ম নিবে প্রতিবন্ধী হয়ে।


এদিকে অতীত ইতিহাস থেকেও জানা যায়, পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ভয়বহতা। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর ফেলে ‘লিটল বয়’ নামের একটি পারমাণবিক বোমা। বিস্ফোরণের মুহূর্তেই প্রাণ হারান প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ। কয়েক মাসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪০ হাজারে । এর তিন দিন পর, ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরের ওপর ফেলা হয় ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের দ্বিতীয় বোমাটি। এতে নিহত হন আরও ৭৫ হাজার মানুষ। এ দুই হামলায় প্রমাণ হয় পারমাণবিক বোমা যুদ্ধের অস্ত্র নয়, বরং মানবতা ধ্বংসের একমাত্র মাধ্যম।


বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশের হাতে রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড। এই তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল, রাশিয়া-ন্যাটো, উত্তর কোরিয়া ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একটি ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্ঘটনাও যদি পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নেয় তা মানবজাতির শেষ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।



মন্তব্য করুন

ব্লগ