Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:০৫ অপরাহ্ণ

দুই ধারার সমাজ - মোঃ মুজিবুর রহমান

 

দুই ধারার সমাজ

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

আবহেলিত মুখে জমে নীরব কান্নার রেখা,

মাজলুমের বুকের ভেতর জমে ব্যথার লেখা।

অভাবের অন্ধকারে জ্বলে ক্ষীণ আশার আলো,

সরলতার মায়ায় বাঁধা মানুষ ভালো ভালো।

আন্তরিক হৃদয়গুলো দেয় নিঃস্বার্থ দান,

মায়া-মমতায় গড়ে ওঠে মানবতার প্রাণ।

স্নেহ-শ্রদ্ধা মিলিয়ে বোনে ভালোবাসার জাল,

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়ে শান্তিরই কাল।

কিন্তু অন্য প্রান্তে ওঠে অহংকারের ঢেউ,

প্রতাপের গর্জনে মানুষ ভুলে মানব ঢেউ।

অশ্রদ্ধার বিষবাষ্প ছড়ায় চারিধার,

অত্যাচারের আগুন জ্বলে বারংবার।

পরশ্রীকাতর চোখে জ্বলে হিংসার আগুন,

অন্যের সুখে কাঁপে অন্তর—অশান্তির ধ্বনিগুণ।

এই দুই স্রোতে ভাসে আজ একই সমাজ,

কোথাও আলো, কোথাও অন্ধকারের সাজ।

যতদিন না মানবতা জয় করে অহংকার,

ততদিন বিশ্ব গড়ার পথ হবে যে ভার।

ভালবাসার হাত বাড়াও, মুছাও ঘৃণার দাগ,

তবেই গড়বে পৃথিবী—শান্তির অনুরাগ।

***

 “মানবতার আহ্বান

একই পথে হাঁটে মানুষ, ভিন্ন তার পরিচয়,

কেউ বা দুঃখে জর্জরিত, কেউ অহংকারে ক্ষয়।

কেউ মমতায় গড়ে তোলে হৃদয়েরই ঘর,

কেউ বা হিংসায় ভেঙে ফেলে শান্তির অন্দর।

দারিদ্রতার কাঁটা বুকে নিয়েও যে হাসে,

তার চোখে মানবতার আলো নীরব ভাসে।

সরলতায় যে বাঁচে, তার মন পবিত্র,

ভালোবাসা বিলায় সে—নেই কোনো কপট চরিত্র।

স্নেহ-শ্রদ্ধার বীজ বুনে যারা নীরব প্রাণে,

তারাই গড়ে শান্তির স্বপ্ন মানবজগতে টানে।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাঁধে দেশ ও বিশ্ব,

তাদের হাতেই লুকায় সত্যের দিশা।

অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে দম্ভিত এক দল,

অহংকারে অন্ধ তারা—নেই বিবেকের বল।

অত্যাচারের রক্তধারা বইয়ে দেয় ধরা,

অশ্রদ্ধার বিষ ঢালে মনুষ্যত্বহারা।

হিংসা তাদের অন্ধ করে, জ্বালায় অন্তর,

পরশ্রীকাতরতায় হারায় জীবনের স্বর।

এভাবে কি গড়া যায় শান্তিময় ভুবন?

না, এ তো ধ্বংস ডাকে প্রতিটি ক্ষণ।

এসো তবে বদলাই আমরা নিজের অন্তর,

ভালবাসায় জ্বালাই আলো—হোক জীবন সুন্দর।

মানবতার পতাকা উঠুক বিশ্বজুড়ে আজ,

তবেই গড়বে নতুন পৃথিবী—সত্যের সমাজ।

***

আলো ও অন্ধকারের যাত্রা**

একই পৃথিবীর বুকে জন্ম মানুষের,

একই আকাশের নিচে শ্বাস নেয় সকল প্রাণ,

তবুও কত বিভাজন—

কেউ আবহেলিত, কেউ ক্ষমতার আসনে অটল মহান।

কারও চোখে ক্ষুধার দীর্ঘ ছায়া,

কারও হাতে বিলাসের উচ্ছ্বাস,

কেউ রাত্রি কাটায় অশ্রুতে ভিজে,

কেউ হাসে অন্যের দুঃখে নির্লজ্জ উল্লাস।

মাজলুমের কান্না ওঠে নিঃশব্দে,

বুকে জমে অজস্র ব্যথার ঢেউ,

তার আর্তনাদ আকাশ ছুঁয়ে যায়—

তবুও শোনে না দম্ভিত হৃদয়ের কেউ।

অভাবের শৃঙ্খলে বাঁধা মানুষ,

তবুও তার হৃদয় থাকে উদার,

এক টুকরো রুটিতেও ভাগ বসায়,

ভালোবাসার স্রোতে করে সংসার।

সরলতার সাদা আলো জ্বলে

কিছু নির্মল প্রাণের মাঝে,

তাদের হাসি অমূল্য ধন,

তাদের হৃদয় স্বর্গের সাজে।

আন্তরিকতার কোমল ছোঁয়ায়

ভাঙে শত অন্ধকারের দেয়াল,

মায়া-মমতার স্পর্শে গড়ে

মানবতার অমলিন জাল।

স্নেহ ও শ্রদ্ধার অর্ঘ্য দিয়ে

যারা সাজায় জীবনের পথ,

তাদের ছোঁয়ায় পৃথিবী হয়

শান্তির এক অনন্ত রথ।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্ত করে

যারা ধরে একে অপরের হাত,

তাদের চোখে জ্বলে ভবিষ্যৎ—

ভালোবাসার উজ্জ্বল প্রভাত।

কিন্তু একই সমাজে ওঠে

অহংকারের বিষাক্ত ধোঁয়া,

মানুষ মানুষকে ভুলে গিয়ে

ক্ষমতার নেশায় হয় যে মোহা।

প্রতাপের গর্জনে কেঁপে ওঠে

দুর্বলদের নীরব জীবন,

অত্যাচারের কঠিন ছায়ায়

ঢেকে যায় মানবতার দিগন্তমন।

অশ্রদ্ধার বিষ ছড়িয়ে পড়ে

হৃদয় হতে হৃদয়ের মাঝে,

সম্মানহীনতার কালো ছায়া

মানবিকতার রঙকে লাজে।

পরশ্রীকাতর চোখে জ্বলে

অন্যের সুখে ঈর্ষার আগুন,

নিজের হৃদয় পুড়িয়ে ফেলে

অশান্তির নির্মম ধ্বনিগুণ।

হিংসার আগুন দাউ দাউ জ্বলে

সমাজের প্রতিটি কোণে,

মানুষ মানুষকে শত্রু ভাবে

স্বার্থের ক্ষুদ্র সীমানায় বেঁধে।

এই দুই ধারার সংঘর্ষে আজ

কাঁপে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র,

বিশ্বপরিবার ভেঙে পড়ে

অশান্তির অগ্নিকুণ্ডে সর্বত্র।

রাষ্ট্র গড়ে ওঠে মানুষের হাতে,

মানুষ গড়ে তার অন্তরের রূপে,

যদি অন্তর হয় অন্ধকারে ঢেকে—

রাষ্ট্রও ডুবে যায় অন্যায়ের কূপে।

যেখানে ন্যায় হারায় শক্তির কাছে,

সত্য চাপা পড়ে মিথ্যার তলে,

সেখানে সভ্যতা কাঁদে নীরবে,

অবিচারের শিকল পরে।

বিশ্ব যখন এক পরিবার হওয়ার কথা,

তখন কেন এত বিভেদ, এত ঘৃণা?

কেন মানুষ মানুষকে করে অবহেলা—

ভুলে যায় মানবতার চিরসত্য গীতা?

যেখানে ভালোবাসা হতে পারত সেতু,

সেখানে দেয়াল তোলে অহংকার,

যেখানে সহমর্মিতা দিতে পারত আলো—

সেখানে ছড়ায় হিংসার অন্ধকার।

তবুও আশা মরে না কখনো,

মানুষের অন্তরে আছে আলো,

একটি সত্য, একটি ভালোবাসা

পারে বদলে দিতে সবকিছু ভালো।

যদি একবার হৃদয় জাগে

মানবতার নির্মল সুরে,

তবে সব বিভেদ মুছে যাবে

শান্তির নতুন ভোরের নূরে।

এসো আমরা বদলাই আগে

নিজের অন্তরের অন্ধকার,

অহংকার ভেঙে গড়ি বিনয়—

ভালোবাসা হোক জীবনের অধিকার।

অত্যাচার নয়, ন্যায় হোক পথ,

অশ্রদ্ধা নয়, সম্মান হোক ভাষা,

হিংসা নয়, সহমর্মিতা হোক

মানবতার চিরন্তন আশা।

তবেই ব্যক্তি হবে আলোকিত,

সমাজ পাবে শান্তির দিশা,

রাষ্ট্র গড়বে ন্যায়ের ভিত্তি,

বিশ্ব হবে এক ভালোবাসার দিশা।

সেদিন আর থাকবে না কোনো বিভেদ,

না থাকবে হিংসা, না অবহেলা,

মানুষ মানুষকে চিনবে তখন—

ভালোবাসার এক বিশাল মেলা।

এই স্বপ্নই হোক আমাদের পথ,

এই লক্ষ্যেই হোক জীবনযাত্রা,

মানবতার জয়গান গেয়ে

***

একই মাটির বুকে দাঁড়িয়ে মানুষ,

একই আকাশের নিচে তার স্বপ্নের বিস্তার,

তবুও কত বিভক্ত হৃদয়ের স্রোত—

কেউ আলো হয়ে জ্বলে, কেউ অন্ধকার।

কারও কণ্ঠে নীরব আর্তনাদ,

কারও হাসিতে লুকায় নিষ্ঠুরতার ছাপ,

কেউ অভাবে থেকেও বিলায় মমতা,

কেউ প্রাচুর্যে থেকেও করে হৃদয় শূন্য ও চাপা পাপ।

আবহেলিত শিশুর চোখে জমে প্রশ্ন,

আমি কি এই পৃথিবীর কেউ নই?”

তার ক্ষুধার কান্না বাতাসে মিশে যায়—

তবুও সভ্যতার কান শুনতে চায় না তা কই।

মাজলুম মানুষের দীর্ঘশ্বাস

ভেদ করে নীরব রাতের স্তব্ধতা,

তার বুকের ভেতর জমে থাকে ইতিহাস—

অত্যাচারের অজস্র নির্মমতা।

অভাবের শীতল স্পর্শে কাঁপে জীবন,

তবুও কিছু হৃদয় থাকে অটুট আলোয়,

এক টুকরো সুখও তারা ভাগ করে নেয়—

ভালোবাসার স্রোতে ভেসে চলে নীরব ঢেউয়ে।

সরলতার স্নিগ্ধ ছায়ায়

যারা বাঁচে নির্ভীক ও স্বচ্ছ প্রাণে,

তাদের চোখে পৃথিবীটা সুন্দর—

কারণ তারা দেখে হৃদয়ের টানে।

আন্তরিকতার নরম আলো

ভাঙে কঠিন দেয়াল,

মায়া-মমতার স্পর্শে জাগে

মানবতার বিশাল জাল।

স্নেহের পরশ, শ্রদ্ধার বাণী

গড়ে তোলে সম্পর্কের সেতু,

ভ্রাতৃত্বের দৃঢ় বন্ধনে বাঁধা

মানুষ হয় মানুষেরই মিতু।

এই পথেই ছিল পৃথিবীর ডাক—

এক পরিবার, এক মানবধারা,

কিন্তু সেই সুর ভেঙে দেয়

অহংকারের কালো কারা।

অহংকার—অদৃশ্য এক বিষ,

যা নিঃশব্দে গ্রাস করে প্রাণ,

মানুষ ভুলে যায় তার পরিচয়—

সে মানুষ, না কি কেবল ক্ষমতার যান?

প্রতাপের গর্জন, শক্তির দম্ভ

কাঁপিয়ে দেয় দুর্বল প্রাণ,

অত্যাচারের কঠোর শৃঙ্খলে

বাঁধা পড়ে ন্যায় ও জ্ঞান।

অশ্রদ্ধার কালো ছায়া

ঢেকে ফেলে মানবতার রঙ,

সম্মানহীনতায় শুকিয়ে যায়

সম্পর্কের কোমল ঢঙ।

পরশ্রীকাতর দৃষ্টি যখন

অন্যের সুখে জ্বলে ওঠে আগুন,

তখন নিজের ভেতরেই জন্ম নেয়

অশান্তির অশেষ ধ্বনিগুণ।

হিংসা—এক জ্বলন্ত শিখা,

যা পুড়িয়ে দেয় হৃদয়ের বাগান,

মানুষ তখন মানুষকে দেখে না—

দেখে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী, শত্রু, বিরোধী প্রাণ।

এই দুই বিপরীত স্রোতের মাঝে

দাঁড়িয়ে আজ মানবসভ্যতা,

একদিকে আলো, অন্যদিকে অন্ধকার—

চলছে নিরবচ্ছিন্ন দ্বন্দ্বযুদ্ধের ব্যস্ততা।

ব্যক্তি যখন হারায় নৈতিকতা,

সমাজ তখন পথ হারায় ধীরে,

সমাজ ভেঙে গেলে রাষ্ট্রও কাঁপে—

অন্যায়ের ঝড়ে, অশান্তির নীড়ে।

রাষ্ট্র যদি গড়ে ওঠে দম্ভের উপর,

তবে তার ভিত হয় নড়বড়ে ও দুর্বল,

ন্যায় যদি হয় অবহেলিত—

তবে পতন তার অনিবার্য ও অবশ্যম্ভাবী ফল।

যেখানে আইন হয় শক্তির দাস,

সেখানে সত্য পায় না স্থান,

সেখানে স্বাধীনতা কেবল শব্দ—

বাস্তবে থাকে শৃঙ্খলিত প্রাণ।

বিশ্ব যখন হওয়ার কথা এক পরিবার,

সেখানে কেন বিভাজনের দেয়াল?

ধর্ম, জাতি, বর্ণের নামে

কেন সৃষ্টি হয় সংঘর্ষের কালো জাল?

কেন মানুষ মানুষকে করে ঘৃণা,

কেন হৃদয় হয় এত সংকীর্ণ?

যেখানে ভালোবাসা হতে পারত সেতু—

সেখানে কেন তৈরি হয় বিভেদের চিরন্তন চিত্র?

তবুও আশা নিভে যায় না,

মানবহৃদয়ে জ্বলে এক অমর দীপ,

এক ফোঁটা করুণা, এক বিন্দু ভালোবাসা—

পারে বদলে দিতে ভাগ্যের রূপ।

***

যখন মানুষ জেগেছে মানবতার ডাকে,

তখন অন্ধকার ভেঙে আলো এসেছে

অত্যাচারের গভীর ফাঁকে ফাঁকে।

একটি ন্যায়বোধ, একটি সত্য উচ্চারণ

পারে বদলে দিতে রাষ্ট্রের ধারা,

একটি মমতার স্পর্শেই জেগে ওঠে

অসংখ্য হৃদয়ের হারা সুরধারা।

তাই শুরু হোক পরিবর্তন

নিজের অন্তরের গভীর থেকে,

অহংকার ভেঙে ফেলি আমরা—

বিনয়ের আলো জ্বালাই একে একে।

অত্যাচারের বদলে দেই ন্যায়,

অশ্রদ্ধার বদলে সম্মান,

হিংসার বদলে ভালোবাসা—

এই হোক জীবনের মূল গান।

সমাজ গড়ি মানবতার ভিত্তিতে,

রাষ্ট্র গড়ি ন্যায়ের শপথে,

বিশ্ব গড়ি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে—

শান্তির চিরন্তন রথে।

সেদিন পৃথিবী হবে ভিন্ন,

মানুষ চিনবে মানুষকে সত্যি,

না থাকবে বিভেদ, না থাকবে ঘৃণা—

থাকবে শুধু ভালোবাসার নিত্য গীতি।

শিশুর হাসি হবে নির্ভীক,

মাজলুম পাবে ন্যায়ের আলো,

অভাব হবে দূরের স্মৃতি—

মানবতা তখন জাগবে ভালো।

এটাই হোক আমাদের শপথ,

এটাই হোক আমাদের পথচলা,

মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—

এই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ বল।

আলো ও অন্ধকারের এই মহাযুদ্ধে

জয় হোক মানবতার চিরদিন,

ভালোবাসার পতাকা উড়ুক বিশ্বজুড়ে—

এই প্রার্থনায় শেষ হোক কাব্যের রঙিন দিন। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ