সহকারী অধ্যাপক
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:১৬ অপরাহ্ণ
আল্লাহ মহান স্রষ্টা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আল্লাহ মহান স্রষ্টা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
নিশ্চয় তোমারই রব—আল্লাহ মহান,
শূন্য থেকে গড়েছেন আকাশ-জমিনের স্থান।
ছয় দিনে সাজালেন সৃষ্টি অপরূপ রূপে,
তারপর আরশে তিনি মহিমারই কূপে।
সব কিছুর হালচাল তাঁর হাতে নিরন্তর,
তাঁর ইচ্ছা ছাড়া নেই কারো সুপারিশের অধিকার।
তিনিই তোমার রব—ডাকে প্রতিটি প্রাণ,
তাই তো তাঁরই ইবাদাতে হোক জীবন দান।
তাঁর কাছেই ফিরবে সবাই একদিন নিশ্চিত,
এই ওয়াদা সত্য—নয় কোনো কল্পিত।
তিনি শুরু করেন সৃষ্টি, আবার ফিরিয়ে আনেন,
হিসাবের দিনে সব কিছু স্পষ্ট করে জানান।
যারা ঈমান আনে, করে সৎকাজ প্রাণে,
ন্যায়ের পাল্লায় পুরস্কার পাবে তারা সম্মানে।
আর যারা ফিরিয়ে দেয় সত্যের ডাক,
তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তির ফাঁক।
জ্বলন্ত পানীয়, যন্ত্রণার আগুন,
কারণ তারা করেছিল কুফরের গুণ।
সত্য জেনেও ফিরেছিল অহংকারে,
তাই আজ তারা পড়ে দুঃখের অন্ধকারে।
সূর্যকে করেছেন তিনি দীপ্তির আলো,
চাঁদকে দিয়েছেন কোমল জ্যোৎস্না ভালো।
নির্ধারণ করেছেন তার চলার পথ,
যাতে বুঝো সময়—মাস, বছর, রথ।
রাত আর দিনের ঘূর্ণনের খেলা,
প্রকৃতির মাঝে রহস্য ভরা মেলা।
আসমান-জমিনে যত নিদর্শন ছড়ায়,
তাকওয়াবান হৃদয় তা গভীরভাবে পড়ায়।
জ্ঞানীদের জন্য খোলা এসব দিশা,
যে বুঝে, সে পায় হিদায়াতের দিশা।
তবুও মানুষ কেন থাকে গাফেল হয়ে,
সত্যের আলো থেকেও দূরে সরে রয়?
এসো ফিরি আমরা রবেরই ডাকে,
ইবাদাতে জীবন গড়ি তাঁরই পাকে।
এই দুনিয়া ক্ষণিক—আখিরাত চির,
বুঝে নাও আজই, সময় যে ধীর।
হৃদয় খুলে নাও, করো তওবা আজ,
আল্লাহর পথে চলাই জীবনের সাজ।
যে শোনে উপদেশ, সে-ই সফল প্রাণ,
তারই জন্য খোলে জান্নাতের দুয়ার মহান।
***
তোমার রব আল্লাহ—এ সত্য অটল,
শূন্য থেকে গড়েছেন বিশ্ব অপরূপ সম্বল।
আকাশের উচ্চতা, জমিনের বিস্তার,
সবই তাঁর হুকুমে—নেই কোনো অধিকার।
ছয় দিনে সাজালেন সৃষ্টি নিখুঁত ছাঁদে,
তারপর আরশে তিনি মহিমারই সাধে।
সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে থাকে,
একটি পাতা নড়ে না তাঁর ইশারা ছাড়া ডাকে।
তাঁর অনুমতি ছাড়া নেই কোনো সুপারিশ,
সবাই তাঁর দাস—নেই কারো বাড়তি অধিকার বিশেষ।
তাই তাঁরই ইবাদাতে দাও প্রাণ ঢেলে,
সত্যের এই পথে চলো মন মেলে।
তাঁর কাছেই ফিরতে হবে সবাই একদিন,
কেউ পারবে না এড়াতে সেই কঠিন দিন।
তিনি সৃষ্টি করেন, আবার ফিরিয়ে আনেন,
হিসাবের মাঠে সব কিছু সামনে টানেন।
যারা ঈমান এনেছে, করেছে ভালো কাজ,
তাদের জন্য রয়েছে পুরস্কারের সাজ।
ন্যায়ের পাল্লায় পাবে তারা সম্মান,
শান্তির বাগানে হবে তাদের স্থান।
আর যারা সত্যকে করেছে অস্বীকার,
অহংকারে ডুবে করেছে অন্ধকার,
তাদের জন্য রয়েছে দুঃখের পানীয়,
আগুনের শাস্তি—বেদনাদায়ক দাহনীয়।
সূর্যকে করেছেন তিনি দীপ্তিময় আলো,
চাঁদকে দিয়েছেন শীতল জ্যোৎস্না ভালো।
নির্ধারিত পথে তারা ঘুরে নিরবধি,
সময় গোনার শিক্ষা দেয় প্রতিদিন নিরন্তরই।
দিন আসে, রাত যায়—চক্র অবিরাম,
প্রকৃতির মাঝে লুকানো অজস্র নিদর্শন।
যারা তাকওয়াবান, খোলে তাদের চোখ,
এই সব দেখে তারা পায় সত্যের শোক।
আকাশে, বাতাসে, নদীর স্রোতে,
পাহাড়ের দৃঢ়তায়, বৃক্ষের শোভাতে—
সবখানে লেখা আছে আল্লাহরই নাম,
যে বুঝে, সে পায় হিদায়াতের ঠিকানা।
তবুও কেন মানুষ ভুলে যায় পথ?
দুনিয়ার মোহে হয়ে পড়ে ক্ষত-বিক্ষত।
একদিন তো সব কিছু শেষ হয়ে যাবে,
তখন কে তোমায় বাঁচাতে আসবে?
এসো ফিরে যাই সত্যেরই পথে,
আল্লাহর ইবাদাতে জীবন কাটাতে।
এই জীবন ক্ষণিক—পরীক্ষার মাঠ,
আখিরাতই চিরন্তন, সেই সত্যের ঠাঁট।
তওবা করে নাও, খুলে দাও প্রাণ,
আল্লাহর দয়ায় মুছে যাবে সব দাগ-চিহ্ন।
যে নেয় উপদেশ, সে-ই হয় জ্ঞানী,
তারই জন্য জান্নাত—শান্তির বাণী।
***
তোমার রব আল্লাহ—এ সত্য অমলিন,
শূন্য থেকে গড়েছেন আকাশ আর জমিন।
নিভৃত অন্ধকারে ছিল না কোনো রঙ,
তাঁরই হুকুমে জেগে উঠল সৃষ্টি ঢঙ।
ছয় দিনের ছন্দে গড়লেন সব ঠিক,
মাপজোখে নেই ভুল, নেই কোনো দিকচ্যুত দিক।
তারপর আরশে তিনি মহিমায় সমুন্নত,
সর্বশক্তির অধিকারী—অপরাজেয়, অনন্ত।
সব কিছুর হাল তাঁরই হাতে বাঁধা,
তাঁর ছাড়া কারো নেই ক্ষমতার সাধা।
পাতা ঝরে নীরবে, বাতাস বয়ে যায়,
সবই তাঁর নির্দেশে নিয়ম মেনে চায়।
তাঁর অনুমতি ছাড়া নেই কারো ভাষণ,
কেউ পারে না দিতে কোনো সুপারিশের বরণ।
তিনিই তোমার রব—ডাক শোন প্রতিক্ষণ,
তাঁরই ইবাদাতে খুঁজে নাও জীবন।
একদিন ফিরতে হবে তাঁরই দরবারে,
কেউ থাকবে না লুকিয়ে দুনিয়ার আড়ালে।
এই প্রতিশ্রুতি সত্য—নয় কোনো কল্পনা,
সেদিন খুলে যাবে জীবনের সব গণনা।
তিনি শুরু করেন, আবার করেন শেষ,
মৃত মাটিতেও দেন জীবনের রেশ।
হিসাবের দিনে দাঁড়াবে সব প্রাণ,
নেই কোনো গোপন, প্রকাশ হবে জ্ঞান।
যারা বিশ্বাস করে, করে ভালো কাজ,
তাদের জন্য রয়েছে শান্তিরই সাজ।
ন্যায়ের পাল্লা হবে ভারী তাদের পক্ষে,
জান্নাতের বাগান হাসবে তাদের চোখে।
নদী বয়ে যাবে দুধ-মধুর স্রোত,
চিরশান্তির ঘরে থাকবে না কোনো ক্ষত।
মুখে থাকবে হাসি, হৃদয়ে প্রশান্তি,
চিরদিন থাকবে না কোনো ক্লান্তি।
আর যারা সত্যকে করেছে অবহেলা,
অহংকারে ডুবে হারিয়েছে খেলা,
তাদের জন্য আছে জ্বলন্ত পানীয়,
যন্ত্রণার আগুন—অসহ্য দহনীয়।
কারণ তারা ফিরেছিল সত্যের ডাক থেকে,
নিজেকে বড় ভেবে ছিল অন্ধ চোখে।
আজ সেই অহংকার হলো তাদের শৃঙ্খল,
দুঃখের অন্ধকারে ডুবে তাদের জীবন অবিচল।
সূর্যকে বানালেন দীপ্তির প্রদীপ,
দিনের আলোয় ভরে ওঠে পৃথিবীর নীপ।
চাঁদকে দিলেন কোমল আলো, শান্ত সুধা,
রাতের আঁধারে আনে নীরব মধুরতা।
তার চলার পথে নির্ধারণ করলেন ধাপ,
যাতে মানুষ বুঝে সময়ের হিসাব।
মাস আর বছর—সবই তার চক্রে,
জীবনের হিসাব লুকানো এই সূত্রে।
দিন আসে, রাত যায়—অবিরাম ধারা,
সময়ের নদী বয়ে চলে সারা।
এই ঘূর্ণনে লুকানো অগণিত চিহ্ন,
যে বুঝে, সে পায় সত্যেরই জ্ঞান।
আকাশের তারা, মেঘের ভেলা,
নদীর স্রোত আর বাতাসের খেলা—
সবখানে লেখা আছে তাঁরই নিদর্শন,
তাকওয়াবান হৃদয় করে তার দর্শন।
কিন্তু মানুষ কেন থাকে অচেতন,
সত্যের আলো ছেড়ে চলে অন্ধ গমন?
দুনিয়ার মোহে ভুলে যায় পথ,
অস্থায়ী সুখে খুঁজে নেয় রথ।
একদিন সব থেমে যাবে হঠাৎ করে,
সময় থামবে মৃত্যুরই ডাকে ভরে।
বন্ধু, ধন, ক্ষমতা—সবই হবে শূন্য,
শুধু আমলই তখন হবে তোমার সম্পূর্ণ ধন।
তাই আজই ফিরে এসো রবেরই কাছে,
তওবার অশ্রু ঝরাও হৃদয়ের মাঝে।
তিনি দয়ালু—ক্ষমা করেন বারবার,
ডাকলে সাড়া দেন, শোনেন প্রতিবার।
ইবাদাতে গড়ো জীবন, সত্যকে ধরো,
মিথ্যার অন্ধকার থেকে নিজেকে সরো।
এই দুনিয়া ক্ষণিক—পরীক্ষার ময়দান,
আখিরাতেই লুকানো চিরস্থায়ী প্রাণ।
যে নেয় উপদেশ, সে-ই সত্য জেনে,
আল্লাহর পথে চলে দৃঢ় বিশ্বাসে বেঁধে।
তারই জন্য খুলবে শান্তির দরজা,
জান্নাতের বুকে থাকবে অনন্ত সাজা।
এসো, হৃদয় জাগাও—শোনো সেই ডাক,
সত্যের পথেই রয়েছে মুক্তির ফাঁক।
আল্লাহর স্মরণে রাখো প্রাণ ভরে,
তাহলেই সফল হবে জীবন ঘুরে।
-সূরাঃ ইউনুস আয়াতঃ ৩-৬ মাক্কী
৪
৪ মন্তব্য