Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৩১ পূর্বাহ্ণ

ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পদক্ষেপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মত নীতিনির্ধারকরদের। তবে বাস্তবায়নের পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে রয়েছে আশাবাদ ও শঙ্কার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

সম্প্রতি দেশের নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান নির্ধারণ করেছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১৬ মার্চের পরিপত্র অনুযায়ী, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি সংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৪ (৩১ আগস্ট ২০২৫ সংশোধনী) অনুসরণ করে দ্রুত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের তাগিদও দেওয়া হয়।

এ উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়াতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিকে (নায়েম)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কমিটির সদস্যরা আরও পেশাদার ও দক্ষ হয়ে উঠবেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে একটি বেসরকারি স্কুলের অভিভাবক প্রতিনিধি রাশেদা বেগম বলেন, প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আমরা অনেক সময় অন্ধকারে থাকি। প্রশিক্ষণ পেলে সচেতনতা বাড়বে, সন্তানদের জন্য ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারব।

একই অভিমত ব্যক্ত করে শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন বলেন, অনেক সময় কমিটির সদস্যরা শিক্ষাবিষয়ক বাস্তবতা না বুঝেই সিদ্ধান্ত নেন। প্রশিক্ষণ হলে শিক্ষক ও কমিটির মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে।

সরকারের এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে শিক্ষাবিদ ড. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি শক্তিশালী না হলে শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে প্রশিক্ষণ যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ মডিউল, দক্ষ প্রশিক্ষক, নিয়মিত মনিটরিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার। পাশাপাশি শহর ও গ্রামভিত্তিক ভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষণ কৌশল নির্ধারণ জরুরি।

তবে বাস্তবায়নের পথে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিটির সদস্যদের সময় সংকট বা অনাগ্রহ, স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশিক্ষণের মান ধরে রাখা, গ্রামীণ এলাকায় দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব এবং সীমিত বাজেট।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এজন্য সুপরিকল্পিত বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

মন্তব্য করুন

ব্লগ