প্রভাষক
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১৯ অপরাহ্ণ
যে সব খাবার খেলে দ্রুত সেরে উঠবে হাম
হাম (Measles) থেকে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং সঠিক জীবনযাত্রার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো। হামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরের প্রচুর শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রয়োজন হয়, যা এই খাবারগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব।
১. তরল খাবার ও হাইড্রেশন (সর্বাধিক গুরুত্ব)
হামের সময় উচ্চ তাপমাত্রার জ্বরের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, যা থেকে পানিশূন্যতা হতে পারে। এটি রোধে:
পর্যাপ্ত পানি ও ওরস্যালাইন: নিয়মিত বিরতিতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা প্রয়োজনবোধে ওরস্যালাইন পান করান।
ডাবের পানি ও ফলের রস: ডাবের পানি খনিজ উপাদানের দারুণ উৎস। এ ছাড়া চিনি ছাড়া তাজা ফলের রস (যেমন: কমলা, মাল্টা, তরমুজ বা লেবুর শরবত) ভিটামিন-সি সরবরাহ করে শরীরের ক্লান্তি দূর করে।
গরম স্যুপ: মুরগির মাংসের পাতলা স্যুপ বা সবজি স্যুপ
গলার অস্বস্তি কমায় এবং শরীরকে ভেতর থেকে গরম ও শক্তি জোগায়。
২. ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার
চিকিৎসকদের মতে, হামের জটিলতা (যেমন- চোখ বা ফুসফুসের সমস্যা) কমাতে ভিটামিন-এ সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
উৎস: লাল শাক, পালং শাক, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে এবং আম。
সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাম আক্রান্ত শিশুদের টানা দুই দিন ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সুপারিশ করা হয়।
৩. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
শরীরের ক্ষয়পূরণ ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রোটিন অপরিহার্য।
খাবার: সেদ্ধ ডিম, মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল, মাছ এবং ডাল জাতীয় খাবার তালিকায় রাখুন।
৪. সহজপাচ্য ও নরম খাবার
অসুস্থ অবস্থায় হজমশক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই ভারী খাবারের বদলে নরম খাবার দেওয়া উচিত:
খাবার: নরম ভাত বা জাউ ভাত, সুজি, সাগু বা দই-চিড়া খেতে দিন。
সবজি: পেঁপে, পটল বা লাউয়ের মতো সবজি হালকা রান্না করে দেওয়া ভাল।
৫. যে সব খাবার এড়িয়ে চলবেন
কিছু খাবার হামের উপসর্গ বা অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে:
মশলাদার ও তৈলাক্ত খাবার: অতিরিক্ত তেল, ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা করে।
বাইরের বা অস্বাস্থ্যকর খাবার: রাস্তার খোলা খাবার বা ভাজাপোড়া এই সময় একদমই খাওয়া উচিত নয়।
অন্যান্য জরুরি পরামর্শ
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: দ্রুত আরোগ্যের জন্য রোগীকে অন্ধকার বা মৃদু আলোযুক্ত ঠান্ডা ও শান্ত ঘরে বিশ্রাম নিতে দিন।
পরিচ্ছন্নতা: রোগীর ব্যবহৃত কাপড় ও বিছানা পরিষ্কার রাখুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর স্পঞ্জ করে দেওয়া যেতে পারে।
৪
৪ মন্তব্য