Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৫:০০ পূর্বাহ্ণ

হাম (Measles)।।।।।।।

বর্তমানে বাংলাদেশে হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। নিচে এই রোগের কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. হাম ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণসমূহ

সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বাড়ার পেছনে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন:

 * টিকাদানে ঘাটতি: অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) থেকে বাদ পড়ায় বা টিকার ডোজ সম্পূর্ণ না করায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষের দিকে একটি পরিকল্পিত 'ক্যাচ-আপ' ক্যাম্পেইন স্থগিত হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে।

 * ভ্যাকসিন সংকট ও সরবরাহ সমস্যা: দেশের কিছু এলাকায় প্রয়োজনীয় টিকার মজুদ না থাকা এবং টিকাদান কর্মীদের আন্দোলনের কারণে নিয়মিত কর্মসূচি ব্যাহত হওয়া একটি বড় কারণ।

 * শিশুর পুষ্টিহীনতা: অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, ফলে তারা সহজেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

 * ভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতা: হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ১০-১৫ জন সুস্থ শিশু আক্রান্ত হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

 * ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের সংক্রমণ: সাধারণত হামের টিকা ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অনেক শিশু ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ।

২. লক্ষণ ও প্রতিকার

হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর কোনো সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেই। তবে সঠিক যত্নে এটি সেরে যায়।

লক্ষণ:

 * তীব্র জ্বর এবং সাথে সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া।

 * জ্বর শুরুর ৩-৪ দিন পর শরীর ও মুখে লালচে দানা বা র‍্যাশ ওঠা।

 * মুখে বা গলার ভেতরে সাদাটে দাগ।

প্রতিকার ও চিকিৎসা:

 * পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার: শিশুকে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, সুপ এবং বুকের দুধ (শিশুর বয়স অনুযায়ী) খাওয়াতে হবে।

 * জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

 * ভিটামিন-এ ক্যাপসুল: হাম হলে শিশুর চোখের ক্ষতি বা অন্যান্য জটিলতা এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত উচ্চ ক্ষমতার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।

 * বিচ্ছিন্ন রাখা: আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশু থেকে আলাদা রাখতে হবে যাতে রোগটি না ছড়ায়।

 * জটিলতা দেখা দিলে: নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন বা তীব্র ডায়রিয়া দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

৩. প্রতিরোধ

হাম প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই।

 * সময়মতো টিকা দেওয়া: শিশুকে ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হাম-রুবেলার (MR) টিকা নিশ্চিত করুন।

 * বিশেষ ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া: সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জুন ২০২৬ থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে (৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য)। আপনার শিশুকে এই অতিরিক্ত টিকা দিন।

 * পরিচ্ছন্নতা: আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 * সচেতনতা: এলাকায় কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীদের জানান এবং অন্যদের সতর্ক করুন।

> বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাম কেবল একটি সাধারণ জ্বর বা র‍্যাশ নয়; এটি শিশুদের নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই টিকাদান কর্মসূচির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ