Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কোরআনের বাণী: আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার পরিণাম

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা 

সুরা : লুকমান, আয়াত : ৬

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَشْتَرِى لَهْوَ ٱلْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا‌ۚ أُوْلَـٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

সরল অনুবাদ

৬. আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, এবং তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আজাব। 

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

এখানে لَهْوَ الْحَدِيثِ বাক্যটিতে حديث শব্দের অর্থ কথা, কিসসা-কাহিনি এবং لَهْوَ শব্দের অর্থ গাফেল হওয়া। যেসব বিষয় মানুষকে প্রয়োজনীয় কাজ থেকে গাফেল করে দেয়, সেগুলোকে لَهْوَ বলা হয়। তাই এমন কাজকেও لَهْوَ বলা হয়, যার কোনো উল্লেখযোগ্য উপকারিতা নেই, শুধু সময়ক্ষেপণ অথবা মনোরঞ্জনের জন্য করা হয়। আলোচ্য আয়াতে (لَهْوَ الْحَدِيثِ)-এর অর্থ ও তাফিসরে ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস ও জাবের (রা.) বলেন, এখানে গান-বাদ্য ও অনর্থক কিসসা-কাহিনিসহ যেসব বস্তু মানুষকে আল্লাহর ইবাদত ও স্মরণ থেকে গাফেল করে সেগুলো বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে জাকারিয়া)

বিধান

সাধারণভাবে এসব খেলায় মগ্ন হলে মানুষ জরুরি কাজকর্ম, এমনকি সালাত, সাওম ও অন্যান্য ইবাদত থেকেও বেখেয়াল হয়ে যায়। তাই যে খেলায় ধর্মীয় ও পার্থিব কোনো উপকারিতা নেই, সেসব খেলাই শরিয়তে নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ। তবে যে খেলার মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়াম অথবা অন্য কোনো ধর্মীয় ও পার্থিব উপকারিতা লাভ হয় কিংবা অন্তত মানসিক অবসাদ দূর হয়, সে খেলা শরিয়ত অনুমোদন করে, যদি তাতে বাড়াবাড়ি না করা হয় এবং এতে ব্যস্ত থাকার কারণে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম বিঘ্নিত না হয়। তাইতো হাদিসে তিনটি খেলাকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে- তীর নিক্ষেপ, অশ্বারোহণ এবং স্ত্রীর সাথে হাস্যরস করা। (তাবরানি : আল-মুজামুল কাবির, হাদিস : ১৭৮৫) 

শিক্ষা

১. সব বিনোদন হারাম নয়, তবে যেগুলো মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিরত রাখে সেগুলো নিন্দনীয়।

২.  না জেনে কথা বলা বা প্রচার করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। 

৩. মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা বড় অপরাধ, তাই নিজেরা সঠিক পথে চলা এবং অন্যদেরও সঠিক পথে আহ্বান করা দ্বীনি দায়িত্ব।

৪. দ্বিনের যেকোনো বিষয়কে হালকাভাবে নেওয়া ঈমানের জন্য বিপজ্জনক।

৫. দুনিয়ায় সাময়িক আনন্দের জন্য আখিরাত নষ্ট করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

সংগৃহীত পোষ্ট: 

সূত্র: কালের কন্ঠ


মন্তব্য করুন

ব্লগ