সহকারী অধ্যাপক
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:১৪ অপরাহ্ণ
মুমিনের পথ: বিনয়ের - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মুমিনের পথ: বিনয়ের
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সফল তারা—যারা সত্যে অটল,
নীরব মনে চলে আলোর পথচল,
নামাজে দাঁড়ায় মাথা নত করে,
রবের দরবারে চোখ ভেজে ঝরে।
তাদের হৃদয়ে নেই অহংকার,
বিনয়ে ভরা প্রতিটি আচরণ-ব্যবহার,
নামাজ তাদের শুধু রুটিন নয়,
এ যেন প্রেম—রবের সাথে হৃদয়ের সংলয়।
অকারণ কথা, ফাঁকা সব কাজ,
ছুঁয়ে না তাদের, নেই তাতে লাজ,
অর্থহীন হাসি, বৃথা সময় নষ্ট—
তারা জানে জীবন অমূল্য, অতি কষ্ট।
যাকাতে তারা সদা সচেতন,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ায় অনুক্ষণ,
হাতে যা আছে—রবের দান মনে,
বিলিয়ে দেয় তা খুশির স্রোত বয়ে প্রাণে।
লজ্জার হেফাজত করে তারা ঠিক,
পবিত্রতায় রাখে জীবন সুনির্দিষ্ট,
হালালের পথে থাকে অবিচল,
নিষিদ্ধ কামনায় নয় কখনো বিকল।
যা বৈধ, তাতেই তারা তুষ্ট,
অন্য কিছুর দিকে নয় কোনো দৃষ্টি পুষ্ট,
যে সীমা ভাঙে—সে পথ হারায়,
নিজেকে নিজেই অন্ধকারে জড়ায়।
আমানত রাখে বুকের ভেতর,
ভঙ্গ করে না কোনো অঙ্গীকার,
বিশ্বাস তাদের এক অমূল্য ধন,
যত্নে রাখে—এটাই তাদের জীবন।
সময়মতো সালাত আদায় করে,
ভুলে না কখনো দুনিয়ার ঘোরে,
যে যত্ন নেয় এ ইবাদতে,
সে-ই তো জিতে যায় আখিরাতে।
তারাই হবে প্রকৃত উত্তরাধিকারী,
ফিরদাউস হবে তাদেরই বাড়ি,
যেখানে নেই দুঃখ, নেই কোনো ভয়,
চিরশান্তির জীবন—অশেষময়।
সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল,
রবের সন্তুষ্টি—সবচেয়ে বড় জ্বলজ্বল,
এ পথ যারা নেয় হৃদয়ে ধারণ,
সফল তাদেরই—চিরন্তন জীবন।
***
মুমিনের চিরন্তন যাত্রা **
আদি থেকে শুরু এই জীবনের গান,
মাটির মানুষে দিলেন রব প্রাণ,
অন্ধকার ভেদ করে আলোয় ডাক—
“আমার পথেই চলো, এটাই হক।”
দুনিয়ার বুকে মানুষ আসে যায়,
কেউ ভুলে রব, কেউ তাঁকেই চায়,
কেউ ডুবে থাকে অহংকারে ভরা,
কেউ চোখ ভেজায় সিজদাহ করে সারা।
যারা মুমিন—তারা আলাদা পথ,
নামাজে দাঁড়ায় বিনয়ের রথ,
মাথা নত করে কাঁদে নিরবে,
“হে প্রভু, রাখো আমায় তোমার পথে।”
তাদের কথায় নেই ফাঁকা শব্দ,
অর্থহীনতায় নেই কোনো গর্ব,
সময়কে তারা আমানত জেনে,
ব্যয় করে শুধু কল্যাণের ছোঁয়ায় বেঁধে।
যাকাত তাদের হৃদয়ের দান,
গরিবের মাঝে ছড়িয়ে প্রাণ,
হাসিমুখে দেয়, লুকিয়ে করে,
রবের সন্তুষ্টি রাখে অন্তরে।
পবিত্রতায় গড়ে তাদের জীবন,
চোখে লজ্জা, অন্তরে শুদ্ধ মন,
হারাম পথ থেকে দূরে থাকে,
হালালের মাঝেই শান্তি রাখে।
অঙ্গীকার তাদের অটুট দেয়াল,
বিশ্বাস ভাঙে না কোনো কাল,
আমানত রাখে বুকের মাঝে,
নিষ্ঠার আলো জ্বলে প্রতিটি কাজে।
নবীদের পথ তারা অনুসরণ করে,
ধৈর্যের শিক্ষা নেয় অন্তরে,
সত্যের পথে যতই কষ্ট আসুক,
রবের ভরসায় সব কিছু হাসুক।
এই দুনিয়া ক্ষণিকের মায়া,
আজ আছে, কাল সবই ছায়া,
তবু মানুষ ভুলে যায় সেই দিন—
যেদিন কাঁপবে আসমান-জমিন।
হঠাৎ একদিন শিঙ্গা বাজবে,
সবকিছু থেমে নীরব সাজবে,
পাহাড় ভেঙে ধূলি হবে,
সমুদ্র আগুনে জ্বলে রবে।
মা ভুলে যাবে সন্তানের নাম,
বন্ধু ভুলে যাবে বন্ধুর কাম,
প্রতিটি প্রাণ কাঁপবে ভয়ে—
“আজ কী হবে আমার পরিণয়ে?”
তারপর উঠবে সবাই কবর ছেড়ে,
দাঁড়াবে এক ময়দানে জড়ো হয়ে,
সূর্য কাছে, ঘাম ঝরে নদী,
কেউ বা হাসে, কেউ কাঁদে নিরবধি।
আমলনামা খুলবে তখন,
সত্য-মিথ্যা হবে স্পষ্ট গণন,
যারা ছিল মুমিন, বিনয়ী প্রাণ—
তাদের মুখে ফুটবে আশার গান।
তাদের বলা হবে—“ভয় কোরো না,
আজ তোমাদের কোনো ক্ষতি না,
যে পথে ছিলে, সেটাই সত্য—
আজ তারই পুরস্কার অমৃত।”
অন্যদিকে যারা সীমা ভেঙেছে,
রবের পথ থেকে মুখ ফিরিয়েছে,
তাদের চোখে শুধু আতঙ্ক জ্বলে,
অনুশোচনা আগুন হয়ে দগ্ধ করে।
তারপর খুলবে জান্নাতের দ্বার,
শান্তির বাতাস, অনন্ত সুখধার,
নদী বইছে দুধ ও মধুতে,
ফুলের সুবাস ভাসে প্রতিক্ষণে।
মুমিনেরা ঢুকবে দলে দলে,
মুখে তাদের নূরের আলো ঝলমলে,
দুঃখ-কষ্ট সব মুছে যাবে,
হৃদয় তাদের শান্তিতে ভরে রবে।
আর সবার ঊর্ধ্বে এক মহা স্থান—
ফিরদাউস, শ্রেষ্ঠ জান্নাতের সম্মান,
যেখানে থাকবে চিরকালীন সুখ,
নেই কোনো ভয়, নেই দুঃখের মুখ।
সেখানে তারা দেখবে প্রভুর রহমত,
শুনবে শান্তির অনন্ত সুরভিত,
এই সেই প্রতিদান—যারা ছিল সত্য,
নামাজে বিনয়, জীবনে শুদ্ধ।
তাই হে মানুষ, ভাবো আজই,
এই পথ ছাড়া গতি নেই কোনোই,
যে মুমিন হয়, সে-ই সফল,
তারই জন্য চির শান্তির ফল।
***
অসীম শূন্যে নীরব ছিল সৃষ্টির গোপন ডাক
রহমতের ছায়ায় জেগে উঠল দুনিয়ার রূপকথা আজ
মাটি দিয়ে গড়লেন মানুষ দিলেন প্রাণের আলো
জ্ঞান দিয়ে করলেন শ্রেষ্ঠ খুললেন হেদায়াতের তালা
ফেরেশতারা নত হল আদেশ পেয়ে রবের
ইবলিস তখন অহংকারে ফিরল পথ থেকে সরে
বলল সে—আমি আগুন মানুষ মাটি গড়া
এই অহংকার ডুবিয়ে দিল তাকে চিরতরে হারা
আদম তখন জান্নাতে শান্তির স্নিগ্ধ ছায়া
রবের দান সবই ছিল সুখের অপরূপ মায়া
তবু এলো পরীক্ষা এক নিষিদ্ধ ফলের ডাক
শয়তানের ফাঁদে পড়ে হলো প্রথম পথভ্রষ্ট হাক
ভুল বুঝে কাঁদল তারা ফিরল রবের দ্বারে
ক্ষমার দরজা খুলে গেল রহমতেরই ধারে
তাওবার চোখে ভিজল হৃদয় নত হলো প্রাণ
রব বললেন—“পৃথিবীতে যাও, এটাই তোমার স্থান”
এভাবেই শুরু হলো দুনিয়ার কঠিন পথচলা
সত্য আর মিথ্যার মাঝে চলবে নিত্য দোলা
মানুষ পাবে হেদায়াত, পাবে নবীর দিশা
কেউ নেবে, কেউ হারাবে—এটাই জীবনের রিশা
যারা হবে মুমিন তারা নামাজে নত প্রাণ
বিনয়ে ভরা হৃদয় তাদের রবেই একমাত্র জ্ঞান
অর্থহীন সব কাজ থেকে রাখবে নিজেকে দূরে
যাকাত দিয়ে ছড়াবে আলো মানবতার সুরে
লজ্জা রাখবে সুরক্ষিত হালালের মাঝে সুখ
আমানত আর অঙ্গীকারে রাখবে সত্যের মুখ
সালাত তারা হিফাজত করবে সময়মতো ঠিক
এই পথেই সফল হবে—এটাই সত্য দিক
এই দুনিয়া ক্ষণিক মাত্র ছায়ার মতো ক্ষয়
আখিরাতের স্থায়ী ঘর সামনে অপেক্ষায় রয়
যে বুঝে নেয় এ সত্য সে-ই জেতে শেষমেশ
তারই জন্য ফিরদাউস—শান্তির অশেষ দেশ
ভুল করলে ভেঙে যেও না, তাওবার পথ খোলা
রবের দিকে ফিরলে আবার জ্বলে ওঠে আলোকবেলা
অহংকারে নয় কখনো বিনয়ে রাখো মন
ইবলিসের পতন দেখো—এটাই বড় শিক্ষণ
মানুষ তুমি মাটির গড়া, তবু শ্রেষ্ঠ জ্ঞান
শর্ত শুধু একটাই—রবে রাখো অবিচল প্রাণ
এই যাত্রা শুরু হলো, সামনে দীর্ঘ পথ
নবীদের আলোয় জ্বলবে সত্যের মহারথ
***
নূরের পথে মানবযাত্রা
অন্ধকারে ঢেকে গেল মানুষের অন্তর
সত্যের আলো মুছে গেল পাপের ঘন ঘোর
মূর্তি গড়ে ডাকে তারা নিজ হাতে বানানো
রবকে ছেড়ে ভুলে গেল সত্য পথখানা
তখন এলো নূহ নবী ধৈর্যের এক দীপ
শত বছর ডাকলেন তিনি—“ফিরে এসো নিকট”
রাতের পরে দিন গড়াল, দিন পেরিয়ে কাল
তবু তাদের হৃদয় রইল অবাধ্য আর জড়াল
হাসল তারা, তুচ্ছ করল নবীর পবিত্র বাণী
কানে তুলল না কেউই হেদায়াতের ডাকখানি
তবু নূহ থামেননি, চোখে ছিল জল
রবের পথে ডেকে গেলেন অবিরাম অবিচল
শেষে এলো নির্দেশ—“নৌকা তৈরি কর”
শুষ্ক মাটির বুকে গড়ল কাঠের বিশাল ঘর
লোকেরা হাসল আরও—“পাগল এ মানুষ”
কিন্তু আকাশ জানে, সামনে আসছে সর্বনাশ
হঠাৎ খুলে গেল আসমান ঝরল অঝোর জল
মাটি ফেটে বেরোল স্রোত ভাসাল সবক’টা দল
পাহাড় সমান ঢেউ উঠে গ্রাস করল ধরা
অবিশ্বাসী ডুবে গেল, শেষ হলো সারা
নৌকায় যারা উঠল তারা রক্ষা পেল ঠিক
ঈমানই তাদের ঢাল, সত্য তাদের দিক
ধৈর্যের সেই ইতিহাস লিখল নতুন গান
নূহের কাহিনি শেখায়—সত্যেই পরিত্রাণ
এরপর এলো ইবরাহিম তাওহীদের জ্যোতি
একাই দাঁড়ালেন তিনি ভাঙতে শিরকের গতি
চারপাশে মূর্তির রাজ্য, মিথ্যার অন্ধকার
তিনি বললেন—“এক রবই সত্য, তিনিই একাকার”
ভেঙে দিলেন মূর্তি সব সত্যের আঘাতে
জ্বলে উঠল ক্রোধ তখন মানুষের অন্তরে
নিক্ষেপ করল আগুনে বিশাল শিখার মাঝে
রব বললেন—“শীতল হও”—নিরাপদ সেই সাজে
আগুন হলো শান্ত তখন নবীর প্রতি দয়ায়
বিশ্ব জানল—রবের শক্তি সীমাহীন মহিমায়
ত্যাগের পথে পরীক্ষা এলো প্রিয় সন্তানের
কোরবানি দিতে প্রস্তুত—আদেশ ছিল প্রাণের
ছুরি চলল না শেষে, এলো রহমতের ডাক
বদলে গেল কোরবানি—প্রকাশ পেল হক
ইবরাহিমের জীবন এক তাওহীদের শপথ
ত্যাগ আর বিশ্বাসে গড়া চিরন্তন এক রথ
ধৈর্যে থাকো, সত্য বলো—যতই আসুক বাধা
অবিশ্বাসের ঢেউ যত বড় হোক, ডুববে না সাধা
ত্যাগ ছাড়া মেলে না কখনো রবের নৈকট্য
বিশ্বাসে অটল থাকলেই মেলে সত্যের শক্ত
নাইলের তীরে জন্ম নিল এক আলোর গান
অত্যাচারের নগরে উঠল সত্যের ধ্বনিমান
ফিরআউনের প্রাসাদ ভরা অহংকারের ঢেউ
তবু তারই ঘরে বড় হলো সত্যের এক নাও
মূসা নবী দাঁড়ালেন সত্যের বজ্র কণ্ঠে
বললেন—“ছাড়ো মানুষ, ফেরো স্রষ্টার পথে”
লাঠি হলো সাপ, নিদর্শনের জ্বলন্ত রেখা
তবু ফিরআউনের হৃদয় রইল পাথর লেখা
জাদুকরেরা বুঝল তখন সত্যেরই শক্তি
নত হয়ে মেনে নিল আলোর সেই ভক্তি
ক্রোধে জ্বলল শাসক, দিল কঠিন শাস্তি
তবু ঈমানের আগুন নিভল না কোনো দৃষ্টি
সাগরের বুকে এল আল্লাহর নির্দেশ
পথ খুলে গেল জলে, থেমে গেল সর্বনাশ
মুমিনেরা পার হলো নিরাপদ সেই ধারে
ফিরআউন ডুবে গেল নিজেরই অহংকারে
সময়ের স্রোতে এলো এক দয়ার আলো
ঈসা নবী ডাকলেন—“ভালোবাসো ভালো”
অন্ধ পেল দৃষ্টি, মৃত পেল প্রাণ
রোগীর বুকে বয়ে গেল শিফার অবিরাম গান
তবু মানুষ বিভক্ত—কেউ মানে, কেউ না
সত্যের আলো ঢেকে যায় অন্ধকারে যেন সনা
তিনি শিখালেন দয়া, ক্ষমা আর নূর
হৃদয় যার খোলে, সে-ই পায় সেই সুর
অবশেষে এলো শেষ নবীর আগমন
মক্কার বুকে জ্বলে উঠল কুরআনের পবন
মুহাম্মদ ﷺ—রহমতের ছায়া
অন্ধকার ভেদ করে দিলেন সত্যের মায়া
জাহেলিয়াত ভেঙে দিল কুরআনের আলো
মানুষ পেল পথ, পেল সত্য ভালো
নামাজ, যাকাত, রোজা—ইবাদতের ডাক
মানবতা জাগল, খুলল হেদায়াতের ফাঁক
তিনি বললেন—“সবাই এক, নেই কোনো ভেদ”
তাকওয়াই মর্যাদা, এটাই সত্য বেদ
ক্ষমা, দয়া, ন্যায়—জীবনের মূল
এই শিক্ষা রাখে হৃদয়কে ফুল
তারপর একদিন থেমে যাবে সব
আসমান কাঁপবে, নিভে যাবে রবি-রব
শিঙ্গার ধ্বনি ছিন্ন করবে নীরবতা
ধ্বংসে ভেঙে পড়বে দুনিয়ার সব গাথা
পাহাড় উড়বে ধূলি হয়ে শূন্যের পথে
সমুদ্র জ্বলে উঠবে আগুনের রথে
মা ভুলে যাবে সন্তান, বন্ধু হবে দূর
ভয়ে কাঁপবে হৃদয়, হারাবে সব সুর
তারপর আবার উঠবে সবাই কবর ছেড়ে
এক ময়দানে দাঁড়াবে নীরব হয়ে পড়ে
সূর্য কাছে, ঘাম ঝরবে নদীর মতো
কেউ পাবে ছায়া, কেউ কাঁদবে যত
আমলনামা খুলবে, হিসাব হবে স্পষ্ট
এক বিন্দু আমলও হবে না নষ্ট
যারা ছিল মুমিন, নত হৃদয় প্রাণ
তাদের মুখে ফুটবে শান্তির গান
ডান হাতে পাবে যারা আমলের পত্র
তাদের জন্য সুখের অশেষ যাত্রা
বাম হাতে যারা পাবে ভয়ের সেই দান
তাদের চোখে জ্বলবে অনুতাপের আগুন গান
তারপর খুলবে জান্নাতের অপার দ্বার
নদী, বাগান, শান্তি—অসীম উপহার
মুমিনেরা ঢুকবে নূরের বেশে
চির সুখে থাকবে রবের পরিবেশে
আর অন্যদিকে জাহান্নামের আগুন
দুঃখে জ্বলবে যারা করেছে পাপ গুণ
চিৎকারে ভরবে শূন্যেরই পথ
ফিরে আসার আর থাকবে না রথ
সবশেষে ফিরদাউস—সর্বোচ্চ স্থান
যেখানে শান্তি চির, নেই কোনো অবসান
রবের সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড় পুরস্কার
এই তো সফলতা—এটাই সত্যের দ্বার
দুনিয়া ক্ষণিক, আখিরাত চির
সত্যের পথেই রয়েছে নূরের নীড়
নবীদের জীবন আলো দেখায়
যে মানে সে-ই মুক্তি পায়
নামাজে বিনয়, জীবনে সত্য
আমানত রক্ষা—এটাই শক্ত
এই পথেই মানুষ পায় সফলতা
ফিরদাউসে মেলে চির শান্ততা
***
নিস্তব্ধ শূন্যে লুকিয়ে ছিল সৃষ্টির গভীর রহস্য
রহমতের ছোঁয়ায় জেগে উঠল জীবনের প্রথম স্পর্শ
মাটি দিয়ে গড়া মানুষ পেল জ্ঞানের দীপ্ত আলো
রবের দিকে ফেরার পথ খুলল সত্যের ভালো
ফেরেশতারা নত হলো আদেশ পেয়ে মহান
অহংকারে পথ হারাল শয়তানেরই প্রাণ
শেখাল প্রথম শিক্ষা—অহংকারই পতন
বিনয়ের পথেই লুকায় সফলতার জীবন
জান্নাতের শান্ত বুকে এলো প্রথম পরীক্ষা
ভুলে পড়ে মানুষ শিখল তাওবারই দীক্ষা
রবের দিকে ফিরলে খোলে ক্ষমার সব দর
এটাই মানবজাতির প্রথম সোনালি পথঘর
দুনিয়ার পথে শুরু হলো সত্য-মিথ্যার লড়াই
কেউ আলোকে আঁকড়ে ধরে, কেউ আঁধারে হারায়
মুমিনেরা বেছে নেয় বিনয়েরই পথ
নামাজে নত হয়ে খুঁজে পায় চিরসত্য রথ
অর্থহীন কথা ছেড়ে রাখে হৃদয় পবিত্র
যাকাতে বিলায় দান, করে সমাজ শুদ্ধ
লজ্জার হেফাজত, অঙ্গীকারে দৃঢ়তা
এগুলোই গড়ে তোলে ঈমানের পূর্ণতা
যখন মানুষ ভ্রষ্ট হলো, এলেন নূহ নবী
ধৈর্যের মহাকাব্য লিখলেন তিনি রবি
শত বছরের ডাকেও যখন কেউ ফিরল না
তখন এলো প্লাবন—শেষ হলো সব ব্যথা
ইবরাহিম এলেন তাওহীদের আগুন নিয়ে
ভেঙে দিলেন শিরক সব সত্যের শক্তি দিয়ে
আগুনেও পুড়ল না, কোরবানিতে দিল প্রাণ
ত্যাগেই প্রমাণ হলো ঈমানের সম্মান
মূসা দাঁড়ালেন জুলুমের বিরুদ্ধে দৃপ্ত কণ্ঠে
লাঠি হলো নিদর্শন সত্যেরই শক্তিতে
সাগর দ্বিখণ্ডিত—মুমিন পেল পথ
অহংকারে ডুবে গেল জালিমের রথ
ঈসা এলেন দয়া আর মিরাকলের আলো
অন্ধ পেল দৃষ্টি, মৃত পেল ভালো
মানুষকে শেখালেন ভালোবাসার পথ
তবু বিভক্ত হলো মানবতার রথ
শেষে এলো নবুওয়তের পূর্ণ আলো মহান
মুহাম্মদ ﷺ আনলেন কুরআনের জ্ঞান
অন্ধকার ভেঙে দিল হেদায়াতের নূর
মানুষ পেল জীবনের সঠিক সুর
তারপর একদিন থেমে যাবে সময়ের গতি
শিঙ্গার ধ্বনিতে কাঁপবে সৃষ্টি ভীতি
পাহাড় হবে ধূলি, সাগর আগুন জ্বলে
সবাই দাঁড়াবে একদিন হিসাবেরই তলে
হাশরের ময়দানে খুলবে আমলনামা
এক বিন্দুও লুকাবে না কোনো কাজের ধারা
মুমিনেরা পাবে ডান হাতে সুখের বারতা
অবিশ্বাসীরা দেখবে কঠিন পরিণতা
তারপর খুলবে জান্নাত—শান্তির অপরূপ দেশ
নদী, ছায়া, সুখ—অসীম অবশেষ
মুমিনেরা থাকবে সেখানে চিরকাল
দুঃখহীন জীবনে পূর্ণ হবে সকল কামাল
আর জাহান্নাম—অবাধ্যের ভয়ংকর স্থান
পাপের ফল ভোগে জ্বলবে অমানুষিক প্রাণ
ফিরে আসার আর থাকবে না পথ
এই পরিণতি সতর্ক করে প্রতিটি রথ
সবশেষে ফিরদাউস—শ্রেষ্ঠ জান্নাতের ধাম
রবের সন্তুষ্টি—সর্বোচ্চ ইহসান
যেখানে মুমিন পাবে চিরশান্তির ছায়া
এই তো সফলতা—এটাই চূড়ান্ত মায়া
হে মানুষ, এই পথ তোমার সামনে খোলা
সত্য আর মিথ্যার মাঝে বেছে নাও ভোলা
নবীদের আলো আজও জ্বলে অন্তরে
যে গ্রহণ করে—সে-ই জিতে যায় শেষপরে
নামাজে বিনয় রাখো, জীবনে সত্য ধর
আমানত রক্ষা করে হও আলোর পথিক পর
এই মহাযাত্রার শেষ যে ফিরদাউসের দ্বার
সেই লক্ষ্যে চলাই জীবনের আসল অঙ্গীকার
সূরাঃ আল-মুমিনুন আয়াতঃ১-১১ মাক্কী
৪
৪ মন্তব্য