Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:০০ পূর্বাহ্ণ

এপ্রিল ফুল দিবসের উৎপত্তি ও প্রচলিত বিশ্বাস

এপ্রিল ফুল দিবসের উৎপত্তি ও প্রচলিত বিশ্বাস নিয়ে নিচে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

উৎপত্তি ও ইতিহাসের বিভিন্ন তত্ত্ব 

এপ্রিল ফুল দিবস কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ রয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্বগুলো হলো: 

ক্যালেন্ডার পরিবর্তন (১৫৮২): ফ্রান্সে আগে নতুন বছর শুরু হতো এপ্রিলের ১ তারিখে। ১৫৮২ সালে পোপ গ্রেগরি ত্রয়োদশ জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন, যেখানে ১ জানুয়ারিকে বছরের প্রথম দিন ধরা হয়। অনেক মানুষ এই খবর দেরিতে পায় বা নতুন নিয়ম মানতে অস্বীকার করে ১ এপ্রিলেই নববর্ষ পালন করতে থাকে। যারা পুরনো নিয়ম আঁকড়ে ধরে ১ এপ্রিলে উৎসব করত, তাদের বিদ্রূপ করে বোকা বা 'এপ্রিল ফুল' বলা হতো।

রাজা রিচার্ড ও রানী অ্যান (১৩৮১): অন্য একটি প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড দ্বিতীয় এবং বোহেমিয়ার রানী অ্যানের বাগদানের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল '৩২ মার্চ'। সাধারণ মানুষ দিনটি উদযাপন করতে গিয়ে পরে বুঝতে পারে যে ক্যালেন্ডারে ৩২ মার্চ বলে কোনো দিন নেই, যা ছিল একটি বড় মাপের কৌতুক।

প্রাচীন উৎসব হিলারিয়া: প্রাচীন রোমে মার্চ মাসের শেষে 'হিলারিয়া' নামক একটি উৎসব পালিত হতো। এই উৎসবে মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করত এবং একে অপরকে নিয়ে কৌতুক করত। অনেকে মনে করেন সেখান থেকেই আধুনিক এপ্রিল ফুলের ধারণা এসেছে। 

বিশ্বজুড়ে পালনের কিছু বিচিত্র রীতি 

ফ্রান্স (Poissons d'Avril): ফ্রান্সে এই দিনটিকে বলা হয় 'পয়সন দ্য আভ্রিল' বা 'এপ্রিলের মাছ'। এদিন শিশুরা কাগজের মাছ তৈরি করে বড়দের অগোচরে তাদের পিঠে আটকে দেয় এবং ধরা পড়লে 'পয়সন দ্য আভ্রিল' বলে চিৎকার করে ওঠে।

ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড: ইংল্যান্ডে সাধারণত দুপুর ১২টা পর্যন্ত কৌতুক করার অনুমতি থাকে; এরপর কেউ প্র্যাঙ্ক করলে তাকেই 'ফুল' বলা হয়। স্কটল্যান্ডে ঐতিহ্যগতভাবে এটি দুই দিন ধরে পালিত হয়। 

স্পেনের মুসলিম ইতিহাস ও একটি বড় গুজব 

বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোতে একটি ধারণা অত্যন্ত প্রচলিত যে, ১৪৯২ সালে স্পেনের গ্রানাডায় রাজা ফার্দিনান্দ ও রানী ইসাবেলা মুসলিমদের জাহাজে বা মসজিদে নিরাপদ আশ্রয়ের কথা বলে সেখানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারেন এবং তাদের বোকা বানিয়েছিলেন বলে এটি 'এপ্রিল ফুল' নামে পরিচিত। 

তবে ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও একটি ঐতিহাসিক ভুল। গ্রানাডার পতন ঘটেছিল ২ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল নয়। তাছাড়া সমকালীন কোনো ইতিহাসে বা তথ্যে স্পেনের গণহত্যার সাথে ১ এপ্রিলের কোনো সংযোগ পাওয়া যায় না। তাই একে একটি ধর্মীয় আবেগতাড়িত গুজব হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। 

উপদেশমূলক সতর্কতা

এপ্রিল ফুল পালন করতে গিয়ে এমন কোনো প্র্যাঙ্ক করা উচিত নয় যা অন্য কারো: 

শারীরিক বা মানসিক কষ্টের কারণ হয়।

সামাজিক বা ধর্মীয় অনুভূতির ক্ষতি করে।

বড় ধরণের বিভ্রান্তি বা ভয়ের সৃষ্টি করে। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ