Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টিকা দান কর্মসূচি ও করণীয়

☘️সম্প্রতি চট্টগ্রাম শহর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা/উপজেলায় শিশুদের মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগ এবং নিউমোনিয়াজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এসব রোগীদের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা চালু রয়েছে। সন্দেহজনক হাম রোগীদের ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ পূর্বক তা পরীক্ষা করা আবশ্যক।


💉💉টিকাদান পরিস্থিতি:

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) এবং সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী টিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:


টিকাদানের সময়সূচী ও নিয়ম ::::------


সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়: 


  💉প্রথম ডোজ : শিশু জন্মের ৯ মাস পূর্ণ হলে।

  💉দ্বিতীয় ডোজ : ১৫ মাস বয়সে।

 

তবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা, যাদের এখনও টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।


হাম রোগ সাধারণত দুইভাবে নির্ণয় করা হয়:::::------


: বাহ্যিক লক্ষণ দেখে এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে। 

💉💉১. বাহ্যিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ (ক্লিনিকাল ডায়াগনোসিস) 

চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং ফুসকুড়ির ধরণ দেখে হাম শনাক্ত করেন:


💉*কপলিক স্পট : গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদা বা ধূসর দানা দেখা দেয়, যা হামের একটি প্রধান লক্ষণ।


💉*ফুসকুড়ির ধরণ: সাধারণত কান বা মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে শরীরের নিচের দিকে (ঘাড়, বুক, হাত ও পা) ছড়িয়ে পড়া লালচে ছোপ ছোপ দাগ।


💉*প্রাথমিক উপসর্গ: তীব্র জ্বর (১০৩-১০৪° ফারেনহাইট), অনবরত কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। 


💉*জরুরি বিপদচিহ্ন:

  ⭐শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।

  ⭐শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়া বা খিঁচুনি হওয়া।

  ⭐একদম খেতে না পারা বা অনবরত বমি করা।


💉💉২. ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (ল্যাব ডায়াগনোসিস)


লক্ষণগুলো নিশ্চিত করার জন্য কিছু পরীক্ষা করানো হতে পারে: 


💉রক্ত পরীক্ষা (IgM Antibody Test): রক্তে হামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (IgM) আছে কিনা তা যাচাই করা হয়। এটি বর্তমানে হাম শনাক্তের সবচাইতে প্রচলিত পদ্ধতি।


💉পিসিআর পরীক্ষা (RT-PCR): রোগীর নাক, গলা বা প্রস্রাব থেকে নমুনা (Swab) নিয়ে ভাইরাসের জেনেটিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।


☘️☘️চিকিৎসকদের পরামর্শ: আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার (বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার) এবং পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।


💉💉আক্রান্ত শিশুর যত্ন: 

⭐আলাদা রাখা: শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা ঘরে রাখুন।

⭐তরল খাবার: প্রচুর পানি, ফলের রস ও পুষ্টিকর খাবার দিন।

⭐ভিটামিন-এ: চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-এ নিশ্চিত করুন।


♥️সময়মতো শিশুকে টিকা দিয়ে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করি♥️

মন্তব্য করুন

ব্লগ