সহকারী অধ্যাপক
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
প্রার্থনা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
প্রার্থনা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হে রব, তুমি জানো মনের সব কথা,
অন্তরের গোপন ব্যথা আর ব্যাকুল ব্যথা।
তুমি দাও দায়িত্ব, মেপে সামর্থ্য অনুযায়ী,
কারও ওপর চাপাও না বোঝা সীমার বাইরে কোনোদিনই।
আমরা যা করি, তার ফল ফিরে আসে,
ভাল হলে পুরস্কার, মন্দ হলে নিজেকেই ভাসে।
নিজ হাতে গড়া পথেই জীবন ঘুরে দাঁড়ায়,
আমলই সাক্ষী হয়ে কিয়ামতে সামনে দাঁড়ায়।
হে আমাদের রব, ভুলে যদি যাই পথ,
অজান্তে যদি করি কোনো অন্যায় বা ক্ষত—
তুমি দয়া করে ধরো না আমাদের সে দায়,
ক্ষমার সাগরে ডুবাও, মুছে দাও সব দায়।
হে রব, আমাদের বোঝা করো না এত ভারী,
যেমন দিয়েছিলে আগে অন্যদের উপর ভারী।
দুর্বল আমরা, তুমি জানো অন্তরের সব,
সহজ করে দাও জীবন, দাও শান্তির রব।
যা বহন করা কঠিন, দিও না সে ভার,
আমরা তো অক্ষম, তুমি দয়ালু অপরিসীম ধার।
ক্লান্ত প্রাণ চায় শুধু তোমারই আশ্রয়,
তোমার রহমতেই জীবনের সব জয়।
আমাদেরকে করো তুমি মার্জনা, ক্ষমা,
পাপের অন্ধকারে জ্বালাও হিদায়াতের প্রদীপ জ্বলা।
দয়া দিয়ে ঢেকে দাও অন্তরের ক্ষত,
তোমার প্রেমেই খুঁজি আমরা জীবনের অর্থ।
তুমি আমাদের অভিভাবক, তুমি পথের আলো,
অন্ধকারে হারালে তুমিই তো রাখো ভালো।
শত্রুর মুখোমুখি হলে তুমি দাও জোর,
তোমার সাহায্যেই জয়ী হয় সত্যের ঘোর।
হে রব, তোমার দয়াই আমাদের ভরসা,
তোমার ক্ষমাতেই মুছে যায় জীবনের হতাশা।
তোমার পথে রাখো আমাদের দৃঢ় পা,
তোমার সন্তুষ্টিতেই জীবনের সার্থকতা।
***
এই জীবন এক আমানত, এক নীরব পরীক্ষা,
প্রতিটি শ্বাসে লেখা থাকে হিসাবের রেখা।
হে রব, তুমি জানো—আমরা কতটা ক্ষুদ্র,
তোমার দয়ার ছায়া ছাড়া সবকিছুই শূন্য, নিঃসৃত।
তুমি দায়িত্ব দাও, মেপে দাও শক্তি,
কাউকে দাও না এমন বোঝা—যা করে তাকে ভক্তি ভঙ্গ, ক্লান্তি।
আমরা যা করি, তা-ই ফিরে আসে কাছে,
ভালোর ফুল ফোটে, মন্দ কাঁটা হয়ে বুকে বিঁধে।
আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা,
লেখা হয় নিঃশব্দে—অদৃশ্য এক খাতায় যথা।
হে রব, ভুলে যদি যাই, পথ হারাই অজানায়,
অজ্ঞতার আঁধারে যদি ভুল করি অসাবধানায়—
তুমি আমাদের ধরো না সেই ভুলের দায়ে,
ক্ষমার বৃষ্টি নামাও আমাদের শুকনো হৃদয়-মাঠে।
তোমার রহমত ছাড়া কোথায় যাব আমরা?
তুমি ছাড়া কে আছে—শোনে এমন প্রার্থনা?
হে দয়াময়, বোঝা করো না ভারী,
যেমন দিয়েছিলে আগে বহু জাতির ওপর ভারী।
আমরা দুর্বল, ভাঙা মন নিয়ে চলি,
তোমার সাহায্য ছাড়া কোথায় পাব বলি?
যে বোঝা বহন করা আমাদের সাধ্যের বাইরে,
তা দিও না, রাখো আমাদের সহজ পথে ধীরে ধীরে।
কাঁধ যখন নুয়ে আসে ক্লান্তির ভারে,
তোমার নামই ডাকি আমরা নিরব অশ্রুধারে।
হে ক্ষমাশীল, ঢেকে দাও আমাদের অপরাধ,
আমরা তো পথহারা—তোমারই কাছে করি আর্তনাদ।
পাপের দাগ মুছে দাও তোমার নূরের আলোয়,
অন্তরটা ভরাও ঈমানের শান্তির ঢেউয়ে।
তুমি আমাদের অভিভাবক, তুমি ভরসার স্থান,
তোমার দিকেই চেয়ে থাকে আমাদের প্রাণ।
দুনিয়ার ঝড় এলে তুমি ঢাল হয়ে দাঁড়াও,
ভয়ের রাতে তুমি হৃদয়ে সাহস জ্বালাও।
শত্রুর সামনে যখন কাঁপে আমাদের মন,
তোমার সাহায্যেই জাগে নতুন এক জীবন।
সত্যের পথে রাখো আমাদের অটল করে,
মিথ্যার অন্ধকার যেন না টানে আর ঘোরে।
হে রব, তোমার দয়া যেন হয় আমাদের চাদর,
যেখানে লুকিয়ে থাকে সব ব্যথা, সব কষ্টের ভার।
তোমার ক্ষমাই আমাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়,
তোমার সন্তুষ্টিতেই খুঁজি জীবনের আসল জয়।
আমরা তো শুধু পথিক—ভুলে যাই বারবার,
তুমি না ধরলে হাত, হারাবো অন্ধকারে আবার।
তাই আজও ডাকি—নতমুখে, কাঁদা চোখে,
হে আমাদের রব, রাখো আমাদের তোমারই পথে।
***
হে রব তুমি জানো প্রাণের গোপন কথা
নিভৃত রাতের কাঁপন, অশ্রুভেজা ব্যথা।
তুমি দাও দায়িত্ব, মেপে দাও শক্তি,
সীমার বাইরে দাও না কোনো ভারভক্তি।
মানুষ যা অর্জন করে, তা তারই হয়,
ভুলের বোঝা নিজের কাঁধেই ফিরে রয়।
আমলগুলো নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে,
কিয়ামতের ময়দানে সামনে এসে ডাকে।
হে রব, যদি ভুলে যাই পথের দিশা,
অজ্ঞতায় করি যদি ভুলেরই নকশা—
তুমি ধরো না আমায় সে অপরাধ ধরে,
ঢেকে দাও সব দোষ ক্ষমারই আঁচলে।
হে দয়াময়, বোঝা দিও না এত ভার,
যেমন ছিল পূর্বের বহু জাতির অধিকার।
তারা বহন করেছিল কঠিন সব দায়,
আমরা দুর্বল—সে শক্তি কোথায় পাই?
যা বহন করা নয় আমাদের সাধ্যে,
তা দিও না তুমি আমাদের জীবনের পথে।
ক্লান্ত শরীর যখন ভেঙে পড়ে নীরবে,
তোমার নামই জাগে হৃদয়ের গভীরে।
মার্জনা করো তুমি সব গুনাহ মোর,
ক্ষমার সাগরে ডুবাও হৃদয়ের ঘোর।
দয়ার পরশ দাও অন্তরের ক্ষতে,
নূরের আলো জ্বালো অন্ধকার রাত্রিতে।
তুমি আমাদের রব, তুমি অভিভাবক,
তোমারই দয়ার ছায়া—জীবনের আলোক।
ভয় যখন আসে, আঁধার নামে প্রাণে,
তুমি শক্তি দাও দাঁড়াতে সত্যের টানে।
কাফিরের বিরুদ্ধে দাও তুমি জয়ের বল,
সত্যের পতাকা উড়ুক, ভাঙুক মিথ্যার দল।
তোমার সাহায্যে জাগে সাহসের দীপ,
তোমার পথেই খুঁজি মুক্তির সুনীপ।
এই দুনিয়া ক্ষণিক, পথিক আমরা সব,
ফিরে যাব একদিন তোমারই কাছে রব।
তাই রাখো আমাদের সরল সঠিক পথে,
হিদায়াতের আলো জ্বালো অন্তর-মনে।
ভুলে গেলে ডেকে নিও তোমারই দিকে,
হারিয়ে গেলে টেনে নিও দয়ার আলিকে।
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের লক্ষ্য,
তোমার প্রেমেই হোক অন্তরের রক্ষ্য।
***
হে রব তুমি জানো হৃদয়ের নীরব ভাষা,
অদেখা সব কান্না, লুকানো ব্যথার আশা।
তুমি দাও দায়িত্ব, মেপে দাও শক্তি,
সীমার বাইরে দাও না কোনো ভারভক্তি।
আসমান জমিন জুড়ে তোমারই ইশারা,
প্রতিটি কণায় লেখা—তুমিই পথের তারা।
মানুষ সৃষ্টি হলে শুরু তার যাত্রা,
হিদায়াতের পথে বা হারানোর মাত্রা।
আদমকে গড়লে তুমি মাটিরই দেহে,
রূহ ফুঁকে দিলে, দিলে নূরেরই গেহে।
শিখালে নাম সব, দিলে জ্ঞানের আলো,
ফেরেশতারা সেজদায়—ইবলিস হলো কালো।
ভুল হলো আদমের, তবু দরজা খোলা,
তাওবার অশ্রুতে মুছে পাপেরই দোলা।
শেখালে তুমি—ভুল হলে ফিরতে হয়,
রবের দরজাতে আসলেই শান্তি রয়।
নূহ ডাকলেন কওমকে দিনের পর দিন,
তারা হাসল, বলল—“এ তো শুধু ঋণ!”
কিন্তু যখন এলো গজবেরই ঢেউ,
নৌকায় উঠল শুধু ঈমানদার কেউ।
ইব্রাহিম দাঁড়ালেন আগুনেরই মাঝে,
বললেন—“রব আছেন”—ভয় কিসের কাজে!
আগুনও হলো শীতল, হলো পরশময়,
তাওহিদের শক্তিতে সত্যই জয়ী হয়।
ইসমাইল শুয়ে পড়ে কোরবানির তরে,
পিতার হাতে ছুরি—আদেশেরই ঘোরে।
রব দিলেন বদলি, রক্ষা করলেন প্রাণ,
শিখালেন—ত্যাগেই মেলে জান্নাতের স্থান।
মূসা চললেন সামনে লাল সাগরের পথে,
পেছনে ফেরাউনের সেনা ভয়াল রথে।
আঘাতে লাঠির সাগর হলো দ্বিখণ্ড,
রবের সাহায্যে ভাঙে দুঃখের বন্ধ।
ঈসা এলেন দুনিয়ায় রহমতের বাণী,
মৃতকে জীবিত করলেন—রবেরই দানী।
কিন্তু মানুষ ভুলে গেল সত্যের সে ডাক,
দুনিয়ার মোহে পড়ে করল কত ফাঁক।
শেষ নবী এলেন নূরেরই আলো হয়ে,
অন্ধকার জগতে হিদায়াতের ঢেউ বয়ে।
কুরআনের বাণী দিল সত্যের দিশা,
মানুষকে শিখাল জীবনেরই রচনা।
দুনিয়া এক পথ—পরীক্ষারই স্থান,
এখানে আমলেই নির্ধারিত হয় মান।
কখনো সুখ আসে, কখনো দুঃখ ঢেউ,
ধৈর্যের মাঝেই লুকায় রহমতের নৌ।
হে রব, যদি ভুলে যাই তোমারই পথ,
অজ্ঞতায় করি যদি অন্যায়ের রথ—
ধরো না আমাদের সে ভুলের দায়ে,
ক্ষমার সাগরে ডুবাও ভালোবাসায়।
বোঝা দিও না আমাদের সাধ্যের বাইরে,
আমরা তো দুর্বল, চলি কাঁপা পায়ে ধীরে।
যা বহন করা কঠিন—দূরে রাখো তা,
তোমার দয়ার ছায়াই জীবনের ব্যাখ্যা।
মার্জনা করো, মুছে দাও গুনাহ সব,
ক্ষমার আলো দাও অন্তরের রব।
দয়া দিয়ে ভরাও হৃদয়ের ঘর,
তোমার ভালোবাসাই শান্তির পর।
তারপর একদিন আসবে সেই ক্ষণ,
বন্ধ হবে দুনিয়ার সব আয়োজন।
শিঙ্গা ফুঁকবে যখন কাঁপবে আকাশ,
মানুষ দৌড়াবে—নেই কোনো আশ।
মাটি ফুঁড়ে উঠবে সব মৃত প্রাণ,
হাশরের ময়দানে হবে সমাবেশ মহান।
কেউ থাকবে ভয়ে, কেউ আলোয় ভরা,
আমলই হবে তখন সবার ভরসা ধরা।
নামা খুলে যাবে, প্রকাশ পাবে সব,
গোপন কিছুই রবে না কারো রব।
যার ডান হাতে নামা—সে হাসবে তরে,
বাম হাতে পেলে সে কাঁদবে ভয়ে মরে।
মিজানে ওজন হবে ক্ষুদ্র সব কাজ,
এক বিন্দু ভালও পাবে না লাজ।
রবের দয়া যাকে ছুঁয়ে যাবে সেদিন,
সে-ই পাবে জান্নাত—চিরশান্তির দিন।
জাহান্নামের আগুন জ্বলে ভয়াল রূপে,
অবাধ্যরা পড়বে শাস্তিরই কূপে।
তবু হে রব, রাখো আমাদের বাঁচিয়ে,
ক্ষমার ছায়াতে রাখো জড়িয়ে।
জান্নাতে বয়ে যাবে শান্তিরই হাওয়া,
নেই কোনো দুঃখ, নেই কোনো ছাওয়া।
নদী বয়ে যাবে দুধ, মধু, পানির,
অন্তহীন সুখ—প্রতিদান আমলের।
সেখানে থাকবে না ভয়, না কোনো কষ্ট,
রবের সন্তুষ্টি—সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।
মুমিনরা দেখবে তাদের প্রভুর নূর,
সে-ই তো আসল শান্তি, অনন্ত সুর।
তাই হে রব, রাখো আমাদের সেই দলে,
যারা তোমার পথে চলে নির্ভয়ে, অবলে।
তুমি আমাদের অভিভাবক, তুমি ভরসা,
তোমার দয়ার মাঝেই জীবনের আসা।
আমরা পথিক, ভুলে যাই বারবার,
তুমি না ধরলে হাত—হারাবো আবার।
তাই এই দোয়া—অন্তরের গভীর থেকে,
রাখো আমাদের তোমারই পথে রেখে।
৪
৪ মন্তব্য