প্রভাষক
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
মানব মস্তিষ্কে সাইকোসিস (Psychosis) ঝুঁকি
মানব মস্তিষ্কে সাইকোসিস (Psychosis) এমন একটি অবস্থা যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি বাস্তবের সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলেন। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং বিভিন্ন মানসিক বা শারীরিক সমস্যার একটি গুরুতর উপসর্গ।
সাইকোসিসের ঝুঁকি এবং এর পেছনের কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
প্রধান ঝুঁকির কারণসমূহ
জেনেটিক বা বংশগত: পরিবারের কারো (বাবা-মা বা ভাই-বোন) সাইকোসিস বা সিজোফ্রেনিয়া থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন: গবেষণায় দেখা গেছে, সাইকোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশে (যেমন হিপোক্যাম্পাস) গঠনগত ভিন্নতা বা ধূসর ও সাদা পদার্থের ক্ষতি হতে পারে।
রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা: মস্তিষ্কের ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রায় অসামঞ্জস্যতা সাইকোসিসের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়।
মাদক সেবন: অতিরিক্ত অ্যালকোহল, গাঁজা বা হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ গ্রহণ সাইকোসিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
মানসিক চাপ ও ট্রমা: শৈশবের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা, প্রিয়জনের মৃত্যু বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ সাইকোসিসের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
শারীরিক ও অন্যান্য ঝুঁকি
মস্তিষ্কের রোগ: টিউমার, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া বা স্ট্রোকের মতো জটিলতায় সাইকোসিস হতে পারে।
সংক্রমণ ও অপুষ্টি: মস্তিষ্কে সংক্রমণ (Encephalitis), এমনকি ভিটামিন B1 বা B12-এর তীব্র অভাবও এই ঝুঁকি তৈরি করে।
সাম্প্রতিক ঝুঁকি (কোভিড-১৯): কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুতর কোভিড আক্রান্তদের পরবর্তী সময়ে সাইকোসিস বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রতিরোধ ও করণীয়
সাইকোসিস পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সবসময় সম্ভব না হলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো (যেমন- অলীক কিছু দেখা বা শোনা, অসংলগ্ন কথা বলা) শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা নিলে মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। যথাযথ ওষুধ ও সাইকোথেরাপির সমন্বয়ে অধিকাংশ রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
৪
৪ মন্তব্য