সহকারী অধ্যাপক
৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০৫ অপরাহ্ণ
প্রশান্ত আত্মার মহাযাত্রা-২ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
প্রশান্ত আত্মার মহাযাত্রা-২
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ভোরের আলো ফুটে ওঠে
পৃথিবীর বুকে ধীরে,
মানুষ নামে কর্মযুদ্ধে
স্বপ্নভরা নীড়ে।
হাসি-কান্না, সুখ আর দুঃখ
মিশে জীবনের গান,
মাটির ঘরে ক্ষণিক সুখে
ভুলে যায় অনেক প্রাণ।
কেউ বা মগ্ন মায়ার নেশায়
দুনিয়ার রঙিন ছলে,
কেউবা খোঁজে সত্যের আলো
রবের পথে চলে।
যে হৃদয়ে ঈমান জ্বলে
ধৈর্যের দীপ হয়ে,
ঝড়ের মাঝেও সে দাঁড়ায়
সত্যের আলো লয়ে।
রাত্রির শেষে সেজদায় কেঁদে
ডাকে সে নীরবে,
“হে আমার রব, রাখো আমায়
তোমার করুণার স্রোতে।”
দানের হাসি ছড়িয়ে পড়ে
মানুষেরই মাঝে,
সেবার পথে শান্তির ফুল
ফোটে ভালোবাসে।
তবু দুনিয়া ক্ষণিক ঘর
পরীক্ষারই স্থান,
একদিন সব থেমে যাবে
শেষ হবে অবসান।
মৃত্যুর মুহূর্ত**
হঠাৎ একদিন সন্ধ্যা নামে
জীবনের শেষ ক্ষণ,
নীরব ঘরে নিভে আসে
শ্বাসের ক্ষীণ স্পন্দন।
চোখের পাতা ধীরে নামে
নিস্তব্ধতার ঢেউ,
দুনিয়ার সব শব্দ যেন
মুছে যায় আর কেউ।
সেই মুহূর্তে ফেরেশতারা
নেমে আসে নূর নিয়ে,
শান্তির বাণী ভেসে আসে
আকাশ পথ বেয়ে।
“হে প্রিয় বান্দা ভয় কোরো না
শেষ নয় এ পথ,
রবের ডাকে ফিরে চলো
শান্তির নূরের রথ।”
রূহ তখন ছাড়ে দেহ
হাসিমুখে ধীরে,
নূরের স্রোতে যাত্রা শুরু
রবের স্নেহ নীড়ে।
ফেরেশতারা তুলে নেয়
সুগন্ধি এক আলোয়,
আসমানের দ্বার খুলে যায়
অদৃশ্য নীল ছায়ায়।
কবরের জীবন***
তারপর আসে কবরের ঘর
নীরব মাটির মাঝে,
যেখানে থামে দুনিয়ার গান
নিস্তব্ধতার সাজে।
দুই ফেরেশতা প্রশ্ন করে
ঈমানের পরিচয়,
যে ছিল সত্য পথে অটল
তার মুছে যায় ভয়।
মুমিন দেখে কবর তখন
জান্নাতেরই বাগান,
শান্তির হাওয়া বইতে থাকে
রহমতেরই গান।
সময়ের স্রোত কেটে যায়
নীরব দিনরাত,
অদৃশ্য এক প্রতীক্ষাতে
চলে অনন্ত প্রভাত।
কিয়ামতের দিন
হঠাৎ একদিন তূর্যধ্বনি
কাঁপায় ধরা আকাশ,
ভেঙে যায় সব নিস্তব্ধতা
জাগে সকল নিশ্বাস।
কবর হতে উঠে আসে
মানুষ অগণন সারি,
হাশরের সেই বিশাল ময়দান
দিগন্ত জুড়ে ভারী।
সূর্যের তাপে ঘাম ঝরে
ভয়ের ভারে প্রাণ,
কর্মের বোঝা বয়ে মানুষ
দাঁড়িয়ে নিরুপায়।
কারও মুখে অশ্রু ঝরে
কারও হৃদয় ভার,
কেউবা ভাবে রহমতের
দ্বার কি খুলবে আর?
হিসাব ও মিজান
আমলনামা হাতে আসে
ন্যায়ের সেই দিন,
অণু পরিমাণ কাজও তখন
গোপন থাকে না বিন্দু।
মিজানের সেই দাঁড়িপাল্লা
সত্যের ওজন করে,
ক্ষুদ্র সৎকর্মও তখন
অমূল্য হয়ে ঝরে।
মুমিন তখন স্মরণ করে
রবের প্রতিশ্রুতি,
তার হৃদয়ে জ্বলে উঠে
আশার আলোকশিখা।
সিরাত সেতু**
তারপর আসে সিরাত সেতু
অতল আগুনপারে,
সত্যের পথে যারা ছিল
তারা যায় নির্ভয়ে।
কেউ যায় বাতাসের মতো
কেউ যায় বিদ্যুৎ বেগে,
কেউবা ধীরে পার হয়
রবের কৃপা লেগে।
জান্নাতের দ্বার**
অবশেষে সামনে আসে
জান্নাতের সোনার দ্বার,
শান্তির আলো ঝলমল
অপূর্ব অপরূপ পার।
সেই সময় শোনা যায়
অপরূপ এক বাণী—
রবের স্নেহময় আহ্বান
ভরে দেয় প্রাণখানি।
“হে প্রশান্ত আত্মা তুমি
ফিরে এসো আমার তরে,
সন্তুষ্ট তুমি আমার ফয়সালায়
আমিও সন্তুষ্ট তোমার ’পরে।”
জান্নাতের জীবন
দ্বার খুলে যায় আনন্দে
জান্নাতের অপরূপ দেশ,
নেই সেখানে কোনো দুঃখ
নেই কষ্টের রেশ।
নদী বয়ে যায় দুধের ধারা
মধুর স্রোত বেয়ে,
ফলের বাগান হাসে যেন
শান্তির গান গেয়ে।
সবুজ বনে নূরের আলো
শান্তির বাতাস বয়,
সেখানে শুধু আনন্দধারা
চিরসুখের জয়।
বন্ধুরা সব মিলবে সেখানে
ভালোবাসার মাঝে,
রহমতেরই আলো জ্বলে
অপূর্ব সুখের সাজে।
নেই সেখানে বিদায় বেদনা
নেই মৃত্যুর ছায়া,
শুধু শান্তি, শুধু আনন্দ
নূরের সীমাহীন মায়া।
মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে
দুনিয়ার সব পথ,
ছিল কেবল ক্ষণিক পরীক্ষা
রবের প্রেমের রথ।
তাই হে মানুষ জীবনের পথে
স্মরণ রেখো আজ,
প্রশান্ত আত্মার সে আহ্বান
হোক তোমারই সাজ।
ঈমান, ধৈর্য, সৎকর্মে গড়ে
হৃদয় করো নির্মল,
যেন শেষদিন শুনতে পাও
ডাকটি অতি অনুপম—
“হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো
আমার স্নেহের দ্বার,
আমার বান্দাদের সাথে মিলে
প্রবেশ কর জান্নার।”
***
ভোরের আলো জেগে ওঠে
পৃথিবীর বুকে ধীরে,
মানুষ নামে কর্মযুদ্ধে
স্বপ্নভরা নীড়ে।
হাসি-কান্না সুখ আর দুঃখ
মিশে জীবনের গান,
মাটির ঘরে ক্ষণিক সুখে
ভুলে যায় অনেক প্রাণ।
কেউ বা মগ্ন দুনিয়ার মোহে
সম্পদেরই ছলে,
কেউবা খোঁজে সত্যের আলো
রবের পথে চলে।
কেউ গড়ে নেয় অহংকারে
মিথ্যা সুখের ঘর,
কেউবা কাঁদে সেজদায় রাতে
ডাকে পরম কর।
মানবজীবন ক্ষণিক যাত্রা
পরীক্ষারই পথ,
সত্য যারা আঁকড়ে ধরে
তাদের জয় রথ।
নবীদের সতর্কবাণী
যুগে যুগে নবী এলেন
আলো হাতে ধরে,
মানুষকে ডাক দিলেন তারা
রবের পথে ফিরে।
বললেন তারা— “হে মানুষ সব
দুনিয়া ক্ষণিক ধন,
আখিরাতের শান্তি পেতে
সৎপথেই গড় জীবন।”
কেউ শুনিল সেই বাণী
নম্র হৃদয়ভরে,
কেউবা আবার অহংকারে
ফিরে গেল দূরে।
তবু নবীর ডাক থামেনি
ভালোবাসার সুরে,
সত্যপথের আহ্বান বয়ে
এসেছে যুগ ঘুরে।
মৃত্যুর মুহূর্ত**
হঠাৎ একদিন সময় আসে
জীবনের শেষ ক্ষণ,
নীরব ঘরে নিভে আসে
শ্বাসের ক্ষীণ স্পন্দন।
চোখের পাতা ধীরে নামে
নিস্তব্ধতার ঢেউ,
দুনিয়ার সব শব্দ যেন
মুছে যায় আর কেউ।
সেই মুহূর্তে ফেরেশতারা
নেমে আসে নূর নিয়ে,
শান্তির বাণী ভেসে আসে
আকাশ পথ বেয়ে।
“হে মুমিন বান্দা ভয় কোরো না
শেষ নয় এ পথ,
রবের ডাকে ফিরে চলো
শান্তির নূরের রথ।”
রূহ তখন ছাড়ে দেহ
হাসিমুখে ধীরে,
নূরের স্রোতে যাত্রা শুরু
রবের স্নেহ নীড়ে।
কবরের জীবন
তারপর আসে কবরের ঘর
নীরব মাটির মাঝে,
যেখানে থামে দুনিয়ার গান
নিস্তব্ধতার সাজে।
দুই ফেরেশতা প্রশ্ন করে
ঈমানের পরিচয়,
যে ছিল সত্য পথে অটল
তার মুছে যায় ভয়।
মুমিন দেখে কবর তখন
জান্নাতেরই বাগান,
শান্তির হাওয়া বইতে থাকে
রহমতেরই গান।
কিয়ামতের সূচনা
হঠাৎ একদিন তূর্যধ্বনি
কাঁপায় ধরা আকাশ,
ভেঙে যায় সব নিস্তব্ধতা
জাগে সকল নিশ্বাস।
পাহাড় গুঁড়ো হয়ে যায়
সমুদ্র উঠে দাঁড়ায়,
পৃথিবীর সব দৃশ্য তখন
নতুন রূপে ধায়।
কবর হতে উঠে আসে
মানুষ অগণন সারি,
হাশরের সেই বিশাল ময়দান
দিগন্ত জুড়ে ভারী।
হাশরের ময়দান***
সূর্যের তাপে ঘাম ঝরে
ভয়ের ভারে প্রাণ,
কর্মের বোঝা বয়ে মানুষ
দাঁড়িয়ে নিরুপায়।
কারও মুখে অশ্রু গড়িয়ে
কারও হৃদয় ভার,
কেউবা ভাবে রহমতের
দ্বার কি খুলবে আর?
মুমিন তখন স্মরণ করে
রবের প্রতিশ্রুতি,
তার হৃদয়ে জ্বলে উঠে
আশার আলোকশিখা।
হিসাব ও মিজান**
আমলনামা হাতে আসে
ন্যায়ের সেই দিন,
অণু পরিমাণ কাজও তখন
গোপন থাকে না বিন্দু।
মিজানের সেই দাঁড়িপাল্লা
সত্যের ওজন করে,
ক্ষুদ্র সৎকর্মও তখন
অমূল্য হয়ে ঝরে।
সিরাত সেতু**
তারপর আসে সিরাত সেতু
অতল আগুনপারে,
সত্যের পথে যারা ছিল
তারা যায় নির্ভয়ে।
কেউ যায় বাতাসের মতো
কেউ যায় বিদ্যুৎ বেগে,
কেউবা ধীরে পার হয়
রবের কৃপা লেগে।
জান্নাতের আহ্বান**
অবশেষে সামনে আসে
জান্নাতের সোনার দ্বার,
শান্তির আলো ঝলমল
অপূর্ব অপরূপ পার।
সেই সময় শোনা যায়
অপরূপ এক বাণী—
রবের স্নেহময় আহ্বান
ভরে দেয় প্রাণখানি।
“হে প্রশান্ত আত্মা তুমি
ফিরে এসো আমার তরে,
সন্তুষ্ট তুমি আমার ফয়সালায়
আমিও সন্তুষ্ট তোমার ’পরে।”
জান্নাতের স্তর**
দ্বার খুলে যায় জান্নাতে
শান্তির অপরূপ দেশ,
নেই সেখানে কোনো দুঃখ
নেই কষ্টের রেশ।
নদী বয়ে যায় দুধের ধারা
মধুর স্রোত বেয়ে,
ফলের বাগান হাসে যেন
শান্তির গান গেয়ে।
মুক্তার প্রাসাদ দীপ্ত হয়ে
নূরের আলোয় ভাসে,
চিরশান্তির বাতাস বই
সুখের সীমাহীন পাশে।
বন্ধুরা সব মিলবে সেখানে
ভালোবাসার মাঝে,
রহমতেরই আলো জ্বলে
অপূর্ব সুখের সাজে।
নেই সেখানে বিদায় বেদনা
নেই মৃত্যুর ছায়া,
শুধু শান্তি, শুধু আনন্দ
নূরের সীমাহীন মায়া।
চূড়ান্ত শান্তি**
মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে
দুনিয়ার সব পথ,
ছিল কেবল ক্ষণিক পরীক্ষা
রবের প্রেমের রথ।
তাই হে মানুষ জীবনের পথে
স্মরণ রেখো আজ,
প্রশান্ত আত্মার সে আহ্বান
হোক তোমারই সাজ।
ঈমান, ধৈর্য, সৎকর্মে গড়ে
হৃদয় করো নির্মল,
যেন শেষদিন শুনতে পাও
ডাকটি অতি অনুপম—
“হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো
আমার স্নেহের দ্বার,
আমার বান্দাদের সাথে মিলে
প্রবেশ কর জান্নার।”
***
প্রশান্ত আত্মার মহাযাত্রা**
আদি কালে নীরব ধরা
অন্ধকারে ঢাকা,
রবের হুকুমে জ্বলে উঠল
সৃষ্টির প্রথম শিখা।
আকাশভরা নক্ষত্রমালা
জ্বলে অনন্ত আলোয়,
পৃথিবী পেল জীবনের ডাক
রবের রহমত ঢালোয়।
মাটি থেকে গড়া হলো
মানবজাতির প্রাণ,
জ্ঞান আর বিবেক দিয়ে
দিলেন প্রভু মহান।
শুরু হলো মানবযাত্রা
পৃথিবীরই পথে,
পরীক্ষারই অঙ্গন যেন
জীবনেরই রথে।
মানব ইতিহাসের শিক্ষা**
কেউ ভুলল সত্যের দিশা
লোভের মায়াজালে,
কেউবা আবার খুঁজে ফিরল
রবের আলো কালে।
অহংকারে উঠল কেউ
শক্তির মিথ্যা সিংহাসনে,
কেউবা বিনম্র মাথা নত
সেজদারই আসনে।
সময়ের স্রোত বয়ে চলে
যুগ থেকে যুগান্তরে,
মানব হৃদয় খুঁজে ফেরে
সত্যের পথ ঘুরে।
নবীদের আগমন**
যুগে যুগে নবী এলেন
আলো হাতে করে,
মানুষকে ডাক দিলেন তারা
রবের পথে ফিরে।
বললেন— “হে মানুষ সবাই
দুনিয়া ক্ষণিক ঘর,
আখিরাতের শান্তি পেতে
সৎপথেই হও ভর।”
কেউ শুনিল সেই বাণী
নম্র হৃদয়ভরে,
কেউবা ফিরল অহংকারে
অন্ধকারের ’পরে।
তবু নবীর আহ্বান থামেনি
ভালোবাসার সুরে,
সত্যপথের ডাক ছড়াল
যুগের পর যুগ ঘুরে।
দুনিয়ার পরীক্ষা**
জীবন যেন নদীর স্রোত
বয়ে চলে ধীরে,
হাসি-কান্না মিশে থাকে
মানুষেরই নীড়ে।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতার মোহ
আনে অনেক ফাঁদ,
যে ভুলে যায় রবের কথা
সে হারায় আসল সাধ।
তবু কেউ কেউ আঁকড়ে ধরে
ঈমানেরই আলো,
ঝড়ের মাঝেও সত্যপথে
চলে অবিচল ভালো।
মৃত্যুর মুহূর্ত**
হঠাৎ একদিন সন্ধ্যা নামে
জীবনের শেষ ক্ষণ,
নীরব ঘরে থেমে আসে
শ্বাসের ক্ষীণ স্পন্দন।
চোখের পাতা ধীরে নামে
নিস্তব্ধতার ঢেউ,
দুনিয়ার সব শব্দ যেন
মুছে যায় আর কেউ।
ঠিক তখনই ফেরেশতারা
নেমে আসে নূর নিয়ে,
শান্তির বাণী ভেসে আসে
আকাশ পথ বেয়ে।
“হে মুমিন আত্মা ভয় কোরো না
শেষ নয় এ পথ,
রবের ডাকে ফিরে চলো
শান্তির নূরের রথ।”
কবরের জীবন**
তারপর আসে কবরের ঘর
নীরব মাটির মাঝে,
যেখানে থামে দুনিয়ার গান
নিস্তব্ধতার সাজে।
দুই ফেরেশতা প্রশ্ন করে
ঈমানের পরিচয়,
যে ছিল সত্য পথে অটল
তার মুছে যায় ভয়।
মুমিন দেখে কবর তখন
জান্নাতেরই বাগান,
শান্তির হাওয়া বইতে থাকে
রহমতেরই গান।
কিয়ামতের সূচনা**
হঠাৎ একদিন তূর্যধ্বনি
কাঁপায় ধরা আকাশ,
ভেঙে যায় সব নিস্তব্ধতা
জাগে সকল নিশ্বাস।
পাহাড় গুঁড়ো হয়ে যায়
সমুদ্র উঠে দাঁড়ায়,
পৃথিবীর সব দৃশ্য তখন
নতুন রূপে ধায়।
কবর হতে উঠে আসে
মানুষ অগণন সারি,
হাশরের সেই বিশাল ময়দান
দিগন্ত জুড়ে ভারী।
হিসাব ও মিজান**
আমলনামা হাতে আসে
ন্যায়ের সেই দিন,
অণু পরিমাণ কাজও তখন
গোপন থাকে না বিন্দু।
মিজানের সেই দাঁড়িপাল্লা
সত্যের ওজন করে,
ক্ষুদ্র সৎকর্মও তখন
অমূল্য হয়ে ঝরে।
সিরাত সেতু**
তারপর আসে সিরাত সেতু
অতল আগুনপারে,
সত্যের পথে যারা ছিল
তারা যায় নির্ভয়ে।
কেউ যায় বাতাসের মতো
কেউ যায় বিদ্যুৎ বেগে,
কেউবা ধীরে পার হয়
রবের কৃপা লেগে।
প্রশান্ত আত্মার আহ্বান
অবশেষে শোনা যায়
অপরূপ এক বাণী—
রবের স্নেহময় আহ্বান
ভরে দেয় প্রাণখানি।
“হে প্রশান্ত আত্মা তুমি
ফিরে এসো আমার তরে,
সন্তুষ্ট তুমি আমার ফয়সালায়
আমিও সন্তুষ্ট তোমার ’পরে।”
জান্নাতের দ্বার**
খুলে যায় তখন জান্নাতের
অপূর্ব সোনার দ্বার,
শান্তির আলো ঝলমল
অপরিসীম অপার।
নদী বয়ে যায় দুধের ধারা
মধুর স্রোত বেয়ে,
ফলের বাগান হাসে যেন
শান্তির গান গেয়ে।
মুক্তার প্রাসাদ দীপ্ত হয়ে
নূরের আলোয় ভাসে,
চিরশান্তির বাতাস বই
রহমতেরই পাশে।
চূড়ান্ত শান্তি**
বন্ধুরা সব মিলবে সেখানে
ভালোবাসার মাঝে,
চির আনন্দ জ্বলে উঠবে
রহমতেরই সাজে।
নেই সেখানে বিদায় বেদনা
নেই মৃত্যুর ছায়া,
শুধু শান্তি, শুধু আনন্দ
নূরের সীমাহীন মায়া।
মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে
দুনিয়ার সব পথ,
ছিল কেবল ক্ষণিক পরীক্ষা
রবের প্রেমের রথ।
তাই হে মানুষ জীবনের পথে
স্মরণ রেখো আজ—
প্রশান্ত আত্মার সে আহ্বান
হোক তোমারই সাজ।
ঈমান, ধৈর্য, সৎকর্মে গড়ে
হৃদয় করো নির্মল,
যেন শেষদিন শুনতে পাও
ডাকটি অতি অনুপম—
“হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো
আমার স্নেহের দ্বার,
আমার বান্দাদের সাথে মিলে
প্রবেশ কর জান্নার।”
***
প্রশান্ত আত্মার মহাযাত্রা**
আদি কালে নীরব ধরা
অন্ধকারে ঢাকা,
রবের হুকুমে জ্বলে উঠল
সৃষ্টির প্রথম শিখা।
আকাশ ভরা নক্ষত্রমালা
নূরের দীপ্তি ছড়ায়,
পৃথিবী পেল জীবনের ডাক
রহমতেরই ছায়ায়।
মাটির মাঝে গড়া হলো
মানবজাতির প্রাণ,
জ্ঞান আর বিবেক দিয়ে
তুলে ধরল মহান।
শুরু হলো মানবযাত্রা
পৃথিবীরই পথে,
পরীক্ষারই অঙ্গন যেন
জীবনেরই রথে।
প্রথম মানুষ এল ধরায়
নব আলো হাতে,
সত্যপথের দিশা দিল
মানবজাতির সাথে।
শিখালেন তিনি সন্তানদের
স্রষ্টারই স্মরণ,
ভালোবাসা, সত্য ও ন্যায়
হোক জীবনের ধন।
কিন্তু সময় ঘুরে গিয়ে
মানুষ ভুলে যায়,
অহংকারে অন্ধ হয়ে
সত্যপথ হারায়।
যুগে যুগে নবী এলেন
আলো হাতে ধরে,
মানুষকে ডাক দিলেন তারা
রবের পথে ফিরে।
বললেন তারা— “দুনিয়া ক্ষণিক
মায়ার ক্ষুদ্র ঘর,
আখিরাতের শান্তি পেতে
সত্যপথেই হও ভর।”
কেউ শুনিল সে আহ্বান
নম্র হৃদয় ভরে,
কেউবা ফিরল অহংকারে
অন্ধকারের ’পরে।
কেউ বা গড়ে সম্পদের পাহাড়
ক্ষমতারই ছলে,
কেউবা গোপন সেজদায় কাঁদে
নীরব রাতের তলে।
কেউ ভোলে রবের কথা
দুনিয়ার মোহে ডুবে,
কেউবা রাখে ঈমান জাগ্রত
প্রেমের আলো লুবে।
এইভাবে চলে মানবজীবন
পথের পরে পথ,
সত্যের সাথে মিথ্যার লড়াই
চলেই অবিরত।
দিনের পরে রাত আসে
রাতের পরে ভোর,
জীবনেরই ক্ষণিক পথে
চলছে সময় ঘোর।
ধন, ক্ষমতা, সুনাম সবই
একদিন যাবে হার,
রবে কেবল কর্মফল
নিয়তিরই পার।
হঠাৎ একদিন নেমে আসে
জীবনের শেষ ক্ষণ,
নীরব ঘরে থেমে আসে
শ্বাসের ক্ষীণ স্পন্দন।
চোখের পাতা ধীরে নামে
নিস্তব্ধতার ঢেউ,
দুনিয়ার সব শব্দ যেন
মুছে যায় আর কেউ।
সেই মুহূর্তে ফেরেশতারা
নেমে আসে নূর নিয়ে,
শান্তির বাণী ভেসে আসে
আকাশ পথ বেয়ে।
“হে প্রশান্ত আত্মা ভয় কোরো না
শেষ নয় এ পথ,
রবের ডাকে ফিরে চলো
শান্তির নূরের রথ।”
রূহ তখন ছাড়ে দেহ
হাসিমুখে ধীরে,
নূরের স্রোতে যাত্রা শুরু
রবের স্নেহ নীড়ে।
মাটির বুকে নীরব ঘর
কবরেরই স্থান,
সেখানে থামে দুনিয়ার গান
শুরু হয় পরীক্ষা মহান।
দুই ফেরেশতা প্রশ্ন করে
ঈমানের পরিচয়,
যে ছিল সত্যপথে অটল
তার মুছে যায় ভয়।
মুমিন দেখে কবর তখন
জান্নাতেরই বাগান,
শান্তির হাওয়া বইতে থাকে
রহমতেরই গান।
হঠাৎ একদিন তূর্যধ্বনি
কাঁপায় ধরা আকাশ,
ভেঙে যায় সব নিস্তব্ধতা
জাগে সকল নিশ্বাস।
পাহাড় গুঁড়ো হয়ে যায়
সমুদ্র উঠে দাঁড়ায়,
পৃথিবীর সব দৃশ্য তখন
নতুন রূপে ধায়।
কবর হতে উঠে আসে
মানুষ অগণন সারি,
হাশরের সেই বিশাল ময়দান
দিগন্ত জুড়ে ভারী।
সূর্যের তাপে ঘাম ঝরে
ভয়ের ভারে প্রাণ,
কর্মের বোঝা বয়ে মানুষ
দাঁড়িয়ে নিরুপায়।
কারও মুখে অশ্রু গড়িয়ে
কারও হৃদয় ভার,
কেউবা ভাবে রহমতের
দ্বার কি খুলবে আর?
আমলনামা হাতে আসে
ন্যায়ের সেই দিন,
অণু পরিমাণ কাজও তখন
গোপন থাকে না বিন্দু।
মিজানের সেই দাঁড়িপাল্লা
সত্যের ওজন করে,
ক্ষুদ্র সৎকর্মও তখন
অমূল্য হয়ে ঝরে।
তারপর আসে সিরাত সেতু
অতল আগুনপারে,
সত্যের পথে যারা ছিল
তারা যায় নির্ভয়ে।
কেউ যায় বাতাসের মতো
কেউ যায় বিদ্যুৎ বেগে,
কেউবা ধীরে পার হয়
রবের কৃপা লেগে।
প্রশান্ত আত্মার আহ্বান**
অবশেষে শোনা যায়
অপরূপ এক বাণী—
রবের স্নেহময় আহ্বান
ভরে দেয় প্রাণখানি।
“হে প্রশান্ত আত্মা তুমি
ফিরে এসো আমার তরে,
সন্তুষ্ট তুমি আমার ফয়সালায়
আমিও সন্তুষ্ট তোমার ’পরে।”
খুলে যায় তখন জান্নাতের
অপূর্ব সোনার দ্বার,
শান্তির আলো ঝলমল
অপরিসীম অপার।
নদী বয়ে যায় দুধের ধারা
মধুর স্রোত বেয়ে,
ফলের বাগান হাসে যেন
শান্তির গান গেয়ে।
মুক্তার প্রাসাদ দীপ্ত হয়ে
নূরের আলোয় ভাসে,
চিরশান্তির বাতাস বই
রহমতেরই পাশে।
মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে
দুনিয়ার সব পথ,
ছিল কেবল ক্ষণিক পরীক্ষা
রবের প্রেমের রথ।
তাই হে মানুষ জীবনের পথে
স্মরণ রেখো আজ—
প্রশান্ত আত্মার সে আহ্বান
হোক তোমারই সাজ।
ঈমান, ধৈর্য, সৎকর্মে গড়ে
হৃদয় করো নির্মল,
যেন শেষদিন শুনতে পাও
ডাকটি অতি অনুপম—
“হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো
আমার স্নেহের দ্বার,
আমার বান্দাদের সাথে মিলে
প্রবেশ কর জান্নার।”
****
প্রশান্ত আত্মার মহাযাত্রা**
সময় ঘুরে যুগ বদলায়
মানুষ ভোলে পথ,
অহংকারে ঢেকে ফেলে
সত্যের আলোর রথ।
লোভের নেশায় মগ্ন হয়ে
হারায় বিবেকধারা,
দুনিয়ার ক্ষণিক মোহে
ভুলে যায় পরপারা।
তখন আবার প্রভুর রহম
নামে ধরা জুড়ে,
সতর্ক বাণী পাঠান তিনি
নবীর হৃদয় ঘিরে।
প্রথম মানুষ শিখালেন
সত্যপথের গান,
রবের প্রতি বিনয়ভরে
নত করো প্রাণ।
ভুল করলে ফিরো আবার
তওবার অশ্রু ঝরে,
রবের দরজা খোলা থাকে
ভালোবাসার তরে।
দীর্ঘ যুগ ধরে ডাক দিলেন
ধৈর্যের অশ্রু বুকে,
মানুষকে বললেন— “ফিরে চলো
স্রষ্টার সত্য সুখে।”
কিন্তু অনেকে হাসল তাতে
অহংকারের ছলে,
তবু নবী থামেননি
আলো হাতে চলে।
অবশেষে এলো বন্যা
পৃথিবী ঢাকল জল,
যারা মানল রবের বাণী
তারা পেল আশ্রয়তল।
এক তরুণ দাঁড়াল তখন
মূর্তির অন্ধকারে,
সত্যের দীপ জ্বালল সে
এক রবেরই দ্বারে।
আগুনও তাকে ছুঁতে পারেনি
রবের কৃপা ধ’রে,
ঈমানের সে উজ্জ্বল দীপ
জ্বলে যুগের ’পরে।
এক শাসকের অত্যাচারে
কাঁদল বহু প্রাণ,
তখন এলেন এক নবী
সত্যের মহাগান।
বললেন তিনি— “মুক্ত হও
অন্যায়েরই শৃঙ্খল থেকে,”
রবের শক্তি সাথী হলো
সাগরেরই বুকে।
পথ খুলে গেল পানির মাঝে
মুক্তির অদ্ভুত দৃশ্য,
অত্যাচারের অহংকার
ডুবে গেল নিঃশেষ।
প্রতিটি নবী শিখালেন
একই সত্য বাণী—
রবের পথে ফিরে চলো
এটাই জীবনের ধ্বনি।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা সব
একদিন যাবে হার,
সৎকর্মই রবে শুধু
নিয়তিরই পার।
কখনো মানুষ ভুলে যায়
অহংকারে ভেসে,
তবু তওবার অশ্রু ঝরে
নতুন আলো এসে।
রবের রহম অসীম ধারা
পাপ মুছে দেয় ধীরে,
যে ফিরে আসে অনুতাপে
শান্তি পায় নীড়ে।
কিয়ামতের আরও গভীর দৃশ্য
হাশরের মাঠে মানুষ তখন
অগণন ভিড়ে দাঁড়ায়,
প্রতিটি প্রাণ অপেক্ষাতে
হিসাবেরই দ্বারায়।
ভয় আর আশা মিশে থাকে
হৃদয়েরই মাঝে,
রবের রহমের প্রতীক্ষা
দিগন্ত জুড়ে সাজে।
প্রশান্ত আত্মার প্রতীক্ষা
মুমিন তখন স্মরণ করে
সেজদার সে রাত,
রবের নামে কাঁদা সেই
নীরব প্রার্থনাত।
আশার আলো জ্বলে ওঠে
হৃদয়েরই ঘরে,
রবের কৃপা ঢেকে দেয়
সব ভয় আঁধারে।
সমাপ্তির দিকে যাত্রা
সময় এগোয় ধীরে ধীরে
হিসাবেরই ক্ষণ,
প্রতিটি প্রাণ দাঁড়িয়ে আছে
নিয়তির সম্মুখে তখন।
নীরব আকাশ সাক্ষী হয়ে
দেখে মানবজাতি,
কর্মের ফলের অপেক্ষায়
দাঁড়িয়ে সব সাথী।
যে ছিল সত্যপথে অটল
তার হৃদয় প্রশান্ত,
রবের কৃপায় খুলবে তার
সুখেরই অনন্ত।
শোনা যাবে সে মহান ডাক
করুণারই সুরে—
“হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো
আমার জান্নাত ঘরে।”
শাফাআতের প্রতীক্ষা**
হাশরের ময়দান জুড়ে
নীরবতা গভীর,
অসংখ্য প্রাণ অপেক্ষাতে
হিসাবেরই ধীর।
সূর্য নেমে আসে কাছে
ঘামে ভিজে প্রাণ,
ভয় আর আশা মিশে থাকে
অন্তরেরই গান।
মানুষ তখন দৌড়ে যায়
নবীদেরই কাছে,
কে করবে আজ সুপারিশ
রবের মহা দ্বারে।
এক নবী বলেন— “আজ নয়”
ভয়ে কাঁপে প্রাণ,
অন্য নবী বলেন— “আজ
নিজেকেই ভাবি জান।”
সবাই শেষে আশা রাখে
শেষ নবীর তরে,
করুণা ভরা হৃদয় যার
মানবতার ঘরে।
তিনি দাঁড়ান বিনয়ভরে
রবের দরবারে,
শাফাআতের আবেদন তোলেন
করুণারই সুরে।
আমলনামা ও মিজান**
তখন আসে হিসাবের ক্ষণ
কাঁপে দিগন্ত ধরা,
আমলনামা খুলে যায়
প্রাণে ভয় ভরা।
কেউ দেখে আলো ভরা পৃষ্ঠা
সৎকর্মেরই ছাপ,
কেউ দেখে অন্ধকার
অবহেলারই চাপ।
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা তখন
স্থাপিত হলো ধীরে,
প্রতিটি কর্ম ওজন হবে
সত্যেরই নীড়ে।
এক ফোঁটা দয়া, এক ফোঁটা সেবা
হয় ভারী অনেক,
ক্ষুদ্র কাজও আলোকিত
যদি থাকে নেক।
সিরাতের সেতু
জাহান্নামের উপর তখন
সিরাত সেতু টান,
সূক্ষ্ম তলোয়ার ধার তার
ভয়াবহ অবদান।
কেউ যায় বিদ্যুৎ গতিতে
বিশ্বাসেরই জোরে,
কেউ যায় ধীরে কাঁপতে কাঁপতে
ভয়াল সেই ঘোরে।
কেউ পিছলে পড়ে অন্ধকারে
অবহেলার ফল,
কেউ পাড়ি দেয় আলো হয়ে
রবের কৃপাবল।
জান্নাতের দরজা
অবশেষে খুলে যায়
রহমতেরই দ্বার,
স্বাগত ধ্বনি ভেসে আসে
আনন্দ অপরপার।
ফেরেশতারা বলে তখন
শান্তিরই সম্ভাষণ—
“তোমরা ছিলে ধৈর্যশীল
এই তোমাদের গৃহ।”
বাগান ভরা নদী বয়
সুগন্ধি বাতাসে,
অমর সুখের আলো জ্বলে
অনন্ত আকাশে।
জান্নাতের স্তর***
কেউ থাকে সবুজ উদ্যানে
নদীরই তীরে,
কেউ পায় প্রাসাদ উঁচু
নূরেরই নীড়ে।
বন্ধুরা মিলে হাসে তখন
দুঃখ সব ভুলে,
স্মৃতি হয়ে থাকে শুধু
দুনিয়ারই কূলে।
সেখানে নেই ভয় কিংবা
হৃদয়েরই ক্ষয়,
শান্তি ভরা সেই নগরী
আনন্দে সদয়।
চূড়ান্ত প্রশান্তি**
অবশেষে আসে সে ক্ষণ
অতুল মহিমায়,
রবের সন্তুষ্টির আলো
হৃদয় ভরে যায়।
সব সুখের চেয়েও বড়
সেই অনন্ত ধন—
প্রভুর সন্তুষ্টি পাওয়া
মুমিনেরই জীবন।
প্রশান্ত আত্মা তখন
হাসে শান্ত আলোয়,
অন্তহীন সে সুখধারা
চিরদিনই বয়।
মহাকাব্যের উপসংহার
দুনিয়ার ক্ষণিক পথ
শেষ হলো আজ,
রবের নিকট ফিরল প্রাণ
শান্তিরই সাজ।
যে শুনেছিল সত্যের ডাক
নম্র হৃদয় ভরে,
সে-ই পেল অনন্ত সুখ
জান্নাতেরই ঘরে।
এই কাহিনি মানবজাতির
পথেরই শিক্ষা—
সত্যের পথে চললে মেলে
অনন্ত দিশা।
***
দুনিয়ার পরীক্ষা
ভোরের আলো ভাঙে ধরা
জীবন জাগে নীরব,
মানুষ নামে কর্মপথে
সময় থাকে ক্ষণভব।
ধূলির পথে স্বপ্ন বুনে
মানব জীবনের গান,
কেউ খোঁজে সত্যের আলো
কেউ হারায় অবিরাম।
দুনিয়া যেন মরীচিকা
চোখে দেয় যে ছল,
ক্ষণিক সুখের আড়ালেতে
লুকায় অনন্ত ফল।
ধন সম্পদ ক্ষমতার নেশা
মুগ্ধ করে প্রাণ,
তবু কোথাও হৃদয় জানে
শেষে আছে অবসান।
নীরব রাতে আকাশ দেখে
মানুষ ভাবে ধীরে—
“কোথা হতে এ জীবনের
যাত্রা শুরু নীড়ে?”
মানব ইতিহাসের সূচনা
প্রথম মানুষ পৃথিবীতে
আলো হাতে নামে,
রবের বাণী হৃদয়ে নিয়ে
সত্যপথের থামে।
ভুল করে সে, কাঁদে পরে
তওবার অশ্রুধারায়,
রবের রহম ঝরে নামে
ক্ষমারই উজাড়ায়।
তখন শেখে মানবজাতি
ফিরে আসার পথ—
ভুলের পরে অনুতাপে
খুলে দয়ার রথ।
মানুষের পথভ্রষ্টতা**
যুগের পরে যুগ গড়ায়
মানুষ ভোলে গান,
অহংকারে ঢেকে ফেলে
সত্যেরই সম্মান।
মূর্তির কাছে নত হয়ে
ভুলে স্রষ্টার নাম,
অন্ধকারে হারায় ধীরে
জীবনেরই দাম।
নবীদের আহ্বান**
তখন আবার দয়া করে
রব পাঠান দূত,
সত্যের বাণী শোনাতে
অন্ধকারের রূত।
ধৈর্য নিয়ে ডাকেন তারা
মানব হৃদয় ঘিরে,
“ফিরে এসো সত্যপথে
রবের আলো নীড়ে।”
দীর্ঘ শতাব্দী ডাক দিলেন
ক্লান্ত কণ্ঠ ভরে,
মানুষ যেন ফিরে আসে
রবের সত্য ঘরে।
কেউ হাসল তার উপহাসে
কেউ ফিরল না তবু,
তবু নবী থামেননি
আলো হাতে রভু।
শেষে এলো সেই বন্যা
আকাশ ভাঙা জল,
সত্যপথে যারা ছিল
তারাই পেল কোল।
এক তরুণ দাঁড়াল তখন
মূর্তির ভিড় মাঝে,
সত্যের দীপ জ্বালল সে
অন্ধকারের সাঁঝে।
আগুন জ্বলে ভয়াল রূপে
তাকে দিল ডাকে,
রবের হুকুম ঠান্ডা করে
শান্তি নামে তাকে।
অত্যাচারের রাজ্যে তখন
কাঁদে অসহায় প্রাণ,
এক নবী এলেন নিয়ে
মুক্তির মহাগান।
সাগর খুলে পথ দেখালো
রবের মহাশক্তি,
অত্যাচারের গর্ব ডুবে
শেষ হলো অশক্তি।
মানুষের শিক্ষা**
প্রতিটি যুগ শিখিয়ে গেছে
একই সত্য বাণী—
রবের পথে যারা চলে
তাদেরই জয়গান।
মৃত্যুর মুহূর্ত**
একদিন হঠাৎ থেমে যায়
জীবনেরই গতি,
নীরব ঘরে নামে তখন
মৃত্যুর অদ্ভুত স্মৃতি।
চোখে ভাসে জীবনের সব
স্মৃতিরই আলোছায়া,
সময়েরা যেন থেমে যায়
অদৃশ্য কার ছায়া।
ফেরেশতা আসে নীরব
শান্তির বাণী নিয়ে—
“ভয় করো না, মুমিন প্রাণ
ফিরবে রবের নীড়ে।”
কবরের জীবন**
মাটির বুকে শুয়ে থাকে
নীরব কবরঘর,
সৎকর্ম যেন আলো হয়ে
ভরে তার অন্তর।
যে ছিল সত্যপথে অটল
শান্তি পায় সে প্রাণ,
রবের রহম ঢেকে রাখে
তার নীরব স্থান।
কিয়ামতের সূচনা
একদিন হঠাৎ কম্পে ধরা
ভেঙে পড়ে সব,
সময়ের শেষ ঘোষণা
শোনে মানব রবে।
পাহাড় ভেঙে ধূলি হয়ে
আকাশ স্তব্ধ রয়,
ভয়াল সেই দৃশ্য দেখে
প্রাণ কাঁপে সবারই।
পুনরুত্থান**
কবর ফেটে উঠে আসে
অগণিত মানব,
অতীতের সব স্মৃতি যেন
জেগে ওঠে নব।
হাশরের ময়দান
অসীম মাঠে দাঁড়ায় সবাই
নীরবতার মাঝে,
প্রতিটি প্রাণ অপেক্ষাতে
হিসাবেরই সাজে।
শাফাআতের আশা
মানুষ খোঁজে আশ্রয় তখন
দয়া কার দ্বারে,
রহমতের সে সুপারিশ
উঠে করুণ সুরে।
মিজান**
ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা তখন
স্থাপিত হলো ধীরে,
প্রতিটি কর্ম ওজন হবে
সত্যেরই নীড়ে।
সিরাত***
অগ্নির উপর সূক্ষ্ম সেতু
সিরাত পথ ভয়াল,
বিশ্বাসীরা পার হয় তাতে
রবের দয়া চাল।
জান্নাতের দরজা
অবশেষে খুলে যায়
রহমতেরই দ্বার,
স্বাগত ধ্বনি ভেসে আসে
আনন্দ অপরপার।
জান্নাতের জীবন**
নদী বয়ে যায় স্নিগ্ধ সুরে
বাগান ভরা ফুল,
চিরশান্তির সে আবাসে
দুঃখ যায় ভুল।
চূড়ান্ত শান্তি**
সব সুখের চেয়েও বড়
সেই মহা দান—
প্রভুর সন্তুষ্টি পাওয়া
মুমিনেরই প্রাণ।
মহাকাব্যের সমাপ্তি
দুনিয়ার ক্ষণিক পথ
শেষ হলো আজ,
প্রশান্ত আত্মা ফিরল শেষে
রবেরই সমাজ।
***
প্রশান্ত আত্মার মহাযাত্রা
পূর্ণ মহাকাব্য (১–২০ স্তবক উদাহরণ)
সূচনা: দুনিয়ার পথ ও মানুষের পরীক্ষা
ভোরের আলো ভাঙে ধরা,
জীবন জাগে নীরব ঘরে;
প্রাণ খোঁজে সত্যের তরে,
অবহেলায় হারায় তরে।
পাহাড় দুলে, নদী কেঁপে,
পৃথিবী শোনে মানুষের গান;
কেউ খোঁজে আলোর দ্যুতি,
কেউ হারায় অনন্ত প্রাণ।
ধন-সম্পদে লিপ্ত কণ্ঠ,
অহংকারে ঢেকে যায় পথ;
কিন্তু নীরব রাতে আকাশ,
সত্যের দীপ জ্বলে বথ।
প্রথম মানুষ শিখালেন ধীরে,
রবের নামে জীবন বুনি;
ভুলের পরে অনুতাপে
দয়ার ধারা সে পূর্ণ জমি।
ভুল করলেও ফিরে চলো,
তওবার অশ্রু ঝরে স্নিগ্ধ;
রবের রহমত অমিত ধারায়
শান্তি মেলে অন্তর-ক্ষুদ্র।
নবীদের আহ্বান**
নবী ডাকলেন দূর-দূরান্তে,
হৃদয় খোলে করুণার ছায়া;
“ফিরে এসো সত্যপথে,
রবের নীড়ে আশা পায়া।”
শ্রদ্ধার সাথে শুনল মানুষ,
কেউ হেসে গেল অহংকারে;
কেউ কাঁদল অনুতাপে,
শান্তি পেলো অন্তরের দ্বারে।
দূরপুর্বে এলেন
বন্যার হুঁশিয়ারি দেবে;
ধৈর্যশীল প্রাণ যারা শুনে
রবের আশ্রয় খুঁজে নেবে।
কেউ ব্যর্থ হলো, ডুবে গেল,
কেউ রক্ষা পেল ভরে হৃদয়;
জল ঢাকে, কিন্তু আলোর পথে
নবীরই শব্দ জ্বলে স্থায়ী।
–এর দৃঢ় ঈমান
এক তরুণ দাঁড়াল ভয়ে
মূর্তির ভিড়ে অন্ধকারে;
সত্যের দীপ জ্বালালেন তিনি
রবের কাছে আত্মার আশা।
আগুন জ্বলে, অগ্নি ধরল
কিন্তু ঈমান রক্ষা পেলো;
রবের হুকুমে তার শরীর
শান্তির আলোতে ঝলমল।
–এর মুক্তিযাত্রা**
অত্যাচারের রাজ্যে মানুষেরা
চিন্তা করল মুক্তির গান;
নবী এলেন বললেন—
“রবেরই শক্তি ভাঙবে বাধা।”
সাগর খুলল পথ তার জন্য,
অত্যাচারের ছায়া ভেসে গেল;
বিশ্বাসীরা পার হলো সহজে,
রবের দয়ায় তারা পেল খোঁজ।
মানুষের শিক্ষা**
প্রতিটি যুগের নবী বলল,
একই সত্যকথা হৃদয়ে বাজে—
“রবের পথে চলো,
সৎকর্মই চিরন্তন রাজে।”
ভালবাসা, দয়া, সততা—
হৃদয়ের দীপ জ্বালায়,
কোনো ধন-সম্পদ নয়,
সত্যই অন্তরে থাকে সযত।
মৃত্যুর মুহূর্ত**
একদিন থমকে যায় জীবন,
নীরবতা নামে অন্তরে;
ফেরেশতার হাত ছুঁয়ে যায়
শান্তির বাণী ধীরে।
চোখে ভাসে জীবনচক্র,
স্মৃতি জ্বলে আলোছায়ায়;
ভয় আর আশা একত্রে
দৃশ্যমান অন্তরের আকাশে।
ফেরেশতা বলে—
“ভয় করো না, মুমিন প্রাণ,
ফিরছে সে রবের নীড়ে
সুখের অমৃতধারায়।”
কবরের জীবন**
মাটির বুকে নীরব কবর,
সৎকর্ম যেন আলোর ছায়া;
যে পথিক সত্যপথে,
তার হৃদয় ভরে শান্তির ধারা।
রবের রহমত ঢেকে রাখে
প্রাণের আকাশ ভরা,
নীরবতায় শুয়ে থাকা মুমিন
পায় অনন্ত ধরা।
৪
৪ মন্তব্য