Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ

প্রশান্ত আত্মার প্রত্যাবর্তন -১ - মোঃ মুজিবুর রহমান

 

প্রশান্ত আত্মার প্রত্যাবর্তন -১

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

হে প্রশান্ত আত্মা, শুনো ডাকে

রবের অমল আহ্বান,

দুনিয়ার পথের শেষে জ্বলে

আখিরাতের মহাপ্রাণ।

ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে তুমি

ধরেছ ধৈর্যের পথ,

স্মরণে রেখেছ রবের বাণী

তাই মুছে গেছে যত ক্ষত।

নিশীথ রাতে সেজদায় ভিজে

কেঁদেছ নীরব প্রাণ,

তোমার সে সব অশ্রুধারা

লিখেছে মুক্তির গান।

লোভের মায়া ডাকলেও তুমি

ফিরে গেছ সত্যপানে,

তাই আজ তোমায় ডেকে বলেন

রব স্নেহের টানে—

ফিরে এসো হে শান্ত আত্মা

আমার স্নেহের দ্বার,

তুমি সন্তুষ্ট আমার ফয়সালায়

আমি তোমাতে অপরিসীম পার।”

এসো তবে প্রিয় বান্দাদের

পবিত্র সে কাতারে,

যেখানে ঈমানের আলো

জ্বলে অনন্ত তারায়।”

প্রবেশ কর আমার জান্নাতে

শান্তির অমল দেশ,

যেখানে নেই কোনো দুঃখ

নেই আর কষ্টের রেশ।”

সেখানে নদী বয়ে চলে

রূপালী নূরের স্রোত,

পুষ্পবনে হাসে সুখের হাওয়া

ভুলে যায় দুঃখ যত।

সেখানে মুমিন হৃদয়গুলো

মিলবে প্রেমের বন্ধনে,

রবের সান্নিধ্যের আলোয়

ডুবে যাবে চির অনন্তে।

হে মানুষ, শুনো এ আহ্বান

জীবনের এই পথে,

শান্ত আত্মার সে ডাকে

তুমি ফিরো রবের সাথে।

তওবা, ধৈর্য, সৎকর্মে গড়ে

প্রাণের সত্য পরিচয়,

যেন শেষ দিনে শোনা যায়—

রবের সে আহ্বানময়।

হে প্রশান্ত আত্মা, ফিরে এসো,

আমার জান্নাতে আজ,”

এই বাণীতে মুছে যাবে

জীবনের সব লাজ।

***

নীরব রাতে দুনিয়ার পথে

মানুষ হাঁটে ধীরে,

আশা-ভয় আর দুঃখসুখের

জাল বোনা তার নীড়ে।

কখনো হাসি, কখনো কান্না

মিশে জীবনের সুর,

মাটির মাঝে লুকায় যেন

অজানা এক নূর।

যে হৃদয়ে ঈমান জ্বলে

ধৈর্যের প্রদীপ হয়ে,

ঝড়ের ভেতর সোজা পথে

চলে সে রবকে লয়ে।

লোভের ডাকে ফিরে না সে

সত্যের আলো ধরে,

প্রভুর নামে জীবন গড়ে

পাপের অন্ধকার ঝরে।

রাত্রি জাগে সেজদার ভেতর

চোখে অশ্রু ঝরে,

নীরব কণ্ঠে ডাকে সে রব—

আমায় রেখো তোমার তরে।”

দিনের শেষে দানের পথে

হাসি ফোটায় প্রাণে,

মানুষ সেবায় ভালোবাসা

লিখে যায় অবিরামে।

তবু একদিন সময় আসে

দুনিয়ার দ্বার ফুরায়,

মৃত্যুর ডাকে থেমে যায়

জীবনের সব গুঞ্জন।

নীরব ঘরে নিভে যায় যেন

শ্বাসের ক্ষীণ প্রদীপ,

অদৃশ্য এক আলোর পথে

খোলে অনন্ত সীপ।

সে সময় ফেরেশতারা

নেমে আসে নূর নিয়ে,

মমতার সুরে ডাকে তাকে

সান্ত্বনার বাণী দিয়ে—

হে প্রশান্ত আত্মা, ভয় কোরো না,

শান্ত হও নির্ভয়,

রবের কাছে ফিরে যাও

সত্যের আলো লয়।”

মুমিন তখন হাসিমুখে

ছাড়ে দেহের বাঁধন,

রবের ডাকে সাড়া দিয়ে

ভাঙে দুনিয়ার সাধন।

তার আত্মা উঠে ধীরে

নূরের সিঁড়ি বেয়ে,

ফেরেশতারা নেয় তাকে

আনন্দের পথ দিয়ে।

আসমানে ওঠে সে রূহ

শান্তির নীল আকাশে,

সুন্দর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে

নূরের সুবাসে।

তারপর কেটে যায় সময়

কবরের নীরব ঘর,

রবের স্মৃতি সঙ্গী হয়ে

থাকে তার অন্তর।

হঠাৎ একদিন তূর্যধ্বনি

কাঁপায় ধরা আকাশ,

কিয়ামতের সেই আহ্বানে

জাগে সকল নিশ্বাস।

কবর হতে উঠে আসে

মানবজাতি সারি,

হাশরের সেই বিশাল ময়দান

দিগন্ত জুড়ে ভারী।

সূর্যের তাপে ঘামে ভিজে

মানুষ দাঁড়ায় স্তব্ধ,

কর্মের ভারে কাঁপে হৃদয়

ভয়ে হয় অবশ।

কিন্তু যারা ঈমানধারী

রবের পথে ছিল,

তাদের মুখে শান্তির আলো

আশার নূর ঝিলমিল।

আমলনামা হাতে নিয়ে

কাঁপে সবার প্রাণ,

ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লায় তখন

ওজন হয় অবিরাম।

মুমিন দেখে রহমতের

দ্বার খুলেছে ধীরে,

রবের কৃপায় লাঘব হয়

ভয়ের আঁধার নীড়ে।

হঠাৎ তখন ডাকে আসে

অপরূপ সুরে ভরা—

স্নেহময় সেই আহ্বান যেন

করুণারই ধারা।

হে প্রশান্ত আত্মা তুমি

এসো আমার তরে,

সন্তুষ্ট তুমি আমার ফয়সালায়

আমিও সন্তুষ্ট তোমার ’পরে।”

এই আহ্বানে ভরে ওঠে

মুমিন হৃদয়খানি,

ভয়ের মেঘ সব মুছে যায়

জ্বলে শান্তির বাণী।

ফিরে এসো হে প্রিয় আত্মা

রবের স্নেহাল ঘরে,

অন্তরে যে প্রেম রেখেছ

তারই পুরস্কার ধ’রে।”

এসো তবে সৎ বান্দাদের

পবিত্র সে দলে,

যারা ছিল সত্যপথে

ঈমানেরই বলে।”

নবী-সালেহদের সঙ্গেতে

মিলবে সে আনন্দে,

নূরের পথে মিলন হবে

চির শান্তির বন্ধে।

তারপর খুলে যাবে

জান্নাতের সোনার দ্বার,

অপূর্ব আলো ঝলমল

সেখানে অপরিসীম পার।

নদী বয়ে যায় শান্ত স্রোতে

দুধ ও মধুর ধারা,

সবুজ বনে শান্তির গান

গায় অনন্ত তারা।

ফুলের ঘ্রাণে ভরে ওঠে

নির্মল সেই বাতাস,

দুঃখহীন সে সুখের দেশে

নেই কোনো হতাশ।

মুমিন তখন হাসিমুখে

প্রবেশ করে তায়,

রবের বাণী প্রতিধ্বনি তোলে—

আমার জান্নাতে এসো আজ।”

বন্ধুরা সব মিলবে সেখানে

ভালোবাসার মাঝে,

চিরশান্তির আলো জ্বলে

রহমতেরই সাজে।

নেই সেখানে মৃত্যু কোনো

নেই বিদায়ের ক্ষণ,

শুধু আনন্দ, শুধু শান্তি

রবের সান্নিধ্য ধন।

মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে

দুনিয়ার সব পথ,

ছিল কেবল ক্ষণিক পরীক্ষা

রবের প্রেমের রথ।

তাই হে মানুষ, জীবনের পথে

স্মরণ রেখো আজ—

প্রশান্ত আত্মার সে আহ্বান

হোক তোমারই সাজ।

ঈমান, ধৈর্য, সৎকর্মে গড়ে

হৃদয় করো নির্মল,

যেন শেষদিন শুনতে পাও

ডাকটি অতি অনুপম।

হে প্রশান্ত আত্মা, ফিরে এসো

আমার স্নেহের দ্বার,

আমার বান্দাদের সাথে মিলে

প্রবেশ কর জান্নার।”

***

 

এবং জান্নাতের আরও গভীর কাব্যিক বর্ণনা।

 

 

 

প্রশান্ত আত্মার মহাযাত্রা**

নীরব ভোরে দুনিয়ার পথে

মানুষ হাঁটে ধীরে,

স্বপ্নভরা এই জীবনখানি

ক্ষণিক দিনের নীড়ে।

হাসি-কান্নার স্রোত বয়ে যায়

মাটির এই ধরায়,

আশা আর ভয় পাশাপাশি

মানবহৃদয় জড়ায়।

কেউ বা ভুলে পথের দিশা

মায়ার মোহে ডুবে,

কেউবা আবার সত্যের আলো

হৃদয় মাঝে লুবে।

যে হৃদয়ে ঈমান জ্বলে

ধৈর্যের দীপশিখা,

ঝড়ের মাঝে অটল থাকে

রবের প্রেমে দীক্ষা।

নিশীথ রাতে সেজদায় কেঁদে

ডাকে সে নীরবে,

হে আমার রব, রাখো আমায়

তোমার দয়ার স্রোতে।”

মানুষ সেবায় দান করে সে

ভালোবাসার রেশ,

তার অন্তরে জ্বলে উঠে

আখিরাতের দেশ।

তবু একদিন সময় আসে

জীবনের শেষ প্রহর,

নীরব ঘরে নিভে আসে

শ্বাসের ক্ষীণ প্রভা।

চোখের পাতা ধীরে নামে

নিস্তব্ধতার ঢেউ,

দুনিয়ার সব শব্দ তখন

মুছে যায় যেন কেউ।

ঠিক তখনই ফেরেশতারা

নেমে আসে ধীরে,

নূরের আলো ছড়িয়ে পড়ে

মৃত্যুর নীরব নীড়ে।

মমতার সুরে ডাকে তারা

শান্তির মধুর বাণী—

ভয় করো না, প্রিয় বান্দা,

শেষ হয়নি প্রাণী।”

রূহ তখন হাসিমুখে

ছাড়ে দেহের ঘর,

নূরের পথে যাত্রা শুরু

রবের ডাকে পর।

আকাশ পথে ওঠে সে রূহ

ফেরেশতার হাতে,

সুগন্ধ ভরে চারদিক

নূরের সুবাস রাতে।

দরজা খুলে আসমানের

আনন্দময় পথ,

নেক রূহকে স্বাগত জানায়

আকাশেরই রথ।

তারপর আসে কবরের ঘর

নীরব মাটির মাঝে,

যেখানে লুকায় মানুষের

জীবনেরই সাজে।

সেখানে প্রশ্ন করে ফেরেশতা

ঈমানেরই কথা,

যে ছিল সত্যের পথে অটল

তার মুছে যায় ব্যথা।

মুমিন দেখে কবর তখন

বাগানেরই মতো,

শান্তির হাওয়া বইতে থাকে

রহমতেরই রথ।

সময়ের স্রোত কেটে যায়

নীরব রাতদিন,

হঠাৎ একদিন তূর্যধ্বনি

কাঁপায় দিগন্ত ভিন।

ভূমি কাঁপে আকাশ কাঁপে

সকল প্রাণী জাগে,

কবর হতে উঠে আসে

মানুষ অগণন ভাগে।

হাশরের সেই বিশাল ময়দান

দিগন্ত জুড়ে ভরা,

মানবজাতি দাঁড়িয়ে আছে

ভয় আর আশায় ধরা।

সূর্যের তাপে ঘাম ঝরে

ভয়ের ভারে প্রাণ,

কর্মের বোঝা বয়ে মানুষ

দাঁড়িয়ে নিরুপায়।

কারও মুখে অশ্রু গড়িয়ে

কারও হৃদয় ভার,

কেউবা ভাবে রহমতের

দ্বার কি হবে আর?

মুমিন তখন স্মরণ করে

রবের প্রতিশ্রুতি,

তার হৃদয়ে জ্বলে উঠে

আশার আলোকশিখা।

আমলনামা হাতে আসে

ন্যায়ের সেই দিন,

যেখানে লুকায় না কিছু

মানুষেরই চিন।

মিজানের সেই দাঁড়িপাল্লা

সত্যের ওজন করে,

অণু পরিমাণ সৎকর্মও

অবহেলা না করে।

রহমতের ছায়া নামে

মুমিনদের তরে,

রবের কৃপায় লাঘব হয়

ভয়ের আঁধার ঘরে।

তারপর আসে সিরাত সেতু

অতল আগুনপারে,

সত্যের পথে যারা ছিল

তারা যায় নির্ভয়ে।

কেউ যায় বাতাসের মতো

কেউবা বিদ্যুৎ বেগে,

কেউবা ধীরে পাড়ি দেয়

রবের কৃপা লেগে।

অবশেষে ওপারেতে

আলো ঝলমল দ্বার,

জান্নাতের সে অপার সুখ

চোখে দেয় ঝলকার।

সেই সময় শোনা যায়

অপরূপ আহ্বান—

রবের স্নেহে ভরা কণ্ঠে

ডাকে মুমিন প্রাণ।

হে প্রশান্ত আত্মা তুমি

ফিরে এসো আমার কাছে,

সন্তুষ্ট তুমি আমার ফয়সালায়

আমিও তোমার পাশে।”

এই আহ্বানে মুছে যায়

জীবনের সব ভয়,

হৃদয় ভরে শান্তিতে

নূরের স্রোত বই।

এসো তবে আমার বান্দাদের

পবিত্র সে দলে,

যারা ছিল সত্যপথে

ঈমানেরই বলে।”

নবী-রাসূল সঙ্গী হবে

সৎকর্মপরায়ণ প্রাণ,

নূরের মাঝে মিলবে সবে

অন্তহীন সম্মান।

তারপর খুলে যায় তখন

জান্নাতের সোনার দ্বার,

সবুজ বনে শান্তির হাওয়া

ভাসে অপরিসীম পার।

নদী বয়ে যায় দুধের ধারা

মধুর স্রোত বেয়ে,

ফলের বাগান হাসে যেন

আনন্দের গান গেয়ে।

ফুলের ঘ্রাণে ভরে ওঠে

শান্তির বাতাস,

দুঃখহীন সেই সুখের দেশে

নেই কোনো হতাশ।

প্রাসাদ গড়ে মুক্তার আলো

সোনার দীপ্তিতে,

নূরের নদী জ্বলজ্বল

চির শান্তির নীড়ে।

মুমিন তখন প্রবেশ করে

হাসিমুখে ধীরে,

রবের বাণী প্রতিধ্বনি তোলে

নূরের সীমাহীন নীড়ে—

প্রবেশ কর আমার জান্নাতে

শান্তির অনন্ত দেশ,

এখানে নেই কোনো দুঃখ

নেই কোনো কষ্টের রেশ।”

বন্ধুরা সব মিলবে সেখানে

ভালোবাসার মাঝে,

চির আনন্দ জ্বলে উঠবে

রহমতেরই সাজে।

নেই সেখানে বিদায় বেদনা

নেই মৃত্যুর ছায়া,

শুধু সুখ আর শান্তির গান

নূরের সীমাহীন মায়া।

মানুষ তখন বুঝবে গিয়ে

দুনিয়ার সব পথ,

ছিল কেবল ক্ষণিক পরীক্ষা

রবের প্রেমের রথ।

তাই হে মানুষ, জীবনের পথে

স্মরণ রেখো আজ—

প্রশান্ত আত্মার সে আহ্বান

হোক তোমারই সাজ।

ঈমান, ধৈর্য, সৎকর্মে গড়ে

হৃদয় করো নির্মল,

যেন শেষদিন শুনতে পাও

ডাকটি অতি অনুপম।

হে প্রশান্ত আত্মা ফিরে এসো

আমার স্নেহের দ্বার,

আমার বান্দাদের সাথে মিলে

প্রবেশ কর জান্নার।”

***

মন্তব্য করুন

ব্লগ