সহকারী অধ্যাপক
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১৫ অপরাহ্ণ
আদমের অবতরণ — হিদায়াতের আহ্বান - মোঃ মুজিবুর রহমান
আদমের অবতরণ — হিদায়াতের আহ্বান
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জান্নাতের বুকে নীরব আলো, শান্তির স্নিগ্ধ ছায়া,
রবের বাণী ধ্বনিত হলো—প্রেমে ভরা মায়া।
“হে আদম, তুমি ও সঙ্গিনী, থাকো সুখের নীড়ে,
যা চাও খাও, স্বাচ্ছন্দ্যে থাকো, আনন্দঘন ঘীরে।
তবে একটি গাছ আছে সেথা, রেখো সেথায় মান,
নিকটে যেও না কখনো, রেখো আমার জ্ঞান।
নিষেধ যদি ভাঙো তোমরা, পথ হবে অন্ধকার,
যালিমদের দলে যাবে, হারাবে সব অধিকার।”
কিন্তু শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়, ফিসফিস করে মনে,
সন্দেহের বীজ বপন করে নীরব গোপন ক্ষণে।
অবশেষে তারা ভুলে যায়, রবের সেই নিষেধ,
পা বাড়ায় সেই গাছের দিকে, খুলে যায় বিপদের স্রোত।
তখনই ভেঙে যায় শান্তির ঘর, জান্নাতের ঐ স্থান,
শয়তান করে স্খলন তাদের, হারায় পবিত্র মান।
রবের হুকুম ধ্বনিত হয়—“নেমে যাও ধরায়,
শত্রু হয়ে একে অপর, বাস করো সময়টায়।
পৃথিবীতে রয়েছে তোমাদের ক্ষণস্থায়ী ঠিকানা,
ভোগ-বিলাস, পরীক্ষা আর জীবনেরই মানা।”
কিন্তু তবুও করুণার স্রোত থামে না কোনো ক্ষণ,
রবের দয়া ছুঁয়ে যায় আদমের অনুতপ্ত মন।
তিনি পেলেন কিছু বাণী, তাওবার পবিত্র পথ,
রবও তখন ক্ষমা করেন, খুলে দেন রহমতের রথ।
তিনি তো তাওবা কবূলকারী, দয়ার মহাসাগর,
অপরাধী বান্দার তরে সদা খোলা তাঁর দর।
পুনরায় আসে নির্দেশনা—“নেমে যাও সবাই,
যখনই আমার হিদায়াত আসবে, মানবে তাতে ভাই।
যারা চলবে সেই আলোর পথে, ভয় পাবে না আর,
দুঃখ তাদের ছুঁতে পারবে না, থাকবে সুখের ধার।”
এই কাহিনি শুধু অতীত নয়, প্রতিদিনের শিক্ষা,
মানব হৃদয়, তাওবা, হিদায়াত—জীবনের দীক্ষা।
ভুলের পথে গেলেও যদি ফিরে আসো আবার,
রবের দয়া ঢেকে দেবে সব অন্ধকারের ভার।
***
অসীম আকাশে নীরব সুর, রহমতেরই ধারা,
রবের হুকুম জাগায় প্রাণে অনন্ত আলোকধারা।
জান্নাতভূমি শান্তিময়, ফুলে ভরা পথ,
সুখের মাঝে আদম তখন, নেই কোনোই ক্ষত।
সাথে আছেন জীবনসাথী, স্নেহমাখা প্রাণ,
দুইজনেতে গড়েন যেন সুখেরই এক গান।
রবের বাণী নেমে আসে মধুর কোমল ছায়া,
করুণার সেই আহ্বানে হৃদয় ভরে মায়া।
“হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী থাকো সুখের ঘরে,
যা ইচ্ছা খাও, ভয় নেই কোনো, থাকো আনন্দভরে।”
“কিন্তু একটি গাছ আছে, রেখো তাতে দূর,
নিকটে গেলে হারাবে পথ, নামবে দুঃখঘোর।”
নিষেধের এই সীমানাতে ছিল রহস্য গভীর,
পরীক্ষারই সূক্ষ্ম রেখা, ছিল সেথা অধীর।
সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝরে স্নিগ্ধ বাতাস,
তবু সেথায় লুকিয়ে ছিল পরীক্ষা এক বিশেষ।
শয়তান তখন লুকিয়ে আসে চতুরতার ছলে,
মিথ্যার রঙে আঁকে ছবি নীরবতার তলে।
সে বলে, “এই গাছটি শুধু অমরতার দান,
খেলে পাবে চিরজীবন, অমল অমৃত প্রাণ।”
কানে কানে বিষ ঢেলে দেয় প্রতারণার সুর,
সন্দেহেরই ছোট্ট বীজে জন্ম নেয় বিভ্রান্তি ভরপুর।
নিষেধ যেন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়,
কৌতূহলের আগুন তখন অন্তরে জ্বলে যায়।
অবশেষে সেই নিষিদ্ধ পথ পা বাড়ালো তারা,
পরীক্ষার সেই ক্ষণে এসে থেমে গেল ধারা।
ফলটি ছুঁয়ে বুঝল তারা—ভুল হয়েছে আজ,
নীরবতায় ভেঙে পড়ে অন্তরেরই সাজ।
হঠাৎ যেন খুলে যায় চোখ, লজ্জা ঢাকে মন,
শান্তিময় সেই জান্নাতে নামে বিষণ্নতা ক্ষণ।
রবের হুকুম ধ্বনিত হলো—গম্ভীর বজ্রধ্বনি,
“নেমে যাও তোমরা ধরায়, শেষ হলো সে ধনী।”
“শত্রু হবে একে অন্যের, থাকবে দ্বন্দ্বভরা,
পৃথিবীতে থাকবে তোমরা সময় সীমা ধরা।”
জান্নাত ছেড়ে নামল তারা অশ্রুভেজা পথে,
অজানা সেই পৃথিবী তখন অপেক্ষাতে।
পৃথিবীর বুকে শুরু হলো পরীক্ষারই জীবন,
কষ্ট আর সুখ মিলে গড়ে মানবেরই মন।
তবুও রহমতের দরজা বন্ধ হলো না,
রবের দয়া ছুঁয়ে গেল অনুতপ্ত প্রাণখানা।
আদম তখন পেলেন কিছু পবিত্র বাণী,
তাওবার সেই সোনার চাবি খুলল হৃদয়খানি।
চোখের জলে ডুবে গিয়ে করলেন মিনতি,
“হে রব, ক্ষমা করো আমায়”—কাঁপে তার প্রীতি।
রবের দয়া সীমাহীন, করলেন ক্ষমা দান,
তাওবা কবূল করে দিলেন রহমতেরই স্থান।
তিনি তো মহাদয়ালু, ক্ষমাশীল মহান,
অপরাধী বান্দার তরে খোলা তাঁর দোরগোড়ান।
পুনরায় এলো নির্দেশনা আলোর মতন ধারা,
হিদায়াতের পথ দেখাতে দয়ারই ইশারা।
“যখনই আমার দিশা আসবে তোমাদের মাঝে,
যে মানবে তা, সে থাকবে শান্তিরই সাজে।”
“তাদের কোনো ভয় থাকবে না, দুঃখ পাবে না,
আমার পথে চললে তারা হারাবে না পথখানা।”
এই বাণীতে জাগে আশা মানব হৃদয়তলে,
ভুলের মাঝেও ফিরে আসার পথ রয়ে চলে।
পৃথিবী তখন রণক্ষেত্র, পরীক্ষা এক বিশাল,
সৎ ও অসৎ মিলে গড়ে জীবনেরই জাল।
মানব হৃদয় কখনো নত, কখনো দৃঢ় প্রাণ,
তাওবা আর হিদায়াতে গড়ে সত্যেরই জ্ঞান।
সূর্যের আলো, রাতের তারা—সবই নিদর্শন,
রবের সৃষ্টি স্মরণ করায় তাঁরই মহাগুণ।
বাতাস বয়ে বলে যায় করুণারই গান,
প্রতিটি কণা সাক্ষ্য দেয় একত্বেরই জ্ঞান।
আদমের এই অবতরণ ইতিহাসের শুরু,
মানব জাতির পথচলা তাতে পায় রূপ গুরু।
প্রতিটি ভুল শিক্ষা দেয় ফিরে আসার পথ,
তাওবারই আলোয় ভাঙে অন্ধকারের রথ।
শয়তান এখনো ফিসফিস করে অন্তরেরই কোণে,
পথভ্রষ্ট করতে চায় মানুষকে ক্ষণে ক্ষণে।
কিন্তু যার হৃদয়ে আছে হিদায়াতের আলো,
সে ফিরবে আবার রবের কাছে, ছাড়বে মিথ্যা কালো।
এই পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী, পরীক্ষা এক ধাপ,
চিরস্থায়ী ঠিকানা পরে, শেষ হবে এই চাপ।
আদমের সেই অশ্রুবিন্দু শিক্ষা দেয় আজও,
ভুল করেও ফিরে আসা সম্ভব সর্বদাও।
রবের দয়া সীমাহীন, আকাশ পেরিয়ে যায়,
একটি তাওবায় বান্দার ভাগ্য নতুন হয়।
তাই হে মানব, ভুলে গেলে ফিরে এসো আবার,
রবের পথে আছে শুধু শান্তিরই দ্বার।
পৃথিবীর পথে নানা পরীক্ষা, সুখ-দুঃখের ঢেউ,
কখনো হাসি, কখনো কান্না, জীবন বয়ে বয়ে।
শয়তানের ফাঁদ বিস্তৃত সব পথে অদৃশ্য জাল,
তবু হিদায়াতের আলো করে তা বিফল কাল।
মানব হৃদয় দ্বিধার মাঝে খুঁজে নেয় ঠিকানা,
তাওবার স্রোত ধুয়ে দেয় পাপের সবই মানা।
রাতের নীরবতায় যে কাঁদে রবেরই তরে,
তার জন্য রহমত নামে অশ্রুরই ঘরে।
আদমের কাহিনি যেন জীবনের প্রতিচ্ছবি,
ভুল-সংশোধনেই গড়ে মানুষের রূপ নবী।
আকাশজোড়া নিদর্শন ডাকে প্রতিক্ষণ,
“ফিরে এসো হে মানব, করো সত্য অনুসরণ।”
জীবনের প্রতিটি ধাপ শিক্ষা দেয় নতুন,
হিদায়াতের পথেই আছে মুক্তিরই গুণ।
যারা চলে আলোর পথে দৃঢ় ঈমান নিয়ে,
তারা পায় শান্তির ছোঁয়া অন্তরের গভীরে।
দুঃখ আসে, তবু তারা ভাঙে না কোনোদিন,
কারণ তাদের ভরসা এক—রবেরই ঋণ।
শেষে যখন জীবনপথ থামবে নিঃশব্দ হয়ে,
ফিরতে হবে সেই রবের কাছে অশ্রু নয়নে।
যারা মানে তাঁর বাণী, পায় অনন্ত সুখ,
ভয়হীন, দুঃখহীন জীবন—শান্তিরই মুখ।
আদমের সেই অবতরণ কেবল কাহিনি নয়,
মানব জীবনের প্রতিটি ধাপে এরই পরিচয়।
হিদায়াতের আলো জ্বেলে রাখো অন্তরে,
তবেই সফল হবে জীবন চির শান্তি ঘরে।
এই মহাকাব্য শুধু অতীতের গল্প নয়—
এটি প্রতিটি মানুষের জীবনের আয়না।
ভুল, তাওবা, হিদায়াত—এই তিনের সমন্বয়েই
মানব জীবনের পরিপূর্ণতা আসবেই।
***
নিস্তব্ধ শূন্যে জাগে আলো, অদৃশ্য রহমতধারা,
আরশের ছায়ায় গোপন ছিল সৃষ্টি-গভীর কারা।
নূরের ইশারা ছুঁয়ে গেল অনন্ত আসমান,
সেই ডাকে জন্ম নিলো মানবেরই প্রাণ।
জান্নাতের বুকে শান্তির ঢেউ, স্নিগ্ধতারই ছায়া,
সেখানে আদম, সাথে হাওয়া—নেই কোনো মায়া-বায়া।
রবের কণ্ঠে মধুর হুকুম—করুণারই বাণী,
“যা চাও খাও, সুখে থাকো, নেই কোনো অজানী।
তবে একটি সীমা রেখেছি, পরীক্ষা গোপন,
সে গাছ হতে দূরে থেকো—এ আমারই শপথ।”
বাতাস তখন থেমে শোনে সেই গম্ভীর বাণী,
ফুলেরাও ঝুঁকে পড়ে যেন মানে সেই টানি।
কিন্তু ছায়ার কোণে লুকায় প্রতারণার আগুন,
শয়তানের ফিসফিস ধ্বনি—বিষে ভরা গুণ।
“এ যে বৃক্ষ অমরতার, চির জীবনের দান,”
মিথ্যার মুকুট পরিয়ে দেয় প্রতারণার গান।
কৌতূহলের ক্ষুদ্র শিখা দাউ দাউ করে জ্বলে,
নিষেধ ভাঙার ক্ষণে এসে হৃদয় পড়ে দলে।
ফল স্পর্শে খুলে যায় চোখ—লজ্জার ভারী ঢেউ,
শান্তির মাঝে হঠাৎ নেমে অশ্রুর নীরব ঢেউ।
রবের হুকুম বজ্রসম—ধ্বনিত হয় আকাশে,
“নেমে যাও ধরার বুকে, সময়েরই বাসে।
শত্রু হবে একে অপর, দ্বন্দ্ব হবে সাথী,
ক্ষণস্থায়ী এই ভুবনে কাটাবে দিনরাতি।”
অশ্রুসিক্ত পথে নামে মানবেরই সূচনা,
পৃথিবী তখন সাক্ষী হয়ে লেখে প্রথম বর্ণনা।
কিন্তু দয়ার দরজা খোলে তাওবারই আলো,
আদম কাঁদে, বাণী পায়—ক্ষমা মেলে ভালো।
এই যে শুরু মানবপথ—ভুল আর সংশোধন,
তাওবার স্রোতে ধুয়ে যায় অন্তরেরই বন্ধন।
এরই মাঝে জাগে ধ্বনি—হিদায়াতের ডাক,
“যে মানিবে আমার বাণী, সে পাবে না ফাঁক।”
পৃথিবীর বুকে শুরু হলো নবীদেরই ধারা,
নূরের মশাল হাতে নিয়ে এলো তারা সারা।
নূহ (আ.) ডাকে শত বর্ষ ধরে, “ফিরে এসো রবের পানে,”
তবু অস্বীকারে ডুবে থাকে কুফরিরই টানে।
অবশেষে আকাশ ফেটে নামে প্লাবনের জল,
বিশ্বাসীরা নৌকায় উঠে পায় রক্ষার ফল।
ইব্রাহিম (আ.) আগুনের মাঝে দাঁড়ায় দৃঢ় প্রাণে,
তাওহীদের ডাক ছড়ায় তিনি মূর্তিপূজার টানে।
আগুন তখন ঠাণ্ডা হয়ে ফুলের মতন হাসে,
রবের প্রেমে আত্মা তার দীপ্ত হয়ে ভাসে।
ইসমাঈল (আ.) কুরবানির সেই দৃঢ়তারই ছবি,
বাবার হাতে সমর্পিত প্রাণ—বিশ্বাসে অদ্ভুত নবি।
ছুরির ধারও থেমে যায় আল্লাহর হুকুমে,
ত্যাগের সেই ইতিহাস লেখা থাকে চুম্বে।
মূসা (আ.) দাঁড়ায় ফেরাউনের মুখে সত্যের দীপ জ্বেলে,
লাঠির আঘাতে সাগর ফাটে আল্লাহরই খেলায় মেলে।
জালিম শক্তি ডুবে যায় অহংকারের স্রোতে,
মুমিনেরা পায় মুক্তির আলো করুণারই নোটে।
দাউদ (আ.)-এর কণ্ঠে গায় পাহাড়-নদীর গান,
সুলায়মান (আ.)-এর রাজ্যে ঝুঁকে পড়ে জিন-ইনসান।
প্রকৃতির সব কণা যেন তাসবীহে মগ্ন,
রবের মহিমা ঘোষণা করে অনন্তে অগ্ন।
ইউনুস (আ.) ডুবে যায় অন্ধকার গভীর সাগরতলে,
তিমির পেটে কাঁদে তিনি তাওবারই ছলে।
“তুমি ছাড়া নেই কোনো উপাস্য”—এই ডাকেরই তরে,
অন্ধকার ভেদ করে আলো ফিরে আসে ঘরে।
ইসা (আ.) আসে রহমতের স্পর্শ নিয়ে মানব মাঝে,
অলৌকিক নিদর্শনে ডাকে সত্যেরই সাজে।
রোগীর আরোগ্য, মৃতের প্রাণ—সবই আল্লাহর দান,
তার জীবনে ফুটে ওঠে করুণারই গান।
অবশেষে আসে সেই আলো, শেষ নবীর ডাকে,
মুহাম্মদ (সা.) জাগায় জগৎ সত্যেরই ফাঁকে।
জাহেলিয়াতের অন্ধকারে জ্বলে নূরের প্রদীপ,
কুরআনের বাণী হয়ে ওঠে মানবতার নীতিপথ দীপ।
তাঁর জীবনে ধৈর্য, দয়া, সংগ্রামেরই ছাপ,
প্রতিটি ক্ষণে শিক্ষা দেয় সত্যেরই প্রতাপ।
উহুদ-বদর সাক্ষী থাকে ত্যাগের মহাগাথা,
রক্তে লেখা ইতিহাসে জাগে ঈমানের ব্যাখ্যা।
এই ধারাতে বয়ে চলে হিদায়াতের ধারা,
আদম হতে শেষ নবী—একই আলোর কারা।
মানব হৃদয় আজও দাঁড়ায় দ্বিধার মোড়ে এসে,
শয়তানের ডাক টানে তাকে অন্ধকারের দেশে।
তবু যার অন্তরে জ্বলে তাওবারই শিখা,
সে ফিরে আসে রবের পথে, ভাঙে মায়ার দীক্ষা।
রাতের শেষে ফজরের আলো যেমন ভোর আনে,
তেমনি হিদায়াত জীবন ভরে শান্তিরই টানে।
এই দুনিয়া ক্ষণিক পথ, পরীক্ষারই মঞ্চ,
সত্যের পথে চলাই শুধু মুক্তিরই সঞ্চ।
যে মানে রবের নির্দেশনা, ভয় তার থাকে না,
দুঃখ তার ছুঁতে পারে না—আলো তাকে রাখে না।
শেষে যখন থামবে জীবন, নিঃশ্বাস হবে ক্ষীণ,
ফিরতে হবে সেই রবের কাছে—চির শান্তির দিন।
যারা পেরেছে পথটি ধরে হিদায়াতের আলোয়,
তারা পাবে জান্নাত ঘর—রহমতেরই ছায়ায়।
আদমের সেই প্রথম ভুল, তাওবারই জয়,
নবীদের সব কাহিনিতে একই বাণী রয়—
ভুল করবে মানুষ, তবু ফিরে আসাই পথ,
রবের দয়া সীমাহীন—সেই তো চিরসত্য।
****
নিস্তব্ধ গগনে নূরের ডাকে জাগে সৃষ্টি-গান,
আরশের ছায়ায় লেখা থাকে রহমতের ফরমান।
শূন্যতারই বুক চিরে নেমে আসে জীবন,
মাটির মাঝে রুহের ছোঁয়ায় জাগে মানব-মন।
জান্নাতভূমি শান্তিময়, স্নিগ্ধ সুবাস ভরা,
আদম সাথে হাওয়া তখন সুখেরই ঘেরা।
নরম বাতাস দোলে ধীরে ফুলের রঙিন ছায়া,
রবের বাণী ভেসে আসে করুণারই মায়া।
“যা চাও খাও, সুখে থাকো”—মধুর সেই আহ্বান,
“তবে একটি গাছ হতে দূরে রেখো প্রাণ।”
নিষেধ যেন সোনার রেখা পরীক্ষারই দ্বার,
সীমার মাঝে লুকিয়ে থাকে আনুগত্যের ভার।
ছায়ার কোণে শয়তান আসে ধোঁকারই বেশে,
মিথ্যার রঙে আঁকে ছবি কুমন্ত্রণা মেশে।
“অমরতার এই বৃক্ষ খাও”—ফিসফিস করে কয়,
কৌতূহলের আগুন জ্বলে, হৃদয় বিভ্রান্ত হয়।
স্পর্শ মাত্রে খুলে যায় চোখ, লজ্জা ঢাকে দেহ,
শান্তির মাঝে নেমে আসে বিষণ্নতার গেহ।
রবের হুকুম বজ্রসম—ধ্বনিত হয় ধরা,
“নেমে যাও তোমরা সবাই পৃথিবীরই ঘরা।”
অশ্রুসিক্ত পথে নামে মানবজাতির শুরু,
দুঃখ-সুখের বুনন বয়ে জীবনেরই গুরু।
তবু দয়ার দরজা খোলে তাওবারই ডাকে,
আদম কাঁদে, ক্ষমা মেলে রহমতেরই ফাঁকে।
এই যে শুরু মানবপথ—ভুল আর প্রত্যাবর্তন,
হিদায়াতের আলোয় জ্বলে সত্যেরই সমর্পণ।
পৃথিবী তখন পরীক্ষারই বিস্তৃত এক স্থান,
শয়তানেরই ফাঁদে ঘেরা প্রতিটি অবসান।
নূহের ডাকে শত শত বছর ধ্বনিত সত্যবাণী,
অস্বীকারে ডুবে যায় লোক—কঠোর তাদের প্রাণী।
আকাশ ফেটে নেমে আসে প্লাবনেরই ঢেউ,
বিশ্বাসীরা পায় মুক্তি নৌকারই ঢেউ।
ইব্রাহিম আগুনে দাঁড়ায় ঈমানেরই জোরে,
আগুন ঠাণ্ডা ফুলের মতো আল্লাহরই নূরে।
ইসমাঈল কুরবানিতে সমর্পিত প্রাণ,
ত্যাগের মাঝে দীপ্ত হয়ে ওঠে ঈমান।
মূসার লাঠি সাগর ভাঙে আল্লাহরই হুকুমে,
ফেরাউনের অহংকার ডুবে যায় অন্ধ গুমে।
সিনাই পাহাড় সাক্ষী থাকে ওহীরই নূরে,
মানব জাতি পায় বিধান সত্যেরই সুরে।
দাউদের কণ্ঠে পাহাড় গায় তাসবীহের গান,
সুলায়মানের রাজ্যে নত জিন ও ইনসান।
ইউনুস ডুবে অন্ধকারে তাওবারই সুরে,
আলো ফিরে আসে শেষে আল্লাহরই নূরে।
ইসার হাতে আরোগ্য নামে আল্লাহরই দান,
মৃত হৃদয় জাগ্রত করে করুণারই গান।
শেষে আসে নূরের শিখা মানবতার মাঝে,
রাসূলেরই দাওয়াত জাগে সত্যেরই সাজে।
অন্ধকারে নিমজ্জিত জগত পায় দিশা,
কুরআনের বাণী হয়ে ওঠে মুক্তিরই নিশা।
ধৈর্য, দয়া, সংগ্রামের দীপ্ত উদাহরণ,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে সত্যেরই ঘোষণা।
এইভাবে হিদায়াতের ধারা বয়ে চলে কালে,
মানব হৃদয় দুলে ওঠে দ্বিধারই জালে।
কখনো আলো, কখনো আঁধার টানে দুই দিক,
হিদায়াতের পথে চলে যার অন্তর ঠিক।
দুনিয়া ক্ষণিক মরীচিকা, পরীক্ষারই মঞ্চ,
সত্যের পথে চলাই শুধু মুক্তিরই সঞ্চ।
যে মানে রবের নির্দেশনা অটল বিশ্বাসে,
তার হৃদয়ে শান্তি নামে অশেষ উল্লাসে।
হঠাৎ একদিন শিঙ্গার ধ্বনি কাঁপিয়ে দেবে ধরা,
পর্বত হবে ধূলিকণা, থেমে যাবে ধরা।
সমুদ্র হবে উত্তাল অগ্নি, আকাশ ভেঙে যায়,
মানব তখন স্তম্ভিত হয়ে আতঙ্কে কাঁপায়।
কবর হতে উঠবে সবাই বিস্ময়েরই মাঝে,
হাশরের সেই বিশাল ময়দান ভয়ংকর সাজে।
সূর্য তখন নিকটে এসে তাপ ছড়াবে তীব্র,
ঘাম ঝরিবে পাপ অনুযায়ী—ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য।
আমলনামা হাতে পাবে প্রতিটি মানুষ একদিন,
ডান হাতে যার, সে পাবে শান্তিরই দিন।
বাম হাতে যার, সে কাঁদিবে হতাশারই তরে,
অন্ধকারে হারাবে পথ অনন্তেরই ঘরে।
মিজানের পাল্লায় ওজন হবে ক্ষুদ্র কর্মখানি,
একটি সৎকর্ম ভারী হয়ে বদলে দেয় বাণী।
সিরাত সেতু সূক্ষ্ম ধারার চেয়েও ক্ষীণ,
যে পার হবে ঈমান নিয়ে সে-ই হবে চিন।
জাহান্নামের আগুন জ্বলে গর্জন করে ভয়,
অবাধ্যদের জন্য সেথা সীমাহীন ক্ষয়।
অনুতাপে কাঁদবে তারা ফিরে পাবার আশায়,
কিন্তু সেথা নেই আর পথ ফিরে আসার ভাষায়।
অপরদিকে জান্নাত ঘর শান্তিরই নীড়,
নদী বয়ে, ফলের বাগান, স্নিগ্ধতারই ঘীর।
সেখানে নেই কোনো ভয়, নেই দুঃখের ছাপ,
চির সুখে থাকবে তারা রহমতেরই মাপ।
রবের দীদার সর্বোচ্চ সুখ মুমিনদের প্রাণে,
অতুল আনন্দ ভরে ওঠে নূরেরই টানে।
এই তো শেষ গন্তব্য পথ—মানব জীবনের,
হিদায়াত আর তাওবারই সফলতার বরণ।
তাই হে মানব, ভুলের পথে যত দূরেই যাও,
ফিরে এসো রবের কাছে, ক্ষমার দ্বার পাও।
আদম হতে আজ অবধি এক বাণী রয়—
রবের দয়া সীমাহীন, তাওবাতেই জয়।
৪
৪ মন্তব্য